জেরুজালেমের পুরনো শহর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান
জেরুজালেমের পুরনো শহর ও এর দেয়ালসমূহ[১]
বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী তালিকায় উল্লিখিত নাম
Old City (Jerusalem).jpg
Map of Jerusalem - the old city - EN.png
ধরন সাংস্কৃতিক
মানদণ্ড ii, iii, vi
তথ্যসূত্র ১৪৮
ইউনেস্কো অঞ্চল জেরুজালেম জেলা
শিলালিপির ইতিহাস
শিলালিপি ১৯৮১ (৫ম সভা)
বিপদাপন্ন ১৯৮২–বর্তমান

জেরুজালেমের পুরনো শহর (হিব্রু ভাষায়: העיר העתיקה‎, Ha'Ir Ha'Atiqah, আরবি: البلدة القديمة‎, al-Balda al-Qadimah, আর্মেনিয়ান: Հին Քաղաք, Hin K'aghak' ) হল আধুনিক জেরুজালেম শহরের অভ্যন্তরে অবস্থিত ০.৯ বর্গ কিমি. (০.৩৫ বর্গ মাইল) আয়তন বিশিষ্ট দেয়ালঘেরা অঞ্চল।[২] ১৮৬০ সালে মিশকেনট শানানিম নামক ইহুদি বসতি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত এই অঞ্চলটি নিয়েই জেরুজালেম শহর গঠিত ছিল। পুরনো শহরটি ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু স্থানের অবস্থানস্থল, যেমন মুসলিমদের কাছে ডোম অব দ্য রকআল-আকসা মসজিদ, ইহুদিদের কাছে টেম্পল মাউন্টপশ্চিম দেয়াল এবং খ্রিষ্টানদের কাছে চার্চ অব দ্য হলি সেপালচার গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে পরিগণিত হয়। ১৯৮১ সালে এই অঞ্চলটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়।

প্রথাগতভাবে পুরনো শহরটি চারটি অসমান অংশে বিভক্ত। তবে বর্তমান অবস্থাটি ১৯ শতক থেকে চালু হয়েছে।[৩] বর্তমানে শহরটি মোটামোটিভাবে মুসলিম মহল্লা, খ্রিষ্টান মহল্লা, ইহুদি মহল্লাআর্মেনীয় মহল্লা নামক ভাগে বিভক্ত। ১৯৪৮ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর পুরনো শহরটি জর্ডান কর্তৃক অধিকৃত হয় এবং এর ইহুদি বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করা হয়। ১৯৬৭ সালে ছয়দিনের যুদ্ধে টেম্পল মাউন্টের উপর দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি লড়াই হয়। এসময় ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেমের বাকি অংশসহ পুরনো শহর দখল করে নেয় এবং পশ্চিম অংশের সাথে একীভূত করে পুরো এলাকাকে ইসরায়েলের অন্তর্গত করে নেয়া হয়। বর্তমানে পুরো এলাকাটি ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণাধীন রয়েছে এবং তারা একে ইসরায়েলের জাতীয় রাজধানী হিসেবে বিবেচনা করে। ২০১০ সালে জেরুজালেমের সর্বপ্রাচীন লেখার নমুনা পুরনো শহরের দেয়ালের বাইরে পাওয়া যায়।[৪] ১৯৮০ সালের জেরুজালেম আইন নামক আইন যেটিতে পূর্ব জেরুজালেমকে কার্যকরভাবে ইসরায়েলের অংশ ঘোষণা করা হয় তা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ প্রস্তাব ৪৭৮ দ্বারা বাতিল ঘোষণা করা হয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পূর্ব জেরুজালেমকে অধীকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলের অংশ হিসেবে গণ্য করে।[৫][৬]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

