বেণী মাধব দাস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
বেণী মাধব দাস
Replace this image male bn.svg
জন্ম ২২ নভেম্বর, ১৮৮৬
চট্টগ্রাম জেলা
মৃত্যু ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৫২
কলকাতা
ধর্ম হিন্দু

বেণী মাধব দাস (নভেম্বর ২২, ১৮৮৬ - সেপ্টেম্বর ২, ১৯৫২) একজন প্রাজ্ঞ বাঙালি পন্ডিত, শিক্ষক, এবং দেশপ্রেমিক। তিনি শরৎ চন্দ্র বোস সহ আরও অনেক প্রখ্যাত ব্যক্তির শিক্ষাগুরু ছিলেন।

প্রাথমিক জীবন[উৎস সম্পাদনা]

বেণী মাধব দাসের জন্ম বর্তমান বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার শেওড়াতলী গ্রামে। তাঁর পিতার নাম কৃষ্ণ চন্দ্র দাস। দর্শন শাস্ত্রে উচ্চ শিক্ষা লাভ করার পর তিনি চট্টগ্রাম কলেজে শিক্ষক হিসাবে যোগ দেন। তাঁর হাতে এটি একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। চট্টগ্রামের পর তিনি ঢাকা, কটক, কৃষ্ণ নগর, ও কলকাতার স্কুল ও কলেজে শিক্ষকতা করেছেন।

কেসব চন্দ্র সেন এর প্রভাবে তিনি ব্রাহ্ম সমাজে যোগ দেন, এবং ব্রাহ্ম সমাজের প্রকাশনা - ইন্ডিয়ান মেসেঞ্জার ও নববিধান এর সাথে যুক্ত ছিলেন।

আদর্শ শিক্ষক[উৎস সম্পাদনা]

দেশপ্রেম ও শিক্ষকতায় নিবেদিতপ্রাণ বেণী মাধব ছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষক। দর্শন ছাড়াও তিনি অর্থনীতি ও ইতিহাসে পন্ডিত ছিলেন। তিনি ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে কাকিনাদায় (বর্তমানে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ এ ) অনুষ্ঠিত অল ইন্ডিয়া থেইস্টিক কনফারেন্সের সভাপতিত্ব করেন। সভাপতি হিসাবে তাঁর ভাষণ পরে মডার্ন থেইস্টিক মুভমেন্ট ইন ইন্ডিয়া নামক পুস্তিকায় প্রকাশ করা হয়। তাঁর প্রবন্ধ সংকলন - পিলগ্রিমেজ থ্রু প্রেয়ার্স - সমালোচকদের কাছে ভূয়সী প্রশংসা লাভ করেছিল।

কটক ও কৃষ্ণ নগরে বেণী মাধবের সংস্পর্শে আসা আরেকজন পন্ডিত, নিরঞ্জন নিয়োগী লিখেছেন - here was no harshness in his administration, no pompous display surrounding it – his cool and charming behaviour used to have a remarkable impact on his students. Even those who were turbulent calmed down, became respectful towards him and were endeared to his affections.

পারিবারিক জীবন[উৎস সম্পাদনা]

বেণী মাধব দাসের পরিবার রাজনৈতিক পরিবার। অসহযোগ ও জাতীয় আন্দোলনের যোগ দেওয়ার কারণে তাঁর মেজছেলে কারাবরণ করেন। পত্নী সারদা দেবী ছিলেন মধূসূদন দত্তের কন্যা। মধুসূদন দত্ত কলকাতার সাধারণ ব্রাহ্ম সমাজের সম্পাদক হিসাবে কাজ করার পর অবসর নিয়ে ঢাকায় চলে এসেছিলেন। সারদা দেবী সমাজ সেবায় সক্রিয় ছিলেন। তাঁদের দুই কন্যার নাম কল্যাণী দাস (ভট্টাচার্য) এবং বীণা দাস (ভৌমিক)। কল্যাণী দাস সমাজ সেবা ও বিপ্লবী কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন। তিনি ছাত্রী সংঘের উদ্যোক্তা ছিলেন, এবং ব্রিটিশ বিরোধী রাজনীতির জন্য কারাবরণ করেন। বীণা দাস ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র বিপ্লবে সক্রিয় ছিলেন, এবং ১৯৩২ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এর সমাবর্তনে বাংলার ব্রিটিশ গভর্নর স্ট্যানলি জ্যাকসনের উপর পিস্তল দিয়ে গুলি করে হত্যা প্রচেষ্টার জন্য ৯ বছর কারা বরণ করেন।

মৃত্যু[উৎস সম্পাদনা]

বেণী মাধব দাস তাঁর সারা জীবন ব্রাহ্ম সমাজের কল্যাণে নিবেদন করেন। তিনি ১৯৫২ সালের ২রা সেপ্টেম্বর কলকাতায় মৃত্যু বরণ করেন।