বাংলাদেশ-ভারত সাইবার-যুদ্ধ ২০১২

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

বাংলাদেশ-ভারত সাইবার-যুদ্ধ বলতে ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের প্রথম দিকে অনুষ্ঠিত ইন্টারনেটে সংঘটিত পাল্টাপাল্টি হ্যাকিং কার্যক্রমকে বোঝানো হচ্ছে। এধরনের সাইবার-যুদ্ধের ঘটনা ২০০৭-এ এস্তোনিয়ায় হলেও[১] দুটো দেশের মধ্যে এজাতীয় ঘটনা সহজদৃষ্ট নয়। বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার এই ঘটনার সূত্রপাত মূলত হয়, ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাসের ৯ ও ১০ তারিখ[২], ভারত সীমান্তে একজন বাংলাদেশীকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক উলঙ্গ করে নির্যাতনকে কেন্দ্র করে। তবে কারণ হিসেবে এটি একমাত্র ছিল না, বস্তুত সমকালীন আরো সীমান্ত-হত্যা এবং ভারত সরকার কর্তৃক টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের সিদ্ধান্তও এই সাইবার-যুদ্ধের ইন্ধন ছিল। এই সাইবার আক্রমণের পিছনে বাংলাদেশের তিনটি হ্যাকার-দল, যারা নিজেদেরকে বাংলাদেশ ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকারস, বাংলাদেশ সাইবার আর্মি এবং এক্সপায়ার সাইবার আর্মি নামে পরিচয় দেয়, নিজেদের কৃতীত্ব স্বীকার করে। এই দল-তিনটি তাদের সাথে বিশ্বব্যাপী পরিচিত হ্যাকার-দল অ্যানোনিমাস-এর সম্পৃক্ততার কথাও উল্লেখ করে। এছাড়াও পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়াসৌদি আরবের হ্যাকাররা বাংলাদেশী হ্যাকারদের সমর্থন দিচ্ছেন বলে সংবাদ-মাধ্যমে উল্লেখ করা হয়।[৩] যদিও, পরবর্তীতে তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করে এবং দাবী করা হয় তথ্যগুলো অতি উৎসাহী সমর্থকদের মস্তিষ্কপ্রসূত।[৪] তবে উল্লেখ্য, ভারত-সীমান্তে বাংলাদেশীদের হত্যা-সংক্রান্ত খবরের প্রচারই এই সাইবার-যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা[৫]

একই সময়ে ভারতীয় হ্যাকার-দলও এই আক্রমণে প্রতি-আক্রমণ করে, যার নেতৃত্ব দেয় ইন্ডিশেল নামক হ্যাকার দল।[৩] এদের পাশাপাশি ইন্ডিয়ান সাইবার আর্মিও নিজেদের সম্পৃক্ততা ঘোষণা করে।[৫]

প্রেক্ষাপট[সম্পাদনা]

