ক্লাউড কম্পিউটিং

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
Cloud computing logical diagram

ক্লাউড কম্পিউটিং (Cloud Computing) হচ্ছে কম্পিউটার রিসোর্স যেমন- কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার, নেটওয়ার্ক ডিভাইস প্রভৃতি ব্যবহার করে কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে (বিশেষত ইন্টারনেট) কোনো সার্ভিস বা সেবা প্রদান করা। ক্লাউড কম্পিউটিং কোনো নির্দিষ্ট টেকনোলজি নয়, বেশ কয়েকটি টেকনোলজিকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করা একটা ব্যবসায়িক মডেল বা বিশেষ পরিসেবা। এই মডেলে ব্যবহারকারী বা ক্রেতার চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে বেশ কিছু চলমান প্রযুক্তির সমন্বয়ে বিভিন্ন রিসোর্স এবং সার্ভিস বিশেষভাবে বাজারজাত করা হয় বা ক্রেতার কাছে পৌঁছে দেয়া হয়। ই উন্নত পরিসেবাটি কিছু কম্পিউটারকে গ্রিড সিস্টেম এর মাধ্যমে সংযুক্ত রাখে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং (NIST) অনুসারে ক্লাউড কম্পিউটিং এর সংজ্ঞা নিম্নরূপ-

"Cloud computing is a model for enabling ubiquitous, convenient, on-demand network access to a shared pool of configurable computing resources (e.g., networks, servers, storage, applications, and services) that can be rapidly provisioned and released with minimal management effort or service provider interaction."

অর্থাৎ বিভিন্ন ধরনের রিসোর্স যেমন- নেটওয়ার্ক, সার্ভার, স্টোরেজ, প্রোগ্রাম ও সেবা প্রভৃতি সহজে, ক্রেতার সুবিধা মতো, চাহিবামাত্র ও চাহিদা অনুযায়ী ব্যবহার করার সুযোগ প্রদান বা ভাড়া দেয়ার সিস্টেমই হলো ক্লাউড কম্পিউটিং।

উপবিষয়শ্রেণীসমূহ[সম্পাদনা]

ক্লাউড কম্পিউটিং কম্পিউটিং শক্তি, অনলাইন পরিসেবা, ডাটা অ্যাক্সেস এবং ডাটা স্পেস প্রদান করে যেখানে পরিসেবাগুলি ব্যবহারে ক্লাউড কম্পিউটিং বিষয়ে গভীর ভাবে জানার দরকার পড়েনা, পরিসেবা হিসাবে যে কেউ ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবহার করতে পারেন। ঠিক যেমন বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে বিদ্যুৎ কী করে সংগৃহীত হয় তা জানার দরকার হয় না। ক্লাউড কম্পিউটিং কম্পিউটার ব্যবহারের কতগুলো সমন্বিত উপাদানের সম্মিলিত প্রয়াস যা কিছু সাধারণ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য কাজ করে।


ক্লাউড কম্পিউটিং এবং সম্মিলিত প্রযুক্তি[সম্পাদনা]

ক্লাউড কম্পিউটিং এর সাথে তুলনা করা হয়ে থাকে :

  • গ্রিড কম্পিউটিং
  • প্যারালাল কম্পিউটিং
  • ডিস্ট্রিবিউটেড কম্পিউটিং

ডিস্ট্রিবিউটেড, গ্রিড কম্পিউটিং এবং প্যারালাল কম্পিউটিং এর সাথে ক্লাউড কম্পিউটিং এর চরিত্রগত মিল কম।[১]

বৈশিষ্ট্য[সম্পাদনা]

The National Institute of Standards and Technolo (NIST) - ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের নিুলিখিত ৫টি প্রধান বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন-

