তপোবিজয় ঘোষ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
তপোবিজয় ঘোষ
জন্ম১৯৩৬
মৃত্যু২৭ আগস্ট ১৯৯০ (বয়স ৫৪)
জাতীয়তাভারতীয়
মাতৃশিক্ষায়তনকলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
পেশাবিশিষ্ট সাহিত্যিক
পিতা-মাতাধনঞ্জয় ঘোষ (পিতা)
পুরস্কারবঙ্কিম পুরস্কার

তপোবিজয় ঘোষ (১৯৩৬ - ২৭ আগস্ট ১৯৯০ ) বিংশ শতকের শেষার্ধের বাংলার বিশিষ্ট সাহিত্যিক।[১]

জন্ম ও শিক্ষা জীবন[সম্পাদনা]

তপোবিজয় ঘোষের জন্ম অধুনা বাংলাদেশের ময়মনসিংহে। পিতা ধনঞ্জয় ঘোষ। ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে দেশবিভাগের পর সপরিবারে তারা ভারতে চলে আসেন এবং পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার সিউড়িতে বসবাস শুরু করেন। তিনি রামপুরহাটের বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক, সিউড়ি কলেজ থেকে বি.এ. ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ পাশ করেন। পরে সাহিত্যে গবেষণা করে ডক্টরেট হন। তার গবেষণার বিষয় ছিল 'ঊনিশ শতকের নীল আন্দোলন ও বাংলার সারস্বত সমাজ'। ছাত্রাবস্থায় মোটামুটি ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ হতেই তিনি কমিউনিস্ট আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন এবং বামপন্থী চিন্তাধারায় বিশ্বাসী হয়ে ওঠেন। পরে কমিউনিস্ট পার্টি বিভক্ত হলে তিনি সি.পি.আই.(এম) পার্টির সদস্য হন।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

তিনি বর্ধমানের কাটোয়া কলেজে অধ্যাপনার মধ্য দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর যোগ দেন নিজের সিউড়ি কলেজে, পরে শিবপুরের দীনবন্ধু কলেজে। কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। শেষে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়েও অস্থায়ী ভাবে অধাপনা করেছেন।

সাহিত্যকর্ম[সম্পাদনা]

অধ্যাপনার সাথে সাহিত্যচর্চা চলতে থাকলেও ছোটগল্প দিয়ে নিয়মিত লেখালেখি শুরু করেন পাঁচের দশকের মাঝামাঝি সময়ে। তার সে সময়ের অজস্র লেখা গল্প 'স্বাধীনতা', 'পরিচয়', 'নন্দন', 'চতুষ্কোন' 'সত্যযুগ' মাসিক বাংলাদেশ' প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। দেশের তথা রাজ্যের সমসাময়িক পরিস্থিতির উপর ও আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে কলম ধরেছেন। তার লেখা'এখন প্রেম', 'সামনে লড়াই' ইত্যাদি উপন্যাস নকশাল আন্দোলনের পটভূমিতেই রচিত হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি ভাষাতেও অনূদিত হয়েছে। দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও পরিস্থিতিতেও কলম ধরেছেন। 'গণতন্ত্র কে বাবু' গল্পটিতে সুন্দরভাবে সমকালীন উপযুক্ত প্রশ্ন উপস্থাপিত হয়েছে। পারিবারিক ও অর্থনৈতিক কারণে ছয়ের দশকের কিছুদিন তার লেখা অবশ্য বন্ধ ছিল। পশ্চিমবঙ্গ গণতান্ত্রিক লেখক শিল্পী সংঘের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা-সদস্য ছিলেন তিনি। তার রচিত গ্রন্থগুলি হল:

  • 'রাতজাগার পালা'
  • 'সামনে লড়াই'
  • 'দহন দাহন'
  • 'ইতিহাসের মানুষ'
  • 'কালচেতনার গল্প'
  • 'নীল আন্দোলন ও হরিশ্চন্দ্র'
  • 'নীল আন্দোলন ও বাংলার বুদ্ধিজীবী'

সম্মাননা[সম্পাদনা]

ঘুমন্ত মনকে জাগ্রত করা এবং জাগ্রত মনকে সক্রিয় করে তোলা সাহিত্যিকের লক্ষ্য । সাহিত্যিক হিসেবে  তপোবিজয় বাবু এই ঘুমন্ত মন জাগ্রত করা ও জাগ্রত মনকে সক্রিয় করার কাজটা বেশ পটুতার সাথে করেছেন । সবথেকে ভালো লাগার ব্যাপার হল - সমাজের প্রতিটি বিশিষ্ট ঘটনা তার মনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং সেই আলোড়িত চিন্তা ওনার লেখার উপরেও ছাপ ফেলেছে । প্রত্যেক সাহিত্যিক যেমন সমাজ দ্বারা প্রভাবিত হন বিপরীতে সমাজও তার দ্বারা প্রভাবিত হয়, তপোবিজয় বাবুও ব্যতিক্রম নন ।

১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে তপোবিজয় ঘোষ তার "কালচেতনার গল্প" বইটির জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বঙ্কিম পুরস্কার লাভ করেন।[২]

মৃত্যু[সম্পাদনা]

১৯৯০ খ্রিস্টাব্দের ২৭ শে আগস্ট তপোবিজয় ঘোষ ৫৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, দ্বিতীয় খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, জানুয়ারি ২০১৯ পৃষ্ঠা ১৫১, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-২৯২-৬
  2. "পুরস্কার বিজয়ী বাঙালি লেখক"। ১৭ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-০২