বাইবেল অনুযায়ী, খ্রিষ্টপূর্ব ১১শ শতকে রাজা দাউদের জেরুজালেম জয়ের পূর্বে শহরটি জেবুসিয়দের বাসস্থান ছিল। বাইবেলের বর্ণনা মতে এই শহর মজবুত নগরপ্রাচীর দ্বারা সুরক্ষিত ছিল। রাজা দাউদ কর্তৃক শাসিত শহর যেটি দাউদের শহর বলে পরিচিত তা পুরনো শহরের দেয়ালের দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থিত। তার পুত্র রাজা সুলায়মানের শহরের দেয়াল সম্প্রসারিত করেন। এরপর ৪৪০ খ্রিষ্টপূর্বের দিকে পারস্য আমলে নেহেমিয়া ব্যবিলন থেকে ফিরে আসেন ও এর পুনর্নির্মাণ করেন। ৪১-৪৪ খ্রিষ্টাব্দে জুডিয়ার রাজা আগ্রিপ্পা “তৃতীয় দেয়াল” নামক নতুন নগরপ্রাচীর নির্মাণ করেন।

৭ম শতকে (৬৩৭ সালে) খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাবের শাসনামলে মুসলিমরা জেরুজালেম জয় করে। খলিফা উমর একে মুসলিম সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করে নেন। তিনি শহরের বাসিন্দাদের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে চুক্তিবদ্ধ হন। জেরুজালেম অবরোধের পর সফ্রোনিয়াস খলিফা উমরকে স্বাগতম জানান। কারণ জেরুজালেমের চার্চের কাছে পরিচিত বাইবেলের একটি ভবিষ্যতবাণীতে “একজন দরিদ্র কিন্তু ন্যায়পরায়ণ ও শক্তিশালী ব্যক্তি” জেরুজালেমের খ্রিষ্টানদের রক্ষক ও মিত্র হিসেবে আবির্ভূত হবেন – এমন উল্লেখ ছিল। সফ্রোনিয়াস বিশ্বাস করতেন যে সাদাসিধে জীবনযাপনকারী বীর যোদ্ধা উমর এই ভবিষ্যতবাণীকে পূর্ণ করেছেন। আলেক্সান্দ্রিয়ার পেট্রিয়ার্ক ইউটিকিয়াসের লেখা, উমর চার্চ অব দ্য হলি সেপালচার পরিদর্শন করেন ও উঠোনে বসেন। নামাজের সময় হলে তিনি চার্চের বাইরে গিয়ে নামাজ আদায় করেন যাতে পরবর্তীতে কেউ তার নামাজের কারণকে ব্যবহার করে কেউ পরবর্তীকালে এই চার্চকে মসজিদে রূপান্তর না করে। তিনি এও উল্লেখ করেন যে উমর একটি আদেশনামা লিখে তা পেট্রিয়ার্ককে হস্তান্তর করে। এতে উক্ত স্থানে মুসলিমদের প্রার্থনা করতে নিষেধ করা হয় বলে ইউটিকিয়াস উল্লেখ করেন।[৭] ১০৯৯ সালে প্রথম ক্রুসেডের সময় ইউরোপীয় খ্রিষ্টান সেনাবাহিনী জেরুজালেম দখল করে এবং ১১৮৭ সালের ২ অক্টোবর সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবী কর্তৃক তা বিজিত হওয়ার আগ পর্যন্ত এতে তাদের কর্তৃত্ব বহাল ছিল। তিনি ইহুদিদেরকে শহরে বসবাসের অনুমতি দেন। ১২১৯ সালে দামেস্কের সুলতান মুয়াজ্জিম নগরের দেয়াল ধ্বংস করেন। ১২৪৩ সালে মিশরের সাথে চুক্তি অনুযায়ী জেরুজালেম জার্মানির দ্বিতীয় ফ্রেডেরিখের হস্তগত হয়। ১২৩৯ সালে তিনি দেয়াল পুনর্নির্মাণ করেন। কিন্তু কেরাকের আমির দাউদ সেগুলোকে ধ্বংস করে দেন। ১২৪৩ সালে জেরুজালেম পুনরায় খ্রিষ্টানদের দখলে আসে এবং দেয়ালগুলো সংস্কার করা হয়। ১২৪৪ সালে খোয়ারিজমিয় তাতাররা শহরটি দখল করে এবং সুলতান মালিক আল-মুয়াত্তাম নগরপ্রাচীর ভেঙে ফেলেন। ফলে শহর আবার প্রতিরক্ষাহীন হয়ে পড়ে এবং শহরের মর্যাদা হুমকির মুখে পড়ে।

