দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
নিউ মুর দ্বীপ (পূর্বাশা দ্বীপ)
ভূগোল
অবস্থান বঙ্গোপসাগর
ভৌগলিক স্থানাংক ২১°৩৭′০০″ উত্তর ৮৯°০৮′৩০″ পূর্ব / ২১.৬১৬৬৭° উত্তর ৮৯.১৪১৬৭° পূর্ব / 21.61667; 89.14167স্থানাঙ্ক: ২১°৩৭′০০″ উত্তর ৮৯°০৮′৩০″ পূর্ব / ২১.৬১৬৬৭° উত্তর ৮৯.১৪১৬৭° পূর্ব / 21.61667; 89.14167
আয়তন ৭ বর্গকিলোমিটার (২.৭ মা) to ১৪ বর্গকিলোমিটার (৫.৪ মা)
দৈর্ঘ্য ৩.৫ কিমি (২.২ মা)
প্রস্থ ৩ কিমি (১.৯ মা)
দেশ
জনপরিসংখ্যান
জনসংখ্যা

দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ (বাংলাদেশে পরিচিত) বা নিউ মুর আইল্যান্ড (ভারতে পরিচিত) বঙ্গোপসাগরের ছোটো জনবসতিহীন সাগরমুখী দ্বীপ। এটি গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপ অঞ্চলের উপকূলে অবস্থিত।[১] এবং বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলবর্তী দ্বীপ। ১৯৭০ সালে ভোলা সাইক্লোনের পরবর্তীকালে বঙ্গোপসাগরে এর আবির্ভাব ঘটে, এবং কিছুকাল পরে এর অস্তিত্ত্ব বিলীন হয়।[২] স্থায়ী জনবসতিহীন এই অঞ্চলে তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের অস্তিত্বের আশঙ্কা থাকায় ভারত এবং বাংলাদেশ সরকার যৌথভাবে এর সার্বভৌমত্ব দাবি করে।<ref name="latimes">মার্ক ম্যাগনিয়ার (মার্চ ২৫, ২০১০)। "Sunk by global warming? Wave goodbye to this disputed island"। latimes.com। সংগৃহীত জুলাই ০৯, ২০১৪ </ref> এই এলাকার বাংলাদেশ-ভারতের সীমানা বিভাজক হাড়িয়াভাংগা নদীর মূলস্রোত যেহেতু দ্বীপের পশ্চিম ভাগ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে,সেহেতু "নদীর মূল স্রোতধারার মধ্যরেখা নীতি" বা Thalweg doctrine অনুযায়ী বাংলাদেশ দ্বীপটিকে নিজ দেশের অন্তভুর্ক্ত মনে করছে। অপরদিকে ভারতীয় দাবি হচ্ছে, নদীর মূলস্রোত পরিবর্তনশীল।[৩]সার্বভৌমত্ব প্রদানের এই বিষয় এবং দুই দেশের মধ্যে সামুদ্রিক সীমা প্রতিষ্ঠাপন র‌্যাডক্লিফ লাইন পদ্ধতি অনুযায়ী বড় আকারের বিতর্কের অংশ হয়ে ওঠে।

আবিষ্কার[উৎস সম্পাদনা]

১৯৭০ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের পর হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর মোহনার অদূরে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ জেগে ওঠে। নদীর মোহনা থেকে দুই কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান। ১৯৭৪ সালে একটি আমেরিকান স্যাটেলাইটে আড়াই হাজার বর্গমিটার এ দ্বীপটির অস্তিত্ব ধরা পড়ে। পরে রিমোট সেন্সিং সার্ভে চালিয়ে দেখা গিয়েছিল, দ্বীপটির আয়তন ক্রমেই বাড়ছে এবং একপর্যায়ে এর আয়তন ১০ হাজার বর্গমিটারে দাঁড়ায়। তবে অনেকে দাবি করেন, ১৯৫৪ সালে প্রথম দ্বীপটির অস্তিত্ব ধরা পড়ে। দ্বীপটির মালিকানা বাংলাদেশ দাবি করলেও ভারত ১৯৮১ সালে সেখানে সামরিক বাহিনী পাঠিয়ে তাদের পতাকা ওড়ায়। ভারতের যুক্তি, ১৯৮১ সালের আন্তর্জাতিক জরিপ অনুযায়ী দক্ষিণ তালপট্টির পূর্ব অংশটির অবস্থান ভারতের দিকে, যা ১৯৯০ সালের ব্রিটিশ অ্যাডমিরালটি চার্টেও স্বীকৃত।<ref>http://www.dailykalerkantho.com/?view=details&archiev=yes&arch_date=25-03-2010&type=gold&data=Book&pub_no=115&cat_id=1&menu_id=13&news_type_id=1&index=8</ref>

বর্তমান অবস্থা[উৎস সম্পাদনা]

মার্চ, ২০১০ এ বিবিসি খবর অনুযায়ী দ্বীপটি বর্তমানে ২ মিটার সমুদ্রতলে নিমজ্জিত। সম্প্রতি ২০১৪ সালে ৭ জুলাই আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত এর রায় অনুযায়ী দ্বীপ টি ভারতের সমুদ্র সীমায় পড়েছে। <ref>http://archive.prothom-alo.com/detail/news/51574</ref>

আরও দেখুন[উৎস সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[উৎস সম্পাদনা]

  1. বেন আর্নোল্ড (মার্চ ২৪, ২০১০)। "Global warming as peacemaker? Disputed island disappears under rising sea."। csmonitor.com। সংগৃহীত জুলাই ০৯, ২০১৪ 
  2. কারা গিলমোর (মার্চ ২৪, ২০১০)। "New Moore Island Sinks From Global Warming"। newsoxy.com। সংগৃহীত জুলাই ০৯, ২০১৪ 
  3. "docs"