জিউফেন

স্থানাঙ্ক: ২৫°০৬′২৫″ উত্তর ১২১°৫০′৩৫″ পূর্ব / ২৫.১০৭° উত্তর ১২১.৮৪৩° পূর্ব / 25.107; 121.843
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জিউফেন
জিউফেন
চীনা 九份
আক্ষরিক অর্থনয়টি অংশ

জিউফেন (যাকে চিউফেন বা জিওফেন নামেও ডাকা হয়; চীনা: 九份; ফিনিন: Jiǔfèn; Pe̍h-ōe-jī: Káu-hūn; আক্ষরিক: "নয়টি অংশ") হল তাইওয়ান নয়া তাইপের রুইফাং জেলার সমুদ্র তীরবর্তী একটি পাহাড়ী অঞ্চল।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

চিং শাসনামলের প্রথমদিকে, বিচ্ছিন্ন এই গ্রামটিতে মোট নয়টি পরিবার বাস করত। এইভাবে শহর থেকে প্রতিবার চালান আসার সময় গ্রামটিকে "নয়টি অংশ" নামে ডাকা হত। এভাবে পরবর্তীতে গ্রামটির নাম কৌ-হুন (হকিয়েন ভাষায় এর অর্থ "নয়টি অংশ") হয়ে যায়।

দ্বীপে ১৪৩০ সালে প্রথম স্বর্ণ উৎপাদন হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে।[১] এরপর তৎকালীন স্থানীয় অধিবাসী, জাপানি দর্শনার্থী, ওলন্দাজ, দখলদার এবং কোকসিংগা রক্ষাকারীরা বেশ কয়েকবার এগুলো পুনঃআবিষ্কার করে। অথচ তাইওয়ানের সোনার খনি বিশিষ্ট জেলাগুলোর সম্পদ সম্পর্কে চিং যুগের শেষাংশের আগে সচেতনতা তৈরি হয়নি। ১৮৯০ সালে তাইপে-কেলুং নতুন রেলপথ নির্মাণের সময় সেখানে কর্মরত শ্রমিকরা সোনার অস্তিত্ব আবিষ্কার করে।[২] ১৮৯৩ সালে কাউ-হুনের পাহাড়গুলোতে একটি সমৃদ্ধ প্লেসার জেলা আবিষ্কার করা হয়, যা থেকে দিনে বেশ কয়েক কেজি[ক] স্বর্ণ উৎপাদন করেছিল করা যেত। পরের বছর এই ব্যাপারটি আগের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে, যখন ক্যালিফোর্নিয়ায় কাজ করা একজন চীনা "বিশেষজ্ঞ" উক্ত পাহাড়ে স্বর্ণ সম্পন্ন কোয়ার্টজ খুঁজে পান।

স্বর্ণের খোঁজ গ্রামটির উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে এবং গ্রামটি বেশ দ্রুতই একটি শহরে পরিণত হয়। জাপান যুগে এটি উন্নতির শীর্ষে পৌঁছে। দ্য আইল্যান্ড অফ ফরমোসা, পাস্ট অ্যান্ড প্রেজেন্ট (১৯০৩) গ্রন্থে মার্কিন কূটনৈতিক জেমস ডব্লিউ ডেভিডসন কৌ-হুনকে অস্বাভাবিক জনপদ আখ্যা দিয়ে লিখেছেন যে, "লেখক এর আগে কখনো এত ছোট জায়গায় এতগুলো বাড়ি দেখেন নি। কিছু কিছু ভবনকে পার্শ্ববর্তী ভবনগুলোর তুলনায় অতি ক্ষুদ্র বলে মনে হয়। বাকি ভবনগুলো উপরে দাঁড়িয়ে আছে, যেন তারা পথকে তাদের দলে যেতে বাধ্য করতে পারছে না। প্রতিটি স্থাপনা যেন তার পাশ্ববর্তী কাঠামোগুলোকে সরে যাওয়ার জন্য নীরব আবেদন জানাচ্ছে।"[৪] সেখানে পানি প্রবাহিত হয় "অনেকগুলো ছোট ছোট জলধারায়, যাতে প্রতিটি ভবন একটি করে সরু জলধারা পায়। এটি নিশ্চিত করতে কখনো কখনো প্রবেশদ্বার দিয়ে এমনকি কখনো কখনো ভবনে মেঝে দিয়েও জলধারা প্রবাহিত হয়।" এমন দাবি করেছে ফুজিতা কোম্পানি। এটি ছিল তাইওয়ানের খনি খননকারী প্রথম জাপানি সংস্থা, যারা কৌ-হুনে সোনার কাজ করে প্রায় মাসেই কয়েক হাজার ইয়েন করে আয় করত।

জিউফেনের অনেকগুলো বর্তমান বৈশিষ্ট্য জাপানি ঔপনিবেশিক যুগকে প্রতিফলিত করে। অনেক জাপানী ইনস আজও সেখানে টিকে রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সেখানে কিনকাসেকি নামে একটি বন্দী শিবির স্থাপন করা হয়। সিঙ্গাপুর থেকে আটককৃত মিত্রশক্তির সৈন্যদের সেখানে বন্দী করে রাখা হত, যেখানে অনেক ব্রিটিশ সৈন্যও আটক ছিলেন। তাদের দিয়ে নিকটবর্তী স্বর্ণের খনিতে কাজ করানো হত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সোনার খনির ক্রিয়াকলাপ হ্রাস পেতে থাকে এবং ১৯৭১ সালে এটি পুরোপুরি হয়ে যায়। ফলে কিছুদিনের জন্য জিউফেন স্মৃতির অন্তরালে হারিয়ে যায়।

