জাঁ বার্নার্ড লিওঁ ফুকো
জাঁ বার্নার্ড লিওঁ ফুকো | |
|---|---|
জাঁ বার্নার্ড লিওঁ ফুকো (১৮১৯ - ১৮৬৮) | |
| জন্ম | সেপ্টেম্বর ১৮, ১৮১৯ |
| মৃত্যু | ১১ ফেব্রুয়ারি ১৮৬৮ (বয়স ৪৮) |
| জাতীয়তা | ফরাসী |
| পরিচিতির কারণ | ফুকোর দোলক |
| বৈজ্ঞানিক কর্মজীবন | |
| কর্মক্ষেত্র | পদার্থবিদ্যা |
| প্রতিষ্ঠানসমূহ | প্যারিস মানমন্দির |
জাঁ বার্নার্ড লিওঁ ফুকো (ফরাসি উচ্চারণ: [ʒɑ̃ bɛʁnaʁ leɔ̃ fuko]) (১৮ সেপ্টেম্বর, ১৮১৯ – ১১ ফেব্রুয়ারি, ১৮৬৮) একজন ফরাসী পদার্থবিদ ছিলেন। তিনি পৃথিবীর আহ্নিক গতির প্রদর্শনের জন্য ফুকোর দোলক উদ্ভাবন করেন।
প্রথম জীবন
[সম্পাদনা]ফুকো প্যারিস শহরে এক প্রকাশকের পরিবারে ১৮১৯ খ্রিস্টাব্দের ১৮ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলায় বাড়িতেই পড়াশোনা করার পর তিনি চিকিৎসাশাস্ত্র পড়তে যান, কিন্তু রক্তকে ভয় পেতেন বলে চিকিৎসাশাস্ত্র ছেড়ে পদার্থবিদ্যা পড়তে যান। [১] প্রথম দিকে তিনি লুই জাক মান্ডে ডাগুয়েরের আলোকচিত্র গ্রহণ সংক্রান্ত কাজের উন্নতিতে সহায়তা করেন। এর পরের তিন বছর অ্যালফ্রেড ফ্রান্সিস ডনের অধীনে গবেষণা সহায়ক হিসেবে কাজ করেন। এর পরে আর্মান্ড হিপ্পোলাইট লুই ফিজোর সাথে আলোকের ওপর বিভিন্ন গবেষণা করেন।
পরবর্তী জীবন
[সম্পাদনা]১৮৫০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ফিজো-ফুকো যন্ত্রের সাহায্যে আলোর গতিবেগ নির্ণয়ের এক পরীক্ষা করেন। এই যন্ত্রের সাহায্যে তিনি দেখান যে বায়ুতে আলোর গতিবেগের তুলনায় জলে আলোর গতিবেগ কম। এই পরীক্ষা আইজাক নিউটনের আলোর কণাবাদী তত্ত্বকে নস্যাৎ করে। [২]
১৮৫১ সালে লিওফুকো গিজায় পরীক্ষা করেন
১৮৫১ খ্রিষ্টাব্দে পৃথিবীর আহ্নিক গতি পরীক্ষার মাধ্যমে প্রদর্শন করার জন্য প্যারিসের প্যানথিয়নের ছাদ থেকে ৬৭ মিটার দড়ি থেকে ২৮ কিলোগ্রামের সীসার তৈরী গোলক ঝুলিয়ে তার বিখ্যাত দোলকটি নির্মাণ করেন। ফুকোর দোলক বৈজ্ঞানিক মহল ও জনসাধারণের মনে জনপ্রিয় হলে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ফুকোর দোলক স্থাপন করা হয়। পরের বছর তিনি ঘূর্ণদর্শীকে একটি সরল পরীক্ষামূলক যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেন। ১৮৫৫ খ্রিষ্টাব্দে তার পরীক্ষামূলক গবেষণার জন্য রয়েল সোসাইটি তাকে কপলি পদক দান করে।
১৮৫৫ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি আবিষ্কার করেন যে কোন তামার পাতের প্রান্তকে কোন চুম্বকের দুই বিপরীত মেরুর মধ্যে রেখে ঘোরালে, ঐ তামার পাতকে ঘোরাতে অধিক শক্তির প্রয়োজন হয়।
১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে তার নামাঙ্কিত সমবর্তক যন্ত্রটি উদ্ভাবন করেন,[৩] এবং পরের বছর তিনি প্রতিফলক দূরবীক্ষণ যন্ত্রের আয়নার গঠন নির্ণয় করার ফুকোর ছুরির ধার পরীক্ষা নামে একটি পরীক্ষা পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। এই পদ্ধতির সাহায্যে গবেষকেরা আয়নাটি প্রকৃত গোলক কিনা তা নির্ণয় করতে পারেন। [৪][৫]
১৮৬২ খ্রিষ্টাব্দে চার্লস হুইটস্টোনের নির্ণায়ক আয়নার সাহায্যে তিনি আলোর গতিবেগ নির্ণয় করেন ২৯৮,০০০ কিলোমিটার/সেকেন্ড। এই মান পূর্বেকার পরীক্ষাগুলির মানের থেকে ১০,০০০ কিলোমিটার/সেকেন্ড কম ছিল। এবং প্রকৃত আলোর গতিবেগের চেয়ে মাত্র ০.৬% কম ছিল।
