নির্মলচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

নির্মলচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯ অক্টোবর ১৮৯২ - ২৪ জানুয়ারি, ১৯৭২) একজন বাঙালি রাজনীতিবিদ, ব্যারিস্টার ও ঐতিহাসিক। তিনি অখিল ভারতীয় হিন্দু মহাসভা অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। ভারতীয় লোকসভার অধ্যক্ষ সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় তার পুত্র। নির্মলচন্দ্র, এন. সি চ্যাটার্জী নামে সুপরিচিত ছিলেন।[১]

শিক্ষা জীবন[সম্পাদনা]

নির্মলচন্দ্র কলকাতার ভবানীপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ভোলানাথ চট্টোপাধ্যায় ছিলেন পেশায় ইঞ্জিনিয়ার। নির্মলচন্দ্র আইন শিক্ষার্থে বিলেত যাত্রা করেন ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন পাশ করে ওকালতি করতে থাকেন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাস নিয়ে এম এ পাশ করেছিলেন। রাজা চৈত সিংহের জীবনী নিয়ে গবেষণা করে তিনি প্রেমচাঁদ-রায়চাদ বৃত্তি পান।[১]

কৃতিত্ব[সম্পাদনা]

ভারতের সর্বোচ্চ ন্যায়ালয় বা সুপ্রিম কোর্টে তিনি ছিলেন অন্যতম খ্যাতিমান ব্যারিস্টার। সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশন এর সহ সভাপতি হন। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আইনবিদ হিসেবে তার সুনাম ছিল। সিবিল লিবার্টি আন্দোলনের সাথেও যুক্ত ছিলেন নির্মলচন্দ্র। রাজনীতির ক্ষেত্রে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। হিন্দু মহাসভার অন্যতম নেতৃত্বের দায়িত্ব ছিল তার ওপর।[২] জহরলাল নেহরু ও অন্যান্য জাতীয় কংগ্রেস নেতাদের প্রভাব সত্বেও তিনি লোকসভার সদস্য হন। লোকসভায় বাগ্মী হিসেবে তার খ্যাতি ছিল।[৩] ইংরেজি কবিতা, সাহিত্য ইত্যাদিতে অনুরাগ ছিল তার। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে ব্যক্তিগত ভাবে কতগুলি কবিতা লিখে দেন যেগুলি পরে স্ফুলিঙ্গ কাব্যগ্রন্থে স্থান পায়।[১] ভারতের সংবিধান, মানবাধিকার, জরুরী অবস্থা, কোম্পানি আইন ও জম্মু কাশ্মীর সমস্যার ওপর গ্রন্থ রচনা করেছেন তিনি।

মৃত্যু[সম্পাদনা]

২৪ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে মারা যান নির্মলচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. দ্বিতীয় খন্ড, অঞ্জলি বসু সম্পাদিত (২০০৪)। সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান। কলকাতা: সাহিত্য সংসদ। পৃষ্ঠা ১৫৯। 
  2. "ভাগাভাগির সত্তর বছর"boishakhionline.com। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জুলাই ২০১৭ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  3. প্রেমাংশু চৌধুরী। "সংসদ ছিল যেন মন্দির, স্মৃতি ঘাঁটেন নবতিপর"archives.anandabazar.com। আনন্দবাজার পত্রিকা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জুলাই ২০১৭