কাটারিভোগ চাল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

কাটারিভোগ বাংলাদেশের একটি সুগন্ধি চাল। এটি প্রধানত দিনাজপুর এলাকায় পাওয়া যায়। দিনাজপুরের কাটারিভোগ বাংলাদেশের একটি ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য (জিআই)।[১]

বৈশিষ্ট্য[সম্পাদনা]

এই চাল দেখতে সরু ও লম্বা। এর অগ্রভাগ ছুরির মত একটু চোখা ও বাঁকা। এটি বাংলাদেশের সকল এলাকায় হয় না। এমনকি দিনাজপুরেও কেবল দিনাজপুর সদর উপজেলার ফাশিলাহাট, ছোট বাউল, বড় বাউল, করিমুল্যাপুর, খানপুর, চিরিরবন্দর উপজেলায় কাউগাঁ, বিষ্টপুর, তালপুকুর মুকুন্দপুর, দুর্গাডাঙ্গা, ভিয়াইল, পশ্চিম বাউল ও কাহারোল উপজেলার দু-একটি উঁচু জায়গায় এ বিশেষ জাতের ধান চাষ হয়। উঁচু বেলে-দোআঁশ মাটি কাটারিভোগ চাষের উপযোগী। [২]

ঐতিহাসিক কিংবদন্তি[সম্পাদনা]

কথিত আছে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব একবার দুর্নীতির অভিযোগে দিনাজপুরের রাজা প্রাণনাথকে নিজের দরবারে ডেকে পাঠান। প্রাণনাথ সম্রাটের জন্য বহুমূল্য রত্ন এবং কাটারিভোগ চাল উপঢৌকন নিয়ে যান। সম্রাট রত্নাদি উপহারের চেয়ে কাটারিভোগ চাল পেয়ে অধিক প্রসন্ন হন এবং খুশি হয়ে প্রাণনাথকে ‘মহারাজা’ উপাধি প্রদান করেন। [৩]

ব্যবহার[সম্পাদনা]

কাটারিভোগ চালের চিড়া প্রসিদ্ধ। এই চাল দিয়ে পোলাও, বিরিয়ানি, জর্দা, পায়েস, ফিরনি প্রভৃতি প্রস্তুত করা যায়। এই চাল সুগন্ধযুক্ত ও সুস্বাদু।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "জিআই সনদ পেলো আরও ছয় পণ্য, ইত্তেফাক, ১৮ জুন ২০২১"। ১৮ জুন ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জুন ২০২১ 
  2. "দিনাজপুরের কাটারিভোগ চালের ইতিহাস"chirirbandar.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৬-১৩ 
  3. "দেশজুড়ে সমাদৃত দিনাজপুরের কাটারিভোগ"www.bd-pratidin.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৬-১৩