বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট হল বাংলাদেশের একটি হিন্দু গন মানুষের সামাজিক সংগঠন। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০০৬ সালে বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোট[১][২] নামে প্রতিষ্ঠিত হয়। বিজিএইচএম এর মূল লক্ষ্য হ'ল হিন্দু সমাজকে সুসংহত করা এবং হিন্দু ধর্ম রক্ষা করার - সেবা করা। এই দলটির বর্তমান সভাপতি হচ্ছেন ড. প্রভাস চন্দ্র রায় এবং নির্বাহী মহাসচিব পলাশ কান্তি দে। দুর্নীতি এবং জামায়াত সংশ্লিষ্টতার কারণে এডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক কে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।[৩]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের ছোট-বড় ২৩টি হিন্দু ধর্মীয় সংগঠনের জোট হচ্ছে হিন্দু মহাজোট। এই ২৩টি সংগঠনের সাথে জেলার অনেকেই জড়িত রয়েছেন। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০০৬ খ্রিঃ থেকে সংগঠনটি হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। দেশের ৫৭টি জেলায় হিন্দু মহাজোটের পাশাপাশি এর অঙ্গ সংগঠন যুব মহাজোট ও ছাত্র মহাজোট কাজ করছে।

মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট (বিজেএইচএম) এর মূল লক্ষ্য হ'ল হিন্দু সমাজকে সুসংহত করা এবং হিন্দু ধর্ম রক্ষা করা - সেবা করা। স্বাতন্ত্র্যসূচকভাবে নির্মিত আদিম সামাজিক-সাংস্কৃতিক, ভাষাগত ও ধর্মীয় পরিচয়ের একটি সেটটিতে বাংলাদেশ স্থিতিশীল। যে সভ্য-অর্থনৈতিক ব্যবস্থাটির আশেপাশে বাংলায় আধুনিক সভ্যতা গড়ে উঠেছে তা একটি স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক-ধর্মীয় আদর্শ থেকে উদ্ভূত। ফলস্বরূপ, তুলনামূলকভাবে নমনীয় ধর্মীয় মতাদর্শগুলি জনগণের উৎপাদন ও অর্থনৈতিক জীবনযাত্রার মোড়কে ঘিরে তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীকালে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে একটি অনন্য ভাষাতাত্ত্বিক বা ধর্মীয় পরিচয় ভাষা, শ্রেণি এবং পেশার বিভিন্ন বিষয় এবং এক সাথে সর্বশেষে ধর্মকে মাঝে মাঝে উসকানিতে পরিবেশন করার জন্য একাধিক পরিচয় উপেক্ষা করার প্রবণতা দেখা দিয়েছেসংঘাত এবং হিংসা।সংখ্যালঘু মানুষেরা তাদের রাষ্ট্রের অধিকার প্রত্যাখ্যানের প্রভাব নিয়ে কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। চ্যালেঞ্জগুলি জটিল, যা সামাজিক, আধ্যাত্মিক, সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করা যেতে পারে।

সাংগঠনিক কাঠামো[সম্পাদনা]

  • সভাপতি, সহ-সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি।
  • প্রধান সমন্বয়কারী, মহাসচিব, যুগ্ম মহাসচিব।
  • সাংগঠনিক সম্পাদক, অর্থ সম্পাদক, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক।
  • সপ্তর্ষি মণ্ডলী
  • উপদেষ্টা মণ্ডলী
  • কেন্দ্রীয় কমিটি
  • বিভাগীয় কমিটি
  • জেলা/ মহানগর কমিটি
  • উপজেলা কমিটি
  • ইউনিয়ন কমিটি
  • ওয়ার্ড কমিটি[৪]

সহযোগী সংগঠন[সম্পাদনা]

  • বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ছাত্র মহাজোট
  • বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোট
  • বাংলাদেশ হিন্দু মহিলা মহাজোট

কর্মকাণ্ড[সম্পাদনা]