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার আটরশিয়া গ্রামের হাবিবুর রহমান নামক ব্যক্তিকে ভারতীয় সীমান্তে গরু পাচারকারী সন্দেহে বিএসএফ জোয়ানরা হাত-পা বেঁধে বিবস্ত্র করে রাইফেলের বাঁট ও লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে পেটায়। হাবিবুর রহমানের দেয়া বর্ণনা অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার মৌরুসি সীমান্তচৌকির বিএসএফ সদস্যরা ৯ ডিসেম্বর তাকে ধরে নিয়ে যায়। এ সময় বিএসএফের জওয়ানেরা তার কাছে দুই হাজার টাকা, পাঁচটি টর্চলাইট ও একটি মুঠোফোন দাবি করে। কিন্তু সেগুলো দিতে না পারায় বিএসএফের সদস্যরা নির্যাতনের পর সারা রাত বেঁধে রাখে। পরদিন ১০ ডিসেম্বর ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আবারো নির্যাতন চালায়। বিএসএফ জওয়ানেরা তার পরনের লুঙ্গি খুলে ছিঁড়ে দুই ভাগ করে লাঠির সঙ্গে হাত বেঁধে দ্বিতীয় দফায় মারধর শুরু করে। তারা সাতজন রাইফেলের বাঁট ও লাঠি দিয়ে গোপনাঙ্গসহ পুরো শরীরে বেধড়ক পেটায়। এ সময় জ্ঞান হারিয়ে ফেললে বাঁধা অবস্থাতেই সীমান্তের পাশে একটি সরিষা খেতে ফেলে রাখে।[২] এই ঘটনাটি মোবাইল ফোন দিয়ে ১১ মিনিটের একটি ভিডিও করে ইউটিউবে ছেড়ে দিলে বাংলাদেশীদের মধ্যে তা চরম সাড়া ফেলে। এমনকি ভারতীয় বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠে। আর এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে বাংলাদেশের হ্যাকার দলগুলো ভারতের এজাতীয় বর্বরতার বিরুদ্ধে সাইবার-আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেয়। এই ঘটনার বিচার হিসেবে বিএসএফ-এর আদালতে অতি গোপনীয়তায় ৭ কনস্টেবলের প্রত্যেককে ৮৯ দিনের জেল দেয়া হয়েছে। ঘটনায় জড়িত কমান্ডার প্রধান কনস্টেবলকে পদাবনতি ঘটিয়ে সাধারণ কনস্টেবল করা হয়েছে। তবে তাকে কারাদণ্ড দেয়া হয়নি। এই বিচারসত্ত্বেয় এই সাইবার-যুদ্ধ অব্যাহত থাকে, কেননা এই বিচারকে ন্যায্য মনে করেনি অনেকে। এমনকি ভারতীয় মানবাধিকার সংগঠন এমএএসইউএম সংক্ষেপে মাসুম এই বিচারকে যথেষ্ট মনে করেনি।[৬]

এই সীমান্ত নির্যাতনের ঘটনা যখন আলোচনার তুঙ্গে, তখনই ২০ জানুয়ারি কুমিল্লার দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা ইউনিয়নের দলকুইয়া গ্রামের সীমান্ত থেকে অপহৃত হন টহলে থাকা বিজিবি হাবিলদার লুৎফর রহমান। ২১ জানুয়ারি তাকে আহত অবস্থায় অপহৃত বিজিবি সদস্যকে ফেরত দেওয়ার মাত্র ২ ঘণ্টা পরেই যশোরের শার্শা উপজেলার ধান্যখোলা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন রাশেদুল নামে এক বাংলাদেশী এবং আহত হন ৩ জন। এইসব সীমান্ত নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা স্মরণ করিয়ে দেয় পুরোন অনেক নির্যাতন আর সীমান্ত-হত্যাকে। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী বিগত ১০ বছরে বিএসএফের হাতে এক হাজারের বেশি বাংলাদেশী নিহত হয়েছে। এরমধ্যে ২০০১ সালে ৯৪ জন, ২০০২ সালে ১০৫ জন, ২০০৩ সালে ৪৩ জন, ২০০৪ সালে ৭৬ জন, ২০০৫ সালে ১০৪ জন, ২০০৬ সালে ১৪৬ জন, ২০০৭ সালে ১২০ জন ও ২০০৮ সালে ৬২ জন বাংলাদেশী নাগরিক বিএসএফের হাতে নিহত হন। মানবাধিকার সংগঠন অধিকার-এর মানবাধিকার রিপোর্ট-২০১১ অনুযায়ী, ২০০৯-২০১১—এই তিন বছরে বিএসএফের হাতে নিহত হয়েছেন ২০৩ জন বাংলাদেশী নাগরিক। এর মধ্যে ২০০৯ সালে ৯৮ জন, ২০১০ সালে ৭৪ জন এবং ২০১১ সালে ১৫ বছরের কিশোরী ফেলানীসহ ৩১ জন।[৭] একই সময় বিএসএফের হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হয়েছেন ৯৮৭ জন, অপহরণের শিকার হয়েছেন অন্তত ১,০০০, নিখোঁজ হয়েছেন ২০০'রও বেশি মানুষ। সীমান্ত-হত্যা বিষয়ে অধিকার-এর প্রতিবেদনে আরো উল্লেখিত হয়, নিরস্ত্র নারী-পুরুষ, শিশুকে বিএসএফ হয় গুলি করে হত্যা করছে নতুবা নির্যাতন করে আহত করছে। এমনকি বিএসএফ বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ করে কৃষি-জমিতে কর্মরত কৃষককেও গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটাচ্ছে। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তের ৯৪৭ আন্তর্জাতিক সীমানা পিলারের কাছ দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরার সময় ফেলানী (১৫) নামে এক কিশোরীকে বিএসএফ গুলি করে হত্যা করে এবং পাঁচ ঘণ্টা তার লাশ কাঁটাতারের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় রাখার পর ভারতে নিয়ে যায়।[২] এইসকল পরিসংখ্যান প্রকাশের মাধ্যমে অতীত মাথাচাড়া দিয়ে উঠার পাশাপাশি তার সাথে উঠে আসে তিতাস নদীর সঠিক হিস্যা আর টিপাইমুখ বাঁধ ইস্যুও। আর তারই প্রেক্ষিতে শানিত হয় এই সাইবার-যুদ্ধ।

