বিষয়বস্তুতে চলুন

নীলসাগর

নীলসাগর
বিন্না দিঘি, বিরাট দিঘি
নীলসাগরে মনোরম সূর্যাস্তের দৃশ্য
ধরনদিঘি
অবস্থানগোড়গ্রাম, নীলফামারী, বাংলাদেশ
স্থানাঙ্ক২৬°০০′১৩″ উত্তর ৮৮°৪৫′১০″ পূর্ব / ২৬.০০৩৪৮৫১° উত্তর ৮৮.৭৫২৭৭২৮° পূর্ব / 26.0034851; 88.7527728
অঞ্চল৫৪ একর (প্রায়)
প্রতিষ্ঠাতারাজা বিরাট (কথিত)
নির্মিতআনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম শতাব্দী
নীলসাগর বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
নীলসাগর
বাংলাদেশের মানচিত্রে নীলসাগরের অবস্থান

নীলসাগর, বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক দিঘি যা নীলফামারী জেলা সদর থেকে উত্তর-পশ্চিমে ১৪ কিলোমিটার দূরে গোড়গ্রাম ইউনিয়নে অবস্থিত।[] এটি ‘বিরাট দিঘি’ ও 'বিন্না দিঘি' নামেও পরিচিত। স্বাধীনতার পর নীলসাগর নামে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে এবং বর্তমানে এখানে ব্যাপক সংস্কার করে ভ্রমণ পিপাসুদের চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতি বছর শীত মৌসুমে এখানে অসংখ্য অতিথি পাখির সমাগম ঘটে।[][][] বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর দিঘিটির শান বাঁধানো ঘাটটিকে একটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে তালিকাভূক্ত করেছে।[][]

অবস্থান

[সম্পাদনা]

সদর উপজেলার জিরো পয়েন্ট চৌরঙ্গী মোড় থেকে উত্তর-পশ্চিম কোণে ১৪ কিলোমিটার দূরে গোড়গ্রাম ইউনিয়নের ধোবাডাঙ্গা মৌজায় ৫৩.৯০ একর জমির ওপর নীলসাগরের অবস্থান। এর জলভাগ ৩২.৭০ একর এবং চারদিকের পাড়ের জমির পরিমাণ ২১ একরের মতো।

নীলসাগরের দৃশ্য

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

মনে করা হয় ঐতিহাসিক বৈদিক রাজা বিরাট এই দিঘি খনন করেন এবং তা বিরাট দিঘি হিসাবে পরিচিত ছিল। পরবর্তীকালে বিন্না দিঘি নামেও পরিচিতি পায়। আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম শতাব্দীর কোন এক সময়ে এ জলাশয়টির খননকাজ শুরু হয়েছিল।[] বিরাট দিঘির কালক্রমে এ দিঘিটি বিরাট দিঘি, বিল্টা দিঘি এবং অবশেষে বিন্না দিঘি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। কারো কারো মতে রাজা বিরাট তার বিশাল গরুর পালের জন্য পানির সংস্থান করতেই এ দিঘি খনন করেন এবং তার কন্যা বিন্নাবতীর নামে এর নামকরণ করেন। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালে নীলফামারীর তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক ও অবসর প্রাপ্ত সচিব এম.এ জব্বার কর্তৃক এই দিঘিকে পর্যটনক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত করতে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় ও নীলফামারীর নামানুসারে বিন্না দিঘির পরিবর্তে এর নামকরণ করা হয় নীলসাগর।[]

নীলসাগরের আকর্ষণ

[সম্পাদনা]

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যই মূলত নীলসাগর বিখ্যাত। এর পাড়ে রয়েছে নারকেল, বনবাবুল, আকাশমণি, মেহগনি, শিশুসহ অজানা-অচেনা হরেকরকম ফুল ও ফলের সারি সারি বৃক্ষরাজি। পাশেই রয়েছে একটি ছোট পার্ক। ১৯৯৮ সালে এ এলাকাকে পাখির অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হয়। ১৯৯৯ সালে তৎকালীন ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব রাশেদ মোশারফ এ অভয়ারণ্যের উদ্বোধন করেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

এখানে প্রতি বছর চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষে সনাতন (হিন্দু) সম্প্রদায় বারুণী স্নান উৎসবের আয়োজন করে থাকে। দিঘির পাশেই সরকারের অনুদানে একটি রেস্টহাউজ স্থাপন করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. হাসান, মীর মাহমুদুল (৩ নভেম্বর ২০২৪)। "নীলফামারীতে কত কী দেখার আছে"দৈনিক প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ৪ জুলাই ২০২৫
  2. "অতিথি পাখির কলরবে মুখর নীলসাগর"www.banglatribune.com। সংগ্রহের তারিখ ৪ জুলাই ২০২৫
  3. নীলফামারী, জেলা প্রতিনিধি (১৫ জানুয়ারি ২০২১)। "নীলসাগরে পরিযায়ী পাখির কলতান"dhakapost.com। সংগ্রহের তারিখ ৪ জুলাই ২০২৫
  4. "নীলসাগরে নেই পরিযায়ী পাখি"www.ajkerpatrika.com। ২২ জানুয়ারি ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ৪ জুলাই ২০২৫
  5. "প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর"archaeology.gov.bd (ইংরেজি ভাষায়)। ৪ জুলাই ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৪ জুলাই ২০২৫
  6. "প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক সংরক্ষিত পুরাকীর্তি - জেলাঃ নীলফামারী" (পিডিএফ)প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। আগস্ট ২০২৪। সংগ্রহের তারিখ ৪ জুলাই ২০২৫[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  7. "নীলসাগর, নীলফামারী। | নীলফামারী জেলা"www.nilphamari.gov.bd। ৪ এপ্রিল ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৪ জুলাই ২০২৫
  8. "ঘুরে আসুন নয়নাভিরাম নীলসাগর"দৃষ্টি বাংলাদেশ (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ২৮ আগস্ট ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৪ জুলাই ২০২৫