বিষয়বস্তুতে চলুন

পুরুষ মানুষ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
একজন পুরুষ।

পুরুষ বা নর বলতে একজন পুংজাতীয় মানুষকে বোঝায়। অপ্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে "ছেলে", "বালক" বা "পুত্রশিশু" বলা হয়।

সাধারণত নরদেহে মাতা থেকে প্রাপ্ত একটি এক্স ক্রোমোজোম এবং পিতা থেকে প্রাপ্ত একটি ওয়াই ক্রোমোজোম থাকে। বয়ঃসন্ধিকালে অ্যান্ড্রোজেন উদ্দীপক হরমোনসমূহ গৌণ যৌন বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি করে, যার ফলে পুরুষ ও নারীর মধ্যে পার্থক্য বৃদ্ধি পায়। পুরুষের গৌণ যৌন বৈশিষ্ট্যের মধ্যে পেশীর অধিক ভর, দেহের অধিক উচ্চতা, মুখের ও অন্যান্য শরীরের লোমের বৃদ্ধি, দেহে কম চর্বি সঞ্চয় এবং বুকে ক্ষুদ্র স্তন উল্লেখযোগ্য। পুরুষ প্রজননতন্ত্রের মাধ্যমে পুরুষ ও নারীদেহের মধ্যে পৃথক করা হয়। পুরুষদের প্রজননতন্ত্রের মধ্যে রয়েছে শিশ্নশুক্রাশয়

মানব ইতিহাস জুড়ে লিঙ্গ দৃঢ়বদ্ধতা প্রায়ই পুরুষের কার্যকলাপ ও সুযোগকে নিয়ন্ত্রিত করেছে। পুরুষদের বাধ্য করে সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ করা হয় বা তাদের উচ্চ মৃত্যুহারের জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। অনেক ধর্মবিশ্বাস পুরুষদের উপর নির্দিষ্ট কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করে, যেমন বাধ্যতামূলক খৎনা

ব্যুৎপত্তি

[সম্পাদনা]

"পুরুষ"[] ও "নর"[] উভয়ই তৎসম শব্দ, অর্থাৎ সংস্কৃত ভাষা থেকে সরাসরি গৃহীত।

জীববিজ্ঞান

[সম্পাদনা]
পুরুষ ও নারীদেহর একটি তুলনামূলক আলোকচিত্র।

পুরুষ ও নারীদেহের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। বহিস্থ যৌনাঙ্গের মধ্যে পার্থক্য দৃশ্যমান থাকে, কিন্তু অভ্যন্তরীণ শারীরিক ও বংশাণু বৈশিষ্ট্য দৃশ্যমান নয়।

যৌন বৈশিষ্ট্য

[সম্পাদনা]

পুরুষদেহে শুক্রাণু একটি এক্স (X) বা ওয়াই (Y) যৌন ক্রোমোজোম বহন করে। যদি ওয়াই ক্রোমোজোম বহনকারী শুক্রাণু নারীদেহের ডিম্বাণুতে নিষিক্ত হয় তবে সংশ্লিষ্ট সন্তানের ক্যারিওটাইপ পুরুষ (XY) হবে। এসআরওয়াই বংশাণু সাধারণত ওয়াই ক্রোমোজোমে থাকে যা শুক্রাশয় সৃষ্টি করে, আর এই শুক্রাশয় আবার লৈঙ্গিক পার্থক্যের অন্যান্য বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে। পুরুষের লৈঙ্গিক পার্থক্যের প্রক্রিয়া শুক্রাশয়ের উপর নির্ভরশীল, কিন্তু নারীর লৈঙ্গিক পার্থক্য যৌনগ্রন্থির উপর নির্ভরশীল নয়।[]

XY হিসেবের মাধ্যমে লিঙ্গ নির্ধারণ করার এই পদ্ধতি অধিকাংশ স্তন্যপায়ীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে এর বাইরেও অনেক পদ্ধতি আছে, যার মধ্যে কিছু নন-জেনেটিকও রয়েছে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