  1. On-demand Self-service: ক্রেতা চাহিবা মাত্রই সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সার্ভিস বা সেবা দিতে পারবে। ক্রেতা তার ইচ্ছামতো যখন খুশি তার চাহিদা বাড়াতে কমাতে পারবে। যেমন- ক্রেতা সার্ভার ব্যবহারের সময়, নেটওয়ার্ক স্টোরেজ প্রভৃতি তার চাহিদা বা প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করতে পারবে।
  2. Broad Network Access: ক্রেতা একটা স্ট্যান্ডার্ড বা সার্বজনীন প্রযুক্তিতে ব্যবহারযোগ্য ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশ কিংবা ভিন্ন ধরনের প্রযুক্তি পণ্য ব্যবহার করে নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে সক্ষম হবে হবে। যেমন- ব্যবহারকারী একই সাথে মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট, ল্যাপটপ, ওয়ার্কস্টেশন প্রভৃতি ডিভাইস ব্যবহার করার সুবিধা পাবে।
  3. Resource Pooling: ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী নেটওয়ার্ক রিসোর্স যেমন- কম্পিউটার হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, নেটওয়ার্ক ডিভাইস প্রভৃতি সংস্থাপন, পরিবর্তন বা আপগ্রেট করতে পারবে।
  4. Rapid Elasticity: ব্যবহারকারী যেকোনো  সময় তার চাহিদার প্রেক্ষিতে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক যেকোনো  সুযোগ-সুবিধা, সেবার পরিধি, প্রভৃতি দ্রুত ও যথোপযুক্তভাবে নির্ধারণ করা বা পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখতে পারবে। অনেকক্ষেত্রে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পপাদন করার ব্যবস্থা রাখা যায়।
  5. Measured Service: বিভিন্ন পর্যায়ে ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ ও রক্ষণাবেক্ষেণের কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করা যায়।  যেমন- স্টোরেজ প্রসেসিং, নেটওয়ার্ক ব্যান্ডউইথ, ইউজার অ্যাকাউন্ট প্রভৃতি কাজ সহজভাবে ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করা যায়। বিভিন্ন রিসোর্সের কাজ, ক্ষমতা ও ব্যবহারের মাত্রা নিরূপণ প্রভৃতি কাজ সার্ভিস প্রোভাইডার ও ব্যবহারকারী  উভয়ই দিক থেকে পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

ক্লাউড কম্পিউটিং এর ইতিহাস শুরু ১৯৬০ সাল থেকে।[২] ২০১০ সালে The Rackspace Cloud এবং NASA মুক্ত অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস ব্যবহার শুরু করে।[৩][৪] এভাবেই ক্লাউড কম্পিউটিং জন সাধারণের মুঠোয় আসতে শুরু করে।[৫]

ক্লাউড কম্পিউটিংয়ে ব্যবহৃত প্রযুক্তিগত ধারণা ভার্চুয়ালাইজেশনের জন্ম সেই ষাটের দশকে। সে সময় কোনো একটি কোম্পানি Multics নামের একটি অপারেটিং সিস্টেম বানানোর পরিকল্পনা করেছিলো, প্রাথমিক দিকে ধারণাটি ছিল এমন, প্রতি শহরে একটি বা দুইটি মেগা কম্পিউটার থাকবে, আর ইলেকট্রিকের বা ডিশের লাইন নেয়ার মতো সবাই সেখান থেকেই কম্পিউটারের লাইন নিবে। প্রত্যেকে ঘরে শুধু থাকবে টিভির মতো একটি যন্ত্র ও কীবোর্ড। মূলত সেযুগে নেটওয়ার্ক ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে এবং পার্সোনাল কম্পিউটারের দাম কমে যাবার ফলে “কম্পিউটারের লাইন” নেয়ার প্রয়োজনীয়তা কমে যায়। ফলে সে সময় ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের প্রাথমিক পরিকল্পনা সফল হয়নি।

