বিষয়বস্তুতে চলুন

জোগবীর স্থাপিত

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জোগবীর স্থাপিত
পুরাতন নারায়ণহিতি প্রাসাদ, আনুমানিক ১৯২০, ধ্বংস ১৯৫৮
সংস্কারের পর স্বয়ম্ভূ স্তূপ, আনুমানিক ১৯২০

জোগবীর স্থাপিত (দেবনাগরী: जोगवीर स्थापित) (বিকল্প নাম: জোগলাল স্থাপিত, ভাজু মান স্থাপিত এবং জোগবীর নায়ো) (১৮৩৮ – ১৯২৬) হলেন একজন প্রখ্যাত নেপালি স্থপতি। নারায়ণহিতি প্রাসাদের নকশাকার এবং কাঠমান্ডুর স্বয়ম্ভূ স্তূপের সংস্কারকারী হিসেবে তিনি বিখ্যাত।[][] তিনি নেপালি ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের সাথে পাশ্চাত্য রীতির স্থাপত্যেও অভিজ্ঞ ছিলেন।

প্রাথমিক জীবন

[সম্পাদনা]

জোগবীর কাঠমান্ডুর নেওয়ার জাতির অন্তর্ভুক্ত স্থাপিত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। স্থাপিতেরা বংশগতভাবে নির্মাণকাজের সাথে জড়িত ছিল। সংস্কৃত ভাষায় স্থাপিত শব্দের অর্থ হলো "প্রতিষ্ঠিত"। জোগবীর স্থাপিতের পিতার নাম আশা মারু স্থাপিত ও মায়ের নাম জোগবতী স্থাপিত। প্রথম স্ত্রী জ্ঞান ঠাকুনের মৃত্যুর পর জোগবীর দ্বিতীয়বারের মতো দান মায়াকে বিবাহ করেন।

স্থাপিতদের আদি নিবাস থায়মারু কাঠমান্ডু শহরের প্রায় কেন্দ্রে অবস্থিত।

নারায়ণহিতি প্রাসাদ

[সম্পাদনা]

১৮৮৬ খ্রিষ্টাব্দে নারায়ণহিতি প্রাসাদের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এই প্রাসাদের নির্মাণ জোগবীরের কর্মজীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।[] সর্বপ্রথম রাণা রাজবংশের প্রধানমন্ত্রী রণদীপ সিংহ কন্বরের ভূমিতে নারায়ণহিতি প্রাসাদ নির্মাণ করা হয়েছিল। পরিবারের সদস্যদের হাতে তার হত্যাকাণ্ডের পর ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রাসাদটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়। নতুন প্রধানমন্ত্রী বীর শমশের জঙ্গ বাহাদুর রাণা তার চাচার প্রাসাদের স্থলে নতুন প্রাসাদ নির্মাণের জন্য জোগবীর স্থাপিতকে নিযুক্ত করেন। নারায়ণহিতি পরবর্তীতে রাজপ্রাসাদে রূপান্তরিত হয় এবং পৃথ্বী বীর বিক্রম শাহ নেপালের প্রথম রাজা হিসেবে প্রাসাদে বসবাস করেন। এর পূর্বে শাহ রাজপরিবার কাঠমান্ডু দরবার চত্ত্বরে হনুমান ধোকায় বসবাস করতেন, যা নেপালের প্রাচীন মল্ল রাজবংশের রাজকীয় আবাস ছিল।[]

বর্তমান নারায়ণহিতি প্রাসাদ

১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দে পৃথ্বীর পৌত্র মহেন্দ্র বীর বিক্রম শাহ স্থাপিতের নির্মিত প্রাসাদটির স্থলে আরেকটি নতুন প্রাসাদ নির্মাণের জন্য সেটি ধূলিসাৎ করে দেন। বর্তমান নারায়ণহিতি প্রাসাদটির নির্মাণকাজ ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে সমাপ্ত হয়। ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দে নেপাল প্রজাতন্ত্রে রূপান্তরিত হলে, প্রাসাদটিকে জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়।[]

স্বয়ম্ভূ স্তূপ

[সম্পাদনা]