প্রাথমিক যৌন বৈশিষ্ট্য বলতে বিভিন্ন জন্মগত যৌন বৈশিষ্ট্যকে বোঝায়, আর এগুলো প্রজনন প্রক্রিয়ার মূল অংশ। পুরুষের ক্ষেত্রে প্রাথমিক যৌন বৈশিষ্ট্যের মধ্যে শিশ্নশুক্রাশয় উল্লেখযোগ্য।

প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের অনেক বৈশিষ্ট্যতে যৌন দ্বিরূপতা প্রদর্শিত হয়। তবে সেইসব বৈশিষ্ট্যের অনেকের সাথে প্রজনন ক্ষমতার সরাসরি যোগাযোগ নেই, যদিও এই সমস্ত বৈশিষ্ট্য যৌন আকর্ষণে একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। মানুষের উচ্চতা, ওজন এবং দেহের গঠনে যৌন দ্বিরূপতার অভিব্যক্তি খুঁজে পাওয়া যায়। নারীর চেয়ে পুরুষের লম্বা হওয়ার প্রবণতা বেশি, আর উভয়ের উচ্চতা মধ্যম পরিসীমায় হলে নারীর তুলনায় পুরুষের হাড়ের ভর বেশি এবং চর্বির ভর কম।[]

বয়ঃসন্ধিকালে মানবদেহে গৌণ যৌন বৈশিষ্ট্য আবির্ভূত হয়।[][] এইরূপ বৈশিষ্ট্য বিশেষ করে লৈঙ্গিক পার্থক্য সৃষ্টিকারী ফিনোটাইপিক বৈশিষ্ট্যের অন্তর্গত, যদিও এই সমস্ত বৈশিষ্ট্য সরাসরি প্রজননতন্ত্রের অংশ নয়।[][][] পুরুষের গৌণ যৌন বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে:

  • চওড়া কাঁধ;[১০]
  • দেহের চুল বেশি;
  • বর্ধিত কণ্ঠমণি;[১০] এবং
  • নারী বা শিশুর তুলনায় যথেষ্ট গভীর কণ্ঠস্বর।[]

লিঙ্গ

[সম্পাদনা]

একজন ব্যক্তি নিজেকে পুরুষ মনে করার জন্য অথবা তিনি পুরুষ হওয়ার জন্য শুধুমাত্র জৈবিক কারণ যথেষ্ট নয়। একজন উভলিঙ্গ ব্যক্তির শারীরিক বা জেনেটিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় তাকে মিশ্র ধরনের বা একক ধরনের যৌন বৈশিষ্ট্য বিশিষ্ট মানুষ বলা যেতে পারে অথবা অন্যান্য ক্রাইটেরিয়া ব্যবহার করে তার লিঙ্গ নির্ধারণ করা যেতে পারে। অনেক হিজড়া ও ট্রান্স-সেক্সুয়াল (যারা এক ধরনের যৌন বৈশিষ্ট্য থাকার পর, তারা নিজেদের অন্য লিঙ্গের সদস্য মনে করে) ব্যক্তি আছেন, যাদের জন্মগত ভাবে মেয়ে নির্দেশ করলেও তাদের পুরুষ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তবে সামাজিক, আইনগত এবং ব্যক্তিগত সঙ্গার ভিত্তিতে নানারকম বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যায়।

প্রজননতন্ত্র

[সম্পাদনা]

পুরষের যৌন অঙ্গ তাদের প্রজনন তন্ত্রের অংশ। যা বীর্যথলি, বীর্যনালী, অন্ডকোষ, অন্ডকোষের থলি, পুরুষাঙ্গ এবং প্রস্টেট গ্রন্থির সমন্বয়ে গঠিত। পুরুষ প্রজনন তন্ত্রের অন্যতম কাজ হলো বীর্য তৈরী করা, যা শুক্রানু বহন করে। এই শুক্রানু মেয়েদের ডিম্বানুর সাথে মিলিত হয়। যখন শুক্রানু মহিলাদের জরায়ুতে প্রবেশ করে তখন ফ্যালোপিয়ান টিবে নিষেক ক্রিয়ার মাধ্যমে ডিম্বানু থেকে একটি ভ্রুণ বিকশিত হয়, যা শেষ পর্যন্ত শিশুতে পরিণত হয়। গর্ভকালীন সময়ে পুরুষ প্রজনন তন্ত্রের কোন অবদান নেই। তবুও পিতৃত্ব বা বংশ ব্যবস্থা আমাদের সমাজে আছে। পুরুষ প্রজনন ও সংশ্লিষ্ট অঙ্গ বিষয়ক জ্ঞানকে এন্ড্রোলোজি বলে।

