গাসসান কানাফানি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
গাসসান কানাফািনি
غسان كنفاني
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম8 April 1936
আক্কা, মেন্ডেটরি প্যালেস্টাইন
মৃত্যু৮ জুলাই ১৯৭২(বয়স ৩৬)
বৈরুত, লেবানন
জাতীয়তাফিলিস্তিনি
রাজনৈতিক দলপপুলার ফ্রন্ট ফর দি লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন

গাসসান কানাফানি (আরবি: غسان كنفاني‎‎‎)(৮ এপ্রিল ১৯৩৬ আক্কা, মেন্ডেটরি প্যালেস্টাইন – ৮ জুলাই ১৯৭২ বৈরুত, লেবানন) একজন ফিলিস্তিনি লেখক ও পপুলার ফ্রন্ট ফর দি লিবারেশন অব প্যালেস্টাইনের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ছিলেন।[১] জুলাই ৮, ১৯৭২ সালে লড বিমানবন্দরে সংঘটিত গণহত্যার প্রতিক্রিয়াস্বরূপ ইসরায়েলের গোয়েস্থা সংস্থা ইসরায়েলের গোয়েস্থা সংস্থা মোসাদ তাকে হত্যা করে।[২]

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

গাসসান ফায়িজ কানাফানি ১৯৩৬ সালে ফিলিস্তিনের আক্কা শহরের একটি মধ্যবিত্ত সুন্নী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।[৩] তিনি ছিলেন মুহাম্মদ ফায়িজ আব্দ আল রাজ্জাকের তৃতীয় সন্তান। তার পিতা ছিলেন একজন আইনজীবী যিনি ব্রিটিশ দখলদারিত্ব বিরোধী জাতীয় আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করেছিলেন। গাসসান যখন ছোট তখন তার পিতা রাজ্জাক অনেকবার জেলে খাটেন।[৪] জাফার ফরাসি ক্যাথলিক মিশনারি স্কুলে গাসসান তার প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন করেন।[৪]

১৯৪৮-এর মে মাসে, ১৯৪৮ আরব-ইসরায়েলি যুদ্ধ শুরু হলে তা আক্কাতেও ছড়িয়ে পড়ে যার দরুণ কানাফানি ও তার পরিবারকে নির্বাসনে বাধ্য করা হয়েছিল।[৫] এই সময়েরও এক দশক পর তার পুত্রের কাছে লিখিত এক চিঠিতে, তিনি লজ্জিত হয়েছিলেন এই ভেবে যে তার পরিবারের লোকেরা শরণার্থী হওয়ার জন্য তাদের অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করছে।[৬] প্রতিবেশী দেশ লেবাননের উত্তরের দিকে ১৭ কিলোমিটার (১১ মা) পালিয়ে যাওয়ার পর তারা সিরিয়ার দামেস্কে ফিলিস্তিনি শরণার্থী হিসেবে তারা স্থায়ী হন।[৪] তারা তারা তুলনামূলকভাবে দরিদ্র ছিল; তার পিতা ছোট পরিসরে আইন ব্যবসা শুরু করেন। কানাফানি সেখানে তার মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন এবং ১৯৫২ সালে ফিলিস্তিন শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্ম সংস্থার শিক্ষা বিষয়ক সনদপত্র গ্রহণ করেন। শরণার্থী ক্যাম্পে প্রায় ১,২০০ ফিলিস্তিনি শিশুদের শিক্ষাদানের জন্য তাকে আর্ট শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়, যেখানে তিনি ছাত্রছাত্রীদের তাদের পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে চলতে সাহায্য করার জন্য ছোট গল্প লিখতে শুরু করেন।[৭]

হত্যাকাণ্ড[সম্পাদনা]

১৯৭২ সালের ৮ জুলাই, ৩৬ বছর বয়সে কানাফানিকে বৈরুতে হত্যা করা হয়।তার অস্টিন ১১০০ মডেলের গাড়ির পিছনের বাম্পারে ৩ কেজি ওজনের প্লাস্টিক বোমা বিস্ফোরিত হওয়ার পর দেখা যায় তিনি এবং তার সতের বছরের ভ্রাতুষ্পুত্র লামিস নাজিম পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছেন।[৮] মোসাদ শেষপর্যন্ত এই হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করেন।[৯][১০]

লড বিমানবন্দর হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে কানাফানিকে হত্যা করা হয়েছিলো, যা জাপানি রেড আর্মির তিন সদস্য কর্তৃক সম্পাদিত হয়েছিল। এ সময়, কানাফানি পিএফএলপি'র মুখপাত্র ছিলেন, এবং দলটি হামলার দায় স্বীকার করেছিলো।[১১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Farsoun 2004, পৃ. 97.
  2. Ensalaco 2012, পৃ. 37.
  3. Kamal Abdel-Malek, The Rhetoric of Violence: Arab-Jewish Encounters in Contemporary Palestinian Literature and Film, Springer (2016), p. 35
  4. Zalman 2004, পৃ. 683.
  5. Bashkin 2010, পৃ. 96.
  6. Schmitt 2014.
  7. Zalman 2004, পৃ. 685.
  8. Pedahzur 2009, পৃ. 39–40.
  9. Harlow 1994, পৃ. 181.
  10. Zalman 2006, পৃ. 48.
  11. Pedahzur 2009, পৃ. 39–40