সাইবার-যুদ্ধের বিবরণ[সম্পাদনা]

আক্রমণ-প্রতি আক্রমণ[সম্পাদনা]

যেহেতু বাংলাদেশীরা ভারত কর্তৃক নির্যাতিত, তাই বাংলাদেশের হ্যাকাররাই ভারতীয় ওয়েবসাইটে আক্রমণের সূচনা করে বলে ধারণা করা হয়, এমনকি প্রথমে সংবাদ-মাধ্যমে তেমনটাই প্রকাশিত হয়[৩]। ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ রাত থেকে ব্যাপক আক্রমণ চালানো হয় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে।[৩] প্রথমেই মহারাষ্ট্র পুলিশের ওয়েবসাইট আক্রমণের মাধ্যমে ভারতীয় ওয়েবসাইট হ্যাক করা শুরু হয়। কিন্তু বাংলাদেশী হ্যাকার-গোষ্ঠী পরবর্তিতে দাবি করে, ভারতীয় হ্যাকাররাই এই সাইবার-যুদ্ধের সূচনা করে, আর তারই জবাবে বাংলাদেশী হ্যাকারদের এই প্রতি-আক্রমণ। বাংলাদেশী হ্যাকাররা আক্রমণের প্রাথমিক ধাপে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী'র (বিএসএফ) ওয়েবসাইট হ্যাক করে সম্পূর্ণ অকার্যকর করে ফেলে।[৫] পরবর্তিতে ১২ ফেব্রুয়ারি, বিএসএফ-এর বিকল্প ওয়েবসাইটও (www.bsf.nic.in) আক্রমণ করে এর সোর্সকোড উন্মুক্ত করে দেয় বাংলাদেশী হ্যাকাররা। এছাড়াও ভারতের বিভিন্ন সরকারি ওয়েবসাইটে আক্রমণ চালায় তারা। এই আক্রমণের পাশাপাশি হ্যাকাররা নিজেদের ফেসবুক পেজ এবং বিভিন্ন ব্লগ ওয়েবসাইটে তাদের কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবৃতি দিতে থাকে, আর প্রকাশ করতে থাকে হ্যাক করা ওয়েবসাইটগুলোর ঠিকানা। ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১২ বাংলাদেশ ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার্স জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং ওয়েবসাইট ইউটিউব-এ ভারত সরকারের প্রতি একটি ভিডিও প্রকাশ করে।

ভিডিওতে দেখা যায়, মুখোশ আর কালো আলখাল্লা পরিহীত একজন লোক হাতে একটি কাগজ নিয়ে টেবিলের ওপাশ থেকে বসে কথা বলছেন। তার কথাগুলো যন্ত্রের কথনে শোনা যাচ্ছে। মুখোশের আদল পুরোপুরি অ্যানোনিমাস-এর মুখোশের সাথে মিলে যায়। মুখোশ পরিহিত ব্যক্তি যে বক্তব্যটি দেন, তা ছিল:

