পূর্ণিমা সিনহা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পূর্ণিমা সিনহা
Dr. Purnima Sinha (cropped).jpg
জন্ম(১৯২৭-১০-১২)১২ অক্টোবর ১৯২৭
কলকাতা, ব্রিটিশশাসিত ভারত
মৃত্যু১১ জুলাই ২০১৫(2015-07-11) (বয়স ৮৭)
ব্যাঙ্গালোর, ভারত
বাসস্থানশান্তিনিকেতন, ভারত
জাতীয়তাভারতীয়
কর্মক্ষেত্রভূ-খনিজের রঞ্জন-রশ্মির ক্রিস্টালোগ্রাফী
প্রতিষ্ঠানভারতীয় বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান, ব্যাঙ্গালোর
প্রাক্তন ছাত্রকলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
পিএইচডি উপদেষ্টাসত্যেন্দ্রনাথ বসু
পরিচিতির কারণপদার্থ বিজ্ঞানে ডক্টরেট ডিগ্রী অর্জন করা প্রথম বাঙালি মহিলা
স্ত্রী/স্বামীসুরজিৎচন্দ্র সিনহা
সন্তান(গণ)সুকন্যা সিনহা, সুপর্ণা সিনহা
১৯৫৪ সালে কলকাতা বোটানিকাল উদ্যান দর্শনের সময় সত্যেন্দ্রনাথ বসু ও অধ্যাপক দিরকের সাথে পূর্ণিমা সিনহা

পূর্ণিমা সিনহা (১২ অক্টোবর ১৯২৭ – ১১ জুলাই ২০১৫) ছিলেন একজন ভারতীয় পদার্থ বিজ্ঞানী। তিনি বিখ্যাত ভারতীয় বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুর অধীনে গবেষণা করেছিলেন। পূর্ণিমা সিনহাকে পদার্থ বিজ্ঞানে ডক্টরেট ডিগ্রী অর্জন করা প্রথম বাঙালি মহিলা হিসেবে অভিহিত করা হয়। [১][২]

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

১৯২৭ সালের ১২ অক্টোবরে পূর্ণিমা সিনহার জন্ম হয়েছিল। ডা. নরেশ চন্দ্র সেনগুপ্তের তিনি কনিষ্ঠ কন্যা ছিলেন। ডা. নরেশ চন্দ্র সেনগুপ্ত ছিলেন একজন অধিবক্তা এবং প্রগতিশীল লেখক। তিনি বাংলা এবং ইংরাজী ভাষায় ৬৫ টিরও অধিক গ্রন্থ লিখেছিলেন। সঙ্গে প্রবন্ধও অনেকসংখ্যক লিখেছিলেন। তার কিছু প্রবন্ধের বিষয় ছিল "মহিলা সবলীকরণ"। পূর্ণিমা সিনহা বৈবাহিক জীবন আরম্ভ করেছিলেন নৃতত্ত্ওয়ার অধ্যাপক সুরজিৎ চন্দ্র ঘোষের সঙ্গে। তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যও ছিলেন। তিনি ভারতীয় উপজাতির সাংস্কৃতিক অভিযোজনার বিষয়টি সহজবোধ্য করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। [১][৩]. পূর্ণিমা সিনহার কন্যা সুপর্ণা সিনহা এবং সুকন্যা সিনহা দুইজনেই পদার্থ বিজ্ঞানী। একজন রমন গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং অন্যজন ভারতীয় পারিসাংখ্যিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন।[১][৩]

শিক্ষা এবং কর্মজীবন[সম্পাদনা]

কলকাতায় থাকা লেক স্কুলে পূর্ণিমার প্রারম্ভিক শিক্ষা আরম্ভ হয়েছিল। উল্লেখনীয়, সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাঁর জ্যেষ্ঠা ভগ্নী সুষমা সেনগুপ্ত স্থাপন করেছিলেন। তারপর তিনি আশুতোষ কলেজ, স্কটিশ চার্চ কলেজ এবং সর্বশেষে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে নামভর্তি করেন। পড়াশুনার বাইরে তিনি যামিনী গাঙ্গুলির থেকে হিন্দুস্তানী ধ্রুপদী সংগীত শিখেছিলেন। সংগীতের বাইরে অন্য কিছু দিকেও তাঁর আগ্রহী ছিল। তিনি চিত্রকলা শিখেছিলেন গোপাল ঘোষের থেকে। তার বাইরেও তিনি পণ্ডিত জ্ঞান প্রকাশ ঘোষের থেকে তবলার শিক্ষা নিয়েছিলেন। এর বাইরে তিনি ভাস্কর্য-নির্মাণেরও শিক্ষা নিয়েছিলেন।[১]

বিজ্ঞানের ক্ষেত্রটিতে পূর্ণিমা কয়েক দশক অতিবাহিত করেছিলেন। তিনি ভূ-খনিজের রঞ্জন-রশ্মির ক্রিস্টালোগ্রাফিতে ডক্টরেট ডিগ্রী অর্জন করেন৷ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ডক্টরেট ডিগ্রী লাভ করেছিলেন (রাজাবজার বিজ্ঞান মহাবিদ্যালয়ে ১৯৫৬-৫৭ সালের ছাত্রী হিসেবে)। তিনি অধ্যাপক সত্যেন্দ্র নাথ বোসের অধীনে গবেষণা করেছিলেন। পদার্থ বিজ্ঞানে ডক্টরেট ডিগ্রী অর্জন করা তিনি প্রথম বাঙালি মহিলা ছিলেন। [১]