নব্বই দশকের দিকে শুরু হয় গ্রিড কম্পিউটিংয়ের ধারণা। তখনকার সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গবেষণার জন্য নতুন করে কেন্দ্রীয় কম্পিউটার ব্যবস্থার প্রয়োজীনয়তা দেখা দেয়। তখন যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি সুপার কম্পিউটার সেন্টারে বড় বড় কম্পিউটার ক্লাস্টার বসানো হয়েছিল। যেমন- Oak Ridge National Lab, National Center for Supercomputing Applications, San Diego Supercomputing Center ইত্যাদি। এসব কম্পিউটার ব্যবহার করে  বিজ্ঞানীরা নানা ধরণের গবেষণা করতেন। প্রতিটি ক্লাস্টারে ছিল ১ হাজার থেকে শুরু করে ২০-৩০ হাজার কম্পিউটার নোড। কিন্তু সমস্যাটা ছিল এরকম, এগুলো ব্যবহার করতে হলে ঐ সুপারকম্পিউটার সেন্টারে অ্যাকাউন্ট পেতে হবে, আর কম্পিউটার ব্যবহারের জন্য রীতিমত আবেদন করে জানাতে হতো। তার উপরে ধীরে ধীরে বিজ্ঞানীদের আরো অনেক বেশি প্রসেসর বা কম্পিউটার নোডের প্রয়োজন হতে থাকলো। তখন একটি সুপারকম্পিউটার সেন্টারে এতগুলো কম্পিউটার ছিল না।

এই সমস্যাটা এড়াবার জন্য কম্পিউটার বিজ্ঞানীরা ভাবলেন, ইলেকট্রিক পাওয়ার গ্রিডের মতোই একটা জাতীয় কম্পিউটার গ্রিড বানানো হবে। অর্থাৎ এই বিচ্ছিন্ন সুপারকম্পিউটারগুলোকে একই সিস্টেমের অধীনে নিয়ে আসা হলো, আর আলাদা আলাদা অ্যাকাউন্টের বদলে কেন্দ্রীয়ভাবে সব কাজ করা হলো। ফলে কোনো বিজ্ঞানীর অনেক কম্পিউটারের দরকার হলে একাধিক সেন্টারের কম্পিউটার ক্লাস্টার থেকে সেটা দেয়ার সহজ ব্যবস্থা হলো। এই সিস্টেমের নাম দেয়া হলো টেরাগ্রিড। আর এই পদ্ধতির মাধ্যমে কম্পিউটার ব্যবহারের নাম দেয়া হলো গ্রিড কম্পিউটিং, যা থেকে মূলত তৈরি হয় ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ধারণা। ২০০৫-৬ সাল থেকে শুরু হয় আমাজন ডট কমের ইলাস্টিক কম্পিউটিং ক্লাউড বা (EC2)। এর পর থেকে আইবিএম, মাইক্রোসফট, গুগল থেকে শুরু করে অনেক কোম্পানি ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবসার সাথে জড়িত হয়ে পড়ে।

নামকরণ[সম্পাদনা]

ক্লাউড মানে মেঘ, রূপক ধর্মী হিসাবে শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছিলো।[৬][৭] ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ক্ষেত্রে  সার্ভিস দাতার তত্ত্বাবধানে সকল কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার থাকবে, ক্রেতা বা ব্যবহারকারী শুধু ছোট ও কম খরচের একটি ডিভাইসের মাধ্যমে তারমাধ্যম বা তারবিহীন মাধ্যমে সার্ভিসদাতার মূল কম্পিউটার বা সার্ভারের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে কম্পিউটিংয়ের কাজ সম্পদন করে থাকে। মূল কম্পিউটার যেহেতেু ক্রেতা বা ব্যবহারকারী থেকে অনেক দূরে থাকে ফলে সার্ভিসদাতার অবকাঠামো, রিসোর্সসমূহ সব প্রক্রিয়া ক্রেতা বা ব্যবহারকারীর কাছে অনেকটা অদৃশ্যমান মনে হয়। ফলে ক্রেতা বা ব্যবহারকারীর কাছে এসব সার্ভিস অনেকটা মেঘ (Cloud) কিংবা কল্পনার কোনো রাজ্য থেকে পাওয়ার মতো মনে হয়। নেটওয়ার্ক ডায়াগ্রাম আঁকার সময়ে ক্রেতা ও সার্ভারের মাঝের ইন্টারনেটের অংশটিকে অনেক আগে থেকেই মেঘের (Cloud) ছবি দিয়ে বোঝানো হতো। আবার সিস্টেম ডায়াগ্রামে জটিল সাংগঠনিক কোনো বিষয় সম্পর্কে ধারণার জন্য ক্লাউড বা মেঘের মতো প্রতীক ব্যবহার করা হয়। সেই থেকেই ক্লাউড কম্পিউটিং কথাটি এসেছে।