এই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশী হ্যাকারদের অনবরত সাইবার আক্রমণের প্রতিবাদে বাংলাদেশের বিভিন্ন ওয়েবসাইটও হ্যাক হতে শুরু করে, এই তালিকায় বাংলাদেশের কিছু সরকারি ওয়েবসাইটও ছিল।[৫] ভারতীয় হ্যাকার-দল ইন্ডিশেল অনেকগুলো ভারতীয় ওয়েবসাইট থেকে বাংলাদেশি হ্যাকারদের হটিয়ে দিয়ে রোববার রাত পর্যন্ত সময় দেয় বলে সংবাদ-মাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়। এই সময়ের মধ্যে ভারতের সাইটগুলোতে আক্রমণ বন্ধ না করলে বাংলাদেশের ওয়েবসাইটগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে বলে ইন্ডিশেল হুমকি দেয়।[৩] ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ বাংলাদেশের এরকম কিছু ওয়েবসাইট হ্যাকের খবর প্রকাশিত হয় বিবিসি বাংলায়। অবশ্য এরকম আক্রমণের জবাব দিতে বাংলাদেশী হ্যাকার-দলগুলো ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ভারতের কয়েকশ' ওয়েবসাইটও হ্যাক করে বলে বিবিসি বাংলার ঐ খবরেই তথ্যপ্রকাশ হয়।বাংলাদেশী সংবাদ-মাধ্যমগুলো এই হ্যাকিং-এর পিছনে ইন্ডিয়ান সাইবার আর্মি নামক একদল হ্যাকারের সম্পৃক্ততার খবর প্রকাশ করে।[৫] ১৫ ফেব্রুয়ারি নাগাদ বাংলাদেশী সংবাদ-মাধ্যম জানায়, ভারতীয় প্রায় ২০,০০০-এর অধিক ওয়েবসাইট এই আক্রমণের কারণে আংশিক বা সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়।[৮]

এই আক্রমণে অধিক পরিমাণে ভারতীয় ওয়েবসাইট হ্যাক হওয়ায় ভারতীয় হ্যাকাররা ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে বলে সংবাদ বেরোয়। সংবাদে উল্লেখ করা হয়, ভারতীয় হ্যাকাররা বিভিন্ন বাংলাদেশী ওয়েবসাইট হ্যাক করে বাংলাদেশী হ্যাকারদের উপর দোষ চাপিয়ে দিতে থাকে। সংবাদে www.publiclibrary.gov.bd ওয়েবসাইটের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, ভারতীয় হ্যাকাররা ওয়েবসাইটটি হ্যাক করে লিখে রাখে: HackeD bY BD BLACK HAT TEAM[৮] যদিও এজাতীয় সংবাদ বাংলাদেশী সংবাদ-মাধ্যমগুলোতে ছাপা হলেও ভারতীয় সংবাদ-মাধ্যমে এরকম কোনো সংবাদ ছাপা হয়নি।

সাইবার-যুদ্ধ চলাকালীন ভারতীয় ওয়েবসাইটে আক্রমণের পাশাপাশি বাংলাদেশী হ্যাকাররা বাংলাদেশী বিভিন্ন ওয়েবসাইটের জন্য নিরাপত্তা পরামর্শও দিতে থাকে।[৩]

আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ ভারত সাইবার ওয়ার, আনুষ্ঠানিক ভাবে দুই পক্ষের সমজোতায় কখন সমাপ্তি ঘটেনি।

পুণরায় যুদ্ধারম্ভ[সম্পাদনা]

ফেসবুকের পেজে বিডি ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার্স কর্তৃক এই সাইবার-যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণার অব্যবহিত পরে ভারত-সীমান্তে আবারও একজন বাংলাদেশীর নিধন হলে হ্যাকাররা আবার যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

পদ্ধতি[সম্পাদনা]

