ক্লাউড স্টোরেজ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search

ক্লাউড স্টোরেজ বা ক্লাউড সংরক্ষণাগার হলো উপাত্ত সংরক্ষণের একটি মডেল যাতে ডিজিটাল উপাত্তসমূহ লজিক্যাল পুলস, একাধিক সার্ভারের ফিজিক্যাল স্টোরেজে সংরক্ষিত থাকে এবং ফিজিক্যাল পরিবেশ সাধারণত কোনো একটি হোস্টিং কোম্পানি মালিকানায় থাকে ও তারা তা পরিচালনা করে থাকে। এসব ক্লাউড স্টোরেজ প্রদানকারীরা উপাত্ত সহজলভ্য ও প্রবেশ নিশ্চিত করে, এবং ফিজিক্যাল পরিবেশের সুরক্ষা করে ও চালিত করে। ব্যবহারকারী ও সংস্থাগুলো তাদের কাছ থেকে ব্যবহারকারী, সংস্থা, বা অ্যাপ্লিকেশন উপাত্ত সংরক্ষণের জন্য স্টোরেজ ক্যাপাসিটি (তথ্য ধারণ ক্ষমতা) ক্রয় বা ইজারা নেয়।

ক্লাউড স্টোরেজ সেবা একটি সহ-অবস্থিত ক্লাউড কম্পিউটার সেবা , ওয়েব সার্ভিস অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস (এপিআই) অথবা এপিআই-কে ব্যবহার করা অ্যাপ্লিকেশনস সমূহ যেমন ক্লাউড ডেক্সটপ স্টোরেজ, ক্লাউড স্টোরেজ গেটওয়ে, বা ওয়েব-বেসড কনটেন্ট ম্যানেজম্যান্ট সিস্টেম এর মাধ্যমে অ্যাক্সেস করা যায়।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

ধরে নেওয়া হয় যে ক্লাউড কম্পিউটিং জোসেপ কার্ল রবনেট লিকলিডার ১৯৬০'র দিকে আরপানেটের সাথে কাজ করার সময় জনগণ ও উপাত্ত যেকোনো স্থান থেকে যুক্ত করার লক্ষে উদ্ভাবন করেন।

১৯৮৩ সালে কম্পুসার্ভ তাদের ভোক্তাদের ক্ষুদ্র পরিমাণ ডিস্ক স্টোরেজ অফার করে, যেখানে তারা যেকোনো ধরনের ফাইল আপলোড করতে পারবে।

১৯৯৪ সালে এটি&টি পারসোনা লিংক সার্ভিস নামে ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক উদ্দ্যেশে এক ধরনের অনলাইন প্লাটফর্মের সূচনা করে।

সকল ওয়েব-বেসডের মধ্যে এটি প্রথম দিককার স্টোরেজ ও তাদের বিজ্ঞাপনের উল্লেখ করে,"আমাদের ইলেক্ট্রনিক সভাকে আপনারা ক্লাউড মনে করতে পারেন"। আমাজন ওয়েব সার্ভিস তাদের ক্লাউড সার্ভিস এডাব্লিওএস এস৩ ২০০৬ সালে চালু করে এবং স্যামসাং, ড্রপবক্স, সাইনপ্টপ এবং পিন্টারেস্ট এর মতো জনপ্রিয় স্টোরেজ সরবরাহকারী পরিষেবাগুলির মতো ব্যাপক স্বীকৃতি এবং গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে। ২০০৫ সালে বক্স অনলাইন ফাইল শেয়ারিং ও ক্লাউড কনটেন্ট ম্যানেজম্যান্ট সেবা ব্যবসায়িক উদ্দ্যেশে চালু করে।

স্থাপত্য[সম্পাদনা]

ক্লাউড স্টোরেজের একটি উচ্চ স্তরের স্থাপত্য

ক্লাউড স্টোরেজ উচ্চস্তরের ভার্চুয়ালাইচড অবকাঠামোর ভিত্তিতে গঠিত এবং প্রবেশযোগ্য ইন্টারফেস, নিকটবর্তী ইন্সট্যান্ট স্থিতিস্থাপকতা, কর্মক্ষমতা প্রসারণ, বহু মালিকানা, মিটার্ড রিসোর্স শর্তের ক্ষেত্রে এটি ক্লাউড কম্পিউটিং এর মতো বৃহৎ। ক্লাউড স্টোরেজ সেবা অফ-প্রিমিসেস সার্ভিস ( আমাজন এডাব্লিওএস এস৩ ) অথবা স্থাপিত অন-প্রিমিসেস সার্ভিস ( ভিআইওএন ক্যাপাসিটি সার্ভিস ) থেকে কাজে লাগানো যায়।