যেসব ক্রেতার অল্প সময়ের জন্য তথ্য রাখার জায়গা বা কম্পিউটার রিসোর্স ব্যবহারের প্রয়োজন, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় সর্বনিু বা শূন্য পর্যায়ে রাখার প্রয়োজন, সর্বশেষ প্রজন্মের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটার প্রয়োজন কিংবা অর্থের বিনিময়ে অন্যের তত্ত্বাবধানে তথ্য রাখার প্রয়োজন, মূলত তারাই ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের মাধ্যমে সেবাদাতার কাছ থেকে কম্পিউটার সার্ভিস বা স্টোরেজ স্পেস ভাড়া নিয়ে থাকেন।

এই পদ্ধতিতে ব্যবহারকারী থেকে সংগৃহীত উপাত্ত কম্পিউটার সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিশ্লেষণ ও প্রক্রিয়াকরণ করে  রিমোট (দূর বা বহুদূর থেকে) সার্ভিস প্রদান করা হয়।

সার্ভিসসমূহ (Services)[সম্পাদনা]

বিভিন্ন ধরনের মৌলিক কাঠামো অনুসারে ক্লাউড কম্পিউটিং নিুলিখিত ৪ ধরনের সার্ভিস দিয়ে থাকে। সার্ভিসগুলো হলো-

