গৌড়দহ কালী মন্দির বাড়ি
| গৌড়দহ মা কালী মন্দির | |
|---|---|
গৌড়দহ কালীবাড়ি | |
পূজোর পূর্বে গৌড়দহ মা কালী মন্দিরের মায়ের বিগ্রহ | |
| ধর্ম | |
| অন্তর্ভুক্তি | হিন্দুধর্ম |
| অধীশ্বর | দক্ষিণা কালিকা (মা কালীর শান্ত ও প্রসন্ন রূপ) |
| উৎসবসমূহ | কালী পূজা, দিওয়ালি, দশেরা ও বিপত্তারিণি পূজা |
| অবস্থা | সক্রিয় |
| বৈশিষ্ট্য |
|
| অবস্থান | |
| অবস্থান | গৌড়দহ মা কালী মন্দির, ক্যানিং |
| রাজ্য | পশ্চিমবঙ্গ |
| দেশ | ভারত |
| স্থানাঙ্ক | ২২°২২′৪৭″ উত্তর ৮৮°৩১′৫৩″ পূর্ব / ২২.৩৭৯৭৪৬° উত্তর ৮৮.৫৩১৫১১° পূর্ব |
| স্থাপত্য | |
| ধরন | মধ্যযুগীয় বাংলার মন্দির স্থাপত্য, আটচালা |
| সৃষ্টিকারী | তপন কুমার রায় ও নীলিমা রায় |
গৌড়দহ মা কালী মন্দির বা গৌড়দহ কালীবাড়ি হল ভারতবর্ষের পূর্বে অবস্থিত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের প্রেসিডেন্সি বিভাগের অন্তর্গত দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ক্যানিং মহকুমাধীন জীবনতলা থানা অন্তর্গত ক্যানিং পশ্চিম ক্ষেত্রের গৌড়দহ জনশুমারী শহরের প্রাণ কেন্দ্র তথা গৌড়দহ রেলওয়ে স্টেশন-এর নিকটে অবস্থিত একটি জাগ্রত কালী মন্দির, যা স্থানীয়ভাবে গৌড়দহ মন্দির বাড়ি নামেও পরিচিত।[১]



গৌড়দহ মা কালী মন্দির হল ভারতবর্ষের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দক্ষিণ ২৪ পরগনা বা প্রস্তাবিত সুন্দরবন জেলায় অবস্থিত ক্যানিং মহকুমাধীন জীবনতলা থানা অন্তর্গত গৌড়দহ গ্রামে অবস্থিত একটি বিখ্যাত এবং জাগ্রত কালী মন্দির।[২]
উৎসব
[সম্পাদনা]সারাবছরই এই মন্দিরে তীর্থযাত্রীরা আসেন। বিশেষত মঙ্গলবার ও শনিবার এই মন্দিরে দুঃস্থ মানুষজনসহ বেশি তীর্থযাত্রী সমাগম হয়। বৈশাখ মাসের তৃতীয় দিন (১৭/১৮ এপ্রিল) বার্ষিক পুজো, আষাঢ় মাসের (জুন/জুলাই) মঙ্গলবার বা শনিবার বিপত্তারিণী পূজা ও কার্তিক মাসে (মধ্য নভেম্বর) কালীপূজার উৎসবে প্রচুর তীর্থযাত্রী গৌড়দহ কালীবাড়ি-তে আসেন। কার্তিক মাস শাক্তদের কাছে বিশেষ পবিত্র মাস। এই মাসের মঙ্গলবার ও শনিবারও প্রচুর তীর্থযাত্রী পূজো দেওয়ার জন্য আসেন।

বার্ষিক পূজা
[সম্পাদনা]প্রত্যেক বৈশাখ মাসের ৩ তারিখ গৌড়দহ কালীবাড়ি-তে সারারাত্রীব্যাপী বিশেষ বার্ষিক মহাপূজা এবং ৪ থেকে ৬ তারিখ ভোর পর্যন্ত অষ্টমপ্রহর ব্যাপী হরিনাম সংকীর্তন ও হরেকৃষ্ণ নামগান অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়াও প্রতি বছর বিপত্তারিণী পুজো, দুর্গাপুজো ও দীপান্বিতা কালীপুজোর দিন মন্দিরে প্রচুর ভক্ত ও পু্ণ্যার্থীর সমাগম ঘটে।
নিয়ম
