মহিমারঞ্জন রায়চৌধুরী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মহিমারঞ্জন রায়চৌধুরী
(১৮৫৩-০৯-০৪)৪ সেপ্টেম্বর ১৮৫৩ – এপ্রিল ১, ১৯০৯(১৯০৯-০৪-০১)
মহিমা রঞ্জন রায় চৌধুরী.png
জন্ম তারিখ (১৮৫৩-০৯-০৪)৪ সেপ্টেম্বর ১৮৫৩
জন্মস্থান বগুড়া জেলার কাহালু উপজেলা বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু তারিখ ০১-৪-১৯০৯
মৃত্যুস্থান কাকিনা
জাতীয়তা ভারতীয়
আন্দোলন সাহিত্য প্রেমী
প্রধান সংগঠন কাকিনা জমিদার[১][২][৩]
ধর্ম হিন্দু
পিতামাতা পিতার নাম রাজকমল মজুমদার ও মায়ের নাম শান্তমনি।
সন্তান মহেন্দ্র রঞ্জন রায় চৌধুরী

মহিমারঞ্জন রায়চৌধুরী কাকিনার ৬ষ্টতম জমিদার ছিলেন। তিনি একজন প্রজাবৎসল ও সাহিত্যানুরাগি জমিদার হিসাবে পরিচিত। ১৮৭১ সালে কাকিনার শাসনভার তাঁর উপর ন্যস্ত হয় | ১৮৮৭ সালে তাঁকে ব্রিটিশ সরকার "রাজা" উপাধিতে ভূষিত করেন |[৪][৫][৬]

শৈশব ও শিক্ষা[সম্পাদনা]

কাকিনার জমিদার রাজা শম্ভুচন্দ্র রায়চৌধুরীর দত্তকপুত্র ছিলেন মহিমারঞ্জন রায়চৌধুরী।[৭] মহিমারঞ্জন রায়চৌধুরীর জন্ম বগুড়ার কাহালু উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামে। তাঁর পিতার নাম রাজকমল মজুমদার ও মায়ের নাম শান্তমনি। ১৮৬৮ সালে তাঁর বিবাহ হয় রাণি মনমোহিনী রায়চৌধুরীর সাথে।[৫] লেখাপড়া কাকিনার জমিদার বাড়ির পাঠশালাতে হয়। পরে উচ্চ শিক্ষার জন্য রংপুর শহরে চলে আসেন। এবং রংপুর জিলা স্কুলে ভর্তি হন। এরপর আবার কাকিনায় চলে আসেন এবং জমিদার স্কুলে ভর্তি হন । তিনি মাইনর স্কলারশীপ পাশ করেন। তার লেখাপড়া বেশি ছিল না।[৫]

জমিদারি[সম্পাদনা]

তিনি একজন প্রজাবত্সল রাজা ছিলেন। তাঁর সময়কালে কাকিনা, কৃষি, শিল্প, শিক্ষা-দিক্ষা সর্বদিকেই উন্নতি করেছিল। তাঁর রাজত্বকাল পানীয় জল সরবরাহ প্রকল্প, মিউসিয়াম ও লাইব্রেরী স্থাপনার মত ইতিবাচক কর্মযজ্ঞের জন্য সুপরিচিত ছিল। হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ই তাঁর জমিদারীতে সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করেছে |[৫]

সাহিত্য প্রেমি[সম্পাদনা]

১৮৬০ সালে, রাজা শম্ভুচন্দ্রের দ্বারা শুরু করা সাপ্তাহিক পত্রিকা "রঙ্গপুর দিক্ প্রকাশ" নিয়মিত প্রকাশিত হয়েছে রাজা মহিমারঞ্জন-এর পৃষ্ঠপোষকতায়।[৫][৮]

চরিত্র[সম্পাদনা]

তিনি বিনয়ী, সদালাপী এবং সুপণ্ডিত ছিলেন। দুর্গাদাস লাহিড়ি লিখেছেন যে ...

"ইঁহার বৈঠকখানায় একটি বিশেষত্ব এই যে, উহা বিলাসী রাজা মহারাজগণের অনুকরণে সজ্জিত নহে ; তাঁহার বৈঠকখানার দেয়াল, অর্ধনগ্না বা নগ্না রূপসীর চিত্রের পরিবর্তে, সুচিত্রিত মানচিত্রে সুশোভিত ; আর গ্রন্থপত্রেই তাঁর বৈঠকখানা বিভূষিত।"

বৃটিশের তোষামোদ ও তার রচিত গান[সম্পাদনা]