শেষ জীবন
[সম্পাদনা]
১৮৬২ খ্রিষ্টাব্দে তাকে ব্যুরো ডেস লঙ্গিট্যুডস সংস্থার সদস্যপদ ও লেজিওঁ দ্য অনার প্রদান করা হয়। ১৮৬৪ খ্রিষ্টাব্দে তাকে রয়েল সোসাইটির সদস্যপদ দেওয়া হয়। এর পরে তিনি দেখান যে, দূরবীক্ষণ যন্ত্রের আয়নার বাইরের দিকে রূপার পাতলা স্বচ্ছ প্রলেপ চোখের ক্ষতি না করে সূর্যের দিকে তাকানো যায়। [৬] ১৮৬৮ খ্রিষ্টাব্দের ১১ই ফেব্রুয়ারি একাধিক কঠিনীভবন রোগে তার মৃত্যু হয় এবং তাকে মন্টমার্টে কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
পরবর্তী প্রজন্মের সম্মান
[সম্পাদনা]১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দের ২২ মার্চ ক্লেট পর্বতে অবস্থিত মানমন্দিরে আন্তোনিন মার্কোস গ্রহাণু বেল্টের একটি গ্রহাণু আবিষ্কার করলে জাঁ বার্নার্ড লিওঁ ফুকোর নামে এই গ্রহাণুর নাম রাখা হয় ৫৬৬৮ ফুকো। [৭] আইফেল টাওয়ারে খোদিত ৭২টি নামের মধ্যে তার নাম রাখা হয়েছে।
সারাংশ
[সম্পাদনা]- জাঁ বার্নার্ড লিওঁ ফুকো (লিওন ফুকো) - ফরাসি পদার্থবিদ।
- সম্পূর্ণ নাম: জিন বার্নার্ড লিওন ফুকো
- জন্ম তারিখ: ১৮ সেপ্টেম্বর ১৮১৯
- জন্মস্থান: প্যারিস, ফ্রান্স
- মৃত্যুর তারিখ: ১১ ফেব্রুয়ারি ১৮৬৮ (বয়স ৪৮)
- মৃত্যুস্থান: প্যারিস, দ্বিতীয় ফরাসি সাম্রাজ্য
- পেশা: পদার্থবিদ
- পিতা: জিন লিওন ফরচুন ফুকো
একজন ফরাসি পদার্থবিজ্ঞানী যার "ফুকো পেন্ডুলাম" পৃথিবী তার অক্ষের উপর ঘোরে তার পরীক্ষামূলক প্রমাণ প্রদান করেছিল, লিওন ফুকো ১৮১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর প্যারিসে জন্মগ্রহণ করেন; তার বাবা একজন প্রকাশক এবং বই বিক্রেতা ছিলেন। তিনি অত্যন্ত নির্ভুলতার সাথে আলোর পরম গতি পরিমাপের একটি কৌশলও চালু করেছিলেন এবং বিকাশে সহায়তা করেছিলেন।
ফ্রান্সে জন্মগ্রহণকারী লিওন ফুকো তার বেশিরভাগ শিক্ষা বাড়িতেই একজন প্রাইভেট টিউটরের কাছ থেকে পেয়েছিলেন। তার বাবার অকাল মৃত্যু তার পরিবারকে নান্টেসে চলে যেতে বাধ্য করেছিল। ক্রমাগত অসুস্থতার কারণে তিনি ছিলেন একজন ভঙ্গুর শিশু যার আত্মবিশ্বাসের অভাব ছিল। লাজুক লিওন ছিলেন একজন অলস ছাত্র কিন্তু তার মেশিনের প্রতি ছিল ঝোঁক। তার মায়ের জেদেই, যিনি তার হাতের কৌশল বুঝতে পেরেছিলেন, তিনি প্রথমে চিকিৎসাবিদ্যা অধ্যয়ন শুরু করেছিলেন কিন্তু অবশেষে রক্তের প্রতি তার ভয় ছিল বলে পদার্থবিদ্যা অধ্যয়ন শুরু করেছিলেন। তার পরামর্শদাতা আলফ্রেড ডনের সাথে তার যোগাযোগের সময়, তিনি ফটোগ্রাফি সম্পর্কিত পরীক্ষায় জড়িত ছিলেন। তিনি মাইক্রোস্কোপিক নমুনার ছবি তোলার একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেছিলেন এবং মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে ছবি তোলা বস্তুগুলিকে আলোকিত করার জন্য আলোর একটি শক্তিশালী উৎস ডিজাইন করেছিলেন। বছরের পর বছর ধরে এই পণ্ডিত বিজ্ঞানী বেশ কয়েকটি যুগান্তকারী আবিষ্কার করেছেন যার মধ্যে রয়েছে পৃথিবীর ঘূর্ণন দিনরাত ঘটায় তার পরীক্ষামূলক প্রমাণ। তড়িৎচুম্বকত্বের সাথে জড়িত হয়ে, লিওন এডি স্রোত আবিষ্কার করেন যা পরিবাহীর ভিতরে একটি ওঠানামাকারী চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা উৎপন্ন হয়। একজন বিজ্ঞানী হিসেবে তার তুলনামূলকভাবে স্বল্প সময়ের কর্মজীবনে, ফুকো অসাধারণ আবিষ্কার করেছিলেন এবং তাকে তার যুগের সবচেয়ে উজ্জ্বল বৈজ্ঞানিক মনীষীদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।[৮][৯][১০]