  1. অবকাঠামেগত সেবা (Infrastructure as a Service-IaaS): এখানে ভাড়া দেয়া হয় অবকাঠামো। মানে সার্ভারের উপরে যে ভার্চুয়াল মেশিন চালানো হয়, সেগুলোই ক্লায়েন্টরা ভাড়া নেয়। সেই মেশিনে ক্লায়েন্ট নিজের ইচ্ছামতো সফটওয়্যার বসাতে পারে। আমাজন ইলাস্টিক কম্পিউটিং ক্লাউড (EC2) এর উদাহরণ। (EC2)-তে ডেটা সেন্টারের প্রতি সার্ভারে ১ থেকে ৮টি ভার্চুয়াল মেশিন চলে, ক্লায়েন্টরা এইগুলো ভাড়া নেয়। ভার্চুয়াল মেশিনে নিজের ইচ্ছামতো উইন্ডোজ বা লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম বসানো যায়। ব্যাপারটা অনেকটা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে একটি কম্পিউটার দূর থেকে চালানোর মতো। কোন ধরনের সফটওয়্যার বসানো হবে, কীভাবে কাজ চালানো হবে, কম্পিউটারগুলো কীভাবে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করবে, সবকিছু ব্যবহারকারী নিজের ইচ্ছামত নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
  2. প্ল্যাটফর্মভিত্তিক সেবা (Platform as a Service-PaaS): এখানে সরাসরি ভার্চুয়াল মেশিন ভাড়া না দিয়ে ভাড়া দেয়া হয় প্ল্যাটফর্ম, যার উপরে ব্যবহারকারী অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করতে পারে। ক্লাউড প্রোভাইডার এখানে ভার্চুয়াল মেশিনগুলোর উপরে আরেকটা লেয়ার যোগ করতে পারে। ব্যবহারকারী  Application Programming Interface-API ব্যবহার করে এই প্ল্যাটফর্ম লেয়ারের নানা সার্ভিস কনফিগার ও ব্যবহার করতে পারে। গুগলের অ্যাপ ইঞ্জিন এর একটা উদাহরণ।
  3. সফটওয়্যার সেবা (Software as a Service-SaaS): এটি ক্লাউডভিত্তিক এমন একটা সেবা, যেখানে ইউজার ক্লাউডের উপরে চলছে এমন সফটওয়্যার ব্যবহার করছে। উদাহরণ হিসেবে Google Docs এর কথাই ধরা যাক। ইন্টারনেট ও ওয়েব ব্রাউজার ব্যবহার করে Google Docs দিয়ে মাইক্রোসফট অফিসের প্রায় সব কাজই করা যায় (যেমন- ডকুমেন্ট,  স্প্রেডশীট, প্রেজেন্টেশন)। গুগল এই অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারটি আমাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে। সফটওয়্যারটি চলছে গুগলের ক্লাউডের উপরে। এতে সুবিধা হলো, ব্যবহারকারীকে সিপিইউ বা স্টোরেজের অবস্থান, কনফিগারেশন প্রভৃতি জানা কিংবা রক্ষণাবেক্ষণ করার প্রয়োজন নেই। তাদের হাতে রেডিমেড সফটওয়্যার এবং সার্ভিস পৌঁছে যাচ্ছে। সফটওয়্যার কোথায়, কীভাবে চলছে তা গুগলের দায়িত্ব।
  4. নেটওয়ার্ক সেবা (Network as a Service-NaaS): এই সেবাটি নেটওয়ার্ক ব্যবহারকারীকে আন্তঃক্লাউড নেটওয়ার্ক বা ট্রান্সপোর্ট কানেকটিভিটি সুবিধা প্রদান করে। এটি ব্যবহৃত নেটওয়ার্ক ও কম্পিউটার রিসোর্স অনুযায়ী ব্যবহারকারীকে রিসোর্স ব্যবহারের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করে। এই সার্ভিসের বিভিন্ন মডেলের মধ্যে VPN (Virtual Private Network), BoD (Bandwidth on Demand), Mobile Network Virtualization উল্লেখযোগ্য।

সুবিধাসমূহ[সম্পাদনা]

ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের সুবিধাসমূহ (Advantages of Cloud Computing):