ক্লাউড স্টোরেজ সাধারণত হোস্টেড অবজেক্ট স্টোরেজ সার্ভিস বোঝায়, কিন্তু এটি অন্যান্য উপাত্ত স্টোরেজ যুক্ত করায় আরো বৃহৎ হয়েছে । ব্লক স্টোরেজের মতো এগুলো সেবা হিসেবে পাওয়া যাচ্ছে।

অবজেক্ট স্টোরেজ সার্ভিস যেমন আমাজন এডাব্লিওএস এস৩ এবং মাইক্রোসফট আজিউর স্টোরেজ, অবজেক্ট স্টোরেজ সফটওয়্যার যেমন ওপেনস্ট্যাক সুইফট, অবজেক্ট স্টোরেজ সিস্টেমস যেমন ইএমসি এটমস,ইএমসি, ইসিএস, ও হিটাসি কনটেন্ট প্লাটফর্ম, এবং ডিস্টিবিউটেড স্টোরেজ প্রজেক্ট যেমন ওশানস্টোর, ও ভিশন ক্লাউড হলো স্টোরেজের উদাহরণ যেগুলো হোস্টোড এবং ক্লাউড স্টোরেজ বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে স্থাপন করা যায়।

ক্লাউড স্টোরেজ হলোঃ

  • অনেক বিন্যস্ত রিসোর্স দ্বারা গঠিত, কিন্তু এক হিসেবে কাজ করে, হয়তো একটি ফেডারেশনে অথবা একটি সমবায় স্টোরেজ ক্লাউড আর্কিটেকচারে।
  • উপাত্ত বিন্যস্তকরণ এবং রিডান্ডেন্সি জাতীয় ভুল সহিষ্ণু।
  • সংস্করণ কপি তৈরিতে অত্যন্ত টেকসই।
  • ডেটা প্রতিলিপিগুলো বিবেচনায় সাধারণত ইভেনচুয়ালি কনসিস্টেট (সামঞ্জস্যপূর্ণ)।

সুবিধাদি[সম্পাদনা]

  • যতটুকু স্টোরেজ ব্যবহার করা হয় ততটুকুর মূল্য কোম্পানিকে পরিশোধ করতে হয়, তা সাধারণত এক মাসের গড় খরচ। এটি দ্বারা বোঝায় না যে এটি কম ব্যয়বহুল,শুধুমাত্র এটি মূল খরচের চেয়ে অপারেটরের খরচ বোঝায়।
  • ব্যবসায়ে ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবহারে ৭০% পর্যন্ত এনার্জি খরচ কমায় যা আরো টেকসই ব্যবসায় পরিণত করে। এছাড়াও তারা বিক্রি পর্যায়ে পুরোদমে বাণিজ্য করতে পারবে ও পরিচালনা গুছিয়ে করতে পারবে, যাতে তারা নিজেদের খরচ কমাতে পারে।
  • সংস্থাগুলো অফ-প্রিমিসেস ও অন-প্রিমিসেস ক্লাউড স্টোরেজের মধ্যকার যেকোনো একটি বা উভয়ের মিশ্রন বাছাই করতে পারবে।

সম্ভাব্য উদ্বেগ[সম্পাদনা]

অ্যাটাক সারফেস এরিয়া[সম্পাদনা]

আউটসোর্সিং ডাটা স্টোরেজ অ্যাটাক সারফেস এরিয়া বৃদ্ধি করে।

সরবরাহকারীর স্থায়িত্ব[সম্পাদনা]

কোম্পানিগুলো স্থায়ী নয় ও তারা যে পণ্য ও সেবা দিয়ে থাকে তা পরিবর্তিত হতে পারে। অন্য কোম্পানির আউটসোর্সিং ডাটা স্টোরেজ সতর্কতার সাথে তদন্ত করতে হবে এবং কিছুই কখনও নির্দিষ্ট নয়। চুক্তিপত্র অর্থহীন হয়ে যেতে পারে যদি কোম্পানির অস্তিত্ব বা এর পরিস্থিতি বদলে যায়। কোম্পানিঃ

  1. দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে।
  2. তাদের ফোকাস বর্ধিত ও পরিবর্তিত হতে পারে।
  3. বড় কোম্পানির নিকট বিক্রি হয়ে যেতে পারে।
  4. কোম্পানির সদর দপ্তরে বিক্রি হতে পারে বা অন্য কোনো দেশে চলে যেতে পারে যা রপ্তনী নিষেধাজ্ঞার সাথে সম্মতি বাতিল হতে পারে এবং এভাবে পদক্ষেপ আবশ্যিক হতে পারে।
  5. বড় ধরনের কোনো সমস্যায় পড়তে পারে।

প্রবেশযোগ্যতা[সম্পাদনা]

অন্যান্য উদ্বেগ[সম্পাদনা]