বিষয়বস্তুতে চলুন

ড্রাগন ফল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

পিতায়া
একটি পাকা লাল পিতায়য়া এর ক্রস অধ্যায়
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ: উদ্ভিদ
গণ: Hylocereus

ড্রাগন ফল (যা পিতায়া নামেও পরিচিত, চীনা: 火龍果/火龙果, থাই: แก้วมังกร, বৈজ্ঞানিক নাম Hylocereus undatus) এটি এক প্রজাতির ফল, একধরনের ফণীমনসা (ক্যাক্‌টাস) প্রজাতির ফল, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে এর মহাজাতি হায়লোসিরিয়াস (মিষ্টি পিতায়া)। এই ফল মূলত ড্রাগন ফল হিসেবে পরিচিত। গণচীন-এর লোকেরা এটিকে আগুনে ড্রাগন ফল এবং ড্রাগন মুক্তার ফল বলে, ভিয়েতনামে মিষ্টি ড্রাগন, ইন্দোনেশিয়ামালয়েশিয়াতে ড্রাগন ফল (ໝາກມັງກອນ), থাইল্যান্ডে ড্রাগন স্ফটিক নামে পরিচিত। অন্যান্য স্বদেশীয় নাম হলো স্ট্রবেরি নাশপাতি বা নানেট্টিকাফল। এই ফলটি একাধিক রঙের হয়ে থাকে। তবে লাল রঙের ড্রাগন ফল বেশি দেখা যায়।

যদিও অন্যথায় নিদিষ্ট না, এই প্রবন্ধের বিষয়বস্তু হায়লোসিরিয়াস প্রজাতির পিতায়া, অথবা "ড্রাগন ফল" নির্দিষ্টভাবে বোঝায়।

ড্রাগন ফলের চাষ হয় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ক্যারিবিয়ান, অস্ট্রেলিয়া, মেসোআমেরিকা এবং বিশ্বের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলে।

বিতরণ

[সম্পাদনা]
বাংলাদেশে চাষকৃত গোলাপী ড্রাগন ফল

এই মহাজাতির হায়লোসিরিয়াস এর দ্রাক্ষালতা মত পিতায়য়া প্রথমে আসত স্থানীয় মেক্সিকো, মধ্য আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা থেকে। বর্তমানে এগুলো পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া দেশগুলোতে যেমন ইন্দোনেশিয়া'র হিসাবে (বিশেষ করে পশ্চিমা জাভা), তাইওয়ান, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া,[] এবং আরও সাম্প্রতিককালে ভারত, বাংলাদেশে চাষ হয়।[] এছাড়াও ওকিনাওয়া, হাওয়াই, ইসরায়েল, প্যালেস্টাইন, উত্তর অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ গণচীন পাওয়া যায়।

ড্রাগন ফলের উপকারিতা

[সম্পাদনা]

১. ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ – ভিটামিন C, B1, B2, B3, আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস রয়েছে।

২. ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে – অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকার কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

৩. হজমে সহায়ক – ফাইবার বেশি থাকায় হজম ভালো হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

৪. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক – রক্তের গ্লুকোজ লেভেল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।

৫. ওজন নিয়ন্ত্রণে ভালো – কম ক্যালোরি ও উচ্চ ফাইবার থাকার কারণে ডায়েটের জন্য উপযুক্ত।

৬. ত্বক ও চুলের যত্নে ভালো – অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন C ত্বক উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে।

৭. হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় – এতে থাকা মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে এবং হৃদ্‌যন্ত্র সুস্থ রাখে।

৮. রক্তশূন্যতা প্রতিরোধে সহায়ক – ড্রাগন ফলে আয়রন ও ভিটামিন C বেশি থাকে, যা রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে।

৯. চোখের জন্য ভালো – এতে থাকা বিটা-ক্যারোটিন চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে ও রাত্রিকালীন দৃষ্টিদুর্বলতা প্রতিরোধে সহায়তা করে।

১০. হাড় ও দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো রাখে – এতে থাকা ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস হাড় মজবুত করতে ও দাঁতের স্বাস্থ্য রক্ষা করতে সহায়তা করে।

১১. বার্ধক্য ধীর করে – অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের কোষের ক্ষয় ধীর করে, ফলে ত্বক টানটান থাকে এবং বয়সের ছাপ কম দেখা যায়।

ছবির গ্যালারী

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "Dragon Fruit: An Exotic, Health-Packed Fruit"। Exotic Fruit for Health। ২৩ আগস্ট ২০১১। ১৪ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১১
  2. Dragon fruit is on its way in Bangladesh ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১১ তারিখে. Viddler.

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]

--