১৯৬৩-৬৪ সালে পূর্ণিমা স্টানফর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জৈব-পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে যোগদান করেন এবং "Origin of life" নামের বিশেষ একটি প্রকল্পে যোগদান করেন৷[২]

গবেষণা[সম্পাদনা]

১৯৪৫ সালে সত্যেন্দ্র নাথ বসু কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের একজন "সার্বিক অধ্যাপক" হিসেবে যোগদান করেছিলেন। তিনিই সর্বপ্রথমে পূর্ণিমার অনুসন্ধিৎসু এবং কৌতূহলী মনটি আবিষ্কার করেছিলেন। সেইসময়ে সত্যেন্দ্র নাথ বসুর তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ গোষ্ঠী রঞ্জন রশ্মির বিচ্ছুরণ ব্যবহার করে স্ফটিকের গঠনের বিষয়ে গবেষণা করে ছিলেন। পূর্ণিমাকো তিনি সেই গোষ্টীতে অন্তর্ভুক্ত করে নেন। ১৯৫১ সালে তিনি নিজের ডক্টরেট ডিগ্রীর জন্য গবেষণা করতে আরম্ভ করেন। এবং এই কার্যে সহায়তা করেন সত্যেন্দ্র নাথ বসু। তাঁরা কলকাতা খাইরা প্রয়োগশালায় গবেষণাকার্য চালাতে থাকেন। বসু তাঁকে রঞ্জন রশ্মির অবক্ষেপণ পদ্ধতি ব্যবহার করার সঙ্গে রাসায়নিক এবং তাপীয় পদ্ধতিও ব্যবহার করতে বলেন। সঙ্গে ভারতের বিভিন্ন স্থানের বোকা মাটির গঠনের সম্পর্কে একটি পর্যবেক্ষণ চালাতে বলেন। [২] উল্লেখযোগ্য যে, পূর্ণিমা সিনহার দলটি তাঁদের প্রয়োগশালায় প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিজেই নির্মাণ করতে থাকেন। সেটি ছিল সত্যেন্দ্র নাথ বসু প্রবর্তন করা নীতি। তাঁরা উচ্চ ক্ষমতার একটি ট্রান্সফর্মার নির্মাণ করেছিলেন "প্রায়োগিক পদার্থ বিজ্ঞান"র প্রয়োগশালায়৷ দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের অব্যবহৃত সামগ্রীর সহায়তায় তাঁরা এক্স-রে প্রয়োগশালার কিছু সামগ্রী-সরঞ্জাম নির্মাণ করেছিলেন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, তাঁদের সেই গবেষণায় সহায়তা করেছিলেন আসাম তেল কোম্পানী। ১৯৫৫ সালে তিনি নিজের গবেষণা-পত্র দাখিল করেন। ইলাইট, কায়োলাইনাইটকে, ক্লরাইটকে ধরে তাঁরা প্রায় ৫০টা বোকা মাটির নমুনার উপর পরীক্ষা এবং পর্যবেক্ষণ চালিয়েছিলেন। ১৯৫৫ সালে সত্যেন্দ্র নাথ বসু কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর গ্রহণ করেন। অধ্যাপক কমলাক্ষ দাসগুপ্তার অধীনে গবেষকের দলটিও পরবর্তী গবেষণা চালিয়ে যায়। [২]

গ্রন্থ, প্রবন্ধ, এবং প্রকাশন[সম্পাদনা]

পূর্ণিমা সিনহা ইংরাজী এবং বাংলা দুটি ভাষাতেই অনেক সংখ্যক বই রচনা করেছেন। জ্ঞান ও বিজ্ঞান নামের একটি নিয়মিত পত্রিকায় তিনি লেখালিখি করেন। এটি হচ্ছে বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদের প্রকাশ করা একটি বাংলা ভাষার বৈজ্ঞানিক পত্রিকা। "বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ"-এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সত্যেন্দ্র নাথ বসু। পত্রিকাটিতে অগ্রণী অবদানের জন্য বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ তাঁকে সম্মানীত এবং পুরস্কৃত করেন। [১]

তিনি সত্যেন্দ্র নাথ বসুর বিষয়ে যথেষ্ট লেখালিখি করেছেন। তার মধ্যে:

  • বিজ্ঞান সাধনার ধারায় সত্যেন্দ্রনাথ বসু, প্রকাশক- বিশ্ব বিদ্যা সংঘ।
  • অমর কথা, বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদের দ্বারা প্রকাশিত।
  • সত্যেন বসুর ব্যক্তিত্ব ও মনের ধারা, দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়া প্রবন্ধ। [১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Biographical article"। সংগ্রহের তারিখ ৬ এপ্রিল ২০১৪ 
  2. "purnima"। সংগ্রহের তারিখ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ 
  3. "Women In Science - IAS" (PDF)। সংগ্রহের তারিখ ৬ এপ্রিল ২০১৪