পুরুষের প্রজনন তন্ত্র
গিমসার দাগ ব্যবহার করে অঙ্কিত পুরুষের ক্যারিওগ্রাম

সেক্স হরমোন

[সম্পাদনা]

স্তন্যপায়ী প্রাণীদের যে হরমোন তাদের যৌন বিভেদ সৃষ্টিতে প্রভাব বিস্তার করে তাদের বলা হয় এন্ড্রোজেন (মূলত টেস্টোসটেরন), যা পরবর্তীতে ডিম্বকোষ বিকাশে উদ্দীপনা দেয়। যৌন নির্গুণ ভ্রূণের ক্ষেত্রে টেস্টোসটেরন হরমোন ভ্রুণে Wolffian নালী, লিঙ্গ এবং অণ্ডকোষের মধ্যে ল্যাবিওস্রোটাল ভাঁজের বন্ধ বিকাশে সহায়তা করে। আরও একটি যৌন বিভেদে প্রভাবকারী গুরুত্বপূর্ণ হরমোন হলো এন্টি-মুলেরিয়ান হরমোন। এই হরমোন মুলেরিয়ান নালী তৈরীতে সাহায্য করে।

অসুস্থতা

[সম্পাদনা]

সাধারণভাবে পুরুষদের মধ্যে অনেকেই নারীদের সমজাতীয় রোগে ভুগে থাকেন। মেয়েদের তুলনায় পুরুষদের একটু বেশি অসুখ হয়। পুরুষদের আয়ুও নারীদের চেয়ে সামান্য কম, যদিও সাম্প্রতিক সময়ে এই বিভেদ কমে এসেছে।

পুরুষদের বয়ঃসন্ধিকালে গোনাডোট্রপিন হরমোনের সাথে টেস্টোসটেরন হরমোন পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়, যা স্পার্মাটোজেনেসিসকে উদ্দীপ্ত করে। এই সময় মহিলারা ইস্ট্রজেন ও প্রোজেসটেরন হরমোন দ্বারা প্রভাবিত হয়, যা তাদের পুরুষদের থেকে আলাদা বৈশিষ্ট্যময় করে তোলে।

পুরুষালী

[সম্পাদনা]
মাইকেলাঞ্জেলোর তৈরি পশ্চিমা শিল্পকলার 'ডেভিড' নামক একটি ক্ল্যাসিক চিত্র, যেখানে একজন তরুন পুরুষকে দেখা যাচ্ছে। 
একজন জার্মান পুরুষের পেশীবহুল ছবি

পুরুষালীর শিকড় ছড়িয়ে আছে জেনেটিক্সের মধ্যে।[১১][১২] যদিও বিভিন্ন সংস্কৃতিতে এর বিভিন্ন রূপ দেখা যায়, তবে কিছু সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি সকল জায়গায় একই।[১৩] কখনো কখনো লিঙ্গ বিশারদগণ 'অধিপত্যবাদী পুরুষালী' শব্দ ব্যবহার করেন প্রভাবশালী পুরুষালীর প্রকরণ আলাদা করতে। বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে যুক্তরাষ্ট্রে, উদাহরণস্বরূপ, জন ওয়েন পুরুষালীর একটি রূপ সংগঠিত করেছিলেন, যেখানে আলবার্ট আইনস্টাইন একজন পুরুষ তান্ত্রিক এবং একই সাথে 'আধিপত্যবাদী" নন।