প্রথম সুলায়মান, ১৫৩০

বর্তমান দেয়ালগুলো ১৫৩৮ সালে উসমানীয় সাম্রাজ্যের সুলতান প্রথম সুলাইমান কর্তৃক নির্মিত হয়। দেয়ালগুলো প্রায় ৪.৫ কিমি. (২.৮ মাইল) দীর্ঘ ও ৫ থেকে ১৫ মিটার (১৬ থেকে ৪৯ ফুট) পর্যন্ত উঁচু এবং ৩ মিটার (১০ ফুট) পুরু)।[৮] সব মিলিয়ে পুরনো শহরে মোট ৪৩টি প্রহরা টাওয়ার ও ১১ টি গেট আছে। এদের মধ্যে সাতটি বর্তমানে উন্মুক্ত।

পুরনো শহরটিকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে তালিকাভুক্ত করার জন্য ১৯৮০ সালে জর্ডান প্রস্তাব করে।[৯] ১৯৮১ সালে এটিকে তালিকাভুক্ত করা হয়।[১০] ১৯৮২ সালে জর্ডান একে ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে গণ্য করার অনুরোধ জানায়। জর্ডানের এখতিয়ার নেই উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্র এই অনুরোধের বিরোধীতা করে। সেসাথে এও উল্লেখ করে যে এক্ষেত্রে ইসরায়েলের সম্মতি প্রয়োজন কারণ তারা প্রত্যক্ষভাবে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ করছে।[১১] ২০১১ সালে ইউনেস্কো বিবৃতি দেয় যে তারা পূর্ব জেরুজালেমকে অধীকৃত ফিলিস্তিনি এলাকার অংশ বলে গণ্য করে এবং জেরুজালেমের অবস্থান স্থায়ী ভিত্তিতে সমাধান করতে হবে।[১২]

জেরুজালেমের অংশ[সম্পাদনা]

আরব বাজার
তুষারাবৃত পুরনো শহর, ২০০৮

মুসলিম মহল্লা[সম্পাদনা]

মুসলিম মহল্লা (আরবি: حارَة المُسلِمين‎, Hārat al-Muslimīn) হল চারটি মহল্লার মধ্যে সর্ববৃহৎ ও সবচেয়ে জনবহুল অংশ। এটি উত্তর পূর্ব কোণে অবস্থিত। পূর্বে সিংহ দরজা থেকে শুরু করে টেম্পল মাউন্টের উত্তর দেয়াল নিয়ে পশ্চিমে দামেস্ক পর্যন্ত এটি বিস্তৃত। ২০০৫ সালে এখানে ২২,০০০ জন বসবাস করত। অন্য তিনটি মহল্লার মত মুসলিম মহল্লাতেও ১৯২৯ এর দাঙ্গার আগ পর্যন্ত মুসলিমদের পাশাপাশি ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা বসবাস করত।[১৩] বর্তমানে ৬০ টি ইহুদি পরিবার এখানে বসবাস করে[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] এবং এখানে কয়েকটি ইয়েশিভা রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান হল আটেরেট কোহানিম

খ্রিষ্টান মহল্লা[সম্পাদনা]

আরো দেখুন খ্রিস্টানধর্মে জেরুজালেম খ্রিষ্টান মহল্লা (আরবি: حارة النصارى‎, Ḩārat an-Naşāra) শহরের উত্তর পশ্চিমে অবস্থিত। এটি উত্তরে নতুন গেট থেকে শুরু করে পুরনো শহরের পশ্চিম দেয়াল নিয়ে জাফা গেট সহ দক্ষিণে বিস্তৃত। এর সাথে ইহুদি ও আর্মেনীয় মহল্লার সীমানা রয়েছে। পূর্বে দামেস্ক গেটে মুসলিম মহল্লার সাথে এর সীমানা রয়েছে। এই মহল্লায় খ্রিষ্টানদের পবিত্রতম স্থান চার্চ অব দ্য হলি সেপালচার অবস্থিত।