বাংলাদেশে জাতীয় হিন্দু মহাজোট[৫]। এটি কারো পক্ষের বা বিপক্ষের কোন সংগঠন নয়। এটি সকল বিভেদ ভুলে, আত্মিক সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের হিন্দু সমাজের ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের সংগঠন। জাতীয় হিন্দু মহাজোট প্রতিষ্ঠার পর আমেরিকা, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত বিশ্ব হিন্দু সম্মেলন, ওয়ার্ল্ড হিন্দু কংগ্রেসসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে আমন্ত্রিত হয়ে অংশগ্রহণ করেছে। সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বাংলাদেশ সফরকালে হিন্দু মহাজোট নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক করেছেন। বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের গঠনতন্ত্র ও সংবিধানে বর্ণিত উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হচ্ছে- ক. বাংলাদেশের রাষ্ট্র সীমানার ভিতরে বসবাসরত সকল সনাতনধর্মী (হিন্দু) লোকদের জন্য একটি ধর্মীয় সংগঠনের উন্মেষ, খ. সকল হিন্দু ধর্মাবলম্বী লোকের জান-মাল ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষাকল্পে বাংলাদেশের শাসনতন্ত্রে বর্ণিত অধিকারের আলোকে নিশ্চয়তা বিধান করা ও গ. সকল হিন্দু ধর্মাবলম্বী লোকের গণতান্ত্রিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা। আর হিন্দুদের কৃষ্টি, ধর্মীয় স্বাধীনতা, হিন্দুত্ব ও ঐতিহ্য রক্ষা করা হচ্ছে এই সংগঠনের মূলনীতি। যে ৭ দফা দাবি নিয়ে সংগঠনটি কাজ করে যাচ্ছে সেগুলো হচ্ছে- ১. হিন্দু পারিবারিক আইন ও বিবাহ আইন পরিবর্তন ও সংযোজন করা চলবে না; ২. জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসন[৬] ও পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে; ৩. হিন্দু সম্প্রদায়ের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সংখ্যালঘু বিষয়ক কমিশন গঠন করতে হবে; ৪. সংখ্যালঘু উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এবং উপ-রাষ্ট্রপতি ও উপ-প্রধানমন্ত্রীর পদ সৃষ্টি করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষিত করতে হবে; ৫. শত্র“ (অর্পিত) সম্পত্তি আইন বাতিল করে হিন্দু উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী ফেরত দিতে হবে; ৬. সরকারি চাকুরিতে ২০% কোটার ব্যবস্থা করতে হবে এবং ৭. দুর্গাপূজায় ৩ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করতে হবে[৫]। সকলের কাছে প্রত্যাশা- হিন্দুত্ববোধ ও হিন্দুদের কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য রক্ষায় সকলেই সহায়ক হবেন। পৃথিবীর সকল প্রাণী সুখী হউন, নিরাময় হউন, প্রশান্তি লাভ করুন, কেউ যেন দুঃখ ভোগ না করেন।

গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিকের বিতর্কিত কর্মকান্ড[সম্পাদনা]

গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক নামক ব্যক্তির সাম্প্রদায়িক বক্তব্য

,

রাজাকার শিরোমণি গোলাম আজমের মুক্তির দাবীতে তার অংশগ্রহন ও জামাযসাসাথে গভীর ,ীর সখ্যতা প্রমায়ায়, য ভ ভারতীয় ভাষায় ব্যানার, বক্তব্য শেষে ভারত মাতা কি জয় স্লোগান, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হিন্দু সদস্যদের সংখ্যা নিয়ে মিথ্যাচার, প্রবীণ রাজনীতিবিদ সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত প্রকৃত হিন্দু কিনা, এই নিয়ে নানা সময়ে বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টার চেষ্টার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ২০১৫ সালে হিন্দু মহাজোট থেকে বহিষ্কার করা হয়। অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ গঠনে বরাবরই ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট ।[৭]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কোন দল বা শক্তির সাথেকোন সম্পর্ক না থাকার দাবি করছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট"দৈনিক জনকন্ঠ। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০১-২০ 
  2. "দুর্নীতির অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট থেকে এডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্রের অব্যাহতি=Banglanews24"। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০১-২০ 
  3. "জামায়াত সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ হিন্দু মহাজোটের স্বঘোষিত মহাসচিবের বিরুদ্ধে।=Dhakatimes24"। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০১-২০ 
  4. FNS24। "শেরপুরে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোটের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত"Fns24.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০১-২০ 
  5. "বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট"প্রিয়.কম। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০১-২০ 
  6. "সংসদে ৬০ আসনসহ আলাদা মন্ত্রণালয় চায় হিন্দু মহাজোট"somoynews.tv। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০১-২০ 
  7. পথিক, সত্যান্বেষী (১৩ নভেম্বর ২০১৬)। "হিন্দু মহাজোটকে নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে"dhakatimes24.com। dhakatimes24.com। সংগ্রহের তারিখ ৪ জুন ২০২১