পৌরুষ বা সাহস পুংলিঙ্গের একটি রূপ বলা যায়। দৃঢ়তাসূচনা বা কারো অধিকার, দায়িত্বশীলতা, স্বার্থপরতা, নৈতিকতা, আন্তরিকতা ও সম্মানের জন্য উঠে দাঁড়ানো এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়।[১৪]

নৃবিজ্ঞান অনুযায়ী পুরুষালীর সামাজিক মর্যাদা ধন-সম্পদ, জাতি ও শ্রেণীর মতই। যেমনঃ পশ্চিমা সমাজে অধিক পুরুষালী বেশি মর্যাদা প্রদান করে। অনেক ইংরেজি শব্দ যেমন virtue ও virile (ইন্দো-ইউরোপীয় মূল হলো vir, এর অর্থ পুরুষ মানুষ) দ্বারা উক্ত বিষয় প্রতিফলিত হয়।[১৫][১৬] শারীরিক বা নৈতিক শক্তির সমন্বয় উহ্য থাকে। সাধারণত ছেলেদের চেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের সঙ্গে অধিক ভাবে যুক্ত করা হয়।

একটি মহান চুক্তি যা এখন পুংলিঙ্গ বৈশিষ্ট্য উন্নতকরণের সাথে সম্পৃক্ত। মানব জাতির মধ্যে যৌন পার্থক্য সৃষ্টি প্রক্রিয়া বিশেষত প্রজনন পদ্ধতির ভিন্নতা জন্মগত। Y ক্রোমোজোমের SRY জিন উক্ত পদ্ধতিতে হস্তক্ষেপ করে কিছু চেইন ক্রিয়া ঘটায়। যেমনঃ সব কিছুই সমান রাখা, টেস্টিস গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখা, এন্ড্রোজেন উৎপাদন, মাস্কুলাইজেশন ও ভাইরিলাইজেশনের মাধ্যমে প্রি-নেটাল ও পোস্ট-নেটাল এর হরমোন প্রভাবের সীমা ইত্যাদি। কারণ মাস্কুলাইজেশন জন্মগত মেয়েলি ক্রিয়াকে জৈবিক ক্রিয়া থেকে পুননির্দেশিত করে। একে বলা হয় ডিফেমিনাইজেশন।

শিশুর লিঙ্গ বিকাশ ক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক আছে।

অনেক সংস্কৃতিতে দেখা যায় একজনের বৈশিষ্ট্যসূচক লিঙ্গ না হলে সামাজিক সমস্যা তৈরী হয়। যেমন, পুরুষদের মধ্যে যদি মেয়েলি আচরণ প্রকাশ পায় তবে সমাজ তাকে হেয় প্রতিপন্ন করে। একই ঘটনা দেখা যায় ঐ সমস্ত মেয়েদের ক্ষেত্রে যাদের মধ্যে পুরুষালী বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। সমাজবিজ্ঞান অনুসারে এই ধরনের লেবেলিং করা ও শর্ত আরোপ করাকে জেন্ডার এজাম্পশন (লিঙ্গ অনুমান) বলা হয়। এটি সমাজিকিকরণের একটা অংশ। অতিরিক্ত পুরুষালী প্রকাশের সংশ্লিষ্ট নিন্দাকে 'ম্যাকিজমো' বা 'টেস্টোসটেরন বিষক্রিয়া' শব্দ দ্বারা সঙ্গায়িত করা যায়।

পুরুষালীর উন্নয়নে সামাজিকিকরণ ও জিনতাত্ত্বিকতার আপেক্ষিক ভূমিকার গুরুত্ব একটি চলমান বিতর্কের বিষয়। সামাজিক অবস্থা অবশ্যই বড় একটি প্রভাব ফেলতে সক্ষম। বিভিন্ন আঙ্গিক দেখা লক্ষ্য করা যায় যে অধিকাংশ সংস্কৃতিতে পুরুষালীর পরিচয় বিদ্যমান।

