তাইওয়ান–মেক্সিকো সম্পর্ক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
তাইওয়ান–মেক্সিকো সম্পর্ক
মানচিত্র Mexico এবং Taiwan অবস্থান নির্দেশ করছে

মেক্সিকো

প্রজাতন্ত্রী চীন

তাইওয়ান–মেক্সিকো সম্পর্ক হল প্রজাতন্ত্রী চীন বা তাইওয়ান রাষ্ট্রদ্বয়ের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক। আনুষ্ঠানিকভাবে এ দুই রাষ্ট্রের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯৪৯ সালের শুরুতে মেক্সিকো প্রজাতন্ত্রী চীনের কুওমিন্টাংয়ের সাথে সম্পর্ক রাখা শুরু করে।[১] তবে ১৯৭১ সালে মেক্সিকোর সাথে প্রজাতন্ত্রী চীন তথা তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক ভেঙে যায়। কারণ মেক্সিকো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ রেজোল্যুশন ২৭৫৮-এ গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের পক্ষে ভোট দিয়ে জাতিসংঘে চীনের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্বকারী রাষ্ট্র হিসেবে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের অবস্থানের পক্ষেই থাকে।[২][৩] ইউএন রেজোল্যুশন ২৭৫৮ এর পর থেকে মেক্সিকো গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখছে, আর প্রজাতন্ত্রী চীনের সাথে ১৯৭২ সাল থেকে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখছে অনানুষ্ঠিকভাবে।[৩]

বাণিজ্য সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে ১৯৯০ সালে মেক্সিকো তাইপেইয়ে একটি "মেক্সিকান ট্রেড সার্ভিসেস" অফিস চালু করে, যার কোনো কূটনৈতিক বৈশিষ্ট্য নেই। ১৯৯১ সালে অফিসটিকে কনস্যুলার পর্যায়ে উন্নীত করা হয় এবং তা মেক্সিকান ট্রেড সার্ভিসেস ডকুমেন্টেশান অ্যান্ড কালচারাল অফিস নামে পরিচিত হয়।[৩] ১৯৯৩ সালে তাইওয়ান মেক্সিকো সিটিতে একটি তাইপেই ইকোনোমিক অ্যান্ড কালচারাল অফিস ইন মেক্সিকো চালু করে। এ প্রতিষ্ঠানটি "দুই দেশের মধ্যকার বন্ধন আরো গভীর ও দৃঢ় করার জন্য" কাজ করছে।[৪] এ দুইটি প্রতিনিধিত্বকারী অফিস মূলত অনানুষ্ঠানিকভাবে দুই দেশের রাজধানীতে অবস্থিত হয়ে দে ফ্যাক্টো দূতাবাস হিসেবে কাজ করছে।

মেক্সিকো এবং তাইওয়ান উভয়েই এশিয়া—প্যাসিফিক ইকোনোমিক কোঅপারেশন সংস্থাটির সদস্য রাষ্ট্র। ২০১২ সালের নভেম্বর মাসে তাইওয়ানের রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি ইউয়ান টি. লী এপেক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে মেক্সিকোর লস কাবোসে সফর করেন। তিনিই প্রথম উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যিনি দেশটিতে সফর করেন।[৫]

বাণিজ্য[সম্পাদনা]

তাইপেইতে অবস্থিত মেক্সিকান ট্রেড সার্ভিসেস ডকুমেন্টেশান অ্যান্ড কালচারাল অফিস ভবন

এশিয়া থেকে মেক্সিকোতে বিনিয়োগকারী তৃতীয় বৃহত্তম দেশ (প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানে যথাক্রমে জাপানদক্ষিণ কোরিয়া রয়েছে) এবং সারা বিশ্বের নবম বৃহত্তম বাণিজ্যিক সহযোগী হল তাইওয়ান।[৬] ২০১৫ সালে দুই দেশের মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৬.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার[৭] মে, ২০১২ সালে দুই দেশের পক্ষ থেকে তাইওয়ান প্রোমেক্সিকো এবং ডেভেলপমেন্ট অব ফরেইন ট্রেড তাইওয়ান (তইত্রো) মুক্ত বাণিজ্যের বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেপ।[৮] দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের ফলে তিনশরও বেশি প্রতিষ্ঠানের জন্ম হয়েছে, যেখানে ষাট হাজাররেরও বেশি কর্মী নিয়োজিত আছে।[৬] প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত বাজা ক্যালিফোর্নিয়া, গুয়ানজুয়াতো সিটিতে অবস্থিত। টিপিপিতে তাইওয়ান প্রবেশ করতে সমর্থ হলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের আরো উন্নতি হবে, কারণ মেক্সিকোর রয়েছে শিক্ষিত মানবসম্পদ, ব্যবহারযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ, অনুকূল পরিবেশ, সম্ভাবনাময় অভ্যন্তরীণ বাজার; ফলে তাইওয়ানের শিল্পপতিরা মেক্সিকো বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান গন্তব্য হিসেবে দেখছেন।[৯] অবকাঠামোগত সুবিধা, বিশেষত শক্তিখাতের কাঠামোগত সুবিধা অনেক বিনিয়োগকারীকেই মেক্সিকোর প্রতি আকৃষ্ট করে তুলছে।[১০]

কূটনৈতিক মিশন[সম্পাদনা]

  • তাইপেইতে মেক্সিকোর একটি লিয়াজোঁ অফিস রয়েছে, যা "মেক্সিকান ট্রেড সার্ভিসেস ডকুমেন্টেশান অ্যান্ড কালচারাল অফিস" নামে পরিচিত[১১]
  • মেক্সিকো সিটিতে তাইওয়ানের একটি লিয়াজোঁ অফিস রয়েছে, যা "তাইপেই ইকোনোমিক অ্যান্ড কালচারাল অফিস ইন মেক্সিকো" নামে পরিচিত[১২]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:তাইওয়ানের বৈদেশিক সম্পর্ক টেমপ্লেট:মেক্সিকোর বৈদেশিক সম্পর্ক