কাগমারী সম্মেলন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

কাগমারী সাংস্কৃতিক সম্মেলন ১৯৫৭ সালে অনুষ্ঠিত একটি বিশেষ তাৎপর্যবাহী জাতীয় সম্মেলন যা পরবর্তীতে পাকিস্তানের বিভক্তি এবং স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যূদয়ে বিশেষ ইঙ্গিতবহ ভূমিকা রেখেছিল।[১][২][৩]১৯৫৭ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টাঙ্গাইল জেলার কাগমারী নামক স্থানে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি আরম্ভ হয়।

আয়োজন[সম্পাদনা]

পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীকে মাওলানা ভাসানীর 'আসসালামু-আলাইকুম'[সম্পাদনা]

উক্ত সম্মেলনে ভাসানী পাকিস্তানি শাসকদের হুশিয়ার করে বলেন, যদি পূর্ব পাকিস্তানে শোষণ অব্যাহত থাকে তবে তিনি পশ্চিম পাকিস্তানকে “আসসালামু আলাইকুম ” জানাতে বাধ্য হবেন।

পাক-মার্কিন সামরিক চুক্তির বিরোধিতা[সম্পাদনা]

কাগমারী সম্মেলনে প্রদত্ব বক্তব্যে মওলানা ভাসানী শেষ পর্যায়ে রেগে উঠে শহীদ সোহরাওয়ার্দী কে লক্ষ্য করে বলেছিলেন,“শহীদ, তুমি আজ আমাকে পাক-মার্কিন সামরিক চুক্তি সমর্থন করতে বলছো। তুমি যদি আমাকে বন্দুকের নলের সামনে দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞাস করো, আমি বলবো, 'না'! তুমি যদি আমাকে কামানের সামনে দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞাস করো আমি বলবো 'না'! 'না'! তুমি আমাকে যদি আমার কবরে গিয়েও জিজ্ঞাস করো সেখান থেকে আমি চিৎকার করে বলবো, 'না'! 'না'!'”[৪]

কাগমারী সম্মেলনের ফলশ্রুতি[সম্পাদনা]

এই সভায় মওলানা ভাসানী তার বক্তৃতায় অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে বলেন, পূর্ববাংলা পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শাসকদের দ্বারা শোষিত হতে থাকলে পূর্ববঙ্গবাসী তাদের সালামু ওয়ালাইকুম জানাতে বাধ্য হবে। এছাড়া কাগমারী সম্মেলনে ভাসানী পাক-মার্কিন সামরিক চুক্তি বাতিলের দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী সেই দাবি প্রত্যাখান করলে ১৮ই মার্চ আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেন। একই বছর ২৫শে জুলাই তার নেতৃত্বে ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে 'ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি' (ন্যাপ) গঠিত হয়। ন্যাপ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ভাসানী প্রকাশ্যে বামপন্থী রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন এবং এর পর থেকে সবসময় বাম ধারার রাজনীতির সাথেই সংশ্লিষ্ট ছিলেন। ১৯৫৮-র ৭ই অক্টোবর দেশে সামরিক শাসন জারি হলে মার্শাল আইয়ুব খান ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে সকল রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ১২ই অক্টোবর মাওলানা ভাসানীকে কুমুদিনী হাসপাতাল থেকে গ্রেফতার করা হয়। ঢাকায় ৪ বছর ১০ মাস কারারুদ্ধ থাকেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Kagmari Conference"The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। ২০০৭-১১-১৩। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-১২-১৭ 
  2. "Seeds of independence sown at Kagmari Confce: speakers"New Age (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-১২-১৭ 
  3. "'Conspiracy on to tarnish image of Bhasani'"The New Nation (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-১২-১৭ 
  4. অধ্যাপক কে এ এম সা'দউদ্দিন বিরচিত 'কাগমারী সম্মেলন : আগে ও পরে' শীর্ষক। প্রবন্ধটি বদরুদ্দীন উমর কর্তৃক সম্পাদিত কাগমারী সম্মেলন স্মারকগ্রন্থ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]