যেকোনো সাইবার আক্রমণ যে যে পন্থায় হতে পারে, এই সাইবার আক্রমণও তারই অনুবর্তি ছিল। এই আক্রমণের মধ্যে ডস আক্রমণও সম্পৃক্ত ছিল বলে সংবাদ মাধ্যমে জানা যায়।[৮] এছাড়া ping আক্রমণ, zombie আক্রমণ, এবং DDoS আক্রমণ সক্রীয় ছিল বলে জানা যায়। এ ছাড়াও এসকিউএল ইনজেকশন, সার্ভার রুট, সিমলিঙ্ক সহ অত্যাধুনিক হ্যাকিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] তবে SQL Injection[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] এবং DDoS পদ্ধতিই এর মধ্যে প্রধান ছিল বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।[৯]

ক্ষয়-ক্ষতির পরিসংখ্যান[সম্পাদনা]

ভারতের একজন সাইবার সুরক্ষা বিশেষজ্ঞের বরাত দিয়ে বিবিসি বাংলা জানায়, বেশিরভাগ ওয়েবসাইটই ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের এবং সেগুলিতে অতি স্পর্শকাতর কোনো তথ্য থাকার কথা নয়। উভয় দলই যে ওয়েবসাইটগুলো হ্যাক করে, তার সবগুলোই পুনরায় চালু করা সম্ভব হয় বলে সংবাদ-মাধ্যমগুলো খবর প্রকাশ করে।[৫]

ফলাফল[সম্পাদনা]

আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দেশের সরকারই তাদের হ্যাক হওয়া ওয়েবসাইটের কোনো তালিকা প্রকাশ না করায় এই সাইবার-যুদ্ধের ফলাফল নিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে বিভিন্ন সংবাদ-মাধ্যমে প্রকাশিত খবরের প্রেক্ষিতে ভারতীয় হ্যাক হওয়া ওয়েবসাইটের তুলনায় অধিক সংখ্যক বাংলাদেশী ওয়েবসাইট হ্যাক হবার তথ্য পাওয়া যায়। (১৩ ফেব্রুয়ারি দৈনিক প্রথম আলোয় প্রকাশিত সংবাদে বাংলাদেশী কর্তৃক হ্যাক করা ভারতীয় ওয়েবসাইটের সংখ্যা বলা হয় প্রায় ৩০০, অপরদিকে ভারতীয় হ্যাকাররা ১০,০০০ ওয়েবসাইট হ্যাক করেছে বলে জানায়।[৩]) তবে এই সংখ্যাটা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো এক পক্ষের জয় ঘোষণার জন্য যথেষ্ট কিনা, তা বিবেচনাসাপেক্ষ। তবে যেহেতু এই হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে মূলত ভারতীয় সীমান্ত-হত্যার প্রতিবাদ করা হয়, এই প্রতিবাদ গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রকাশ হয় বলে এই উদ্দেশ্য সফল হয় বলে অনুমিত হয়।

অন্যান্য[সম্পাদনা]

বিভিন্ন ফোরামে, প্রাথমিকভাবে সাইবার যুদ্ধে বাংলাদেশের পক্ষে অংশগ্রহণকারীদের অভ্যন্তরিণ সমন্বয়হীনতা এবং অদূরদর্শীতার সমালোচনা করে গ্রুপগুলোকে অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে এমন সকল কার্যক্রম থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] এই সাইবার-যুদ্ধের ফলস্বরূপ বাংলাদেশী ও ভারতীয় অনলাইন ব্যবহারকারীরাও জড়িয়ে পড়েন নিজেদের মধ্যে তর্কযুদ্ধে। বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকা, ফোরামে পাল্টাপাল্টি তর্কযুদ্ধে পরস্পরের ধর্ম নিয়েও আঘাত দিয়ে তর্কযুদ্ধ চলতে থাকে। এতে বাংলাদেশী সংবাদ-মাধ্যমগুলো ভারতীয়দের মন্তব্যকে কুরিুচিপূর্ণ আর বাংলাদেশীদের মন্তব্যকে শান্তিপূর্ণ ও শালীন বলে সংবাদ প্রকাশ করে।[৮] ভারতীয় সংবাদ-মাধ্যমে এজাতীয় কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি।

জনপ্রিয় মাধ্যমে উপস্থাপনা[সম্পাদনা]

