বড়িশা পাঠাগার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

বড়িশা পাঠাগার দক্ষিণ কলকাতার বেহালার বড়িশা অঞ্চলের একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী গ্রন্থাগার। ১৯০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই লাইব্রেরির সংগৃহীত বইয়ের সংখ্যা ২০,৯৭৫ ও সভ্যসংখ্যা ৫৮৭ (মে, ২০০৩-এর হিসাব মতে)। শুধু কলকাতা শহরই নয়, সারা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী পাঠাগারগুলির অন্যতম হল বড়িশা লাইব্রেরি।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯০৪ সালের ২২ এপ্রিল ‘বড়িশা স্টার লাইব্রেরি’ নামে মাত্র ৫৬টি বই নিয়ে বড়িশা পাঠাগার স্থাপিত হয়েছিলেন। এই লাইব্রেরি স্থাপনের মূল উদ্যোক্তাগন ছিলেন ভূষণচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, গিরীন্দ্রনাথ রায়চৌধুরী (ধলিবাবু), সিদ্ধেশ্বর দত্ত, প্রসাদদাস রায়চৌধুরী, সতীশচন্দ্র মতিলাল, হরিচরণ রায়চৌধুরী, বিনোদবিহারী রায়চৌধুরী ও গুরুচরণ রায়চৌধুরী।

সেই সময় বড়িশার সুবারবান রিডিং ক্লাবের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে বেশ কিছু বই ও বইয়ের আলমারি এই লাইব্রেইতে স্থানান্তরিত হয়। ১৯০৮ থেকে ১৯১০ সালের মধ্যে এই অঞ্চলেরাবহু শিক্ষিত যুবক এই লাইব্রেরিতে যোগদান করলে লাইব্রেরির গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। তখন থেকে লাইব্রেরির নাম পালটে ‘বড়িশা ফ্রি রিডিং ক্লাব অ্যান্ড লাইব্রেরি’ রাখা হয়। সখের বাজারের কাছে মতিলাল গুপ্তের বাড়িতে মাসিক আট টাকা ভাড়ায় উঠে আসে লাইব্রেরি। এরপর আর্থিক স্বচ্ছলতা হ্রাস ও সভ্যসংখ্যা হ্রাস জনিত সমস্যায় জর্জরিত লাইব্রেরিকে বড়িশা দ্বাদশ শিবমন্দিরের দোলমঞ্চের নিচে বিনা ভাড়ায় উঠে আসে। ১৯১৪ ফাদার ফ্রেডারিক উইং ফিল্ড ডগলাস শর্তসাপেক্ষে ৪ কাঠা জমি লাইব্রেরিকে দান করতে চাইলেও শর্ত লাইব্রেরির স্বার্থবিরোধী হওয়ায় তা প্রত্যাখাত হয়। ১৯১৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রসাদদাস রায়চৌধুরীর দুই ভাই অধরচন্দ্র মুখোপাধ্যায় ও সুধরচন্দ্র মুখোপাধ্যায় লাইব্রেরিকে তিন কাঠা জমি দান করেন।

এই সময় রায়বাহাদুর কালীকুমার রায়চৌধুরী লাইব্রেরির সভাপতি হয়ে এলে বড়িশার জনগণ ও অন্যান্য ধনাঢ্যদের অর্থসাহায্যে লাইব্রেরির আর্থিক অস্বচ্ছলতার দিন শেষ হয়। খুলনার জমিদার দেবকুমার রায়চৌধুরী ১০০০ টাকা ও তৎকালীন জেলাশাসক আর এন ব্লেন্ড ৫০০ টাকা দান করলে ১৯২৪ সালের ১৬ মে লাইব্রেরির গৃহনির্মান সমাপ্ত হয়। দ্বারোদ্ঘাটন করেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি মন্মথনাথ মুখোপাধ্যায়১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবার সময় থেকে লাইব্রেরির উন্নয়ন কিছুটা থমকে গেলেও ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর থেকে এর সুদিন আবার ফিরে আসে। এই সময় স্বদেশিকতার বাতাবরণে লাইব্রেরির ইংরেজি নাম পালটে রাখা হয় ‘বড়িশা পাঠাগার’। ১৯৫৪ সালের ১৬ মে লাইব্রেরির সুবর্ণজয়ন্তী পালিত হয়। ১৯৬১ সালে লাইব্রেরির পিছনে দেড় কাঠা জমি কিনে নিয়ে রবীন্দ্র ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ১৯৮০ সালে লাইব্রেরির প্লাটিনাম জুবিলি পালিত হয়। ১৯৯০ সালে দোতলা অডিটোরিয়ামের কাজ শেষ হয়। পরে ছাত্রবিভাগটি নতুন করে সাজানো হয়। ২০০৪ সালে এই লাইব্রেরির শতবর্ষ পালিত হয়।

সংগ্রহ[সম্পাদনা]

২০০৩ সালের হিসাব অনুসারে লাইব্রেরির গ্রন্থসংখ্যা ২০,৯৭৫। যার মধ্যে বাংলা বইই ১৫,০০০-এর উপর। ইংরেজি বই ৩০০০-এর কিছু বেশি ও শিশুবিভাগের বই ২৫০০টি। লাইব্রেরির সংগ্রহের পুরনো বইয়ের মধ্যে আছে হরিসাধন মুখোপাধ্যায়ের ‘কলিকাতা সেকালে ও একালে’, বর্ধমান রাজসভা থেকে প্রকাশিত মহাভারত-এর একটি খণ্ড, ‘শব্দকল্পদ্রুম’-এর একটি খণ্ড, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রণীত সীতার বনবাস গ্রন্থের প্রথম সংস্করণ। পুরনো পত্রিকার মধ্যে আছে নারায়ণ, স্বাস্থ্য, মানসী, বঙ্গবাণী, প্রবাসী, ভারতবর্ষ, বঙ্গদর্শন, শনিবারের চিঠি, মডার্ন রিভিউ ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]