গুস্তাভো আইফেল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
গুস্তাভো আইফেল
Gustave Eiffel 1888 Nadar2.jpg
গুস্তাভো আইফেল, ১৮৮৮
জন্ম আলেকজান্দ্রে গুস্তাভো আইফেল[১][২]
(১৮৩২-১২-১৫)১৫ ডিসেম্বর ১৮৩২
ডিজন, কটি-ড'র, ফ্রান্স
মৃত্যু ২৭ ডিসেম্বর ১৯২৩(১৯২৩-১২-২৭) (৯১ বছর)
প্যারিস, ফ্রান্স
জাতীয়তা ফরাসি
দাম্পত্য সঙ্গী মারিয়া (১৮৪৫-১৮৭৭)
সন্তান ৩ মেয়ে, ২ ছেলে
পিতা-মাতা আলেকজান্দ্রে আইফেল
ক্যাথেরিন ম্যালিনি আইফেল
স্বাক্ষর
Gustave Eiffel signature.svg
আলেকজান্দ্রে গুস্তাভো আইফেল (১৫ ডিসেম্বর ১৮৩২ – ২৭ ডিসেম্বর ১৯২৩) ছিলেন একজন ফরাসি বাস্তু প্রকৌশলী  এবং একজন স্থপতি। তিনি ফ্রান্সের বিখ্যাত আইফেল টাওয়ারের স্থপতি। যেটি ১৮৮৯ সালে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে উদ্বোধন করা হয়।এছাড়াও তিনি আমেরিকার স্ট্যাচু অব লিবার্টির নির্মাণ কাজেও বিরাট অবদান রয়েছে। স্থাপত্যবিদ্যা এবং প্রকৌশলী পেশা থেকে অবসর গ্রহনের পর তিনি আবহাওয়া বিদ্যা এবং বায়ু গতিবিদ্যা নিয়ে গবেষণা করেন। এবং উভয় ক্ষেত্রেই অনেক অবদান রাখতে সক্ষম হন তিনি। 

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

গুস্তাভো আইফেল ফ্রান্সের কটি-ড'র শহরে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি আলেকজান্দ্রে আইফেল এবং ক্যাথেরিন ম্যালিনি দম্পতির প্রথম সন্তান। [৩] তিনি ছিলেন জিন-রেনে বংশের বংশধর, যারা ১৮ শতকের দিকে জার্মান থেকে প্যারিসে পারি জমায়।[৪] এই বংশ তাদের বংশপরম্পরায় আইফেল নামটি ব্যবহার করত, যেটি তারা তাদের ধর্মে বিশ্বাস করে [[আইফেল পর্বতমালা থেকে গ্রহন করে।
 আইফেলের বাবা ছিলেন ফরাসি সেনাবাহিনীর একজন প্রাক্তন সদস্য।আইফেলের জন্মের কিছুদিন পরেই তিনি সেনাবাহিনীর চাকরি ছেড়ে দেন এবং তাঁর মাকে ব্যবসার কাজে সাহায্য করেন। তাঁর মা ছিলেন একজন কয়লা ব্যবসায়ী, যেটি তিনি তার পুর্বপুরুষের কাছ থেকে লাভ করেন।  আর এ জন্য উভয়ই তাদের ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। তাই আইফেলের শৈশবের বেশিরভাগ সময় কাটে তার দাদির সাথে।  
তিনি লেখাপড়ায় খুব একটা মনোযোগী ছিলেন না। বিদ্যালয়ে লেখিপড়া করাকে তিনি খুবই বিরক্তিকর এবং সময়ের অপব্যবহার বলতেন।  কিন্তু কৈশোর বয়সে তিনি পড়ালেখায় মনোনিবেশ করেন এবং সাফল্যের সাথে অনেক গুলো সম্মানজনক ডিগ্রি অর্জন করেন। [৫]  তাঁর চাচা বাবটিসটে লেখাপড়ার ক্ষেত্রে তাঁর এই সাফল্যের জন্য অনেক ভূমিকা রাখেন। আইফেল প্যারিসের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রোকৌশল নিয়ে লেখাপড়া করেন। এছাড়াও তিনি রসায়ন বিভাগেও স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

