বিষয়বস্তুতে চলুন

নুসান্তর (দ্বীপপুঞ্জ)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
হল্ অফ়্ ইন্ডিপেন্ডেন্স্-এ নূসান্তর-এর স্বর্ণ-মানচিত্র; সাবাহ, সারাওয়াক এবং লাবুয়ান (মালয়েশিয়ার রাজ্য এবং একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় অঞ্চল), ব্রুনাই এবং পূর্ব তিমুর (সার্বভৌম দেশ)ও অন্তর্ভুক্ত।

নূসান্তর হল সামুদ্রিক দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার (বা এর কিছু অংশ-র) ইন্দোনেশীয় নাম। এটি একটি পুরাতন জাভানীয় শব্দ যার আক্ষরিক অর্থ "বাইরের দ্বীপ"।[] ইন্দোনেশিয়াতে, এটি সাধারণত ইন্দোনেশীয় দ্বীপপুঞ্জকে বোঝায়।[] ইন্দোনেশিয়ার বাইরে, শব্দটি মালয় দ্বীপপুঞ্জকে উল্লেখ করার জন্য গৃহীত হয়েছে।[]

নূসান্তর শব্দটি ১৩৩৬ খ্রিষ্টাব্দে গজঃমদ-র একটি শপথ থেকে নেওয়া হয়েছে, যেমনটি পুরাতন জাভানীয় পররাতন এবং নগরকৃতাগমে লেখা আছে।[] গজঃমদ ছিলেন একজন শক্তিশালী সামরিক নেতা এবং মজপহিৎ-এর প্রধানমন্ত্রী, তাঁকে মজপহিৎ সাম্রাজ্যকে গৌরবের শিখরে নিয়ে আসার জন্য কৃতিত্ব দেওয়া হয়। গজঃমদ পালাপা শপথ নামে একটি শপথ প্রদান করেন, যেখানে তিনি মজপহিৎ-এর গৌরবের অধীনে সমস্ত নূসান্তর জয় না করা পর্যন্ত মশলাযুক্ত কোনো খাবার খাবেন না বলে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন।

১৩৩৬ সালে গজঃমদ দ্বারা একটি ঐক্যবদ্ধ অঞ্চল হিসাবে নূসান্তর ধারণাটি উদ্ভাবিত হয়নি। নূসান্তর শব্দটি সর্বপ্রথম সিংহসারীর কীর্তনগর দ্বারা ১২৫৫ সালের মূল মলুরুং শিলালিপিতে ব্যবহার হয়।[] অধিকন্তু, ১২৭৫ সালে, চক্রবল মণ্ডল দ্বীপান্তর শব্দটি তিনি সিংহসারীর অধীনে একত্রিত দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দ্বীপপুঞ্জের আকাঙ্ক্ষা বর্ণনা করতে ব্যবহার করেছিলেন এবং এটি অর্জনের জন্য তাঁর প্রচেষ্টার সূচনা হিসাবে চিহ্নিত করেছিলেন।[] দ্বীপান্তর হল একটি সংস্কৃত শব্দ যার অর্থ "মধ্যবর্তী দ্বীপসমূহ", এটি নূসান্তর- এর প্রতিশব্দ কারণ দ্বীপ এবং নূস উভয়ের অর্থ "দ্বীপ"। কীর্তনগর চীনের সম্প্রসারণবাদী মঙ্গোল -নেতৃত্বাধীন ইউয়ান রাজবংশের উত্থানের বিরুদ্ধে সিংহাসারীর অধীনে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় সামুদ্রিক রাজ্য এবং রাজনীতির মিলনকে কল্পনা করেছিলেন।

বিস্তৃত অর্থে, আধুনিক ভাষার ব্যবহারে নূসান্তর অস্ট্রোনেশিয়া -সম্পর্কিত সাংস্কৃতিক এবং ভাষাগত ভূমি অন্তর্ভুক্ত করে, যথা, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, ব্রুনাই, পূর্ব তিমুর এবং তাইওয়ান, পাপুয়া নিউ গিনি বাদ দিয়ে।[][][]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Friend, T. (২০০৩)। Indonesian Destinies। Harvard University Press। পৃ. ৬০১আইএসবিএন ০-৬৭৪-০১১৩৭-৬
  2. "Hasil Pencarian - KBBI Daring"kbbi.kemdikbud.go.id। ১৩ জুন ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুলাই ২০১৮
  3. "Nusantara | Malay to English Translation - Oxford Dictionaries"Oxford Malay Living Dictionary (ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষায়)। ২০ জুলাই ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুলাই ২০১৮
  4. Mpu, Prapañca; Robson, Stuart O. (১৯৯৫)। Deśawarṇana: (Nāgarakṛtāgama)। KITLV। আইএসবিএন ৯৭৮-৯০-৬৭১৮-০৯৪-৮
  5. "Kertanagara dan Nusantara"Historia (ইন্দোনেশীয় ভাষায়)। ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জানুয়ারি ২০২২
  6. Wahyono Suroto Kusumoprojo (২০০৯)। Indonesia negara maritim। PT Mizan Publika। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৭৯-৩৬০৩-৯৪-০
  7. Evers, Hans-Dieter (২০১৬)। "Nusantara: History of a Concept": ৩–১৪। ডিওআই:10.1353/ras.2016.0004 {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  8. Mohd. Zariat Abdul Rani (২০০৫)। "Antara Islam dan Hinduisme di Alam Melayu: Beberapa catatan pengkaji barat"। Universiti Kebangsaan Malaysia: ৬৭–৮২। আইএসএসএন 0127-2721। ৮ জুন ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ অক্টোবর ২০২২ {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  9. Hafizah Iszahanid (১১ অক্টোবর ২০১৮)। "Istilah Nusantara diguna tanpa semangat penyatuan Melayu"Berita HarianKonsep Nusantara dalam pemahaman warga Indonesia sangat berbeza dengan apa yang difahami rakyat Malaysia, bahkan hampir kesemua negara lain di Asia Tenggara termasuk Singapura...ketika kebanyakan penduduk Asia Tenggara merujuk Nusantara kepada wilayah Kepulauan Melayu atau negara di Asia Tenggara, penduduk Indonesia sebaliknya berpendapat Nusantara adalah Indonesia semata-mata.