  1. অপারেটিং কস্ট বা পরিচালন ব্যয় হ্রাস: বড় কোনো কোম্পনির ক্লাউডে কম্পিউটার ভাড়া নিলে লোকাল মেশিন ব্যবহারে খরচ অর্ধেক হবে। তার উপরে সুবিধা হলো, অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটার চালাবার জন্য অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ বা কম্পিউটার কক্ষ ঠাণ্ডা রাখার প্রয়োজন নেই। অফিসে লো-কনফিগারেশনের কিছু মেশিন আর দ্রুতগতির ইন্টারনেট থাকলেই হবে। অফিসের  সাধারণ মানের কম্পিউটার দিয়ে ক্লাউডের ভার্চুয়াল মেশিনগুলোকে অ্যাক্সেস করা যাবে। যেহেতু মেশিনগুলো ভাড়াপ্রদানকারী কোম্পানির অধীনে, তাই সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ঝামেলা ও খরচ কোনোটিরই প্রয়োজন হবে না। উপরন্তু কোনো সময় অফিস বন্ধ থাকলে ক্লাউডের মেশিনগুলো ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। কারণ ক্লাউড কম্পিউটিং হচ্ছে নো-ইউজ-নো-পে মডেল।
  2. স্টাটআপ কস্ট বা প্রারম্ভিক খরচ হ্রাস : সাধারণত ব্যবসার শুরুতেই কোনো প্রতিষ্ঠানকে কম্পিউটার কেনার কাজে বিনিয়োগের একটা অংশ ব্যয় করতে হয়। অথচ ক্লাউড ব্যবহার করলে ভাড়ার ভিত্তিতে কম্পিউটার ব্যবহার করা যায়। ফলে একবারে অনেক অর্থ বিনিয়োগ করতে হচ্ছে না। ব্যবসায় ক্ষতি হলে বা ব্যবসায় পরিবর্তন করলে সহজেই ক্লাউড কোম্পানির সাথে ভাড়ার চুক্তি বাতিল করা যায়।
  3. ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কম পুঁজিতে ব্যবসা : ছোট কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি উদোগ্যে একটা ইন্টারনেটভিত্তিক সার্ভিস দিতে গেলে শুরুতেই সার্ভার ভাড়া নিতে হতো বা সার্ভার কিনতে হতো। এই প্রযুক্তির ফলে এখন কোনোটাই করা লাগবে না। ক্লাউড ব্যবহার করে শুধু মাসিক ভাড়ার টাকাটা হাতে নিয়েই স্বল্প র্পুঁজির যে কেউ ব্যবসা শুরু করতে পারে। গুগল, মাইক্রোসফট, ফেসবুক প্রভৃতির মতো বৃহৎ সার্ভিস দিতে কিছুদিন আগ পর্যন্ত প্রয়োজন হতো বড় একটা ক্লাস্টার বা ডেটা সেন্টার। কিন্তু বর্তমানে শুরুতে ক্লায়েন্ট বা ব্যবহারকারী কম থাকলে আমাজনের মতো প্রতিষ্ঠান থেকে ২/১টা সার্ভার ভাড়া নিলেই চলবে। ক্লায়েন্ট বাড়লে ক্লাউড থেকে বেশি সার্ভার ঘণ্টা হিসেবে ভাড়া  নেয়া যাবে। বিশেষ কোনো সময়ে কিংবা রাতে কম ব্যবহারকারী থাকলে সিস্টেম সেট-আপ করে সার্ভারের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা যায়। সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট টুইটারের যাত্রা শুরু হয়েছিল আমাজন ডট কমের ক্লাউড ব্যবহার করে।
  4. বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও গবেষকদের সুবিধা : কোনো বিষয়ে গবেষণার জন্য অল্প সময় বা মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য অনেক বেশি কম্পিউটার প্রয়োজন হলে ক্লাউড কম্পিপউটার ভাড়া দিয়ে সহজেই কাজটি সম্পন্ন করা যায়। ১০ বছর আগে হলে উন্নত বিশ্বের বৃহৎ গবেষণাগার ছাড়া এটা করা সম্ভব হতো না। কিন্তু এখন আমাজনের ক্লাউডে ঘণ্টায় মাত্র ২ সেন্ট দিয়ে কম্পিউটার ভাড়া করা যায়। উন্নয়নশীল বিশ্বের দেশগুলোর বিজ্ঞানীদের জন্য এটা একটা বড় সুযোগ। কম্পিউটার কেনার সামর্থ্য না থাকলেও ভাড়া নিয়ে সহজেই ও কম খরচেই গবেষণার কাজ করা যায়।


মডেল[সম্পাদনা]

