কৈলাশ নাথ কাটজু

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
কৈলাশ নাথ কাটজু
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী
কাজের মেয়াদ
১০ জানুয়ারী, ১৯৫৫ – ৩১ জানুয়ারী ১৯৫৭
পূর্বসূরীবলদেব সিং
উত্তরসূরীভি. কে. কৃষ্ণ মেনন
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী
কাজের মেয়াদ
২৫ অক্টোবর ১৯৫১ – ১০ জানুয়ারী ১৯৫৫
পূর্বসূরীসি। রাজাগোপালাচারী
উত্তরসূরীগোবিন্দ বল্লভ পন্থ
মধ্যপ্রদেশ এর তৃতীয় মুখ্যমন্ত্রী
কাজের মেয়াদ
৩১ জানুয়ারী, ১৯৫৭ – ১১ মার্চ ১৯৬২
পূর্বসূরীভগবত রাও মান্দলয়
উত্তরসূরীভগবত রাও মান্দলয়
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল
কাজের মেয়াদ
২১ জুন, ১৯৪৮ – ১ নভেম্বর ১৯৫১
পূর্বসূরীসি। রাজাগোপালাচারী (ভারপ্রাপ্ত)
উত্তরসূরীহরেন্দ্র কুমার মুখারজী
ওড়িশার রাজ্যপাল
কাজের মেয়াদ
১৫ আগস্ট ১৯৪৭ – ২০ জুন ১৯৪৮
পূর্বসূরীচান্দুলাল মাধবলাল ত্রিবেদী
উত্তরসূরীআসফ আলি
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্মকৈলাশ নাথ কাটজু
(১৮৮৭-০৬-১৭)১৭ জুন ১৮৮৭
জাওরা, জাওরা স্টেট, মালওয়া রাজ্য, ব্রিটিশ ভারত
( বর্তমান মধ্য প্রদেশ, ভারত)
মৃত্যু১৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৮(1968-02-17) (বয়স ৮০)
এলাহাবাদ, উত্তর প্রদেশ, ভারত
জাতীয়তাভারতীয়
রাজনৈতিক দলভারতের জাতীয় কংগ্রেস
দাম্পত্য সঙ্গীরূপ কিশোরী
সন্তান৫; অন্যতম শিব নাথ কাটজু
পেশাটেমপ্লেট:উকিল

কৈলাশ নাথ কাটজু (১৭ জুন ১৮৮৭ - ১৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৮) ভারত এর একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ছিলেন। তিনি ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল, মধ্য প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপালন করেছেন বিভিন্ন সময়ে।তিনি ছিলেন তদানীন্তন ভারতের অন্যতম বিখ্যাত আইনজীবী। তিনি বিখ্যাত INA ট্রায়াল সহ তার বারের অনেক চিত্রাকর্ষক মামলায় তার ভূমিকা ছিল। ডাঃ কাটজু ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নেন এবং সহযোদ্ধাদের সাথে বেশ কয়েক বছর বন্দী থাকেন।

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

কৈলাশ নাথ কাটজু ১৭৮৭ সালের ১৭ জুন জাওরা, অধুনা মধ্য প্রদেশএ, রাজ্যে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পরিবার জাওরাতে বসতি স্থাপন করা কাশ্মিরী পণ্ডিতবংশ ছিল;তার পিতা ত্রিভুবন নাথ কাটজু জাওরা রাজ্যের প্রাক্তন দেওয়ান ছিলেন[১]। তিনি জাওরার বার হাই স্কুলে শিক্ষাজীবন শুরু করেন এবং পরবর্তী কালে তাঁকে লাহোরএ পাঠানো হয় রঙমহল হাই স্কুলে শিক্ষাগ্রহণ করার জন্যে। তিনি পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ১৯০৫ সালে লাহোরে ফরমান ক্রিশ্চিয়ান কলেজ থেকে স্নাতক হন[২]। সে বছরই জুলাই মাসে তিনি এলাহাবদএ মুয়ির সেন্ট্রাল কলেজে যোগদান করেন।১৯০৭ সালের সেপ্টেম্বরে, তিনি এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাচেলর অফ ল ডিগ্রী লাভ করেন এবং প্রদেশে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। ১৯০৮ সালে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনি প্রথমে কানপুর এ আইন ব্যবসা শুরু করেন ও ১৯১৪ সালে এলাহাবাদে চলে যান[১] তিনি ১৯১৯ সালে এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলডি আইন ডক্টরেট অফ লডিগ্রী অর্জন করেন এবং ১৯২১ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্টে একজন আইনজীবী হিসেবে যোগদান করেন।.[২]