স্থাপিত ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের বিষয়েও দক্ষ ছিলেন। ১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৯২১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত চলা নেপালের সর্ববৃহৎ ঐতিহ্য সংস্কার প্রকল্পের মাধ্যমে স্বয়ম্ভূ স্তূপ পুনর্নির্মাণ করা হয়। এই প্রকল্পে তিনি প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে কর্ম সম্পাদন করেন। স্তূপের কেন্দ্রীয় মন্দির নতুন করে নির্মিত হয়।[] গম্বুজাকৃতির চূড়ায় অবস্থিত পাঁচটি বৌদ্ধ মন্দিরের ছাদ তাম্রমণ্ডিত করা হয়, বৈরোচন বুদ্ধের একটি মূর্তি স্থাপন করা হয়, এবং তারার মূর্তি স্থাপনের জন্য চারটি নতুন মন্দির নির্মাণ করা হয়। স্তূপের চারপাশে এক সারি প্রার্থনা চক্র স্থাপন করা হয়। ব্যবসায়ী এবং জনহিতৈষী ধর্ম মান তুলাধর প্রকল্পের দেখভাল করেন এবং সেই সাথে তিনি এর প্রধান পৃষ্ঠপোষকও ছিলেন।[]

জোগবীর স্থাপিতও একজন দাতা ছিলেন এবং ধর্মের কাজে বেশ কিছু দান করেছেন। তিনি ১০১৮ নেপাল যুগের (১৮৯৭ খ্রিষ্টাব্দ) বিশেষ বৌদ্ধ চীবর দান উৎসব সম্যকের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। এটি স্বয়ম্ভূ টিলার পাদদেশে ভুইখেল নামক স্থানে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।[][] ১০২০ নেপাল যুগে (১৯০০ খ্রিষ্টাব্দ) তিনি টিলার চূড়ায় অজিমা মন্দিরের পিছনে একটি ব্রতমূলক স্তূপ নির্মাণ করেন। বিপুল সংখ্যক পাথুরে মন্দিরের মধ্যে লাল ইটের এই মন্দিরটির নকশা অনন্য।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 Ranjit, Sushmita (নভেম্বর–ডিসেম্বর ২০০৯)। "A thought over Narayanhiti Palace"Spaces। ৩০ জুন ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ডিসেম্বর ২০১৩
  2. Dixit, Kunda (২৫ অক্টোবর ২০০২)। "Dynasty"Nepali Times। ১৯ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ডিসেম্বর ২০১৩
  3. Rana, Prabhakar S. J. B.; Rana, Pashupati Shumshere Jung Bahadur; Rana, Gautam S. J. B. (২০০৩)। The Ranas of Nepal। Timeless Books। পৃ. ১৫২।
  4. "Narayanhity museum draws overwhelming visitors on day one"The Rising Nepal। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৮। ২৬ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ ডিসেম্বর ২০১৩
  5. Gutschow, Niels; Gellner, David N.; Basukala, Bijay (১৯৯৭)। The Nepalese Caitya: 1500 Years of Buddhist Votive Architecture in the Kathmandu Valley। Edition Axel Menges। পৃ. ৯২। আইএসবিএন ৩-৯৩০৬৯৮-৭৫-৭
  6. Shakya, Hem Raj (২০০৪)। Sri Svayambhu Mahacaitya। Svayambhu Vikash Mandala। পৃ. ৩১৩–৩২১। আইএসবিএন ৯৯৯৩৩-৮৬৪-০-৫
  7. Sakya, Hemaraj (২০০৪)। Svayambhū Mahācaitya: The Self-arisen Great Caitya of Nepal। Kathmandu: Svayambhu Vikash Mandal। পৃ. ৬০৮। আইএসবিএন ৯৭৮৯৯৯৩৩৮৬৪০৭
  8. Vaidya, Karuna Kar (১৯৮৬)। Buddhist Traditions and Culture of the Kathmandu Valley, Nepal। Sajha Prakashan। পৃ. ১২১। সংগ্রহের তারিখ ১৯ ডিসেম্বর ২০১৩