লিঙ্গ ভূমিকার ঐতিহাসিক উন্নয়ন বিভিন্ন ক্ষেত্র যেমন, আচরণগত জিনতত্ত্ব, বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞান, মানুষের বাস্তুসংস্থান ও সামাজিক জীববিজ্ঞান ইত্যাদির সাথে সম্বোধন করা যায়। সমস্ত মানব-সংস্কৃতি মনে হয় যেন লিঙ্গ ভূমিকার উন্নয়নে উৎসাহিত করে বিভিন্ন মাধ্যমে যেমন, সাহিত্য, পোশাক, গান ইত্যাদি। উদাহরণস্বরূপঃ হোমারের মহাকাব্য, কিং আর্থারের গল্প, কনফুসিয়াসের আদর্শ উপাখ্যান বা মুহাম্মাদের সিরাত ইত্যাদি। পুরুষালীর বিশেষায়িত চিকিৎসা পাওয়া যায় কিছু লেখায় যেমন, ভগবত গীতা বা বুশিদো'র লেখা হাগাকুরি তে।

সংস্কৃতি ও লিঙ্গ ভূমিকা

[সম্পাদনা]
পোপ ষোড়শ বেনেডিক্ট, তিনি রোমান ক্যাথলিকদের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব। এই পদ শুধু পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডাব্লিউ বুশ, বারাক ওবামা, জর্জ ডাব্লিউ বুশ, বিল ক্লিনটন ও জিমি কার্টার। এই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত প্রেসিডেন্ট পুরুষ

প্রাগৈতিহাসিক সংস্কৃতিতে মনে করা হয় পুরুষদের কিছু অধিকৃত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ভূমিকা আছে। মানবজাতির বিভিন্ন দলে একই অবস্থা দেখা যায়। একদল শিকারীর সমাজে, পুরুষরা প্রায়ই ছিলো, যদি না তারা বড় কোন শিকার ধরার জন্য দায়ী হয়, পোষ্য প্রাণী ধরা ও লালন পালন করে, স্থায়ী নিবাস, বসতি প্রতিরক্ষা ও অন্যান্য কাজ যেখানে পুরুষের দেহ এবং শক্তিশালী স্থানিক-চেতনা খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিছু নৃবিজ্ঞানী বিশ্বাস করেন যে এটা হলো পুরুষ জাতি যাদের নেতৃত্বে নিওথিলিক বিপ্লব ঘটেছিলো এবং পশুদের নিয়ে অন্তরঙ্গ জ্ঞান রাখার জন্য তারা হয়ে উঠে প্রাক-ঐতিহাসিক যুগের প্রথম পশু খামারের মালিক। 

ইতিহাস জুড়ে সমাজে পুরুষদের ভূমিকা ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। কৃষিভিত্তিক সমাজ যখন পরিবর্তিত হয়ে গেলো, তখন পুরুষের পেশী শক্তির ওপর নির্ভরশীলতা অনেকাংশে কমে গেল। পুরুষদের জন্য ঐতিহ্যগত লিঙ্গভূমিকা কঠোর পরিশ্রমের দিক থেকে একই কাজ আধুনিক ও সহজ ভাবে করার দিকে ঝুঁকে গেল। গরীব শ্রমজীবিদের মধ্যে তাদের পরিবারের ভরণপোষণ মেটানো, বিশেষত শিল্প বিকাশ ও অর্থনৈতিক মন্দার সময়ে, তারা কয়েক ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন ঝুকিপূর্ণ কাজ করতে অনেকটা বাধ্য হয়ে পড়ে। অনেক শিল্পোন্নত দেশে কম ঝুঁকিপূর্ণ কাজের দিকে অধিক আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। এই সমাজে জ্ঞান অর্জন করা ও আত্মনির্ভরশীল হওয়া সকল পুরুষদের লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়।