কর্ম জীবন[সম্পাদনা]

কাটজু ১৯৩৩ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্টে মীরাট ষড়যন্ত্র মামলাতে অভিযুক্তের পক্ষে দাঁড়ান এবং পরবর্তীকালে দিল্লিতে ভারতীয় রেড ফোর্ট, INA ট্রায়াল এ অভিযুক্ত সামরিক কর্মকর্তাদের পক্ষে দাঁড়িয়ে লড়াই করেন। ১৯৩৭ সালের ১৭ই জুলাই তিনি গোবিন্দ বল্লভ পন্থ এর আগ্রা ও আউধ যুক্তরাষ্ট্রের মন্ত্রিসভায় আইন ও বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী হন।তিনি এলাহাবাদ জেলার (দোবা) আসন থেকে আইন পরিষদে নির্বাচিত হন[৩] । ১৯৩৯ সালের ২রা নভেম্বর মন্ত্রিসভা পদত্যাগ করে এবং শীঘ্রই কাটজুকে ১৮ মাসের কারাদণ্ডে দন্ডিত করা হয়। তিনি আবার 194২ সালে কারারুদ্ধ হন। তিনি ১৯৩৫ থেকে ১৯৩৭ সালের মধ্যেভারতের সংবিধান সংশোধনী কমিটিতেও কাজ করেন। তিনি এলাহাবাদ মিউনিসিপাল করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, এবং পরবর্তীতে প্রয়াগ মহিলা বিদ্যাপীঠের অধ্যক্ষ হিসাবেও কাজ করেন [২]। ভারতে স্বাধীনতার পর কাটজু অনেক রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করেন। প্রাথমিকভাবে তিনি ১৫ই আগস্ট ১৯৪৭ থেকে ২০ জুন ১৯৪৮ পর্যন্ত ওড়িশার রাজ্যপালের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ১৯৪৮ সালের ২১শে জুন তিনি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে নিযুক্ত হন এবং ৩১শে অক্টোবর ১৯৫১ পর্যন্ত অফিসে ছিলেন। ১৯৫১ সালে তিনি [[মান্দসৌর (লোকসভা কেন্দ্র)] মান্দসৌর]] থেকে নির্বাচিত হন এবং জওহরলাল নেহেরু মন্ত্রিসভায় যোগদান করেন আইনমন্ত্রী হিসেবে। ১৯৫১ সালের নভেম্বরে তিনি সি। রাজগোপালচারীর পরে ভারতের তৃতীয় [[স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী (ভারত)] স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী]] হিসেবে দায়িত্ব নেন। ১৯৫৫ সালে তিনি [[প্রতিরক্ষা মন্ত্রী (ভারত)] প্রতিরক্ষা মন্ত্রী]] হন। ১৯৫৭ সালের ৩১শে জানুয়ারি তিনি মধ্য প্রদেশ -এর মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন এবং ১৯৬২ সালের ১১ই মার্চ অবধি এই পদে আসীন থাকেন। এছাড়াও তার দায়িত্বে ছিল সাধারণ প্রশাসন, স্বরাষ্ট্র , প্রচার, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন, সমন্বয় ও দুর্নীতিদমন বিভাগ সমুহ[৪]

