ভীমকুণ্ড

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

ভীমকুণ্ড মধ্যপ্রদেশের একটি প্রাকৃতিক জলাধার ও পবিত্র স্থান যা ছতরপুর জেলায় অবস্থি। এটি ছতরপুর থেকে প্রায় ৮০ কিমি দূরত্বে অবস্থিত। এই কুণ্ডের জল চমকপ্রদভাবে নীল রঙের। এই কুণ্ডের গভীরতা অসীম বলে বিশ্বাস করা হয়।[১] স্থানীয়রা বলছেন, ভীমকুণ্ডের জলস্তর ২০০৪ সালে যখন সুনামি আঘাত হানে তখন প্রায় ৩০ মিটার পর্যন্ত বেড়ে যায়।

মহাভারতে ভীমকুণ্ড সম্পর্কে উল্লেখ[সম্পাদনা]

ভিমকুণ্ড ভিউ টাওয়ার থেকে তোলা ছবি

হিন্দু মহাকাব্য মহাভারতে পাণ্ডবদের বর্ণনায় ভীমকুণ্ডের উল্লেখ করা হয়েছে। দ্রৌপদী তপ্ত সূর্যের কারণে ক্লান্তি ও তৃষ্ণার্ত বোধ করলে; পাণ্ডবগণের মধ্যে বেশি শক্তিধর ভীম তার লাঠি দ্বারা মাটিতে আঘাত করে এবং জল বের হওয়া শুরু হয় ও এভাবে এই জলাধারটির উৎপত্তি হয়।

এই কুণ্ডটি একটি ভূগর্ভস্থ গুহার মধ্যে ও গুহার মুখ থেকে প্রায় ৩০ মিটার ভেতরে অবস্থিত। প্রবেশদ্বারের বামে একটি ছোট শিবলিঙ্গ আছে; কিন্তু এখানে সত্যিই বিস্ময়কর ব্যাপার হল, গুহার ছাদে কুণ্ডের ঠিক উপরে একটি ছোট খোলের মতো গর্ত আছে, কারণ হিসেবে বিশ্বাস করা হয় যে এই স্থানটি ভীমের গাদা দিয়ে আঘাত করার ফলে হয়েছে। এই জলাধারটির গভীরতা অসীম বলে বিশ্বাস করা হয়।

জলাধারটির চমকপ্রদ নীল জল ও লাল পাথরের দেওয়াল মিলে বৈপরীত্যের সুন্দর উদাহরণের সৃষ্টি করেছে। এর চার পাশে আরও কিছু গুহা রয়েছে কিন্তু গুহাগুলোর কোথায় যাচ্ছে তার সন্ধান কোনও যথেষ্ট সাহসী দিতে পারেননি। এ কারণে এটিকে রহস্যময় ও উত্তেজনাপূর্ণ মনে করা হয়; এবং মহাকাব্যে বর্ণিত ধারণায় লোক বিশ্বাস করে।

কুণ্ড সম্পর্কে অন্যান্য কিংবদন্তি[সম্পাদনা]

বৈতরণী নদী জলাধারটি থেকে নিচে পতিত হচ্ছে

আরেকটি কিংবদন্তি আছে যে, ঋষি নারদ ভক্তিভরে প্রভু বিষ্ণুর প্রশংসায় গন্ধর্ব গানের (স্বর্গীয় গান) সাধনা করেছিলেন। তার ভক্তিতে প্রভু বিষ্ণু প্রসন্ন হয়ে এই কুণ্ডটিতে আবির্ভূত হন; এবং বিষ্ণুর নীল রঙের কারণে কুণ্ডের জল নীল রঙে পরিণত হয়। বলা বাহুল্য, এই জলাধারটি নীলকুণ্ড ও ঋষির নামানুসারে নারদকুণ্ড নামেও পরিচিত।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

  1. "BheemKund – The Mystery of Turquoise Water Kund - Amazing Lesser Known"www.anotherindia.in (ইংরেজি ভাষায়)। ০১ এপ্রিল ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)