বক্ষ উন্মুক্ততা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
উন্মুক্ত-বক্ষা নারী, ওরেগন কাউনটি ফেয়ারে, ২০০৮

বক্ষ উন্মুক্ততা (ইংরেজি: Toplessness) বলতে বিশেষত জনসম্মুখে বা কোনো দৃষ্টিগোচর মাধ্যমে নারীর কাঁধ থেকে কোমর বা নিতম্ব পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকা, অথবা অন্তত স্তন, অ্যারিওলা, স্তনবৃন্তের উন্মুক্ত অবস্থা বোঝায়। হয়। পুরুষের ক্ষেত্রেও বক্ষ উন্মুক্ততা একই সমার্থক নির্দেশ করে, যাকে ইংরেজিতে শার্টলেসনেস বলে।

পাশ্চাত্য সংস্কৃতিতে[সম্পাদনা]

ইউজিন ডেলাক্রয়িক্স অঙ্কিত ওডালিস্ক (১৮৫৭)।

ধড় বিবস্ত্রা বা ধড় নিরাভরণ (ইংরেজি: Toplessness) ওই অবস্থাকে বলা হয় যখন একজন নারী তার উর্ধাংশে কিছু না পরে বিবস্ত্র থাকার ফলে তার স্তন দৃষ্টিগোচর যায়।

প্রচলন[সম্পাদনা]

খৃস্টান মিশনারিদের আমেরিকায় আগমনের পূর্বে আমেরিকা, আফ্রিকাইউরোপে বহুল পরিমাণে প্রচলিত ছিলো।[১] তাছাড়া এশিয়ার বিভিন্ন অংশেও তা প্রচলিত ছিলো যা মুসলিম আক্রমণের ফলে বন্ধ হয়।[২]

হিন্দু সংস্কৃতিতে[সম্পাদনা]

ভারতীয় সংস্কৃতিতেও স্তন নগ্ন রাখার প্রচলন গাঙ্গেয় অববাহিকা থেকে দাক্ষিণাত্য পর্যন্ত নারিরাও স্তন নগ্ন রাখতো। এবং এখানেও মুসলিম আক্রমণেরর ফলে তা বন্ধ হয়।[৩][৪] অবশ্য মুসলমানদের ভারতে আগমনের পরেও কেরলকর্ণাটকএ এর প্রচলন ছিল[৫][৬]

অন্যান্য সাংস্কৃতিতে[সম্পাদনা]

আধুনিকতা ও মুসলিম সাংস্কৃতির প্রভাবের পূর্বে থাই নারীগনও তাদের স্তন সার্বজনিকভাবে উলঙ্গ রাখতো।[৭] লাওসএ ও ১৮৫০ পর্যন্ত মহিলারা স্তন আবৃত করতনা।[৮] ইন্দোনেশীয়ার বোর্নিয়ো, জাভাদ্বীপ, বালী ইত্যাদি অঞ্চলের নারীরাও সেখানে ইসলামএর আগমনেরর পূর্বে স্তন উলঙ্গ রাখতো কিন্তু যাদের স্তন ঝুলে যেতো বা খুব বড় স্তন থাকলে তারা তা ঢেকে রাখতো। [৬]

মধ্যপ্রাচ্যর দেশ আরব উপদ্বীপ, মিসর, মেসোপটেমীয় তেও সপ্তম শতাব্দীতে নগ্নতা চরমে ছিলো। যা হজরত মুহাম্মদ (সঃ)-এর পর ও ইসলামীকরনের পর তা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু টিউনিশিয়ামিসরের সামুদ্র সৈকতে এখনও বিদেশি পর্যটকদের জন্যে তা বৈধ করা আছে।[৯]

বৈধতা[সম্পাদনা]

বর্তমানে অধিকাংশ দেশে সার্বজনিক স্থানে স্তন উলঙ্গীকরণ নিষিদ্ধ। তবে কিছু স্থানে তা বৈধ।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Nida, Eugene A. (১৯৫৪)। "Customs and Cultures, Anthropology for Christian Missions"। New York: Harper & Brothers। 
  2. Fernando, Romesh (১৫ নভেম্বর ১৯৯২)। "The Garb of Innocence: A Time of Toplessness"। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জানুয়ারি ২০১০ 
  3. Hyecho. Wang ocheonchukguk jeon of AD 727
  4. A. L. Bhasham. "The Wonder That Was India"
  5. W. Crooke. "Nudity in India in Custom and Ritual", Journal of the Royal Anthropological Institute. 1919. p.239f
  6. Hans Peter Duerr. "Der Mythos vom Zivilisationsprozeß 4. Der erotische Leib"
  7. "Traditional Dress in Chiang Mai" 
  8. M.H.Mouhot, "Travels in the Central parts of Indo-China, Cambodia and Laos" (1864)
  9. Rovere, Elizabeth। "Culture and Tradition in the Arab Countries: American Returns Touched by the Land and the People"। The Habiba Chaouch Foundation। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-০৭-২৮ 


সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি[সম্পাদনা]

নারীরা মনে করে তাদের পুরুষের মত স্বাধীনতা পাওয়া উচিত এবং সে লক্ষ্যে তাদেরকেও নগ্ন বুকে ঘোরাফেরা করার অধিকার দেওয়া উচিত। 

নারীরা পুরুষের সম মর্যাদা প্রাপ্ত হওয়ার জন্য নগ্নবক্ষা হয়ে থাকে।
[১]

I[২][৩]

নারীরা প্রতিবাদ স্বরূপ বুক খুলে রেখেছে।

একটি প্রতিবাদের উপায় হিসেবে[সম্পাদনা]

নারীরা বিভিন্ন অন্যায়ের প্রতিবাদ করতেও উন্মুক্ত বক্ষা হয়ে থাকে।[৪]

[৫][৬]


[৭]


[৮]

ফ্রান্সের কান সমুদ্র সৈকতে, ১৯৮০

নারীরা তাঁদের বক্ষ উন্মুক্ত করে যাতে পুরুষ আনন্দ পায় তাই।[৯] ব্রাজিলের উৎসবে প্রায়ই উন্মুক্ত বক্ষের নারী দেখতে পাওয়া যায়।[১০]

মিশেল মেরকিন এক ফোটশুটে নগ্ন হয়ে রয়েছে।

মিডিয়া ও ফটোগ্রাফি[সম্পাদনা]

 বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে নগ্ন নারীর ছবি ছাপা হয়। এসব ছবি ছাপার উদ্দেশ্য হচ্ছে, পুরুষকে বিনোদন দেয়া। এসব ছবি তোলা ও ছাপান সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে করা হয়, যে বাণিজ্যে নারী একটি পন্য ছাড়া কিছুই নয়। পুরুষ এসব নগ্ন নারীর ছবি দেখে এবং বাথ্রুমে গিয়ে হস্তমৈথুন করে এবং চরম যৌন উত্তেজনায় বীর্যপাত করে ফেলে; কিছুতেই বীর্য আটকাতে পারে না পুরুষ। এসব নগ্ন নারীর চিত্র এতটাই যৌন উত্তেজক যে হস্তমৈথুন না করে পুরুষ টিকে থাকতে পারে না। প্রত্যেক পুরুষ, সবাই নগ্ন নারী দেখে হস্তমৈথুন করে। এসব নগ্নতাকে পুরুষের কাছে সহজলভ্য করার জন্য প্লেবয় ম্যাগাজিনের উদ্ভব। হিউ হেফনার এই ম্যাগাজিনকে যুবসমাজের যৌন উত্তেজনা বৃদ্ধি করার জন্য এবং নিজের অর্থ উপার্জনের মোক্ষম উপায় হিসেবে ব্যবহার করেছেন।[১১] [তথ্যসূত্র প্রয়োজন][তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

সোফিয়া লরেন তাঁর এক চলচ্চিত্রে বুক খুলে রেখেছিলেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Borelli, Laird (১৭ সেপ্টেম্বর ২০০২)। "Imitation of Christ Runway Review"। Style.com। 
  2. "Is nudity the new normal?"The Sun। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুন ২০১০ 
  3. "Swedish city legalizes topless bathing....at public swimming pools"। Inquisitr.com। ২৭ জুন ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুলাই ২০০৯ 
  4. "Feminist group take topless protest to Davos"The Telegraph। ২৮ জানুয়ারি ২০১২। 
  5. Charleston, Beth Duncuff (অক্টোবর ২০০৪)। "The Bikini"Heilbrunn Timeline of Art History। New York: The Metropolitan Museum of Art। সংগ্রহের তারিখ আগস্ট ১৫, ২০১৩ 
  6. James Kitchling, "Short History of Bikinis and Swimsuits", Articles Central, August 2, 2008[অকার্যকর সংযোগ]
  7. Walls, Jeannette (১৪ জানুয়ারি ১৯৯১)। High Fashion's Lowest NecklineNew York Magazine 
  8. Alexander, Shana (১০ জুলাই ১৯৬৪)। "Me? In That!"। Life57 (2): 55–61।  |access-date= requires |url= (help)
  9. "Mardi Gras New Orleans"The Times-Picayune। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুন ২০১০ 
  10. "The Samba Parade"। Ipacom travel। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুন ২০১০ 
  11. Westwood, Matthew (২৩ মে ২০০৮)। "PM says Henson photos have no artistic merit"The Australian। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জানুয়ারি ২০১০