রাজা মহিমারঞ্জনের জীবনকালেই ঘটে যায় "ভারতের প্রথম স্বাধীনতার যুদ্ধ" যাকে ইংরেজরা বলেছেন "সিপাহী বিদ্রোহ" (Sipoy Mutiny)। সেই সময়কার বাংলার বুদ্ধিজীবী মহলের অনেকেই সিপাহী বিদ্রোহকে ভাল চোখে দেখেননি। তা অনেকের লেখা গান, কবিতা, প্রবন্ধে দেখা যায়। রাজন্যবর্গের বিরাট অংশও সেদিন ইংরেজদের সাথে হাত মিলিয়েছিলেন, নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য। কারণ যে সকল রাজ-পরিবার, ব্রিটিশদের সক্রিয় বিরোধিতা করেছিলেন, তাঁদের আর ১৮৫৭ পর ভারতে সমহিমায় দেখা পাওয়া যায়নি।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] লর্ড ডালহাউসির নেতৃত্বে তাঁদের শেষ করে ফেলা হয়েছিল।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] যাঁরা ব্রিটিশদের পক্ষে ছিলেন, তাঁরাই পরবর্তী ভারতে সুখ-শান্তিতে বিরাজ করেছেন! রাজা মহিমারঞ্জনও সিপাহীদের সমর্থন করেননি। তাঁর গানে তিনি নানাসাহেবের নেতৃত্বে, সিপাহীদের কার্যকলাপ ও নৃশংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন। তাঁর গানে ব্রিটিশদের জয়-জয়কারও দেখতে পাওয়া যায়। রাজা রামমোহন রায়ের তিরোধানের পর, সেই দুঃখেও তিনি গান লিখেছিলেন। দুর্ভিক্ষ নিয়েও গান রচনা করেছিলেন।

অবদান[সম্পাদনা]

তিনি জমিদারির পাশাপাশি কাকিনায় একটি যাদুঘর প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি রঙ্গপুর সাহিত্য পরিষদ এর প্রথম ও আজীবন সভাপতি ছিলেন।[৯] ১৯০৮ সালে বগুড়ার 'উডবার্ণ' লাইব্রেরী, রংপুর জেলার রেলপথ ও রেল স্টেশন। দুটি রেল স্টেশন মহেন্দ্রনগর ও মহিমাগঞ্জ তার নিজের এবং পুত্রের নামে করেন। ১ একর ১৮ শতক জমি রংপুর পাবলিক লাইব্রেরির জন্য দান করেন।[১০][১১][১২] এডওয়ার্ড মেমোরিয়াল হল, রংপুর, রংপুর জমিদার স্কুল তথা রংপুর জিলা স্কুলের সেক্রেটারি ছিলেন। এ স্কুলে তিনি জমি দান করেন। লালমনিরহাটের পীর জাকারিয়ার মাযারের জন্য ৪৩২শতক জমি ওয়াকফ করেন।[৫][১৩][১৪]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "লালমনিরহাট জেলা"www.lalmonirhat.gov.bd (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৭-১২ 
  2. "রংপুর বিভাগ"www.rangpurdiv.gov.bd (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৭-১২ 
  3. "রংপুর জেলা"www.rangpur.gov.bd (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৭-১২ 
  4. "লালমনিরহাটের কাকিনা জমিদার বাড়ি হতে পারে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র! | কালের কণ্ঠ"Kalerkantho। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৭-১২ 
  5. পরিষদ, সম্পাদনা (২০০৭)। রঙ্গপুরের বরেণ্য ব্যক্তিত্ব। রংপুর: রঙ্গপুর গবেষণা পরিষদ। পৃষ্ঠা ৩৪০–৩৪৩। 
  6. পরিষদ, সম্পাদনা (২০০০)। রংপুর জেলার ইতিহাস। রংপুর: রংপুর জেলা প্রশাসন। পৃষ্ঠা ৪২৪। 
  7. মণ্ডল, আশরাফুজ্জামান (২০০৭)। লালমনিরহাট জেলার ইতিহাস। লালমনিরহাট: লালমনিরহাট যাদুঘর। পৃষ্ঠা ১১৫। আইএসবিএন 9843000009649 |আইএসবিএন= এর মান পরীক্ষা করুন: invalid prefix (সাহায্য) 
  8. পরিষদ, সম্পাদনা (২০০০)। রংপুর জেলার ইতিহাস। রংপুর: রংপুর জেলা প্রশাসন। পৃষ্ঠা ৪২৪। 
  9. "ইতিহাস-ঐতিহ্যের স্মারক রঙ্গপুর সাহিত্য পরিষৎ ভবন…………..রাকিবুল হাসান রকেট"আরএনএস নিউজ২৪.কম (ইংরেজি ভাষায়)। ২০২১-০১-২৯। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৭-১২ 
  10. "১৮৯ বছর আগের জ্ঞানঘরের বাতি নিভুনিভু | বাংলাদেশ প্রতিদিন"Bangladesh Pratidin (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৭-১২ 
  11. "রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি - বাংলাপিডিয়া"bn.banglapedia.org। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৭-১২ 
  12. "টাউন হল, রংপুর – Erangpur.Com" (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৭-১২ 
  13. মণ্ডল, আশরাফুজ্জামান (২০০৭)। লালমনিরহাট জেলার ইতিহাস। লালমনিরহাট: লালমনিরহাট যাদুঘর। পৃষ্ঠা ১১৫। আইএসবিএন 9843000009649 |আইএসবিএন= এর মান পরীক্ষা করুন: invalid prefix (সাহায্য) 
  14. পরিষদ, সম্পাদনা (২০০০)। রংপুর জেলার ইতিহাস। রংপুর: রংপুর জেলা প্রশাসন। পৃষ্ঠা ৪২৪।