গ্রন্থপঞ্জি
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "Jean-Bertrand-Léon Foucault"। ক্যাথলিক বিশ্বকোষ। নিউ ইয়র্ক: রবার্ট অ্যাপলটন কোম্পানি। ১৯৯৩।
- ↑ David Cassidy, Gerald Holton, James Rutherford (২০০২)। Understanding Physics। Birkhäuser। আইএসবিএন ০-৩৮৭-৯৮৭৫৬-৮।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: একাধিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক) - ↑ Léon Foucault (August 17, 1857) "Nouveau polariseur en spath d'Island. Expérience de fluorescence" (New polarizer made of Icelandic spar. Fluorescence experiment.), Comptes rendus, vol. 45, pages 238-241. English translation: Léon Foucault (1857) "On a new polarizer of Iceland spar. Experiment on fluorescence.," The London, Edinburgh and Dublin Philosophical Magazine and Journal of Science, series 4, vol. 14, pages 552 - 555.
- ↑ L. Foucault (1858) "Description des procedes employes pour reconnaitre la configuration des surfaces optiques" (Description of the methods used to recognize the configuration of optical surfaces), Comptes rendus ... , vol. 47, pages 958-959.
- ↑ L. Foucault (1859) "Mémoire sur la construction des télescopes en verre argenté" (Memoir on the construction of reflecting telescopes), Annales de l'Observatoire impériale de Paris, vol. 5, pages 197-237.
- ↑ William Tobin (২০০৩)। The Life and Science of Léon Foucault: The Man Who Proved the Earth Rotates। Cambridge University Press। পৃ. ২৭২। আইএসবিএন ৯৭৮০৫২১৮০৮৫৫২।
- ↑ Schmadel, Lutz D.; International Astronomical Union (২০০৩)। Dictionary of minor planet names। Berlin; New York: Springer-Verlag। পৃ. ৪৮০। আইএসবিএন ৯৭৮-৩-৫৪০-০০২৩৮-৩। সংগ্রহের তারিখ ৯ সেপ্টেম্বর ২০১১।
- ↑ "biography /Leon Foucault"। britannica .com। সংগ্রহের তারিখ ৮ জানুয়ারি ২০২৬।
- ↑ "Foucault"। alchetron.com। সংগ্রহের তারিখ ৮ জানুয়ারি ২০২৬।
- ↑ "biography of Leon Foucault"। assignment point। সংগ্রহের তারিখ ৮ জানুয়ারি ২০২৬।
আরো পড়ুন
[সম্পাদনা]- Amir D. Aczel, Pendulum: Léon Foucault and the Triumph of Science, Washington Square Press, 2003, আইএসবিএন ০-৭৪৩৪-৬৪৭৮-৮
- Umberto Eco, Foucault's Pendulum (trans. William Weaver). Secker & Warburg, 1989.
- William Tobin, Perfecting the Modern Reflector. Sky & Telescope, October 1987.
- William Tobin, Léon Foucault. Scientific American, July 1998.
- William Tobin, The Life and Science of Léon Foucault: The Man who Proved the Earth Rotates. Cambridge University Press, 2003. আইএসবিএন ০-৫২১-৮০৮৫৫-৩