বিভিন্ন ধরনের ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি মডেল হচ্ছে-

  1. পাবলিক ক্লাউড (Public cloud): পাবলিক ক্লাউড হলো এমন ক্লাউড, যা সবার জন্য উন্মুক্ত। অর্থাৎ যে টাকা দিবে, সেই সার্ভিস পাবে, এমন ক্লাউডকে বলা হয় পাবলিক ক্লাউড। যেমন- আমাজনের EC2। এসব ক্লাউডে সুবিধা হলো যে কেউ এর সেবা নিতে পারে। আর অসুবিধাটা হলো একই জায়গায় একাধিক ক্লায়েন্ট ব্যবহারের ফলে নিরাপত্তার সমস্যা হতে পারে।
  2. কমিউনিটি ক্লাউড (Community cloud: কমিউনিটি ক্লাউডও শেয়ার করা হয় অনেকের মাঝে, পাবলিক ক্লাউডের মতোই যে টাকা দেয়, সেই সার্ভিস পায়। তবে পার্থক্য হলো একটি ক্ষুদ্রতর কমিউনিটির লোকজনই এর সুবিধা নিতে পারে। ধরা যাক, ঢাকা সেনানিবাসে শুধু অফিসার ও সৈনিকদের জন্য একটা ক্লাউড বসানো হলো, তাহলে কেবল অফিসার ও সৈনিকরাই এর সার্ভিস নিতে পারবে। তখন এটি  পাবলিক ক্লাউড না হয়ে হবে প্রাইভেট ক্লাউড।  সুবিধা হলো, কমিউনিটির মধ্যে ইউজার সীমাবদ্ধ থাকে বলে এখানে সিকিউরিটির কোনো সমস্যা নেই। আর অসুবিধা হলো এখানে ক্লায়েন্টের সংখ্যা সীমিত বলে খরচ বেশি পড়ে।
  3. প্রাইভেট ক্লাউড (Private Cloud): প্রাইভেট ক্লাউডকে ক্লাউড বলা চলে কিনা এই নিয়ে মতভেদ আছে। এই রকম ক্লাউড হলো কোনো বড় সংস্থার নিজের নানা সার্ভিস চালাবার জন্য নিজের ডেটা সেন্টারকেই ক্লাউড মডেলে ব্যবহার করা। সমস্যা হলো, এতে খরচ অনেক বেশি পড়ে, নিজস্ব ডেটা সেন্টার বসাতে হচ্ছে এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নিজস্ব জনবল রাখার প্রয়োজন পড়ে। তবে বড় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এর সুবিধা হচ্ছে, কোনো বড় কোম্পানিতে ১০টা ডিপার্টমেন্ট থাকলে ১০টা ডেটা সেন্টার না বসিয়ে একটাকেই ক্লাউড মডেলে ভাগাভাগি করে ব্যবহার করা যাচ্ছে। ধরা যাক, বাংলাদেশ সরকার তার সব মন্ত্রণালয়ের কম্পিউটার ব্যবহারের খরচ কমাতে চায়। সে ক্ষেত্রে একটা সরকারি প্রাইভেট ক্লাউড ভালো সমাধান হতে পারে।
  4. হাইব্রিড ক্লাউড (Hybrid Cloud): হাইব্রিড ক্লাউড হলো পাবলিক আর প্রাইভেটের সংমিশ্রণ। এখানে প্রাইভেট ক্লাউড দিয়ে প্রাথমিক চাহিদা মেটানো হয়, আর প্রাইভেট ক্লাউডের ধারণক্ষমতা অতিক্রান্ত হয়ে গেলে পাবলিক ক্লাউডের সাহায্য নেয়া হয়। পাবলিক ক্লাউডের চেয়ে হাইব্রিড ক্লাউডের খরচ বেশি, কারণ স্থানীয়ভাবে অনেক স্থাপনা বানাতেই হচ্ছে। তবে স্থানীয়ভাবে কাজ করিয়ে নেয়ার সুবিধাগুলো থাকছে, তার সাথে অতিরিক্ত চাহিদা মেটানোরও একটা ব্যবস্থা এখানে থাকছে পাবলিক ক্লাউডে পাঠানোর মাধ্যমে।


ব্যবহার[সম্পাদনা]

