বিষয়বস্তুতে চলুন

পরনিন্দা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

পরনিন্দা হল কারো অনুপস্থিতিতে কারো নিন্দা করা বা কারো দোষত্রুটি নিয়ে আলোচনা করা।[]

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ

[সম্পাদনা]

আব্রাহামিক ধর্ম

[সম্পাদনা]

বাহাই ধর্মে, খ্রিস্টান ধর্মে, ইসলাম ধর্মেইহুদি মূলনীতিতে, পরনিন্দা একটি বড় পাপ।

বাহাই ধর্ম

[সম্পাদনা]

বাহাই ধর্মের নেতারা একে এমন নিকৃষ্ট পাপ বলেছেন, যা আত্মার প্রাণ ধ্বংস করে দেয় এবং স্বর্গীয় ক্ষোভকে উস্কে দেয়।[]

খ্রিস্টান ধর্ম

[সম্পাদনা]

থমাস একুইনাস একে মারাত্মক পাপ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করেছেন, কিন্তু তা এমন সব মারাত্মক পাপের অন্তর্ভুক্ত করেন নি, যা একজন আরেকজনের প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে করে থাকে।[]

ইসলাম ধর্ম

[সম্পাদনা]

ইসলাম ধর্মে একে গীবত (غيبة) বলা হয়, এবং ইসলাম ধর্মে একে সাধারণভাবে বড় পাপ হিসেবে ধরা হয়েছে এবং কুরআনে একে মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার মত ঘৃণিত কাজের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।[]

গীবত বিষয়ে কুরআনে দুটি আয়াত রয়েছে। কুরআনের সূরা আল-হুজুরাতের ১২ নং আয়াতে বলা হয়েছেঃ

মুমিনগণ, তোমরা অনেক ধারণা থেকে বেঁচে থাক। নিশ্চয় কতক ধারণা গোনাহ। এবং গোপনীয় বিষয় সন্ধান করো না। তোমাদের কেউ যেন কারও পশ্চাতে নিন্দা না করে। তোমাদের কেউ কি তারা মৃত ভ্রাতার মাংস ভক্ষণ করা পছন্দ করবে? বস্তুতঃ তোমরা তো একে ঘৃণাই কর। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।

সূরা আল-হুজুরাত (৪৯): আয়াত: ১২

সূরা নিসার ১৪৮ আয়াতে বলা হয়েছেঃ

মন্দ কথার প্রচার আল্লাহ পছন্দ করেন না, তবে কারো উপর যুলম করা হলে ভিন্ন কথা। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।

সূরা নিসা (৪)ঃ আয়াতঃ ১৪৮

উল্লেখিত দ্বিতীয় আয়াত ও কিছু নির্ভরযোগ্য হাদীসের ভিত্তিতে[] ইসলামী আইনবিদগণ ৬ টি বিষয়ে পরনিন্দা বা গীবতকে বৈধ বলেছেন- অত্যাচারী শাসকের বিরুদ্ধে মজলুম ও বিচার চাওয়া বা নির্ভরযোগ্য কারও কাছে সমস্যার সমাধান চাওয়া, ইসলামের ও ধর্মীয় ভুল প্রচারকারী, অব্যাহত কবীরাহ গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তি, বিবাহ, ব্যবসা ও চুক্তি, কাওকে বিপদ ও ক্ষতি হতে সাবধান করা, ও কারও পরিচয়বাচক সুবিদিত বৈশিষ্ট্য।[][]

ইহুদি ধর্ম

[সম্পাদনা]

ইহুদি ধর্মে, পরনিন্দা হোতজাত শেম রা (বদনাম ছড়ানো) নামে পরিচিত ও একটি বড় পাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বৌদ্ধ ধর্ম

[সম্পাদনা]

বৌদ্ধধর্মে, পরনিন্দা সঠিক বক্তব্য আদর্শের সঙ্গে নীতিবিরুদ্ধ।[]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Webb B. Garrison, "To Backbite", Why You Say It
  2. Peter Smith, An introduction to the Baha'i faith
  3. Thomas Aquinas; see "I answer that" in Article 3, http://www.newadvent.org/summa/3073.htm#article4, Summa Theologica, খণ্ড  {{citation}}: |author=-এ বহিঃসংযোগ (সাহায্য)উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: একাধিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক) উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: সাংখ্যিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক)
  4. Rafik Berjak (২০০৬), "Backbiting", The Qur'an: an encyclopedia, Taylor & Francis
  5. Nawawi, Imam (২০১৪)। Riyad As Salihin: The Gardens of the Righteous (আরবি ভাষায়)। Tughra Books। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৫৯৭৮৪-৬৮০-৬। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মে ২০২০Quote no-1539, 1540, 1541, 1542, 1543
  6. Abdul-Rahman, Muhammad Saed (২০০৩)। Islam: Questions And Answers - The Heart Softeners (Part 1) (ইংরেজি ভাষায়)। MSA Publication Limited। পৃ. ২৭৮। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৮৬১৭৯-৩২৮-৭। সংগ্রহের তারিখ ১৬ এপ্রিল ২০২০
  7. "Situations in Which Gheebah ("Backbiting") is Permitted - Islam Question & Answer"islamqa.info (ইংরেজি ভাষায়)। ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০০৮। সংগ্রহের তারিখ ১৬ এপ্রিল ২০২০
  8. Jootla, Susan (১৯৮২)। "Right Livelihood: The Noble Eightfold Path in the Working Life"The Wheel। Buddhist Publication Society / Access to Insight। সংগ্রহের তারিখ ৭ জুন ২০১২

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]