চিকুনগুনিয়া

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
চিকুনগুনিয়া
2012-01-09 Chikungunya on the right feet at The Philippines.jpeg
চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির ডান পায়ে ফুসকুড়ি।
শ্রেণীবিভাগ এবং বহিঃস্থ সম্পদ
উচ্চারণ /ˌɪkənˈɡʌnjə/[১] CHI-kən-GUUN-yə
বিশিষ্টতা সংক্রামক রোগ
আইসিডি-১০ A৯২.০
আইসিডি-৯-সিএম ০৬৫.৪, ০৬৬.৩
ডিজিসেসডিবি ৩২২১৩
ইমেডিসিন article/2225687
মেএসএইচ D০১৮৩৫৪ (ইংরেজি)
অরফানেট ৩২৪৬২৫

চিকুনগুনিয়া (ইংরেজি ভাষায়: Chikungunya) হচ্ছে চিকুনগুনিয়া ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট একটি সংক্রমণ। এই ভাইরাস শরীরে প্রবেশের দুই থেকে চার দিনের মধ্যে আকস্মিক জ্বর শুরু হয় এবং এর সাথে অস্থিসন্ধিতে ব্যথা থাকে যা কয়েক সপ্তাহ, মাস বা বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।[২][৩][৪] এই রোগে মৃত্যু ঝুঁকি প্রতি দশ হাজারে এক জন বা এর চেয়েও কম তবে বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই রোগের জটিলতা তুলনামূলক বেশি হয়।[৫]

এই ভাইরাসটি মশার কামড়ের মাধ্যমমে মানব শরীরে প্রবেশ করে। এডিস(Aedes) গণের দুটি প্রজাতি এডিস ইজিপ্টিএডিস অ্যালবপ্টিকাস এই ভাইরাসের বাহক হিসেবে পরিচিত।[৬][৭] মানুষ ছাড়াও বানর, পাখি, তীক্ষ্ণ দন্ত প্রাণী যেমন ইঁদুরে এই ভাইরাসের জীবনচক্র বিদ্যমান।[৮] এখানেই ডেঙ্গু ভাইরাসের সাথে এর পার্থক্য কারণ ডেঙ্গু ভাইরাস শুধু স্তন্যপায়ীদের আক্রান্ত করে।[৯]

এই রোগ প্রতিরোধের প্রধান উপায় হলো মশা নিয়ন্ত্রণ ও ঘুমানোর সময় মশারি টাঙানো। [১০]

উপসর্গসমূহ[সম্পাদনা]

এই ভাইরাসের সুপ্তিকাল ২-১২ দিন তবে বেশিভাগ ক্ষেত্রে তা তিন থেকে সাত দিন হয়।[১১] অনেক সময় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলেও কোনো উপসর্গ প্রকাশ পায় না। সাধারণত ৭২-৯৭% ক্ষেত্রে উপসর্গ দেখা দেয়।[১১] রোগটি সাধারণত আকস্মিক উচ্চমাত্রার জ্বর, জয়েন্টে ব্যথা ও ফুসকুড়ি নিয়ে শুরু হয়। ফুসকুড়ি রোগের শুরুতেই দেখা দিতে পারে তবে অনেক সময় রোগ শুরু হওয়ার দুই থেকে তিন দিন পর জ্বর কমতে শুরু করলে ফুসকুড়ির আবির্ভাব হয়।[২] এছাড়া অন্যান্য উপসর্গের মধ্যে রয়েছে মাথাব্যথা, ক্লান্তি, পেটব্যথা, ফটোফোবিয়া বা আলোর দিকে তাকাতে সমস্যা, কনজাংটিভাইটিস। বড়দের আর্থ্রাইটিস বা জয়েন্টে প্রদাহ হতে পারে।

কারণ[সম্পাদনা]

ভাইরোলজি[সম্পাদনা]

চিকুনগুনিয়া ভাইরাস
Emd-5577.jpg
Cryoelectron microscopy reconstruction of chikungunya virus. From EMDB entry EMD-5577[১২]
ভাইরাসের শ্রেণীবিন্যাস
গ্রুপ: গ্রুপ IV ((+)ssRNA)
বর্গ: Unassigned
পরিবার: Togaviridae
গণ: Alphavirus
প্রজাতি: Chikungunya virus