ক্লাউড কম্পিউটিং আজকের দিনে খুব গুরুত্বপূর্ণ। গুগল এর বিভিন্ন প্রয়োগ - যেমন জিমেইল, পিকাসা থেকে শুরু করে পৃথিবীর আবহাওয়া বা কোনো দেশের আদমশুমারির মতো বিশাল তথ্য ব্যবস্থাপনা, ব্যবসায়িক, বৈজ্ঞানিক ইত্যাদি নানান ক্ষেত্রে এর অপরিসীম ব্যবহার। ২০০৫-৬ সাল থেকে শুরু হয় আমাজন ডট কমের ইলাস্টিক কম্পিউটিং ক্লাউড বা (EC2)। এর পর থেকে আইবিএম, মাইক্রোসফট, গুগল থেকে শুরু করে অনেক কোম্পানি ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবসার সাথে জড়িত হয়ে পড়ে। গুগল, মাইক্রোসফট, ফেসবুক প্রভৃতির মতো বৃহৎ সার্ভিস দিতে কিছুদিন আগ পর্যন্ত প্রয়োজন হতো বড় একটা ক্লাস্টার বা ডেটা সেন্টার। কিন্তু বর্তমানে শুরুতে ক্লায়েন্ট বা ব্যবহারকারী কম থাকলে আমাজনের মতো প্রতিষ্ঠান থেকে ২/১টা সার্ভার ভাড়া নিলেই চলবে। ক্লায়েন্ট বাড়লে ক্লাউড থেকে বেশি সার্ভার ঘণ্টা হিসেবে ভাড়া  নেয়া যাবে। বিশেষ কোনো সময়ে কিংবা রাতে কম ব্যবহারকারী থাকলে সিস্টেম সেট-আপ করে সার্ভারের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা যায়। সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট টুইটারের যাত্রা শুরু হয়েছিল আমাজন ডট কমের ক্লাউড ব্যবহার করে। সর্বোপরি যোগাযোগ ক্ষেত্রে এটি চিকিৎসা ও মানবকল্যাণেও এটি এক অনন্য সঙ্গী। এক কথায় ক্লাউড কম্পিউটিং এনেছে অনন্য বিপ্লব।

বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে অবশ্য ক্লাউডের সুবিধা পেতে হলে কিছু সমস্যা এখনো রয়েছে। যেমন- ক্রেডিট কার্ড ব্যবস্থা সহজলভ্য না হওয়া, ইলেকট্রনিক মানি ট্রান্সফারের  ব্যবস্থা না থাকা কিংবা উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ না থাকা প্রভৃতি। ক্লাউড ডেটা সেন্টার বিদেশে থাকতে হবে এমন কথা নেই। কম খরচে কম্পিউটার কিনে বাংলাদেশেই ক্লাউড ডেটা সেন্টার বানানো সম্ভব। এতে সাবমেরিন ক্যাবল কাটা যাওয়ার আশঙ্কা নেই কিংবা পেমেন্ট লেনদেনের ঝামেলা বা ঝুঁকি নেই।

টিকা[সম্পাদনা]

  1. "Cloud Computing, Distributed Computing and Grid Computing"। TheCustomizeWindows। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০৮-২৩ 
  2. Regulation of the Cloud in India, Ryan, Falvey & Merchant, Journal of Internet Law, Vol 15, No. 4 (October 2011).
  3. "Rackspace Open-Sources Cloud Platform, Joins NASA in Launch of OpenStack Project"। eWeek। ২০১০-০৭-১৯। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-০৯-১৭ 
  4. "OpenStack Turns One; What's Next For The Open Source Cloud?"। CRN। জুলাই ১৯, ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-০৯-১৭ 
  5. "How to grow your open source project 10x and revenues 5x? (slides 13 & 14)"। OSCON 2011। ২০১১-০৭-৩১। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-০৯-১৭ 
  6. "Writing & Speaking"। Sellsbrothers.com। ২০০৭-১০-০৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-০৮-২২ 
  7. "The Internet Cloud"। Thestandard.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-০৮-২২ 

Source: Higher Secondary ICT by Narandra Nath Biswas Publisher-Jahan Publiction Edition-2019