বেসিক (প্রোগ্রামিং ভাষা)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আটারি বেসিক এর একটি স্থিরচিত্র, এটি ছোট কম্পিউটারের জন্য একটি পুরনো বেসিক প্রোগ্রাম

কম্পিউটার প্রোগ্রামিংবেসিক (বিগিনারস অল পারপাজ সিম্বোলিক ইন্সট্রাকশন কোড[১]) একটি উচ্চ স্তরের প্রোগ্রামিং ভাষা। ১৯৬৩ সালে ডার্থমাউথ কলেজে এটির ডিজাইন করেন জন জর্জ কেমেনি এবং থমাস ইউজিন কার্টজ। এটির প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল বিজ্ঞান শাখার বাইরের ছাত্রদের জন্য কম্পিউটার প্রোগ্রামিং সহজ করা। সে সময় কম্পিউটারের প্রায় সব ব্যবহারেই বিশেষ প্রোগ্রামের দরকার হত এবং সেগুলো কেবল বিজ্ঞানী ও গণিতবিদেরাই তৈরি করতেন। মাইক্রোকম্পিউটারে ১৯৭০ দশকের শেষের দিকে ও বাসার কম্পিউটারে ১৯৮০ দশকে এই ভাষাটি তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। এই জনপ্রিয়তা আজও অব্যাহত আছে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯৬০ দশকের শুরুর দিকে কম্পিউটার ছিল বিশেষ কাজের জন্য একটি দামি যন্ত্র মাত্র। তখন কম্পিউটার কেবল ব্যাচ প্রোসেসিং এর মাধ্যমে একটার পর একটা কাজ(job) করত। ১৯৬০ দশকে কম্পিউটারের গতি বৃদ্ধি পায়, সাথে সাথে দামও কমতে থাকে। কম্পিউটারের ক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে তখন কম্পিউটার মাঝে মাঝে অলস(IDLE) থাকত।

ব্যাচ প্রোসেসিং এর যুগে কম্পিউটার যেমন বিশেষ কাজের জন্য তৈরি করা হত, তেমনি প্রোগ্রামিং ভাষাও কোন বিশেষ কাজের (যেমন গাণিতিক সমীকরণ সমাধান, লেখালেখি প্রভৃতি অথবা ব্যবসার তথ্য প্রোসেসিং) জন্যই তৈরি হত। যেহেতু তখনও নতুন কোন যন্ত্র কেনাইয় অনেক খরচ ছিল, তাই তখন প্রোগ্রামিং ভাষায় বেশি জোর দেয়া হল কর্মদক্ষতার(efficiency) উপর। সাধারনভাবে তাই ভাষাগুলো হয়ে গেলো কঠিন, জটিল ও একটা ভাষা আরেকটার থেকে একদম আলাদা।

দাম কমতে থাকায় কম্পিউটারের ব্যবহার গবেষণাগার থেকে বানিজ্যিক পর্যায়ে চলে আসলো। নতুন কম্পিউটারগুলো টাইম শেয়ারিং এবং একাধিক ব্যবহারকারী সমর্থন করতে শুরু করে। এসময় অপারেটিং সিস্টেমের ব্যবহার শুরু হয়। টাইম শেয়ারিং এর ফলে কম্পিউটিং এর খরচ অনেক কমে যায় এবং ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়ে যায়।

প্রারম্ভিক বছরগুলি — মিনি কম্পিউটার যুগ[সম্পাদনা]

মূল বেসিক ভাষা ডিজাইন করেন জন কেনেলি ও থমাস কার্টজ ১৯৬৩ সালে। তাদের অধীনে ডার্টমাউথের কিছু ছাত্র এটির কাজ করে। ডার্টমাউথ টাইম শেয়ারিং সিস্টেম এর জন্য প্রোগ্রাম চালানোর সুযোগ করে দেয়ার জন্য বেসিকের জন্ম। পুরনো ভাষাগুলির জটিলতা দূর করে আধুনিক টাইম শেয়ারিং এর ব্যবহারকারীদের কথা বিবেচনায় রেখে এটির ডিজাইন করা হয়, যাদের প্রযুক্তি ও গাণিতিক জ্ঞান কম এবং তা শেখার আগ্রহও নেই। পরবর্তী বছরে বেসিকের বিভিন্ন ভেরিয়েন্ট বের হতে থাকে এবং কেমেনি ও কার্টজের মূল বেসিক ডার্থমাউথ বেসিক নামে পরিচিতি পায়।

বেসিকের ডিজাইনের আটটি মূলনীতি ছিলঃ

  1. নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য ব্যবহার সহজ হবে
  2. নিত্য ব্যবহার্য পোগ্রামিং ভাষা হবে
  3. বিশেষজ্ঞ ব্যবহারকারীর জন্য বিশেষ সুবিধা থাকবে (সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য ভাষা সহজ হবে)
  4. ইন্টারএকটিভ হবে
  5. পরিষ্কার ও বন্ধুত্বপূর্ণভাবে ভুলের সংকেত(error message) দেবে
  6. ছোট প্রোগ্রামের জন্য তাড়াতাড়ি ফলাফল দেবে
  7. কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে না
  8. অপারেটিং সিস্টেম থেকে ব্যবহারকারীকে পৃথক রাখতে হবে

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. The acronym is tied to the name of an unpublished paper by Thomas Kurtz and is not a backronym, as is sometimes suggested.