[সম্পাদনা]গৌড়দহ মা কালী মন্দির সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রবেশ করতে পারবেন, এখানে পরিদর্শন করার সময়, একটি সম্মানজনক এবং অর্থপূর্ণ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করার জন্য আপনাকে কিছু আচার এবং রীতিনীতি অনুসরণ করা উচিত। যেমন:
• যথাযথভাবে পোশাক পরুন:- মন্দিরে যাওয়ার সময় বিনয়ী এবং সম্মানের সাথে পোশাক পরা গুরুত্বপূর্ণ, প্রকাশক বা উত্তেজক পোশাক পরা এড়িয়ে চলুন।
• আপনার জুতা নির্দিষ্ট জায়গায় রাখুন:- মন্দিরে প্রবেশ করার আগে, আপনাকে আপনার জুতাগুলি মূল ফটকে অন্যত্র সরিয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে দিতে হবে। এরপর হাত পা ধুয়ে মন্দিরে প্রবেশ করুন।
• প্রার্থনা করুন: আপনি যখন মন্দিরে প্রবেশ করবেন, আপনি দেবী কালীকে প্রার্থনা করতে পারেন। শ্রদ্ধার চিহ্ন হিসাবে আপনি ধূপ বা মোমবাতিও জ্বালাতে পারেন। এখানে আসতে গেলে ধূপ ও বাতাসা আনা আবশ্যক।
• দান করুন:- কৃতজ্ঞতা এবং সম্মানের অঙ্গভঙ্গি হিসাবে মন্দিরে দান করার প্রথা রয়েছে। আপনি দান হিসাবে অর্থ, ফুল বা অন্যান্য সামগ্রী দান করতে পারেন।
• নিয়মগুলি অনুসরণ করুন-: মন্দিরের কিছু নিয়ম ও প্রবিধান রয়েছে যা আপনাকে অনুসরণ করতে হবে। এর মধ্যে- ধূমপান ও মদ্যপান করার উপর নিষেধাজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফির ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।
• মন্দিরের পবিত্রতাকে সম্মান করুন:- গৌড়দহ কালীবাড়ি একটি পবিত্র উপাসনালয়। মন্দির এবং মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা গুরুত্বপূর্ণ।
এই আচার এবং রীতিনীতি অনুসরণ করে, আপনি গৌড়দহ কালীবাড়ি-তে একটি সম্মানজনক এবং অর্থপূর্ণ দর্শন নিশ্চিত করতে পারেন।
সময়সূচি
[সম্পাদনা]• মার্চ মাস থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত গৌড়দহ কালীবাড়ি খোলার সময় -
রবি, সোম, বুধ ও শুক্রবার সকাল ৬ঃ০০ টা থেকে দুপুর ১২ঃ০০ মিনিট পর্যন্ত। এবং দুপুর ৪ঃ০০ মিনিট থেকে রাত ৮ঃ০০ মিনিট পর্যন্ত খোলা থাকে। এবং আরতির সময় সন্ধ্যা ৭ঃ০০ মিনিট।
এবং মঙ্গলবার, বৃহস্পতিবার ও শনিবার সকাল ৫ঃ০০ টা থেকে দুপুর ৩ঃ০০ মিনিট পর্যন্ত। এবং দুপুর ৪ঃ০০ মিনিট থেকে রাত ৯ঃ০০ মিনিট পর্যন্ত খোলা থাকে। এবং দ্বিপ্রহর আরতির সময় দুপুর ১ঃ০০ মিনিট ও সন্ধ্যাকালীন আরতির সময় সন্ধ্যা ৭ঃ৩০ মিনিট।
• ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস অর্থাৎ শীতকালীন সময় গৌড়দহ কালীবাড়ি খোলার সময় -
প্রতিদিন সকাল ৬ঃ০০ মিনিট থেকে দুপুর ২ঃ০০ মিনিট পর্যন্ত। এবং দুপুর ৪ঃ০০ মিনিট থেকে রাত ৮ঃ০০ মিনিট পর্যন্ত খোলা থাকে। এবং আরতির সময় সন্ধ্যা ৭ঃ০০ মিনিট।