পুরাণিক বিদ্যা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান

পৌরাণিক বিদ্যা বলতে মানুষের মাঝে প্রচলিত উপকথার সমষ্টি বা এধরনের উপকথা বিষয়ক গবেষণা বোঝানো হয়ে থাকে। উপকথা হলো সেই সব গল্প বা কিসসা যা মানুষেরা প্রকৃতি, ইতিহাস এবং আচরিত প্রথাকে ব্যাখ্যা করবার মানসে বর্ণনা করে থাকে। পৌরাণিক গল্পগাঁথা বিশ্বের সব সংস্কৃতির মধ্যেই দেখা যায়। এসব পৌরাণিক উপকথা প্রচলনের পেছনে বিভিন্ন ধরনের উৎসের কথা বলা হয়। যেমনঃ প্রকৃতিকে জীবন্তকরণ অথবা প্রাকৃতিক ঘটনাবলিকে জীবন্ত সত্তার মত করে রূপায়িতকরণ, কখনো সত্য কোন ঐতিহাসিক ঘটনার ব্যাখ্যাদান, কখনো বা সমাজে প্রচলিত কিছু আচার-প্রথা কীভাবে গড়ে উঠলো তার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে এসব উপকথার উদ্ভব। কোন একটি জাতির পৌরাণিক গল্পসমষ্টি পরম্পরাকে ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এসব উপকথা জাতির ধর্মীয় অভিজ্ঞতা, আচরিত সংস্কৃতি, নৈতিক মূল্যবোধ এবং ব্যবহারিক জীবনবোধের শিক্ষাও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে দেয়।

পৌরাণিক গল্পের চর্চা প্রাচীন কাল থেকেই শুরু হয়েছে। তবে, সাম্প্রতিক গবেষণাগুলোতে যে চিত্র উঠে এসেছে তাতে পৌরাণিক উপকথাগুলোকে অলীক-ভ্রান্ত ঐতিহাসিক ঘটনাবলির বিবরণ মনে না হয়ে বরং এগুলোকে মনস্তাত্ত্বিক, সাংস্কৃতিক কিংবা সামাজিক সত্যের বহিঃপ্রকাশ বলেই মনে হয়।