মুহাম্মদ আবদুর রশিদ সিদ্দিকী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মুহাম্মদ আবদুর রশিদ সিদ্দিকী
জন্ম১৮৯৪
কাকারা গ্রাম, চকরিয়া, কক্সবাজার, বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু২৬ মার্চ ১৯৫০
কাকারা গ্রাম, চকরিয়া, কক্সবাজার, পূর্ব পাকিস্তান, পাকিস্তান
জাতিসত্তাবাঙালি
নাগরিকত্ব ব্রিটিশ ভারত (১৮৯৪-১৯৪৭)
 পাকিস্তান (১৯৪৭-১৯৫০)
যেখানের শিক্ষার্থীকক্সবাজার মধ্য বাঙ্গালা বিদ্যালয়
পেশাসাহিত্যিক, গবেষক সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ
উল্লেখযোগ্য কর্ম
চট্টগ্রামী ভাষাতত্ত্ব (১৯৪৬)
রাজনৈতিক দলমুসলিম লীগ

মুহাম্মদ আবদুর রশিদ সিদ্দিকী (১৮৯৪-১৯৫০) ছিলেন একজন বাঙালি সাহিত্যিক, গবেষক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ।[১]

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

মুহাম্মদ আবদুর রশিদ সিদ্দিকী ১৮৯৪ সালে কক্সবাজারের চকরিয়ার কাকারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কক্সবাজার মধ্য বাঙ্গালা বিদ্যালয়ে কিছুদিন লেখাপড়া করেছেন। এরপর আর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষালাভ করতে পারেননি।[১]

সাংবাদিকতা[সম্পাদনা]

তিনি পত্রিকা প্রকাশের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রামে আগমন করেন। ১৯১৯ সালে (বৈশাখ ১৩২৬ বঙ্গাব্দ) তিনি সাধনা নামে একটি মাসিক সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশ করেন। আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ কিছুকাল এই পত্রিকার যুগ্মসম্পাদক হিসেবে দায়িত্বপালন করেছেন। এই পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন লেখকের রচনা প্রকাশিত হয়েছিল। পত্রিকাটি চার বছর টিকে ছিল।[১]

১৩২৯ বঙ্গাব্দের ১৬ শ্রাবণ তার সম্পাদনায় কলকাতা থেকে মোসলেম জগত প্রকাশিত হয়। পত্রিকায় প্রকাশিত তার লেখা সময় থাকিতে সাবধান, বুঝে চল বৃটিশ শীরষক সম্পাদকীয়র জন্য তিনি গ্রেপ্তার হন। ১৯২৬ সালে তিনি রক্তসেতু নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করেন। এই পত্রিকা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।[১]

গবেষণা[সম্পাদনা]

তিনি ভাষার উপর গবেষণা করেছেন। চট্টগ্রামের ভাষার উপর ভাষাতাত্ত্বিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে তার লেখা চট্টগ্রামী ভাষাতত্ত্ব (১৯৪৬), চট্টগ্রামের ভাষাতত্ত্ব গ্রন্থ রয়েছে।[১]

সাহিত্য[সম্পাদনা]

তার রচিত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে উপেন্দ্রনন্দিনী (১৯১৯), জরিনা (১৯২৬), প্রণয়-প্রদীপ, নুরুন্নেহারমেহেরুন্নেছা। কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে রোস্তম সোহরাব (১৯১৬), যবনবধ কাব্য (১৯৪৪) ও পাকিস্তান বিজয় কাব্য (১৯৪৮)। তিনি মোসলেম জগত পঞ্জিকা (১৯৩৮) এর রচয়িতা।[১]

রাজনীতি[সম্পাদনা]

তিনি রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেছেন। ১৯৩৮ সালে তিনি চকরিয়া থানা মুসলিম লীগের সেক্রেটারি এবং কক্সবাজার মহকুমা মুসলিম লীগের সহসভাপতি হন। তিনি দীর্ঘদিন কাকারা ইউনিয়ন বোর্ডের সভাপতি ছিলেন।[১]

অন্যান্য কর্মকাণ্ড[সম্পাদনা]

বেগম খোশ নামক একটি পেটেন্টপ্রাপ্ত ওষুধ বের করার ফলে তিনি প্রচুর সম্পদ অর্জন করেন। নিজ গ্রামে তিনি মাদ্রাসা, গ্রামরক্ষক সমিতি, পল্লীমঙ্গল সমিতি ইত্যাদি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনকল্যাণমূলক কাজ করেছেন।[১]

মৃত্যু[সম্পাদনা]

মুহাম্মদ আবদুর রশিদ সিদ্দিকী ১৯৫০ সালের ২৬ মার্চ নিজ গ্রামে ইন্তেকাল করেন।[১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]