মীরা নন্দন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মীরা নন্দন
Meera nandan.jpg
২০১৬ সালে মীরা নন্দন.
জন্ম
মীরা নন্দকুমার

(1992-11-26) ২৬ নভেম্বর ১৯৯২ (বয়স ২৭)[১]
অন্যান্য নামমীরা নন্দা, মীরা নন্ধা
পেশাঅভিনেত্রী, রেডিও জকি, মডেল, টেলিভিশন উপস্থাপক
কর্মজীবন২০০৭–বর্তমান

মীরা নন্দন হলেন একজন ভারতীয় অভিনেত্রী, যিনি দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে কাজ করেন। তিনি মালয়ালম টেলিভিশনে উপস্থাপক হিসাবে তাঁর কর্ম জীবন শুরু করেছেন এবং অভিনয় করছেন। তিনি তাঁর কর্ম জীবনের অধিকাংশ সময় মালয়ালম ভাষার চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

মীরা নন্দন ১৯৯২ সালের ২৬শে নভেম্বর তারিখে ভারতের কেরালার কোচিতে "মীরা নন্দকুমার" নামে নন্দকুমার এবং মায়ার ঘরে জন্মগ্রহণ করেছেন।[১] তাঁর এক ছোট ভাই রয়েছে; যার নাম অর্জুন নন্দকুমার। তিনি এলামাক্কারার ভবন বিদ্যা মন্দির হতে তাঁর স্কুল জীবনের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন। তিনি এর্নাকুলামের সেন্ট তেরেসা কলেজ হতে ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে স্নাতক ডিগ্রি করার পরে মণিপাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতার সাথে গণযোগাযোগ বিভাগে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন।[২][৩] তিনি অভিনেত্রী দিব্য উন্নির দূর সম্পর্কের আত্মীয় হন।[৪]

পেশা[সম্পাদনা]

মোহনলালের টেস্ট বাডস বিজ্ঞাপনে একজন মডেল হিসেবে উপস্থিত হওয়ার মাধ্যমে মীরা প্রথমবারের মতো ক্যামেরার সামনে অভিনয় করেন। ২০০৭ সালে, তিনি এশিয়ানেট টেলিভিশনে প্রচারিত আইডিয়া স্টার সিঙ্গারে একজন প্রতিযোগী হিসেবে অডিশন দিয়েছিলেন, তবে পরিশেষে তিনি উক্ত অনুষ্ঠানের উপস্থাপনার দায়িত্ব পান। তিনি অমৃতা টিভি এবং জীবন টিভিরও বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে উপস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেছেন।[৫]

পরের বছর তিনি লাল জোসের মুল্লা নামক মালয়ালম চলচ্চিত্রে অভিনয় করার মাধ্যমে অভিনয় জগতে পদার্পণ করেন; এই চলচ্চিত্রে তিনি প্রধান নারী চরিত্রে অভিনয় করেছেন।[৬] লাল জোস তাঁর চলচ্চিত্রের জন্য "পাশের বাড়ির মেয়েটির মত একটি নতুন মুখ" খুঁজছিলেন এবং প্রথমে অভিনেতা ইন্দ্রাজিৎ সুকুমারনের স্ত্রী পূর্ণিমার কথা ভেবেছিলেন, তবে পরবর্তীতে মীরাকে এই চরিত্রটির জন্য উপযুক্ত মনে করে তাঁকেই এই চলচ্চিত্রের জন্য স্বাক্ষর করান। তাঁর পিতামাতার সাথে আলোচনার পরে, মীরা এক "সাহসী এবং স্মার্ট" মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন;[৫] যা তাঁকে পরবর্তীতে সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করতে সাহায্য করেছে। পরের বছর বাল্মীকিতে বন্দনা চরিত্রে অভিনয় করার মাধ্যমে তামিল চলচ্চিত্র জগতে তাঁর অভিষেক হয়। তাঁর এই চলচ্চিত্রটি মুক্তির পর তিনি তামিল চলচ্চিত্র জগত থেকে অভিনয়ের জন্য আরও বেশি প্রস্তাব পেতে শুরু করেন; যার মধ্যে কে. টি. কুঞ্জুমনের কাধালুক্কু মারানামিল্লাই, আইয়ানার এবং সুরিয়া নাগারাম উল্লেখযোগ্য।[৭][৮]