বর্ডিআক্স সেতু, আইফেলের প্রথম উল্লেখযোগ্য কাজ
লেখাপড়া শেষ করার পর তিনি ডিজনে, তার চাচার কাছে গিয়ে কাজ করতে চাইলেন। কিন্তু তাঁর পরিবারের প্রবল আপত্তির মুখে তাঁর আর যাওয়া হয়ে উঠে নি। এর কয়েক মাস পর তিনি তাঁর বোনের স্বামীর তত্ত্বাবধানে একটি ছাদ ঢালাইয়ের এক কারখানায় বিনা বেতনে চাকরি গ্রহন করেন। তারপর আইফের রেল ইজ্নিনিয়ার চার্লস ন্যাপভিউ এর সংস্পর্শে আসেন এবং এই চার্লস ন্যাপভিউ ই প্রথম তাকে একটি বেসরকারী সংস্থায় তার সহকারী হিসেবে বেতনভুক্ত চাকরি প্রদান করেন। [৬] তার কিছু দিন পর চার্লস ন্যাপভিউ এর কোম্পানি আর্থিক লোকসানের মুখে বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু ন্যাপভিউ আইফেলকে ক্ষতির সম্মুখিন হতে দেন নি। তিনি তাঁকে একটি রেলসেতু নির্মাণের দায়িত্ব প্রদান করেন। আইফেল অত্যন্ত সুচারু ভাবে তার এই সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেন। যাই হোক, তার পর তিনি নিজেকে একজন সফল প্রকৌশলী এবং স্থপতি হিসেবে প্রমাণে সফণ হন এবং অনেক গুলো কাজ তিনি খুব দ্রুত সাফল্যের সাথে শেষ করতে সক্ষম হন।[৭] 
স্ট্যাচু অব লিবার্টির অভ্যন্তরীন কাঠামো ডিজাইন করেন গুস্তাভো আইফেল

আইফেল টাওয়ার[সম্পাদনা]

মোরিস কোচিন যিনি প্রথম টাওয়ারটির নকশা আকেঁন।
১৮৮৯ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব প্রর্দশনী (1889 Exposition Universelle)  প্যারিসকে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার জন্যই মূলত আইফেল টাওয়ার নির্মাণ করা হয়। মোরিস কোচিন এবং ইমিল নওগুয়ের সর্বপ্রথম এই টাওয়ার নির্মাণের পরিকল্পনা করেন। মে, ১৮৮৪ সালে মোরিস কোচিন তার বাসায় আইফেল টাওয়ারের স্কেচ চিত্র আকঁতে বসেন। তিনি পরিকল্পনা করেন যে, "টাওয়ারটি চার স্তম্ভ বিশিষ্ট একটি ভিত্তির উপর স্থাপিত হবে, যেটি ধীরে ধীরে উপরের দিকে অগ্রসর হওয়ার পাশাপাশি সরু হতে থাকবে।"
তারপর  কোচিন তার ডিজাইন নিয়ে বিভিন্ন স্থপতিদের সাথে আলোচনা করেন। আবশেষে তিনি মিলিত হন গুস্তাভো আইফেলের সাথে। তিনি নকশা দেখা মাত্রই অনেক এর অনেক প্রশংসা করেন এবং এই টাওয়ার নির্মাণে রাজি হয়ে যান। তিনি তারপর এই নকশায় অনেক পরিবর্ধন ও পরিমার্জন আনেন। ১৮৮৪ সালে প্রথম আইফেল টাওয়ারের নকশা প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়। [৮]
২৮ জানুয়ারি ১৮৮৭ সালে আইফেল টাওয়ারের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। 
১৮৮৯ সালের ৩১ মার্চে মাত্র দুই বছর, দুই মাস, দুই দিনে টাওয়ারটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছিলো


কাজ[সম্পাদনা]

ভবন এবং স্থাপনা [সম্পাদনা]

পেরুর জাতীয় গির্জা

সেতু এবং রেল সেতু[সম্পাদনা]

আইফেল ব্রিজ, ক্যামিনহা
{বি:দ্র: এখানে সংক্ষেপে তার কিছু কাজের নাম উল্লেখ আছে।}

References[সম্পাদনা]

  1. État-civil de la Côte-d'Or, Dijon, Registres d'état civil 1832, p. 249
  2. Harvie 2006 p. 1
  3. Harriss, J. (২০০৪)। The Tallest Tower। Unlimited Pub.। পৃ: ২৫। আইএসবিএন 9781588321046। সংগৃহীত ১৮ মে ২০১৫ 
  4. Loyrette 1985, p. 21
  5. Loyrette 1985, p. 25
  6. Loyrette 1985, p. 30
  7. Loyrette 1985, p. 33
  8. Loyrette 1985, p. 116