বিষয়বস্তুতে চলুন

নুব-বোদ-লেগ্স-ব্চোস-স্ক্যিদ-স্দুগ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
নুব-বোদ-লেগ্স-ব্চোস-স্ক্যিদ-স্দুগ
নেতাস্পোম-ম্দা'-ত্শাং-রাব-দ্গা'
প্রতিষ্ঠাতাস্পোম-ম্দা'-ত্শাং-রাব-দ্গা'
প্রতিষ্ঠা১৯৩৯
ভাঙ্গন১৯৫০
সদর দপ্তরকালিম্পং
ভাবাদর্শসামন্তবাদ বিরোধী
সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী
খাম্স জাতীয়তাবাদ
ধর্মধর্মনিরপেক্ষ
আন্তর্জাতিক অধিভুক্তিকুয়োমিনতাং

নুব-বোদ-লেগ্স-ব্চোস-স্ক্যিদ-স্দুগ (তিব্বতি: ནུབ་བོད་ལེགས་བཅོས་སྐྱིད་སྡུག, ওয়াইলি: nub-bod-legs-bcos-skyid-sdug[১] ; চীনা: 西藏革命黨; ফিনিন: Xīzàng Gémìngdǎng) একটি সামন্তবাদ বিরোধী ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী চীনপন্থী তিব্বতী রাজনৈতিক দল ছিল।

প্রতিষ্ঠাতা সদস্য

[সম্পাদনা]

১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ ভারতের কালিম্পং শহরে তিব্বত থেকে নির্বাসিত স্পোম-ম্দা'-ত্শাং-রাব-দ্গা' (ওয়াইলি: spom mda' tshang rab dga’ দ্বারা এই রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠিত হয়।[২] এই দলের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সদস্য ছিলেন প্রভাবশালী নির্বাসিত তিব্বতী রাজনীতিবিদ থুব-ব্স্তান-কুন-ফেল-লা (ওয়াইলি: thub bstan kun phel la) এবং বিখ্যাত তিব্বতী চিত্রকর দ্গে-'দুন-ছোস-ফেল (ওয়াইলি: dge 'dun choe 'phel)[৩]

রাজনৈতিক মত

[সম্পাদনা]

নুব-বোদ-লেগ্স-ব্চোস-স্ক্যিদ-স্দুগ নামক রাজনৈতিক দলের সদস্যরা তৎকালীন তিব্বত সরকারকে একটি প্রাচীনপন্থী ও সামন্ততান্ত্রিক সরকার গিসেবে গণ্য করতেন এবং এই সরকারের অপসারণ করে তিব্বতে একটি আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষ সরকারের প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতেন যা, তিব্বতে আধুনিক শিক্ষা, উন্নত প্রযুক্তি ও শক্তিশালী সৈন্যবাহিনীর প্রচলন করে তিব্বতকে একটি আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করবে। সান ইয়াত-সেনের আদর্শ দ্বারা অনুপ্রাণিত স্পোম-ম্দা'-ত্শাং-রাব-দ্গা' বিশ্বাস করতেন যে, চীনে যেভাবে চিং রাজবংশের উৎখাত করা হয়েছে, ঠিক সেই ভাবে তিব্বতেও পরিবর্তন আসবে। তিনি কুয়োমিনতাংয়ের তত্ত্বগুলির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তিব্বতে তা প্রয়োগ করার চিন্তা করেন। বিদেশী সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে এশিয়ার মানুষকে তত্ত্ব দিয়ে সহায়তা করার জন্য তিনি সান ইয়াত-সেনের প্রশংসা করে সামন্ততন্ত্রগুলির উচ্ছেদ সাধনের ডাক দেন।[৪] চীন প্রজাতন্ত্রের অধীনে থেকে তিব্বতকে একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রজাতন্ত্রে পরিণত করা এই দলের লক্ষ্য ছিল। স্পোম-ম্দা'-ত্শাং-রাব-দ্গা'র মতে বিপ্লবের মাধ্যমে তৎকালীন 'স্বৈরাচারী' সরকার থেকে তিব্বতকে মুক্ত করাই তার দলের লক্ষ্য ছিল।[৫]:৪৫০

এই দলের প্রকৃত রাজনৈতিক শক্তি সম্বন্ধে সঠিক তথ্য জানা যায় না। সমগ্র খাম্স অঞ্চলের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ স্থানে দলাই লামা ও তিব্বত সরকারের প্রভাব থাকলেও সরকার বিরোধী মনোভাব এই অঞ্চলে যথেষ্টই ছিল। স্পোম-ম্দা'-ত্শাং (ওয়াইলি: spom mda' tshang) বণিক পরিবার সহ এই অঞ্চলের বহু ব্যবসায়ী এই রাজনৈতিক দলকে চীন ও দলাই লামার তিব্বত সরকারের অধীনতামুক্ত একটি স্বাধীন খাম্স রাষ্ট্র গড়ে তোলার হাতিয়ার হিসেবে দেখেছিলেন।[৪]

কর্মকাণ্ড

[সম্পাদনা]