আর্মেনীয় মহল্লা[সম্পাদনা]

আর্মেনীয় মহল্লা (আর্মেনিয়ান: Հայկական Թաղամաս, Haygagan T'aġamas, আরবি: حارة الأرمن‎, Ḩārat al-Arman) চারটি অংশের মধ্যে ক্ষুদ্রতম। আর্মেনীয়রাও ধর্মে খ্রিষ্টান হলেও এটি খ্রিষ্টান মহল্লা থেকে আলাদা। ক্ষুদ্র আকৃতি ও জনসংখ্যা সত্ত্বেও এই অংশে আর্মেনীয় ও তাদের পেট্রিয়ার্কেট স্বাধীনভাবে অবস্থান করছে এবং শহরে সবল অবস্থান ধরে রেখেছে। ১৯৪৮ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর চারটি মহল্লাই জর্ডানের অধিকারে আসে। জর্ডানের আইন অনুযায়ী আর্মেনীয় ও অন্যান্য খ্রিষ্টানদেরকে ব্যক্তিগত খ্রিষ্টান স্কুলে বাইবেল ও কুরআনের জন্য সমান সময় দেয়া নিয়ম ছিল এবং এতে চার্চের সম্পদ বাড়ানোতে বাধা ছিল। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধ এখানকার বাসিন্দাদের কাছে অলৌকিক ঘটনার কারণে স্বরণীয় হয়ে আছে। এসময় আর্মেনীয় মনাস্টেরিতে দুটি অবিস্ফোরিত বোমা পাওয়া যায়। বর্তমানে ৩,০০০ এরও বেশি আর্মেনীয় জেরুজালেমে বসবাস করে যাদের মধ্যে ৫০০ জন আর্মেনীয় মহল্লায় থাকে।[১৪][১৫] সেমিনারিতে অধ্যয়নরত বা চার্চে কর্মরত কিছু ব্যক্তি সাময়িক বাসিন্দাও এখানে রয়েছে। পেট্রিয়ার্কেট এই মহল্লার জমির ও সেসাথে পশ্চিম জেরুজালেম ও অন্যান্য স্থানের মূল্যবান সম্পদের মালিকানা ভোগ করে। ১৯৭৫ সালে আর্মেনীয় মহল্লায় একটি ধর্মতাত্ত্বিক সেমিনারি স্থাপিত হয়। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর ইসরায়েলী সরকার যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত চার্চ বা যেকোনো ধর্মীয় স্থাপনা সংস্কারের জন্য ক্ষতিপূরণ দেয়।

ইহুদি মহল্লা[সম্পাদনা]

পশ্চিম দেয়ালের চত্বর
ইহুদি মহল্লা

ইহুদি মহল্লা (হিব্রু ভাষায়: הרובע היהודי‎, HaRova HaYehudi, known colloquially to residents as HaRova, আরবি: حارة اليهود‎, Ḩārat al-Yahūd) শহরের দক্ষিণ পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত। এটি দক্ষিণে জায়ন গেট থেকে পশ্চিমে আর্মেনীয় মহল্লা নিয়ে উত্তরে কারডো এবং পূর্বে পশ্চিম দেয়ালটেম্পল মাউন্ট পর্যন্ত বিস্তৃত। এই মহল্লার সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। খ্রিষ্টপূর্ব অষ্টম শতক থেকে এখানে ইহুদিরা ধারাবাহিকভাবে বসবাস করে আসছে।[১৬][১৭][১৮][১৯][২০][২১] ১৯৪৮ সালে এর ২,০০০ ইহুদিকে অবরোধ করা হয় এবং সবাইকে স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়।[২২] মহল্লাটি সম্পূর্ণরূপে অধীকৃত হয় ও এর প্রাচীন সিনাগগগুলো ধ্বংস করা হয়।

