জাভেদ ইকবাল (খুনী)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জাভেদ ইকবাল
ব্যক্তির তথ্য
জন্মের নামজাভেদ ইকবাল উমার
নামেও পরিচিতকুকড়ি
জন্ম১৯৫৬
Lahore, Punjab, Pakistan
মৃত্যু৮ অক্টোবর ২০০১(2001-10-08) (বয়স ৪৫)
Lahore, Punjab, Pakistan
মৃত্যুর কারণআত্মহত্যা
দোষপ্রমাণChild sex abuse
Murder
কারাদণ্ডমৃত্যুদন্ড
হত্যাকাণ্ড
শিকারের সংখ্যা১০০
দেশপাকিস্তান
ধরার তারিখ৩০ ডিসেম্বর ১৯৯৯

জাভেদ ইকবাল উমার[১] (1956 – ৮ অক্টোবর ২০০১) একজন বহুঘাতক বা সিরিয়িাল কিলার এবং শিশু যৌন নিপিড়ক এবং ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সী ১০০ জন বালকের হত্যাকারী। শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর ইকবাল মৃতদেহগুলোকে টুকরো টুকরো করতেন এবং এসিডে ডুবিয়ে রাখতেন। পরে এসিডের ভিতরে দ্রবিভূত হয়ে যাওয়া মৃতদেহ নদীতে ফেলে দিয়ে সমস্ত প্রমাণ গোপন করতেন। বিচারে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। দন্ডাদেশে সে যেভাবে বালকদেরকে হত্যা করেছে ঠিক সেই ভাবে তার মৃত্যু কার্য়কর করার নির্দেশ দেয়া হয়। অর্থাৎ, মৃতদের পিতামাতাদের সম্মুখে তাকে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করার পর তার দেহকে একশত টুকরো করার পর (প্রতিটি খুনের জন্য একটি করে) এসিডে পূর্ণ পাত্রে ডুবিয়ে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু মৃত্যুদন্ড কার্য়কর করার পূর্বেই সে কারাগারের অভ্যন্তরে আত্মহত্যা করে।[২]

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

ব্যাবসায়ী পিতার আট সন্তানের মধ্যে ইকবাল ছিলেন ষষ্ঠ। তিনি লাহোরের রেলওয়ে রোডে অবস্থিত, সরকারী ইসলামিয়া কলেজে লেখাপড়া করেন। ১৯৭৮ সালে ছাত্র থাকা অবস্থায় তিনি স্টিল রিকাস্টিং এর ব্যবসা শুরু করেন। তিনি পিতার ক্রয়কৃত সাদবাগ নামের বাড়ীতে আরো কিছু বালকের সাথে বসবাস করতেন। [৩]

অপরাধ[সম্পাদনা]

ডিসেম্বর ১৯৯৯ সালে ইকবাল তার সমস্ত অপরাধ স্বীকার করে পুলিশ ও লাহোর সংবাদপত্রের প্রধান সম্পাদক, কামারান নাইম হাসমিকে একটি চিঠি প্রেরণ করে। চিঠিতে সে ধর্ষণ ও খুনের অপরাধের কথা স্বীকার করে। সে মোট ১০০ বালকে নিপীড়ন ও হত্যা করে। যাদের সবার বয়স ছিল ছয় থেকে ষোল বছরের মধ্যে। চিঠিতে সে কিভাবে তাদের হত্যা করেছে এবং লাশ গুম করেছে তার বিষদ বর্ণনা দেয়। হত্যাকান্ডের শীকার বেশীরভাগ বালকই লাহোরের এতিম ও ছিন্নমূল জনগোষ্ঠীর অংশ ছিল। মৃতদেহ গুম করতে সে হাইড্রোক্লোরিক এসিড ব্যাবহার করত। এসিডে গলে যাওয়া মৃতদেহ সে নদীতে নিক্ষেপ করত।[৪]

পুলিশ ও সাংবাদিকরা ইকবালের বাড়ির দেয়ালে ও মেঝেতে রক্তের দাগ পেয়েছিলেন। এছাড়া সেখানে হত্যাকান্ডে ব্যাবহৃত চেইন পাওয়া যায়। প্লাষ্টিকের ব্যাগে মৃতদের ছবি পাওয়া যায় যার উপরে হাতে লেখা লেবেল আঁটা ছিল। দুই পাত্র এসিড এবং এসিডে অর্ধ গলিত মৃতদেহ পাওয়া যায়। ইকবাল দাবী করে যে, সে ইচ্ছে করে এসব রেখে গিয়েছিল যাতে পুলিশ সহজেই এসব খুঁজে পায়।[৫]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "LAHORE: The story of a pampered boy ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৭ মে ২০১৪ তারিখে." Dawn. 11 October 2001. Retrieved on 26 May 2014.
  2. https://www.banglatelegraph.com/article/28440
  3. "Serial killer Javed Iqbal who sexually abused and killed 100 children in Pakistan" (Archive). India TV. Updated 26 February 2014. Retrieved on 26 May 2014.
  4. "Pakistan 'Serial Killer' Under Interrogation"TBBC News। ৩১ ডিসেম্বর ১৯৯৯। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জুলাই ২০২০ 
  5. McGraw, Seamus. "A Letter from a Killer." All about Javed Iqbal. Crime Library p. ওয়েব্যাক মেশিনে 4 (১৩ জুন ২০০৩ তারিখে আর্কাইভকৃত) (Archive).