বিষয়বস্তুতে চলুন

মৃণালিনী সেন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মৃণালিনী সেন
মৃণালিনী সেন
জন্ম৩ আগষ্ট ১৮৭৯
মৃত্যু৮ মার্চ ১৯৭২
জাতীয়তাভারতীয়
পরিচিতির কারণপ্রথম ভারতীয় হিসেবে বিমানে উড্ডয়নের জন্য

মৃণালিনী সেন (৩ আগস্ট ১৮৭৯-৮ মার্চ ১৯৭২) ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের একজন বাঙালি লেখক। ১৯১০ খ্রিস্টাব্দের ১৯ ডিসেম্বর, ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে তিনিই প্রথম বিমানে (মনোপ্লেন-এ) ভ্রমণ করেন ।[][]

জীবনী

[সম্পাদনা]

মৃণালিনী দেবী ১৮৭৮ সালে ভারতের বিহারের ভাগলপুরের লুদ্ধি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা ডা.লাডলিমোহন ঘোষ। তিনি ১৩ বছর বয়সে কলকাতার পাইকপাড়ার রাজা ইন্দ্রচন্দ্র সিংহ-এর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। দু-বছরের মধ্যে বিধবা হন। এই সময় থেকেই তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন।

তিনি একটি সামাজিক সমাবেশে কেশবচন্দ্র সেনের পুত্র এবং একজন সরকারি কর্মচারী নির্মলচন্দ্র সেনের সাথে তার সাক্ষাৎ হয়। ভাইকে পাইকপাড়ার সিংহাসনে বসানোর পর তিনি পালিয়ে যান এবং ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে ২৬ বৎসর বয়সে কেশবচন্দ্র সেনের দ্বিতীয় পুত্র নির্মল চন্দ্র সেনকে বিবাহ করেন।[] তার সন্তান চারটি হলো: এনসি সেন, শ্রীলতা, আরতি এবং অঞ্জলি।[][]

উভয়ই কলকাতার অভিজাত সমাজের বিশিষ্ট সদস্য ছিলেন এবং এটি ১৯০০ এর দশকের শেষের দিকে ছিল যখন মৃণালিনী দেবী ১৯ ডিসেম্বর ১৯১০ তারিখে ঐতিহাসিক ফ্লাইট গ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন এবং বিমানে ওড়ার জন্য প্রথম ভারতীয় হয়েছিলেন। ১৯১০ সালে, বেলজিয়ান পাইলট জুলেস টাইক একটি ফরমান বাইপ্লেন এবং একটি ব্লেরিওট ইলেভেন মনোপ্লেন নিয়ে এসেছিলেন যাতে ভারতের বাইরে প্রথম মানব ফ্লাইট চালানো হয়। ২২ ডিসেম্বর ১৯১০ তারিখের টাইমস অফ ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে বেলজিয়ান ব্যারন, পিয়েরে ডি ক্যাটার্স, টালিগঞ্জ ক্লাবের মাঠ থেকে একটি বাইপ্লেনে উঠেছিলেন এবং সেন পাইলটের আসনের পিছনে বসেছিলেন। অনুষ্ঠানটি ফরাসি সংবাদপত্র এবং একটি ব্রিটিশ ম্যাগাজিন দ্বারা কভার করা হয়েছিল।[][]

ঐতিহাসিক ফ্লাইটের পরপরই, দুজনেই ইংল্যান্ডে চলে যান। প্রথমবার অল্পকাল থাকেন। ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে পুনর্বার লন্ডনে গিয়ে একাধিক্রমে ষোল বৎসর থাকেন এবং ইংরাজী ভাষায় সাহিত্যচর্চা করেন। লন্ডনে গান্ধিজির সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয় এবং গান্ধীজি তার কাছে বাংলা ভাষা শেখেন। মৃণালিনীর রচিত ইংরাজী প্রবন্ধাবলি ও বক্তৃতা ভারতে ও ইংল্যান্ডে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তিনি মহিলাদের ভোটাধিকার নিয়ে ইংল্যান্ড ও ভারতে আন্দোলন করেন। ক্যাথরিন মেয়ো রচিত মাদার ইন্ডিয়া গ্রন্থের প্রতিবাদে মৃণালিনী বহু নিবন্ধ লেখেন। ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে তার ইংরাজী রচনা সংগ্রহ নকিং অ্যাট দ্য ডোর প্রকাশিত হয়।[]

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ভারতে ফিরে আসেন। তিনি কবিতা লিখতেন এবং সেগুলি প্রায়শই দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হত।[][] তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলি হল-

  • প্রতিধ্বনি (১৮৯৪)
  • নির্ঝরিণী (১৮৯৫)
  • কল্লোলিনী(১৮৯৬)
  • মনোবীণা (১৮৯৯)[]

১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে মৃণালিনী "Indian Institute of Aeronautics and Electrinics" এর সাম্মানিক সদস্য হন।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 3 4 "One December over a century ago, a woman became first Indian to fly in country | Mumbai News - Times of India"The Times of India (ইংরেজি ভাষায়)। ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জানুয়ারি ২০২১
  2. 1 2 3 4 Johari, Aarefa। "Finding Mrs Sen: The first Indian woman to fly in a plane was a poet called Mrinalini Devi"Scroll.in (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জানুয়ারি ২০২১
  3. 1 2 বসু, অঞ্জলি (আগস্ট ২০১৬)। বসু, অঞ্জলি; সেনগুপ্ত, সুবোধচন্দ্র (সম্পাদকগণ)। সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান। খণ্ড ১ (পঞ্চম সংস্করণ, তৃতীয় মুদ্রণ সংস্করণ)। কলকাতা: সাহিত্য সংসদ। পৃ. ৫৮১। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-১৩৫-৬ {{বই উদ্ধৃতি}}: |সংগ্রহের-তারিখ= এর জন্য |ইউআরএল= প্রয়োজন (সাহায্য)উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: বছর (লিঙ্ক)
  4. শিশির কুমার দাশ (২০১৯)। সংসদ বাংলা সাহিত্যসঙ্গী। সাহিত্য সংসদ, কলকাতা। পৃ. ১৭৬। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-০০৭-৯ {{বই উদ্ধৃতি}}: |আইএসবিন= মান: চেকসাম পরীক্ষা করুন (সাহায্য); অজানা প্যারামিটার |আইএসবিএন-ত্রুটি-উপেক্ষা-করুন= উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)