১৯৬৭ সালে ছয়দিনের যুদ্ধে ইসরায়েলী ছত্রীসেনারা দখল করার আগ পর্যন্ত এটি জর্ডানের অধিকারে ছিল। কয়েকদিন পর পশ্চিম দেয়ালে প্রবেশের রাস্তা উন্মুক্ত করতে ইসরায়েলী কর্তৃপক্ষ পার্শ্ববর্তী মরক্কোন মহল্লা ধ্বংস করে ফেলার আদেশ দেয়।

১৯৬৭ সাল পর্যন্ত ধ্বংস হয়ে যাওয়া ইহুদি মহল্লা পুনরায় নির্মাণ করা হয়। এখানে বর্তমানে ২,৩৪৮ জন বাস করে (২০০৪ সালের হিসাবমতে)[২৩] এবং বহু বৃহৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখানে গড়ে উঠেছে। পুনর্নির্মাণের আগে এখানে যত্নসহকারে খননকার্য চালানো হয়। হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতাত্ত্বিক নাহমান আভিগাদ এই কাজের তত্ত্বাবধান করেন। প্রাপ্ত প্রত্নতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষ জাদুঘর ও বাইরের পার্কে প্রদর্শন করা হয়। এজন্য পর্যটকদেরকে বর্তমান শহরের দুই বা তিন তলা পর্যন্ত নিচে নামতে হয়।

এই মহল্লায় “কারাইটেস স্ট্রিট” রয়েছে। এখানে প্রাচীন আনান বেন ডেভিড কেনেসা অবস্থিত।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন][২৪]

মরোক্কান মহল্লা[সম্পাদনা]

কোটেলের সামনের চত্বর খালি করার দৃশ্য, জুলাই ১৯৬৭

পুরনো শহরে একটি ক্ষুদ্র মরোক্কান মহল্লাও ছিল। ছয় দিনের যুদ্ধ শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ পর পশ্চিম দেয়ালে দর্শনার্থীদের বেশি সুবিধা দেয়ার জন্য এটি ধ্বংস করে ফেলা হয়। যে অংশটি ধ্বংস করা হয়নি সেটি বর্তমানে ইহুদি মহল্লার অংশ হিসেবে রয়েছে। এরপর থেকে অমুসলিমরা মাগরিবি ব্রিজ দিয়ে টেম্পল মাউন্টে যেতে পারে। এটি অমুসলিমদের জন্য একমাত্র প্রবেশ পথ।

প্রবেশপথ[সম্পাদনা]

ক্রুসেডার রাজ্য জেরুজালেমের সময় জেরুজালেমের পুরনো শহরে চারটি ফটোক ছিল। এদের প্রত্যেকটি একেক পাশে অবস্থিত ছিল। বর্তমানে অবস্থিত দেয়ালগুলো প্রথম সুলায়মান কর্তৃক নির্মিত হয় ও এর ফটক সংখ্যা এগারোটি। তবে সাতটি উন্মুক্ত রয়েছে। ১৮৮৭ সাল পর্যন্ত ফটকগুলো সূর্যাস্তের আগে বন্ধ করে দেয়া হত ও সূর্যোদয়ের সময় বন্ধ করে দেয়া হত। নিম্নোক্ত চার্ট অনুযায়ী ফটকগুলো বিভিন্ন নামে পরিচিত। বিভিন্ন ঐতিহাসিক সময়কালে ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মাধ্যমে নামগুলো চালু হয়

উন্মুক্ত ফটক[সম্পাদনা]