এই সাইবার-যুদ্ধের ক্ষয়-ক্ষতি যখন দৃশ্যমান হতে শুরু করে, তখন বিভিন্ন বাংলাদেশী ও ভারতীয় সংবাদ-মাধ্যমের পাশাপাশি বিদেশী সংবাদ-মাধ্যমও সংবাদটি গুরুত্বের সাথে ছাপায়। ইয়াহু নিউজ "Bangladeshis say they hacked 20,000 Indian websites" শিরোনামে হ্যাকারদের বক্তব্য গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করে। দ্যা টাইম্‌স অফ ইন্ডিয়া শিরোনাম করে "Bangladesh group hacks BSF website to ‘avenge border killings’"। এছাড়া তারা তাদের অনলাইন সংস্করণে একটি ভিডিও রিপোর্টও প্রকাশ করে। সাপ্তাহিক ট্যাবলয়েড Blitz লীড নিউজ করে শিরোনাম দেয় "Bangladesh-India Cyber War Continues"। চীনের সাংহাই ডেইলি শিরোনাম করে "Nearly 20,000 Indian sites get hacked by Bangladesh groups protesting border killings.."। দ্যা হ্যাকার নিউজ, এই সাইবার-যুদ্ধ নিয়ে "Indian and Bangladeshi Hackers destroying Cyber Space of Each Other" শিরোনামের লেখায় উল্লেখ করে, "they Call it "Cyber war" - but In actual they are destroying Cyber Space of their own Country by Defacing Sites for a matter that can`t be solved by Ministry like this."।[৮]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Web war one, Joshua Davis, Reader's Digest (p. 36); July 2008। সংগ্রহের তারিখ: ১৩ এপ্রিল ২০১২।
  2. সীমান্তে অব্যাহত বাংলাদেশী হত্যা : ওয়াদা ভঙ্গকারী ভারত, মঈনুল হক, সাপ্তাহিক বুধবার। ২৬ জানুয়ারি ২০১২ প্রকাশিত। সংগ্রহের তারিখ: ১৩ এপ্রিল ২০১২।
  3. সীমান্তে হত্যা বন্ধের দাবি: বাংলাদেশ-ভারত সাইবার-যুদ্ধ!, পল্লব মোহাইমেন, দৈনিক প্রথম আলো, ঢাকা থেকে প্রকাশিত; প্রকাশকাল: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২। পৃষ্ঠা ১। পরিদর্শনের তারিখ: ২৫ মার্চ ২০১২ খ্রিস্টাব্দ।
  4. http://www.security-ray.com/2012/02/24-indian-site-hacked-by-an0nym0uz17.html
  5. শত শত ওয়েবসাইটে হ্যাকারদের হানা, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২; বিবিসি বাংলা। সংগ্রহের তারিখ: ২৫ মার্চ ২০১২ খ্রিস্টাব্দ।
  6. সীমান্তে বাংলাদেশী নির্যাতন: বিএসএফ-এর শাস্তি ৮৯ দিনের জেল ও পদাবনতি!, মানবজমিন ডেস্ক; দৈনিক মানবজমিন। প্রকাশকাল: ১৪ মার্চ ২০১২। সংগ্রহের তারিখ: এপ্রিল ১৩, ২০১২।
  7. অধিকার-এর মানবাধিকার প্রতিবেদন ২০১১ প্রকাশ : গুম বিচারবহির্ভূত হত্যা ও সাংবাদিক নির্যাতনে উদ্বেগ ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১ মার্চ ২০১২ তারিখে, স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক আমার দেশ; ৮ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে প্রকাশিত। সংগ্রহের তারিখ: ১৩ এপ্রিল ২০১২।
  8. বাংলাদেশ - ভারত সাইবার যুদ্ধ থেকে বাকযুদ্ধ: এরপর কী?[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ], আহমেদ আরিফ, বিডিনিউজ২৪.কম। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২ খ্রিস্টাব্দ। পরিদর্শনের তারিখ: ২৫ মার্চ ২০১২ খ্রিস্টাব্দ।
  9. Cyberwar between India and Bangladesh escalates, Info-Security ম্যাগাজিন; ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১২ তারিখে প্রকাশিত। সংগ্রহের তারিখ: ১৩ এপ্রিল ২০১২।