চিকুনগুনিয়া ভাইরাস টোগাভাইরিডি পরিবারের আলফাভাইরাস গণের অন্তর্ভুক্ত একটি RNA ভাইরাস।[১৩] এটি সেমলিকি ফরেস্ট ভাইরাস কমপ্লেক্স এর সদস্য এবং রস রিভার ভাইরাস, ও'নিয়ং'নিয়ং ভাইরাস ও সেমলিকি ফরেস্ট ভাইরাসের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। [১৪] যেহেতু এটা আর্থ্রোপড যেমন মশার মাধ্যমে ছড়ায় তাই একে আর্বোভাইরাসও বলে।[১৫]

শনাক্তকরণ[সম্পাদনা]

ভাইরাস পৃথকীকরণ, RT-PCR, সেরোলজির মাধ্যমে পরীক্ষাগারে ভাইরাস শনাক্ত করা হয়।[১৬] [১৭]

প্রতিরোধ[সম্পাদনা]

An A. aegypti mosquito biting a person

এই রোগের বিরুদ্ধে কার্যকরী অনুমোদিত কোনো টিকা নেই। মশা নিয়ন্ত্রণ ও ঘুমানোর সময় মশারি টাঙিয়ে ঘুমানো, লম্বা হাতলযুক্ত জামা ও ট্রাউজার পরে থাকা, বাড়ির আশেপাশে পানি জমতে না দেয়া ইত্যাদি প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। শুধু স্ত্রী মশা দিনের বেলা কামড়ায়। এরা একবারে একের অধিক ব্যক্তিকে কামড়াতে পছন্দ করে। একবার রক্ত খাওয়া শেষে ডিম পাড়ার পূর্বে তিন দিনের বিশ্রামের প্রয়োজন হয়।এদের ডিমগুলো পানিতে এক বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে।অল্প পরিমাণ জমে থাকা পানিও ডিম পরিস্ফুটনের জন্য যথেষ্ট।এডিস মশা স্থির পানিতে ডিম পাড়ে তাই বালতি, ফুলের টব, গাড়ির টায়ার প্রভৃতি স্থানে যেন পানি জমতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।[১৮]


তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "chikungunya"Oxford Learner's DictionaryOxford University Press। সংগৃহীত ৪ নভেম্বর ২০১৪ 
  2. Powers AM, Logue CH (সেপ্টেম্বর ২০০৭)। "Changing patterns of chikungunya virus: re-emergence of a zoonotic arbovirus"J. Gen. Virol. 88 (Pt 9): 2363–77। ডিওআই:10.1099/vir.0.82858-0পিএমআইডি 17698645 
  3. Sourisseau M, Schilte C, Casartelli N, Trouillet C, Guivel-Benhassine F, Rudnicka D, Sol-Foulon N, Le Roux K, Prevost MC, Fsihi H, Frenkiel MP, Blanchet F, Afonso PV, Ceccaldi PE, Ozden S, Gessain A, Schuffenecker I, Verhasselt B, Zamborlini A, Saïb A, Rey FA, Arenzana-Seisdedos F, Desprès P, Michault A, Albert ML, Schwartz O (জুন ২০০৭)। "Characterization of reemerging chikungunya virus"। PLoS Pathog. 3 (6): e89। ডিওআই:10.1371/journal.ppat.0030089পিএমআইডি 17604450পিএমসি 1904475  উন্মুক্ত প্রবেশাধিকারযুক্ত প্রকাশনা - বিনামূল্যে পড়া যাবে
  4. Schilte C, Staikowsky F, Staikovsky F, Couderc T, Madec Y, Carpentier F, Kassab S, Albert ML, Lecuit M, Michault A (২০১৩)। "Chikungunya virus-associated long-term arthralgia: a 36-month prospective longitudinal study."। PLoS neglected tropical diseases 7 (3): e2137। ডিওআই:10.1371/journal.pntd.0002137পিএমআইডি 23556021 উন্মুক্ত প্রবেশাধিকারযুক্ত প্রকাশনা - বিনামূল্যে পড়া যাবে
  5. Mavalankar D, Shastri P, Bandyopadhyay T, Parmar J, Ramani KV (২০০৮)। "Increased Mortality Rate Associated with Chikungunya Epidemic, Ahmedabad, India"। Emerging Infectious Diseases 14 (3): 412–5। ডিওআই:10.3201/eid1403.070720পিএমআইডি 18325255পিএমসি 2570824 
  6. Lahariya C, Pradhan SK (ডিসেম্বর ২০০৬)। "Emergence of chikungunya virus in Indian subcontinent after 32 years: A review"J Vector Borne Dis 43 (4): 151–60। পিএমআইডি 17175699 
  7. Staples JE, Fischer M (২০১৪)। "Chikungunya virus in the Americas--what a vectorborne pathogen can do"। N. Engl. J. Med. 371 (10): 887–9। ডিওআই:10.1056/NEJMp1407698পিএমআইডি 25184860 
  8. Schwarz NG, Girmann M, Randriamampionona N, Bialonski A, Maus D, Krefis AC, Njarasoa C, Rajanalison JF, Ramandrisoa HD, Randriarison ML, May J, Schmidt-Chanasit J, Rakotozandrindrainy R (নভেম্বর ২০১২)। "Seroprevalence of antibodies against Chikungunya, Dengue, and Rift Valley fever viruses after febrile illness outbreak, Madagascar"Emerging Infect. Dis. 18 (11): 1780–6। ডিওআই:10.3201/eid1811.111036পিএমআইডি 23092548পিএমসি 3559170 
  9. "Vector-borne viral infections"। World Health Organization। সংগৃহীত ৫ নভেম্বর ২০১৪ 
  10. Fischer M, Staples JE (৬ জুন ২০১৪)। "Notes from the Field: Chikungunya Virus Spreads in the Americas - Caribbean and South America, 2013-2014."। MMWR. Morbidity and mortality weekly report 63 (22): 500–501। পিএমআইডি 24898168 
  11. Thiberville, Simon-Djamel; Moyen, Nanikaly; Dupuis-Maguiraga, Laurence; Nougairede, Antoine; Gould, Ernest A.; Roques, Pierre; de Lamballerie, Xavier (২০১৩)। "Chikungunya fever: Epidemiology, clinical syndrome, pathogenesis and therapy"। Antiviral Research 99 (3): 345–370। আইএসএসএন 0166-3542ডিওআই:10.1016/j.antiviral.2013.06.009 
  12. Sun, S.; Xiang, Y.; Akahata, W.; Holdaway, H.; Pal, P.; Zhang, X.; Diamond, M. S.; Nabel, G. J. এবং অন্যান্য (২০১৩)। "Structural analyses at pseudo atomic resolution of Chikungunya virus and antibodies show mechanisms of neutralization"। ELife 2: e00435। ডিওআই:10.7554/eLife.00435পিএমআইডি 23577234পিএমসি 3614025 
  13. Weaver, Scott C; Osorio, Jorge E; Livengood, Jill A; Chen, Rubing; Stinchcomb, Dan T (২০১২)। "Chikungunya virus and prospects for a vaccine"। Expert Review of Vaccines 11 (9): 1087–1101। আইএসএসএন 1476-0584ডিওআই:10.1586/erv.12.84 
  14. Powers AM, Brault AC, Shirako Y, Strauss EG, Kang W, Strauss JH, Weaver SC (নভেম্বর ২০০১)। "Evolutionary relationships and systematics of the alphaviruses"। Journal of Virology 75 (21): 10118–31। ডিওআই:10.1128/JVI.75.21.10118-10131.2001পিএমআইডি 11581380পিএমসি 114586 
  15. "NIAID Category A, B, and C Priority Pathogens"। সংগৃহীত ১ জানুয়ারি ২০১৪ 
  16. "Laboratory Diagnosis of Chikungunya Fevers"World Health Organizationআসল থেকে ৮ সেপ্টেম্বর ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২০ মে ২০১৩ 
  17. "Chikungunya Virus Infections"। New England Journal of Medicine 373: 93–95। ডিওআই:10.1056/NEJMc1505501 
  18. Caglioti C, Lalle E, Castilletti C, Carletti F, Capobianchi MR, Bordi L (Jul ২০১৩)। "Chikungunya virus infection: an overview."। The new microbiologica 36 (3): 211–27। পিএমআইডি 23912863 

আরো পড়ুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]