ইংরেজি হিব্রু আরবি অন্য নাম নির্মাণের বছর স্থান
নতুন ফটক হাশাআর হেহাদাশ (השער החדש) আল-বাব আল-জেদিদ (الباب الجديد) হামিদের ফটক ১৮৮৭ উত্তর অংশের পশ্চিমে
দামেস্ক গেট শাআর শেখিম (שער שכם) বাব আল-আমুদ (باب العمود) শাআর দামেস্ক, নাবলুস ফটক, পিলারের ফটক ১৫৩৭ উত্তর অংশের মাঝখানে
হেরোড গেট শাআর হাপেরাচিম (שער הפרחים) বাব আল-শাহিরা (باب الساهرة) শাআর হরদস, পুষ্প ফটক, ভেড়া ফটক অজ্ঞাত উত্তর অংশের পূর্বে
লায়ন গেট শাআর হাআরায়ত (שער האריות) বাব আল-আসবাত (باب الأسباط) /বাব সিতনা মারিয়াম ইয়েহশাফাতের ফটক, সেইন্ট স্টিফেনের ফটক, গোত্রদের ফটক ১৫৩৮-৩৯ পূর্ব অংশের উত্তরে
ডান গেট শাআর হাআশপত (שער האשפות) বাব আল-মাগারিবা (باب المغاربة) সিলওয়ানের ফটক, শাআর হামুগরাবিম ১৫৩৮-৪০ দক্ষিণ অংশের পূর্বে
জায়ন গেট শাআর জায়ন (שער ציון) বাব আল-নবী দাউদ (باب النبي داود) ইহুদি মহল্লার ফটক ১৫৪০ দক্ষিণ অংশের মাঝখানে=
জাফা গেট শাআর ইয়াফো (שער יפו) বাব আল-খলিল (باب الخليل) দাউদের প্রার্থনা স্থলের ফটক, পোর্টা‌ ডেভিডি ১৫৩০-৪০ পশ্চিম অংশের মাঝখানে

বন্ধ ফটক[সম্পাদনা]

ইংরেজি হিব্রু আরবি বর্ণনা সময়কাল স্থান
গোল্ডেন গেট শাআর হারাহামিম (שער הרחמים) বাব আল-রাহমা (باب الرحمة) দয়ার ফটক, চিরস্থায়ী জীবনের ফটক। ১৫৪১ সালে বন্ধ করে দেয়া হয়। ৬ষ্ঠ শতক পূর্ব অংশের মাঝখানে
একক গেট এর মধ্য দিয়ে টেম্পল মাউন্টের ভূগর্ভস্থ অংশে যাওয়া যায়। হেরোডের শাসনামল টেম্পল মাউন্টের দক্ষিণ দেয়াল
দ্বৈত গেট হেরোডের শাসনামল টেম্পল মাউন্টের দক্ষিণ দেয়াল
হালদাহ গেট তিনটি ধনুকাকৃতি প্রবেশপথ থাকার কারণে তিন ফটক বলেও পরিচিত হেরোডের শাসনামল টেম্পল মাউন্টের দক্ষিণ দেয়াল

