গুরুদাস দাসগুপ্ত

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
গুরুদাস দাসগুপ্ত
গুরুদাস দাসগুপ্ত.jpg
সাংসদ, লোকসভা
কাজের মেয়াদ
২০০৪ – ২০০৯
পূর্বসূরীবিক্রম সরকার
উত্তরসূরীক্ষেত্র অবলুপ্ত
সংসদীয় এলাকাপাঁশকুড়া
কাজের মেয়াদ
২০০৯ – ২০১৪
পূর্বসূরীকার্যালয় প্রতিষ্ঠিত
উত্তরসূরীদেব
সংসদীয় এলাকাঘাটাল
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম(১৯৩৬-১১-০৩)৩ নভেম্বর ১৯৩৬
বরিশাল, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু৩১ অক্টোবর ২০১৯(2019-10-31) (বয়স ৮২)
কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
রাজনৈতিক দলভারতের কমিউনিস্ট পার্টি
দাম্পত্য সঙ্গীজয়শ্রী দাসগুপ্ত (বি. ১৯৬৫)
সন্তান১ কন্যা
বাসস্থানভবানীপুর, বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত
প্রাক্তন শিক্ষার্থীকলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
আশুতোষ কলেজ (এমকম)

গুরুদাস দাসগুপ্ত (৩ নভেম্বর ১৯৩৬ - ৩১ অক্টোবর ২০১৯) ছিলেন একজন ভারতীয় রাজনীতিবিদ এবং ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির একজন নেতা। ১৯৫০ এবং ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দের দশকগুলোতে তিনি একজন ছাত্রনেতা হিসেবে বিভিন্ন পদে আসীন ছিলেন। পরবর্তীকালে ১৯৮৫ থেকে ২০০০ পর্যন্ত তিনি রাজ্য সভা এবং ২০০৪ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত তিন বারের লোক সভার সাংসদ ছিলেন।

জীবনপঞ্জি[সম্পাদনা]

গুরুদাস দাসগুপ্ত ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের ৩ নভেম্বর ব্রিটিশ ভারতের বরিশালে (বর্তমান বাংলাদেশ) জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মায়ের নাম নীহার দেবী এবং পিতার নাম দুর্গা প্রসন্ন দাশগুপ্ত। ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দের ১৮ জুন তিনি জয়শ্রী দাসগুপ্তের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।[১]

তিনি একজন ছাত্রনেতা হিসেবে রাজনীতিতে যোগ দিয়েছিলেন।[২] ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি আশুতোষ কলেজের স্টুডেন্টস ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক পদে আসীন ছিলেন এবং একই সঙ্গে তিনি ১৯৫৮ থেকে ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলার অবিভক্ত প্রাদেশিক স্টুডেন্টস ফেডারেশনের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে তাঁকে ভারত রক্ষা আইনে আটক করা হয়। ১৯৫০ থেকে ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দের সময়কালে তাঁকে বহুবার কারাবরণ করতে হয়েছিল।[৩]

গুরুদাস দাসগুপ্ত ১৯৬৭ থেকে ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত অল ইন্ডিয়া ইয়ুথ ফেডারেশনের পশ্চিমবঙ্গ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া ১৯৬৮, ১৯৭০ এবং ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি পশ্চিমবঙ্গ যুব উৎসব প্রস্তুতি কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে বুদাপেস্টে অনুষ্ঠিত বিশ্ব যুব সম্মেলনে তিনি ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব করেছিলেন।[১]

১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি বিভাজন হয়ে যখন সিপিআই এবং ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) দুই দলে রূপান্তরিত হয়, তখন তিনি ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টিতে (সিপিআই) থেকে গিয়েছিলেন।[৪][৫] তিনি অল ইন্ডিয়া ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস এবং ভারতীয় খেতমজুর ইউনিয়ন[১] এই দুই সারা ভারতীয় সংস্থার সহ-সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন।

গুরুদাস দাসগুপ্ত দীর্ঘ পঁচিশ বছর ধরে তিনি ভারতের সাংসদ হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি ১৯৮৫, ১৯৮৮ এবং ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে রাজ্য সভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।[২][৪] গুরুদাসবাবু ২০০১ খ্রিস্টাব্দে অল ইন্ডিয়া ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেসের (এআইটিইউসি) সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি ২০০৪ খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।[১] ২০০৪ খ্রিস্টাব্দেই তিনি পশ্চিমবঙ্গের পাঁশকুড়া কেন্দ্র থেকে চতুর্দশ লোকসভায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল থেকে পঞ্চদশ লোকসভায় নির্বাচিত হন।[৬] তিনি হর্ষদ মেহতা কেলেঙ্কারির ২জি স্পেকট্রাম কেসের ওপর গঠিত যুক্ত সংসদীয় কমিটির একজন সদস্য ছিলন।[৭]

গুরুদাস দাসগুপ্ত ২০১৯ খ্রিস্টাব্দের ৩১ অক্টোবর জটিল ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুমুখে পতিত হন।[২][৮]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Detailed Profile: Shri Gurudas Dasgupta"india.gov.in। সংগ্রহের তারিখ ১১ মার্চ ২০১৮ 
  2. "CPI leader Gurudas Dasgupta passes away"The Telegraph (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩ নভেম্বর ২০১৯ 
  3. name=":2">"Detailed Profile: Shri Gurudas Dasgupta"india.gov.in। সংগ্রহের তারিখ ১১ মার্চ ২০১৮ 
  4. name=":0">"CPI leader Gurudas Dasgupta passes away at 83"The Financial Express (ইংরেজি ভাষায়)। ৩১ অক্টোবর ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০১৯ 
  5. name=":1">"CPI leader Gurudas Dasgupta passes away"The Telegraph (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩ নভেম্বর ২০১৯ 
  6. "नहीं रहे गुरुदास दासगुप्ता: हर्षद मेहता के शेयर घोटाले की संसद में खोली थी पोल"Jansatta (হিন্দি ভাষায়)। ৩১ অক্টোবর ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০১৯ 
  7. "Gurudas Dasgupta rubbishes JPC report on 2G scam"The Hindu। ২১ এপ্রিল ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ১১ মার্চ ২০১৮ 
  8. "Veteran Communist Party Leader Gurudas Dasgupta Dies At 83"NDTV। সংগ্রহের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০১৯ 
বিধানসভার আসন
পূর্বসূরী
{{{before}}}
{{{title}}} উত্তরসূরী
{{{after}}}
পূর্বসূরী
{{{before}}}
{{{title}}} উত্তরসূরী
{{{after}}}