বিষয়বস্তুতে চলুন

নারী অধিকার পুনরুদ্ধার সমিতি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

নারী অধিকার পুনরুদ্ধার সমিতি ((চীনা: 女子复权会; ফিনিন: Nüzi fuquan hui)) একটি টোকিও-ভিত্তিক রাজনৈতিক আন্দোলন যেটি ১৯০৭ সালে চীনা প্রবাসী কিং-বিরোধী সদস্যদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এটি ছিল একটি নৈরাজ্য-নারীবাদী গোষ্ঠী, এটি প্রথম দিকের চীনা সংগঠনগুলির মধ্যে একটি, যারা নৈরাজ্যবাদ এবং নারীবাদকে একইভাবে মেনে চলত।[] এই সমিতির সদস্যরা, যারা কিং রাজবংশ এবং কনফুসিয়ানিজমের বিরোধিতা করেছিল, তারা ঐতিহ্যগত চীনা সংস্কৃতিতে পুরুষদের বিশেষাধিকারের অবসানের পক্ষে কথা বলেছিল এবং পুরুষদের কাছে মহিলাদের বশ্যতাকে বাধা দিয়েছিল। সমিতির সদস্যদের উপপত্নী বা গৌণ স্ত্রী হতে নিষেধ করা হয়েছিল। বিনিময়ে, এই সমিতি সমস্ত সদস্যদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দেয়।[]

সমিতি মতাদর্শগতভাবে ছিল বামপন্থী। এরা সেই সময়কার চীনের অন্যদের থেকে ছিল ভিন্ন। নারী অধিকার পুনরুদ্ধার সমিতি নারী নিপীড়নের আসল কারণ হিসেবে জাতীয় চরিত্র ও সংস্কৃতির অনুভূত দুর্বলতার বদলে অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সামন্তবাদ এবং পুঁজিবাদে কে চিহ্নিত করেছিল।[] এর বেশিরভাগ মতাদর্শ প্রণয়ন করেছিলেন এর প্রতিষ্ঠাতা, হে-ইয়িন ঝেন, যিনি ছিলেন একজন চিয়াংসু এবং জন্ম নৈরাজ্যবাদী। তিনি ও তাঁর স্বামী লিউ শিপেই জাপানে নির্বাসনে গিয়েছিলেন। তিনি ন্যাচারাল জাস্টিস নামে একটি পত্রিকাও প্রকাশ করেন এবং প্যারিস -ভিত্তিক জিন শিজিতে অবদান রাখেন। সেই সময়ের জন্য অস্বাভাবিক মনে হলেও তিনি নারীর শ্রেণীভিত্তিক শোষণের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছিলেন, পতিতা, গৃহকর্মী এবং মহিলা কারখানার শ্রমিকদেরকে সবচেয়ে নিপীড়িত হিসাবে চিহ্নিত করেছিলেন।[] তিনি সম্পদের অসম বণ্টনের নিন্দা করেছিলেন এবং এই নারী শ্রেণী সংগ্রামকে অন্য কোনো আদর্শিক কারণের অধীনস্থ করতে অস্বীকার করেছিলেন।[] "নারী মুক্তি ছাড়া সমতার লক্ষ্য অর্জন করা যায় না" এটি লিখে, হে-ইয়িন এবং সমিতি- নারী স্বাধীনতাকে এইভাবেই দেখেছেন যে মহিলাদের নিজেদেরই নারী স্বাধীনতা অর্জন করতে হবে, কারণ কেউ তাদের অধিকার দেবে না।[] এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ হিসাবে বিপ্লবী পরিবর্তনকে দেখা হয়েছিল, সংস্কারকে নয়।[]

যদিও নারী অধিকার পুনরুদ্ধার সমিতির সঠিক কার্যকারিতা সম্পর্কে খুব কমই জানা যায়,[] তবে মনে হয় যে হে-ইয়িন ঝেন এবং তাঁর স্বামী ১৯০৯ সালে টোকিও ছেড়ে চীনে ফিরে আসার পর সমিতিটি বিলুপ্ত হয়ে যায়।

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 3 Zarrow, Peter (১৯৮৮)। "He Zhen and Anarcho-Feminism in China" (পিডিএফ)Association for Asian Studies: ৮০০–৮০১। ডিওআই:10.2307/2057853জেস্টোর 2057853। ২২ মে ২০১১ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  2. Glosser, Susan J. (২০০৩)। Chinese Visions of Family and State, 1915-1953University of California Press। পৃ. আইএসবিএন ০৫২-০৯২-৬৩৯-০
  3. Bailey, Paul J. (২০০৭)। Gender and Education in China: Gender Discourses and Women's Schooling in the Early Twentieth CenturyRoutledge। পৃ. ১৪৮। আইএসবিএন ৯৭৮-১১৩-৪১৪-২৫৬-৯
  4. Hershatter, Gail (২০০৭)। Women in China's Long Twentieth Century। University of California Press। পৃ. ৮৪। আইএসবিএন ৯৭৮-০৫২-০৯১-৬১২-৮
  5. The Birth of Chinese Feminism: Essential Texts in Transnational TheoryColumbia University Press। ২০১৩। পৃ. ৫৩আইএসবিএন ৯৭৮-০২৩-১১৬-২৯১-৩
  6. Chan, Wing-tsit; Adler, Joseph (২০১৩)। Sources of Chinese Tradition: Volume 2: From 1600 Through the Twentieth Century। Columbia University Press। পৃ. ৩৯০। আইএসবিএন ৯৭৮-০২৩-১৫১-৭৯৯-৭