২০১১ সালে, জয় বলো তেলেঙ্গানায় অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি তেলুগু চলচ্চিত্র জগতে অভিষেক করেন। অতঃপর তিনি সিনিয়রস নামক একটি মালয়ালম চলচ্চিত্রে এক খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এই বিষয়ে মীরা জানিয়েছিলেন যে, "চলচ্চিত্রটি আমার কাছে একটি প্রকাশ ছিল"।[৪] ২০১১ সালে, সিনিয়রস সহ তাঁর চারটি মালয়ালম চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছিল, তবে তিনি অনুভব করেছিলেন যে এটি তাঁর জন্য ভাল একটি বছর ছিল না, কারণ এর মধ্যে কোন চলচ্চিত্রই তাঁর কর্মজীবনে সহায়তা করেনি।[৪] ২০১৩ সালে, তাঁকে লোকপাল নামক চলচ্চিত্রে একজন সাংবাদিক হিসেবে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে। সে বছর তিনি একজন নেপথ্য সঙ্গীতশিল্পী হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেন। তিনি ভি. কে. প্রকাশের সাইলেন্স নামক চলচ্চিত্রের জন্য রতীশ বেগার সুরে "মাঝায়ুদে ওরমাকাল" নামক একটি আবেগপূর্ণ গান গেয়েছেন।[৯][১০]

তাঁর প্রথম কন্নড় চলচ্চিত্র ছিলকরোদপতি; যার জন্য তিনি ২০১২ সালে শুটিং শুরু করেছিলেন; তারপরে এটি কোট্যায়াধিপতি নামে অভিহিত হয়েছিল।[৪] এই চলচ্চিত্রটি মুক্তি পেতে অনেক দেরি করে ২০১৪ সালে মুক্তি পেয়েছিল। তাঁকেব্ল্যাক ফরেস্টে এক উপজাতির মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে, যেটি "পরিবেশ সংরক্ষণ / সংরক্ষণ সম্পর্কিত সেরা চলচ্চিত্র" বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেছিল।[৮]

তারপরে তিনি মাধব রামদাসনের অ্যাপোথেকারিতে একটি বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করেছেন।[১১] তাঁর সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রটি হচ্ছে মেলানচি মনছুল্লা ভিদু, যেখানে তিনি একজন মুসলিম মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন।[১২] ২০১৫ তার তিন বছর পর প্রথম চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছিল; যার নাম ছিল সানামারুথাম[১৩] তেলুগু চলচ্চিত্র জগতে, তিনি হিটুদুর (আগে গুন্ডে নিনদা গুডিগন্তলু শিরোনাম) চিত্রগ্রহণ সম্পন্ন করেছেন, যেখানে তাঁকে তিনটি ভিন্ন বয়সের এক আদিবাসী নারী চরিত্রে দেখা যাবে; যার মধ্যে প্রথমটি মাত্র ১৪ বছর বয়সের, দ্বিতীয়টি ২৩ বছর বয়সের এবং তৃতীয়টি ৩৫ বছর বয়সের চরিত্র।[১৪] তিনি ডাবলস নামক চলচ্চিত্রের তাপসীর চরিত্রের জন্য কণ্ঠ দিয়েছেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Meera Nandan celebrates her birthday in LA!"Sify। ১৪ ডিসেম্বর ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ নভেম্বর ২০০৯ 
  2. "മീര എഴുതുകയാണ്"। mangalamvarika.com। অক্টো ২০, ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ২০ অক্টোবর ২০১৪ 
  3. "മീരയ്ക്ക് പുതിയ മുഖം – articles,fashion – Mathrubhumi Eves"। Mathrubhumi.com। ৯ জুলাই ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুলাই ২০১৪ 
  4. admin on 1 (১৬ জুন ২০১২)। "'I have not yet found true love' -Meera Nandan"। Southscope.in। ১৪ জুলাই ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুলাই ২০১৪ 
  5. "Welcome to"। Sify.com। ২০ জানুয়ারি ২০০৭। ১ জুলাই ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুলাই ২০১৪ 
  6. Sahadevan, Sajini V. (৫ এপ্রিল ২০০৮)। "Scent of jasmine"Metro Plus Thiruvananthapuram। Chennai, India: The Hindu। সংগ্রহের তারিখ ১০ এপ্রিল ২০০৮ 
  7. "Meera Nandan signs Ayyanaar"। Sify.com। ২৪ জুন ২০০৯। ১৬ জুলাই ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুলাই ২০১৪ 
  8. Tabitha Marion (২৯ জুন ২০১৩)। "Vivacious Meera Nandan"। Fwdlife.in। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুলাই ২০১৪ 
  9. "Meera Croons for Silence – The Times of India"। Timesofindia.indiatimes.com। ৫ ডিসেম্বর ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুলাই ২০১৪ 
  10. "Meera Nandhaa to croon in 'Silence'"। Deccan Chronicle। ৩ ডিসেম্বর ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুলাই ২০১৪ 
  11. "Meera-Jayasurya to play a couple in Apothecary – The Times of India"। Timesofindia.indiatimes.com। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুলাই ২০১৪ 
  12. http://timesofindia.indiatimes.com/Entertainment/Malayalam/Movies/News/Meera-Nanda-to-romance-Asif-in-her-next/articleshow/40792686.cms
  13. "Oviya, Meera Nandan to pair with Sarathkumar – The Times of India"। Timesofindia.indiatimes.com। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুলাই ২০১৪ 
  14. http://www.thehindu.com/features/metroplus/ready-for-the-challenge/article6465696.ece

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]