বিউপনিবেশায়ন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ফ্রান্সের বিদেশী বিভাগ হওয়ার বিষয়ে মায়োটের গণভোটের বিরুদ্ধে কোমোরিয়ান্দের প্রতিবাদ, ২০০৯

বিউপনিবেশায়ন উপনিবেশায়ন থেকে সামগ্রিক মুক্তির প্রক্রিয়া। স্বাধীনতার সংগ্রাম বিউপনিবেশায়নের একটি সংকীর্ণ ও রাজনৈতিক রূপ। যেমন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্বাধীনতা ১৯৭১ সালে অর্জিত হলেও এখানে বিউপনিবেশায়ন এখনো শেষ হয়নি কেননা আজ অবধি বাংলাদেশ চলছে ব্রিটিশ উপনিবেশক শ্রেণীর রেখে যাওয়া নিপীড়ক শাসন ব্যবস্থা, বিচার ব্যবস্থা, পুলিশি ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে, যা ব্রিটিশরা তৈরি করেছিল শাসন তথা শোষণের স্বার্থে ও সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে, সর্বোপরি মুক্তিকামী জনতাকে দমিয়ে রাখতে।[১][২][৩] ফ্রানৎস ফানোঁর মতো চিন্তাবিদদের মতে, বিউপনিবেশায়ন বলতে উপনিবেশক শক্তির কাছ থেকে শুধু রাজনৈতিক স্বাধীনতা বোঝায় না সেই সাথে গোটা সমাজের সর্বসাধারণের বুদ্ধিবৃত্তিক, সাংস্কৃতিক, ভাষিক, মানসিক, ও অর্থনৈতিক মুক্তি বোঝায় এবং সেই লক্ষ্যে উপনিবেশক শাসক শ্রেণীর রেখে যাওয়া শাসন ব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা, বিচার ব্যবস্থা, আইনি কাঠামোর নতুন পরিগঠন বোঝায়। বিউপনিবেশায়নের ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক হীনম্মন্যতা, উপনিবেশী মানসিকতা পরিত্যাগপূর্বক সর্বসাধারণের বুদ্ধিবৃত্তিক, মানসিক, ভাষিক, গণতান্ত্রিক বিকাশকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়।[৪][৫][৬][৭] কারণ এগুলো ছাড়া স্বাধীনতা শুধু শ্বেতাঙ্গ শাসক ও শোষক পরিবর্তন করে কালো বা বাদামী শাসক ও শোষকের ক্ষমতায় অভিষিক্তকরণ বোঝায় এবং নতুন অভ্যন্তরীণ উপনিবেশায়নের সূচনা বোঝায়।[৮]

বিউপনিবেশায়ন-পরবর্তি সংস্থা[সম্পাদনা]

চারটি আন্তর্জাতিক সংস্থা যাদের সদস্য মূলত পূর্ববর্তী ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যের ধরণ অনুসরণ করে।

ইতিহাস এবং সংস্কৃতিগত কারণে প্রাক্তন ঔপনিবেশিক শক্তিসমূহ তাদের পূর্বের উপনিবেশগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করে কিছু সংস্থা তৈরি করেছিল। সংস্থাসমূহে সদস্যপদ স্বেচ্ছায় হলেও কোনও সদস্য রাষ্ট্র যদি কিছু উদ্দেশ্যমূলক মানদণ্ড (যা সাধারণত গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয়) হারায় তবে সদস্যপদ বাতিল হয়ে যেতে পারে। সংস্থাগুলি সংশ্লিষ্ট দেশগুলির মধ্যে সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যগুলি পরিবেশন করলেও এই জাতীয় কোনও সংস্থা তার নিজস্ব অধিকারে সত্তা হিসাবে রাজনৈতিকভাবে বিশিষ্ট হয়ে উঠেনি।

প্রাক্তন ঔপনিবেশিক শক্তি সংস্থা প্রতিষ্ঠাকাল
যুক্তরাজ্য কমনওয়েলথ অব নেশনস ১৯৩১
ফ্রান্স ফরাসী ইউনিয়ন ১৯৪৬
ফরাসী সম্প্রদায় ১৯৫৮
লা ফ্রাঙ্কোফোনি ১৯৭০
স্পেন ও পর্তুগাল লাতিন ইউনিয়ন ১৯৫৪
আইবেরো-আমেরিকান রাষ্ট্রসমূহের সংস্থা ১৯৯১
পর্তুগাল পর্তুগিজ ভাষার রাষ্ট্রসমূহের সম্প্রদায় ১৯৯৬
রাশিয়া স্বাধীন রাষ্ট্রের রাষ্ট্রমণ্ডল ১৯৯১
যুক্তরাষ্ট্র কমনওয়েলথ ১৯৩৪
মুক্তভাবে সংযুক্ত রাষ্ট্রসমূহ ১৯৮২
নেদারল্যান্ডস ডাচ ইউনিয়ন ১৯৪৯
ডাচ ভাষা ইউনিয়ন ১৯৮০

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "The colonial hangover in academia"The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৭-১০-২৭। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০২-০৪ 
  2. "জাবিতে বাংলাদেশের বিউপনিবেশায়ন তত্ত্বের উপর বক্তৃতামালা"banglanews24.com। ২০১৯-০২-০৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০২-০৫ 
  3. "Education system has to shed colonial legacy"The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৮-১১-১৬। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০২-০৪ 
  4. Pushkala,, Prasad,। Crafting qualitative research : working in the postpositivist traditionsআইএসবিএন 9781317473695ওসিএলসি 904046323 
  5. Sabrin, Mohammed (২০১৩)। "EXPLORING THE INTELLECTUAL FOUNDATIONS OF EGYPTIAN NATIONAL EDUCATION" (PDF)athenaeum.libs.uga.edu/handle/10724/28885 
  6. Walter., Mignolo, (২০১১)। The darker side of Western modernity : global futures, decolonial options। Duke University Press। আইএসবিএন 9780822350606ওসিএলসি 700406652 
  7. Thiong'o, Ngugi wa (১৯৯২)। Decolonising the mind: the politics of language in African literature (ইংরেজি ভাষায়)। East African Publishers। আইএসবিএন 9789966466846 
  8. Pinderhughes, Charles (জুন ২০১১)। "Toward a New Theory of Internal Colonialism"। Socialism and Democracy25: 235–256। ডিওআই:10.1080/08854300.2011.559702