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

কাটজু এবং তার স্ত্রী রূপ কিশোরী পাঁচ সন্তানের পিতামাতা ছিলেন: তিন পুত্র ও দুই কন্যা। [১][২]। পুত্র শ্রী ব্রহ্মনাথ কাটজু এলাহাবাদ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ছিলেন । [৫]। জ্যেষ্ঠ পুত্র, শিবনাথ, একই আদালতে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং উত্তরপ্রদেশ আইন পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। কৈলাশ নাথের নাতি, মার্কণ্ডেয় কাটজু, ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কৈলাশ নাথের কন্যা এক বাঙালি পরিবারে বিয়ে করেন এবং তার কন্যা তিলোত্তমা থারুর নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন যিনি রাজনীতিবিদ এবং প্রাক্তন কূটনীতিক শশী থারুরর প্রথম স্ত্রী । ১৯৬৭ সালের গ্রীষ্মে কাটজু কিডনির অসুখে আক্রান্ত হন এবং আরোগ্য লাভ করেন; আবার ১৯৬৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ৭ই সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭ঃ৫৫ ভারতীয় স্ট্যান্ডার্ড টাইম তে এলাহাবাদএ তার নিজ বাসস্থানে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন [৬]

প্রকাশিত রচনা[সম্পাদনা]

ডাঃ কৈলাশ নাথ কাটজু বেশ কয়েকটি বই লিখেছেন, যার মধ্যে কিছু আছে:

  • এক্সপেরিমেন্টস ইন অ্যাডভোকেসিঃ আ কলোসাস ইন দ্য কোর্টস অফ জাস্টিস
  • দ্য ডেস আই রিমেম্বার
  • রেমিনিসেন্স অ্যান্ড এক্সপেরিমেন্টস ইন অ্যাডভোকেসি

তিনি অনেক নিবন্ধ লিখেছিলেন এবং অনেক স্মরণীয় বক্তৃতাও দিয়েছেন, যার মধ্যে নিম্নলিখিতগুলি রয়েছেঃ

  • সাম জাজেস অ্যান্ড লইয়ারস আই নিউ [৭]
  • এলাহাবাদ উচ্চ আদালত বিল্ডিং এর সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে ১৯৬৬ সালের ২৭শে নভেম্বর প্রদত্ত বক্তৃতা [৮]

ন্যাশনাল হেরাল্ড প্রতিষ্ঠা[সম্পাদনা]

তিনি ছিলেন অ্যাসোসিয়েটেড জার্নাল্স লিমিটেডের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং মেমোরেন্ডাম অফ অ্যাসোসিয়েশন সংস্থা যারা ন্যাশনাল হেরাল্ড এবং অন্যান্য দুটি সংবাদপত্র প্রকাশ করত, তাদের সাতজন মূল গ্রাহকের মধ্যে একজন। ২০১২ সালে সোনিয়া গান্ধী ও তার ছেলে রাহুল গান্ধী এবং আরো দুইজন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি কোম্পানির দ্বারা তাঁর শেয়ার বিলোপ করা হয়। দিল্লিতে একটি আদালতে সোনিয়া ও রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে এই বিষয়ে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের একটি আইনি মামলা রয়েছে। [৯]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Members Bioprofile: Katju,Dr. Kailas Nath"Lok Sabha। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ 
  2. Reed, Stanley (১৯৫০)। The Indian And Pakistan Year Book And Who's Who 1950Bennett Coleman and Co. Ltd.। পৃষ্ঠা 698। সংগ্রহের তারিখ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ 
  3. Reed, Stanley (১৯৪১)। The Indian Year Book 1940-41Bennett Coleman and Co. Ltd.। পৃষ্ঠা 132। সংগ্রহের তারিখ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ 
  4. India: A Reference Annual 1960Ministry of Information and Broadcasting। ১৯৬০। পৃষ্ঠা 419। সংগ্রহের তারিখ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ 
  5. "Hon'ble Mr. Brahma Nath Katju"। allahabadhighcourt.in। ৭ অক্টোবর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ 
  6. "Katju cremated"। The Indian Express। Press Trust of India। ১৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৮। পৃষ্ঠা 9। 
  7. http://www.dadinani.com/capture-memories/read-contributions/life-back-then/180-judges-and-lawyers-i-knew-by-kn-katju
  8. http://www.allahabadhighcourt.in/event/Speech_by_Dr_Kailas_Nath_Katju27-11-66.html
  9. http://www.msn.com/en-in/news/national/ajl-did-not-inform-us-or-obtain-approval-for-equity-transfer-say-shareholders/ar-AAgj3oz?li=AAggbRN