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Staff (১৯৯২-২০১২)। "Old City of Jerusalem and its Walls"UNESCO World Heritage Center। United Nations। সংগৃহীত ২৩শে মে, ২০১২ 
  2. Kollek, Teddy (১৯৭৭)। "Afterword"। in John Phillips। A Will to Survive - Israel: the Faces of the Terror 1948-the Faces of Hope Today। Dial Press/James Wade। "about 225 acres" 
  3. Ben-Arieh, Yehoshua (১৯৮৪)। Jerusalem in the 19th Century, The Old City। Yad Izhak Ben Zvi & St. Martin's Press। পৃ: ১৪। আইএসবিএন 0-312-44187-8 
  4. "Tiny fragment bears oldest script found in Jerusalem"। Telegraph.co.uk। ২০১০-০৭-১২। সংগৃহীত ২০১৩-১০-১৪ 
  5. East Jerusalem: Key Humanitarian Concerns United Nations Office for the Coordination of Humanitarian Affairs occupied Palestinian territory. December 2012
  6. Benveniśtî, Eyāl (২০০৪)। The international law of occupation। Princeton University Press। পৃ: 112–113। আইএসবিএন 978-0-691-12130-7 
  7. "The Holy Sepulchre - first destructions and reconstructions"। Christusrex.org। ২০০১-১২-২৬। সংগৃহীত ২০১৩-১০-১৪ 
  8. Zaun-Goshen, Heike। "Keys to the Treasure Trove - Jerusalem's Old City Gates"Jerusalem Post। সংগৃহীত ২০০৭-০৭-১০ 
  9. Advisory Body Evaluation (PDF file)
  10. "Report of the 1st Extraordinary Session of the World Heritage Committee"। Whc.unesco.org। সংগৃহীত ২০১৩-১০-১৪ 
  11. "Justification for inscription on the List of World Heritage in Danger, 1982: Report of the 6th Session of the World Heritage Committee"। Whc.unesco.org। সংগৃহীত ২০১৩-১০-১৪ 
  12. "UNESCO replies to allegations"। UNESCO। ১৫ জুলাই ২০১১। "The Old City of Jerusalem is inscribed on the World Heritage List and the List of World Heritage in Danger. UNESCO continues to work to ensure respect for the outstanding universal value of the cultural heritage of the Old City of Jerusalem. This position is reflected on UNESCO’s official website (www.unesco.org). In line with relevant UN resolutions, East Jerusalem remains part of the occupied Palestinian territory, and the status of Jerusalem must be resolved in permanent status negotiations." 
  13. "שבתי זכריה עו"ד חצרו של ר' משה רכטמן ברחוב מעלה חלדיה בירושלים העתיקה"। Jerusalem-stories.com। সংগৃহীত ২০১৩-১০-১৪ 
  14. "Հայաստան սփյուռք" [Armenia Diaspora]  (আর্মেনীয়)
  15. "Առաքելական Աթոռ Սրբոց Յակովբեանց Յերուսաղեմ" [Armenian Patriarchate of Jerusalem (literally "Apostolic See of St. James in Jerusalem")]  (আর্মেনীয়)
  16. University of Cape Town, Proceedings of the Ninth Annual Congress, South African Judaica Society 81(1986) (referencing archaeological evidence of "Israelite settlement of the Western Hill from the 8th Century BCE onwards").
  17. Simon Goldhill, Jerusalem: City of Longing 4 (2008) (conquered by "early Israelites" after the "ninth century B.C.")
  18. William G. Dever & Seymour Gitin (eds.), Symbiosis, Symbolism, and the Power of the Past: Canaan, Ancient Israel, and Their Neighbors from the Late Bronze Age Through Roman Palaestina 534 (2003) ("in the 8th-7th centuries B.C.E. . . . Jerusalem was the capital of the Judean kingdom . . . . It encompassed the entire City of David, the Temple Mount, and the Western Hill, now the Jewish Quarter of the Old City.")
  19. John A. Emerton (ed.), Congress Volume, Jerusalem: 1986 2 (1986) (describing fortification work undertaken by "Hezekiah[] . . . in Jerusalem at the close of the 8th century B.C.E.")
  20. Hillel Geva (ed.), 1 Jewish Quarter Excavations in the Old City of Jerusalem Conducted by Nahman Avigad, 1969-1982 81 (2000) ("The settlement in the Jewish Quarter began during the 8th century BCE. . . . the Broad Wall was apparently erected by King Hezekiah of Judah at the end of the 8th century BCE.")
  21. Koert van Bekkum, From Conquest to Coexistence: Ideology and Antiquarian Intent in the Historiography of Israel’s Settlement in Canaan 513 (2011) ("During the last decennia, a general consensus was reached concerning Jerusalem at the end of Iron IIB. The extensive excavations conducted . . . in the Jewish Quarter . . . revealed domestic constructions, industrial installations and large fortifications, all from the second half of the 8th century BCE.")
  22. Mordechai Weingarten
  23. Staff (Unknown)। "Table III/14 - Population of Jerusalem, by Age, Quarter, Sub-Quarter, and Statistical Area, 2003"Institute for Israel Studies (Hebrew and English ভাষায়)। Institute for Israel Studies, Jerusalem। সংগৃহীত ২৩ মে ২০১২ 
  24. Staff (২০১০)। "Our communities"God's name to succeed (Hebrew ভাষায়)। World Karaite Judaism। সংগৃহীত ২৩ মে ২০১২ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

ভার্চুয়াল ভ্রমণ[সম্পাদনা]

স্থানাঙ্ক: ৩১°৪৬′৩৬″ উত্তর ৩৫°১৪′০৩″ পূর্ব / ৩১.৭৭৬৬৭° উত্তর ৩৫.২৩৪১৭° পূর্ব / 31.77667; 35.23417