১৯৮৯ সালে হৌ সিয়াউ-সিয়েন পরিচালিত আ সিটি অব স্যাডনেস ছিল ২৮ ফেব্রুয়ারির ঘটনা নিয়ে নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র, যার চিত্রধারণ করা হয় জিউফেনে। এই ২৮ ফেব্রুয়ারির ঘটনাটি তাইওয়ানের একটি নিষিদ্ধ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই ট্যাবু ভঙ্গ করায় চলচ্চিত্রটি সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়। চলচ্চিত্রটির জনপ্রিয়তার ফলে জিউফেন পুনরুজ্জীবিত হয়। উক্ত চলচ্চিত্র ও অন্যান্য মাধ্যমে প্রদর্শিত জিউফেনের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য অনেক মানুষকে বিমোহিত করে এবং সেখানে ভ্রমণের জন্য উদ্বুদ্ধ করে। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে জিউফেনে পর্যটকের ঢল নামে। তাদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে শহরটিতে রেট্রো-চীনা ধাঁচের ক্যাফে, চা ঘর, "আ সিটি অব স্যাডনেস" লেখা বিভিন্ন স্মারক দ্রব্যের দোকান ইত্যাদি গড়ে ওঠে। এভাবে এটি একটি পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়।

স্টুডিও জিবলির জাপানি অ্যানিমে স্পিরিটেড অ্যাওয়েতে প্রদর্শিত শহরের কেন্দ্রস্থলের সাথে মিল থাকায় ২০০১ সালে জিউফেন আবারও বিখ্যাত হয়ে ওঠে।[৫] ফলে জিউফেন দ্রুতই জাপানি পর্যটকদের আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। তাইওয়ান সম্পর্কিত অনেক জাপানি ভ্রমণ বিষয়ক পত্রিকা ও গাইডে জিউফেনের কথা উল্লেখ করা হয়। এতে এটি জাপানি পর্যটকদের ভ্রমণের একটি অত্যাবশ্যকীয় জায়গা হয়ে ওঠে। তবে জিউফেনের উক্ত অ্যানিমেতে প্রদর্শিত শহর হওয়ার বিষয়টি হায়াও মিয়াজাকি নিজেই অস্বীকার করেছেন।[৬]

বর্তমানে জিউফেন তাইওয়ানের একটি বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র। সপ্তাহ শেষে ভ্রমণের জন্য তাইপের বহু মানুষ এই স্থানটিকে বেছে নেন।

গ্রামের দৃশ্য
1 Shuinandong panorama 2015b.jpg

চিত্রশালা[সম্পাদনা]

পরিবহন[সম্পাদনা]

  • জিউফেন একটি পাহাড়ি শহর হওয়ায় সেখানে যাওয়ার রাস্তাগুলোর বেশিরভাগই খাড়া, বাঁকানো, সরু এবং সম্ভবত বিপজ্জনক।
  • কেলুং, তাইপে ইত্যাদি থেকে শহরটিতে যাওয়ার জন্য বাস পরিষেবা চালু আছে।
  • শহরটির সবচেয়ে নিকটবর্তী রেল স্টেশন হল টিআরএ ইলান লাইনের রুয়েইফাং স্টেশন। শহর থেকে বাসে করে সেখানে যেতে ১৫ মিনিট সময় লাগে।

খাদ্য[সম্পাদনা]

আ-মেই টি হাউজ
তারো বলস: জিউফেনের একটি বিখ্যাত খাবার
  • আ-ঝু চিনাবাদাম আইস ক্রিম রোল
  • আহ গান তারো বলস
  • আ-মেই টি হাউজ
  • উ ডি ‘ফ্লাওয়ার লেডি’ তাইওয়ানিজ সসেজ
  • ঝাং জি ট্র্যাডিশনাল ফিশ বল
  • আহ ল্যান গ্লুটিনাস রাইস কেক

টীকা[সম্পাদনা]

  1. Converted from original quote, "several thousand yen worth of gold",[৩] using the 1871 legal definition of the Japanese yen as 1.5 g of pure gold (worth approximately one dollar at the time).

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ডেভিডসন (১৯০৩), p. ৪৬২.
  2. ডেভিডসন (১৯০৩), p. ৪৬৪.
  3. ডেভিডসন (১৯০৩), p. ৪৬৫.
  4. ডেভিডসন (১৯০৩), p. ৪৬৯.
  5. "Jiufen: The Real Life Spirited Away" (ইংরেজি ভাষায়)। তোফুগু। ১ অক্টোবর ২০১৩। 
  6. 【FOCUS新聞】TVBS專訪宮崎駿 72歲不老頑童, টিভিবিএস নিউজ (জাপানি)

গ্রন্থপঞ্জী[সম্পাদনা]

  • ডেভিডসন, জেমস ডাব্লিউ. (১৯০৩)। The Island of Formosa, Past and Present: history, people, resources, and commercial prospects : tea, camphor, sugar, gold, coal, sulphur, economical plants, and other productions (ইংরেজি ভাষায়)। লন্ডন ও নিউ ইয়র্ক: ম্যাকমিলান। ওএল 6931635Mওসিএলসি 1887893 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]