মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান আজমী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

প্রফেসর ড. জিয়াউর রহমান আজমী (সংক্ষেপে মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আজমী) একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত সৌদি পণ্ডিত। তিনি অসংখ্য বইয়ের লেখক। তার পূর্ব নাম ছিল- বাঙ্কেরাম।

জন্ম[সম্পাদনা]

১৯৪৩ইং সালে ভারতের উত্তর প্রদেশের আজমগড় জেলার বিলার‌্যগঞ্জ গ্রামে এক হিন্দু ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহন করেন তিনি।

ইসলাম ধর্মগ্রহন[সম্পাদনা]

ইসলামধর্ম সম্পর্কে জানতে শৈশব থেকেই প্রচণ্ড আগ্রহ ও ঐকান্তিকতা ছিল তার। প্রবল আগ্রহের কারণে ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিজেই পড়াশোনা ও গবেষণা শুরু করেন। আর এ পাঠযাত্রা ও গবেষণাকল্পে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তিনি ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হন। ইসলামধর্ম গ্রহণকালে তার বয়স ছিল ১৮ বছর। [১]

শিক্ষা[সম্পাদনা]

পদ[সম্পাদনা]

মক্কা মুকাররাময় রাবেতা আলমে ইসলামীর বিভিন্ন পদে তিনি নিযুক্ত ছিলেন। সর্বশেষ তিনি জেনারেল সেক্রেটারী পদে ছিলেন।

অধ্যাপনা:[সম্পাদনা]

১৩৯৯ হিজরীতে মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেসর হিসেবে নিয়োগ দান করেন তিনি। ডক্টরেট থিসিসগুলো নিরীক্ষণ এবং খসড়া তৈরি করার গুরুত্বপূর্ণ কার্য সম্পাদন করতেন।

প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব:[সম্পাদনা]

পরিচালক- আল-বাহসুল ইলমী

সদস্য- মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ম্যাগাজিন।

অধ্যক্ষ- হাদীস অনুষদ।

ধর্মপ্রচারে ভ্রমণ:[সম্পাদনা]

ভারত, পাকিস্তান, মিশর, জর্দান, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, নেপাল, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইত্যাদি দেশে তিনি ইসলাম প্রচার-প্রসারে ভ্রমণ করেছেন।

শিক্ষক[সম্পাদনা]

নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষকদের ছাড়াও অন্যান্য শায়েখদের থেকে সর্বাধিক জ্ঞান লাভ করেছিলেন তাদের তালিকা নিম্নে প্রদান করা হলো:

  • আল্লামা শায়েখ আবদুল্লাহ ইবনে হামিদ রহ. (প্রধান বিচারপতি সৌদি আরব)
  • আল্লামা শায়েখ আবদুল আজিজ বিন বায রহ. (উপাচার্য-জামিয়া ইসলামিয়া এবং তৎকালীন মুফতি আযম - সৌদি আরব)
  • দক্ষিণ ভারতের শায়খুল হাদীস মাওলানা আবদুল ওয়াজিদ ওমরি রহমানী, মাওলানা আবুল বায়ান হাম্মাদ ওমরি প্রমুখের কাছে জ্ঞান অর্জন করেছেন।

ক্রিয়াকলাপ[সম্পাদনা]

  • মসজিদে নববীতে সহীহ বুখারী এবং সহীহ মুসলিমের দরস প্রদান।
  • তিনি সাহাবি আবু হুরায়রার পক্ষে থিসিস করেন, যেখানে তিনি আবু হুরায়রার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ খণ্ডন করেন।
  • হিন্দি এবং আরবী ভাষায় বই রচনা এবং সংকলন।
  • বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি একাগ্রতার সাথে অধ্যয়ন ও গবেষণা কর্মে লিপ্ত হোন এবং বিভিন্ন ধরণের কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেন।[২]

রচনাবলী[সম্পাদনা]

আরবী রচনা:[সম্পাদনা]

(১) أبو هریرة في ضوء مرویاته

(২) أقضیة رسول الله ﷺ لابن الطلاع

(৩) دراسات في الجرح والتعدیل

(৪) المدخل إلی السنن الکبری للبیهقي

(৫) دراسات في الیهودیة والنصرانیة

(৬) فصول في أدیان الهند

(৭) فتح الغفور في وضع الأیدي علی الصدور للعلامة محمد حیاة السندي

(৮) ثلاثة مجالس من أمالي ابن مردویه

(৯) عجم مصطلحات الحدیث ولطائف الأسانید

(১০) المنة الکبری شرح وتخریج السنن الصغری للحافظ البیهقي

(১১) التمسک بالسنة في العقائد والأحکام

(১২) تحفة المتقین في ما صح من الأذکار والرقی والطب عن سید المرسلین

(১৩) الجامع الکامل في الحدیث الصحیح الشامل

(১৪) [৩] الأدب العالي

হিন্দি রচনা:[সম্পাদনা]

(1) কুরআনের শীতল ছায়া

(২) কুরআন বিশ্বকোষ

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. BanglaNews24.com। "অমুসলিম পরিবার থেকে হাদিস বিশারদ!"banglanews24.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-২০ 
  2. "ڈاکٹر محمد ضیاء الرحمن اعظمی"وکیپیڈیا। ২০১৯-১০-১৩। 
  3. "نتیجه جستجوی اعظمی محمد ضیاء الرحمن"www.lib.ir। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-২০ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

ইয়াসির ক্বাদির সাথে সাক্ষাতকার