চিয়াং কাই-শেকের নেতৃত্বাধীন কুয়োমিনতাং সরকার তিব্বতে চীনা প্রভাব বিস্তারের জন্য উৎসাহী থাকায় চিয়াং গোপণে স্পোম-ম্দা'-ত্শাং-রাব-দ্গা' ও তার আন্দোলনকে অর্থসাহায্য করতেন। ১৯৪৩ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে কায়রো সম্মেলনের ঠিক পূর্বে স্পোম-ম্দা'-ত্শাং-রাব-দ্গা' চীনপন্থী খাম্স-পা সেনার সাহায্যে তিব্বতী সেনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামার জন্য চিয়াংয়ের নিকট সহায়তা প্রার্থনা করেন। তিনি চিয়াংয়ের নিকট দলাই লামার শাসনাধীন তিব্বত সরকারকে আধুনিক সভ্যতার পক্ষে সহ্যাতীতভাবে বেমানান রূপে বর্ণনা করেন। তার দল তিব্বতের সরকারের বিরুদ্ধে কুয়োমিনতাংকে খোলাখুলিভাবে সমর্থন করতে থাকে। এই সময় চিয়াং স্পোম-ম্দা'-ত্শাং-রাব-দ্গা'কে চীনা পাসপোর্ট প্রদান করেন।[৬][৭] ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দে স্পোম-ম্দা'-ত্শাং-রাব-দ্গা' তাওয়াং ও ভুটান অঞ্চলে ঐতিহাসিক সীমানা নির্দেশক মানচিত্র তৈরীর জন্য দ্গে-'দুন-ছোস-ফেলকে এই অঞ্চলগুলির মধ্য দিয় লাসা প্রেরণ করেন।[৫]:৪৫৩

পরিসমাপ্তি

[সম্পাদনা]

১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে কালিম্পং শহরে ব্রিটিশ আধিকারিক রিচার্ডসনের নজরে এই দলের কর্মকাণ্ড নজরে পড়ে[৫]:৪৫৪ এবং ১০ই এপ্রিল তিনি তিব্বত সরকারকে এই দলের ব্যাপারে অবহিত করেন।[৫]:৪৫৬ ২৬শে এপ্রিল তিব্বত সরকারের পক্ষ থেকে তাকে প্রত্যর্পণের দাবী জানানো হয়, কিন্তু স্পোম-ম্দা'-ত্শাং-রাব-দ্গা' নিজেকে চীনা নাগরিক হিসেবে দাবি করায় তিব্বত সরকারের এই অনুরোধ মানা সম্ভব হয় না। ১৯শে জুন স্পোম-ম্দা'-ত্শাং-রাব-দ্গা'র বিরুদ্ধে বিপ্লবের চেষ্টা ও গুপ্তচরগিরির অভিযোগ এনে তার বাসস্থানে তল্লাশী চালানো হয়, কিন্তু দিল্লির চীনা দূতাবাস থেকে অগ্রিম খবর পেয়ে তিনি সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি নষ্ট করে ফেলতে সক্ষম হন। এতদসত্ত্বেও চীনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তার দল নিয়ে কিছু চিঠিপত্র পুলিশের হস্তগত হলে[৫]:৪৫৮ ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ ভারত থেকে তাকে সাংহাই শহরে[৫]:৪৬০ এবং থুব-ব্স্তান-কুন-ফেল-লাকে নানজিং শহরে নির্বাসনে পাঠিয়ে দেওয়ার হয়। ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দে দ্গে-'দুন-ছোস-ফেলকে লাসা শহরে গ্রেপ্তার করা হলে তাদের রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. ↑ 西藏革命党考实[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ] (চীনা)
  2. ↑ Arpi, Claude। "The Karma of Tibet" (পিডিএফ)। পৃ. ৫১, ৫৩, ৫৬, ৬৬, ৮০, ৯৪, ৯৫, ৯৬, ৯৭। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ এপ্রিল ২০১৪।
  3. ↑ Luo, Jia (২০০৯)। REFORM IN TIBET AS A SOCIAL MOVEMENT (পিডিএফ) (A thesis submitted in conformity with the requirements for the degree of Master of Education Graduate Department of Sociology & Equity Studies in Education Ontario Institute for Studies in Education University of Toronto)। পৃ. ৩২. ৩৭। সংগ্রহের তারিখ ২৪ এপ্রিল ২০১৪। {{অভিসন্দর্ভ উদ্ধৃতি}}: |title= এর 16 নং অবস্থানে line feed character রয়েছে (সাহায্য)
  4. 1 2 Gray Tuttle (২০০৭)। Tibetan Buddhists in the Making of Modern China (illustrated সংস্করণ)। Columbia University Press। পৃ. ১৫২। আইএসবিএন ০-২৩১-১৩৪৪৭-৯। সংগ্রহের তারিখ ২৭ ডিসেম্বর ২০১১।
  5. 1 2 3 4 5 6 Goldstein, Melvyn C. (১৯৯১)। A History of Modern Tibet, 1913-1951: The Demise of the Lamaist State। University of California Press। পৃ. ৪৫৮। আইএসবিএন ০৫২০৯১১৭৬৮। সংগ্রহের তারিখ ২৪ এপ্রিল ২০১৪। {{বই উদ্ধৃতি}}: অবৈধ |সূত্র=harv (সাহায্য)
  6. ↑ Hsiao-ting Lin (২০১০)। Modern China's ethnic frontiers: a journey to the west। খণ্ড Volume ৬৭ of Routledge studies in the modern history of Asia (illustrated সংস্করণ)। Taylor & Francis। পৃ. ৯৫। আইএসবিএন ০-৪১৫-৫৮২৬৪-৪। সংগ্রহের তারিখ ২৭ ডিসেম্বর ২০১১। {{বই উদ্ধৃতি}}: |খণ্ড=-এ অতিরিক্ত লেখা রয়েছে (সাহায্য)
  7. ↑ Lin, Hsaio-Ting (২০১১)। Tibet and Nationalist China's Frontier: Intrigues and Ethnopolitics, 1928-49। Contemporary Chinese Studies Series। UBC Press। পৃ. ১৪৫। আইএসবিএন ০৭৭৪৮৫৯৮৮১। সংগ্রহের তারিখ ২৪ এপ্রিল ২০১৪। {{বই উদ্ধৃতি}}: অবৈধ |সূত্র=harv (সাহায্য)