পুরুষ আন্দোলন হলো দীর্ঘ সংগ্রামের একটি অংশ যা নারীদের সম-অধিকারের মর্যাদা দেয়ার জন্য ও সকল লিঙ্গের জন্য সমান সুযোগ দেয়, এমনকি যদি বিশেষ সম্পর্ক ও শর্ত যা সেচ্ছায় কোন অংশীদারত্ব যা বিয়ের সাথে যুক্ত হয়, তবুও। এই স্বীকৃতি আদায়ের জন্য কিছু জটিলতা সৃষ্টি হয়, যা এই সমাজের রীতি ও অভ্যেসের কারণে ঘটে থাকে। অর্থনৈতিক পরিবর্তন ও নারীবাদী আন্দোলনের সমন্বয়ে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু সমাজে দেখা যায় পুরুষরা কর্মক্ষেত্রে নারীদের সাথে প্রতিযোগিতা করছে, যেখানে ঐতিহ্যগত ভাবে নারীরা পৃথক ছিলো। কিছু কিছু বড় কর্পোরেশনে দেখা যায় কাজ পাওয়ার শর্ত কর্মীর মেধা, প্রচলিত লিঙ্গ বৈষম্য সেখানে নেই। লিঙ্গ ভূমিকার কিছু ভালো ও কিছু খারাপ প্রভাব পশ্চিমা সমাজের পুরুষদের কর্মক্ষেত্রের ওপর পড়ে ( মহিলাদের ক্ষেত্রেও একই, তবে ভিন্ন ভাবে)। একইভাবে শিক্ষা, সহিংসতা, স্বাস্থ্য যত্ন, রাজনীতি, পিতৃত্ব ইত্যাদি ক্ষেত্রেও প্রভাব পড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে কিছু এলাকায় পুরুষ বিরোধী প্রবণতা প্রাধান্য পাচ্ছে, ফলশ্রুতিতে মেয়েদের জন্য কিছু অন্যায্য সুবিধা দেওয়া হতে পারে।

লিঙ্গ ভূমিকার ভিন্নতা নির্ণয় ও তুলনা করতে পারসনের মডেল ব্যবহার করা হয়। মডেল ক পুরুষ ও নারীর পার্থক্য বর্ণনা করে, মডেল খ লিঙ্গ ভূমিকার পূর্নাঙ্গ বাঁধা ও সমস্যা বর্ণনা করে।[১৭] যুক্তরাষ্ট্রের সংস্কৃতি ও অবকাঠামোর ওপর ভিত্তি করে এর উদাহরণ গ্রহণ করা যায়। বাস্তবে এমন চরম অবস্থান খুব কম পাওয়া যায়। প্রত্যেকের আলাদা আচরণ এই মেরুর মধ্যে পড়ে। সবচেয়ে কমন মডেল, যা যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে বাস্তব জীবনে অনুসরণ করা হয়, তা হলো 'দ্বৈত বোঝা মডেল'।

একচেটিয়াভাবে পুরুষ ভূমিকা

[সম্পাদনা]

কিছু পদ ও টাইটেল শুধুমাত্র পুরুষদের জন্য সংরক্ষিত আছে। যেমন: রোমান ক্যাথলিক গির্জার পোপ এবং বিশপ পুরুষ ছাড়া কেউ হতে পারে না। ক্যাথলিক গির্জা ছাড়াও অন্যান্য ধর্মের ধর্মগুরুদের ক্ষেত্রে একই বিষয় দেখা যায়। অনেক দেশে রাজা হওয়ার সুযোগ শুধু ছেলেদেরই থাকে। বংশের উত্তরাধিকার সূত্রে সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ পুরুষ সন্তান পরবর্তী রাজা হয়ে থাকেন।

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Biswas, Sailendra (২০০৪)। "Samsada Bangala abhidhana. 7th ed."dsal.uchicago.edu। সংগ্রহের তারিখ ৭ মার্চ ২০২৫
  2. Biswas, Sailendra (২০০৪)। "Samsada Bangala abhidhana. 7th ed."dsal.uchicago.edu। সংগ্রহের তারিখ ৭ মার্চ ২০২৫
  3. Rey, Rodolfo; Josso, Nathalie; Racine, Chrystèle (২০০০)। "Sexual Differentiation"Endotext। MDText.com, Inc.। পিএমআইডি 25905232। ৮ আগস্ট ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ ডিসেম্বর ২০২১Irrespective of their chromosomal constitution, when the gonadal primordia differentiate into testes, all internal and external genitalia develop following the male pathway. When no testes are present, the genitalia develop along the female pathway. The existence of ovaries has no effect on fetal differentiation of the genitalia. The paramount importance of testicular differentiation for fetal sex development has prompted the use of the expression "sex determination" to refer to the differentiation of the bipotential or primitive gonads into testes.
  4. Wells, Jonathan C. K. (১ সেপ্টেম্বর ২০০৭)। "Sexual dimorphism of body composition"Best Practice & Research Clinical Endocrinology & Metabolism। Normal and Abnormal Sex Development (ইংরেজি ভাষায়)। ২১ (3): ৪১৫–৪৩০। ডিওআই:10.1016/j.beem.2007.04.007আইএসএসএন 1521-690Xপিএমআইডি 17875489
  5. Melmed S, Polonsky KS, Larsen PR, Kronenberg HM (২০১১)। Williams Textbook of Endocrinology E-Book। Elsevier Health Sciences। পৃ. ১০৫৪। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪৩৭৭-৩৬০০-৭
  6. Pack PE (২০১৬)। CliffsNotes AP Biology (5th সংস্করণ)। Houghton Mifflin Harcourt। পৃ. ২১৯। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫৪৪-৭৮৪১৭-৮
  7. Bjorklund DF, Blasi CH (২০১১)। Child and Adolescent Development: An Integrated Approach। Cengage Learning। পৃ. ১৫২–১৫৩। আইএসবিএন ৯৭৮-১-১৩৩-১৬৮৩৭-৯
  8. 1 2 "Primary & Secondary Sexual Characteristics"Sciencing.com। ৩০ এপ্রিল ২০১৮। ৩ আগস্ট ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ অক্টোবর ২০১৯
  9. Encyclopedia of Reproduction। Elsevier Science। ২০১৮। পৃ. ১০৩। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১২-৮১৫১৪৫-৭। ২০ জানুয়ারি ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ অক্টোবর ২০১৯
  10. 1 2 Berger, Kathleen Stassen (২০০৫)। The Developing Person Through the Life Span। Worth Publishers। পৃ. ৩৪৯আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭১৬৭-৫৭০৬-১
  11. John Money, 'The concept of gender identity disorder in childhood and adolescence after 39 years', Journal of Sex and Marital Therapy 20 (1994): 163-77.
  12. Laura Stanton and Brenna Maloney, 'The Perception of Pain', Washington Post, 19 December 2006.
  13. Donald Brown, Human Universals
  14. Mirande, Alfredo (1997). Hombres y Machos: Masculinity and Latino Culture, p.72-74. আইএসবিএন ০-৮১৩৩-৩১৯৭-৮.
  15. "Virtue (2009)"। Merriam-Webster Online Dictionary। ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুন ২০০৯ {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতিতে খালি অজানা প্যারামিটার রয়েছে: |month= (সাহায্য)
  16. "Virile (2009)"। Merriam-Webster Online Dictionary। ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুন ২০০৯ {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতিতে খালি অজানা প্যারামিটার রয়েছে: |month= (সাহায্য)
  17. Brockhaus: Enzyklopädie der Psychologie, 2001.

আরও পড়ুন

[সম্পাদনা]
  • Andrew Perchuk, Simon Watney, bell hooks, The Masculine Masquerade: Masculinity and Representation, MIT Press 1995
  • Pierre Bourdieu, Masculine Domination, Paperback Edition, Stanford University Press 2001
  • Robert W. Connell, Masculinities, Cambridge : Polity Press, 1995
  • Warren Farrell, The Myth of Male Power Berkley Trade, 1993 আইএসবিএন ০-৪২৫-১৮১৪৪-৮
  • Michael Kimmel (ed.), Robert W. Connell (ed.), Jeff Hearn (ed.), Handbook of Studies on Men and Masculinities, Sage Publications 2004

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]