ওয়ালিদ ইবনে আল-মুঘিরাহ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

আল-ওয়ালিদ ইবনে আল-মুঘিরাহ আল-মাখজুমি (আরবি: الوليد بن المغيرة المخزومي‎‎, al-Walīd ibn al-Mughīrah al-Makhzūmī) কুরাইশ গোত্রের বনু মাখজুম উপগোত্রের প্রধান ছিলেন। তার উপগোত্র যুদ্ধবিগ্রহে জড়িত ছিল।

পরিবার[সম্পাদনা]

তিনি আল-মুঘিরাহ ইবনে আব্দ আল্লাহ ইবনে উমর ইবনে মাখজুমের পুত্র।

পুত্রগণ
  1. খালিদ ইবনে আল-ওয়ালিদ[১]। তার মাতা লুবাবা আস-সুঘরা, যিনি হচ্ছেন, আল-আসমা বিনতে আল-হারিস ইবনে আল-হাযন ছিলেন ওয়ালিদের পত্নী। যাই হোক, তার বাবার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত খালিদ কিংবা তার ভাইদের মধ্যে কেউই ইসলাম গ্রহণ করেন নি।
  2. হিশাম ইবনে আল-ওয়ালিদ।
  3. ওয়ালিদ ইবনে আল-ওয়ালিদ
  4. আম্মারাহ ইবনে ওয়ালিদ বা, উমার।[২]

বিভিন্ন সূত্রে উমার ইবনে ওয়ালিদ ইবনে মুঘিরাহ নামে এক জনের কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে তিনি ওয়ালিদের পুত্র কিনা তা নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে।

কন্যা
  1. নাজিয়াহ বিনতে আল-ওয়ালিদ ইবনে আল-মুঘিরাহ। যিনি সাফওয়ান ইবনে উমাইয়াকে বিয়ে করেছিলেন।
  2. ফাতিমা বিনতে আল-ওয়ালিদ। যিনি বনু মাখজুম উপগোত্রের হারিস ইবনে হিশামকে বিবাহ করেছিলেন। ফাতিমা ছিলেন উম্মে হাকিমের মা, যিনি খালিদ ইবনে সাইদের পর ইকরিমা ইবনে আবু জাহলকে বিয়ে করেছিলেন।
ভাই
  1. আবু হুজাইফা ইবনে আল-মুঘিরাহ
  2. আবদুল্লাহ ইবনে আল-মুঘিরাহ
  3. আযওয়ার ইবনে আল-মুঘিরাহ
  4. আবু উমাইয়া ইবনে আল-মুঘিরাহ, যিনি উম্মে সালামার পিতা।
  5. ফাকিহা ইবনে আল-মুঘিরাহ, যিনি হিন্দ বিনতে উতবার প্রথম স্বামী ছিলেন।
  6. হিশাম ইবনে আল-মুঘিরাহ, যিনি ছিলেন আবু জাহেলের পিতা।
  7. আবু রাবিয়াহ ইবনে আল মুঘিরাহ।

ইসলাম পূর্ব ঘটনা[সম্পাদনা]

প্রাক-ইসলামী যুগে কুরাইশদের অন্যতম নেতা হিসেবে ওয়ালিদ ইবনে আল-মুঘিরা ছিলেন মক্কার অন্যতম ধনী ব্যক্তি। তার একটি বাণিজ্য কাফেলায় একই সময় আনুমানিক ১০০ টি উটের বহর ছিল বলে অনুমান করা হত। বলা হয় যে এই কাফেলা শুধুমাত্র শহরের একটি অংশ থেকে নয়, বরং মক্কার সকল অংশ থেকে একই সময়ে দোকানে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রবেশ করতে থাকতো।

ইসলামের প্রতি মনোভাব[সম্পাদনা]

যখন কুরাইশ নেতার দেখল যে, মুহাম্মাদ তাদের লক্ষ্য থেকে সরে যাওয়ার প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করে আবু তালিব, ওয়ালিদ ইবনে আল-মুঘিরাহ, পাশাপাশি উতবা ইবনে রাবিয়াহ, শায়বা ইবনে রাবিয়াহ, আবু সুফিয়ান ইবনে হার্ব, আবুল বাখতারি (আল-আস) ইবনে হিশাম, আল-আসওয়াদ ইবনে মুত্তালিব, আমর ইবনে হিশাম (আবু জাহল), নুবায়হ ইবনে আল-হাজ্জাজ, মুনাব্বিহ ইবনে আল-হাজ্জাজ এবং আল-'আস ইবনে ওয়া'ইলের সুরক্ষাধীনে থেকে একত্ববাদের প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে, তখন তারা আবু তালিবের কাছে গিয়ে তার ভ্রাতুষ্পুত্র মুহাম্মদকে তাদের খোদাকে অপমান না করার জন্য বোঝানোর জন্য আহ্বান করল। তারা এর পরিবর্তে তাঁকে তাদের রাজা হওয়ার প্রস্তাব এবং যত উচ্ছা তত সুন্দরী মহিলাদের বিয়ে করার প্রস্তাব দিল। এর জবাবে মুহাম্মদ উত্তর দিলো, “আল্লাহর নাম বলছি, তারা যদি আমার ডান হাতে সূর্য ও বাম হাতে চাঁদও এনে দেয়, তবুও আমি একত্ববাদের প্রচার থেকে পিছু হটবো না।”[৩]

আবু তালিব কোন ভাবেই মুহাম্মদের উপর হাল ছাড়বেন না বুঝতে পেরে কুরাইশ নেতারা ওয়ালিদের ছেলে উমরকে সাথে নিয়ে আবু তালিবের কাছে গিয়ে বললেন, “হে আবু তালিব, এটা হচ্ছে 'উমর, কুরাইশদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এবং সুদর্শন যুবক, তাই তুমি একে গ্রহণ কর। আপনি তার বুদ্ধিমত্তা এবং সমর্থনের সুবিধা পাবেন। তাকে পুত্র রূপে গ্রহণ কর এবং তোমার এই ভাগ্নেকে আমাদের কাছে ছেড়ে দাও, যে তোমার ধর্ম ও পূর্বপুরুষদের ধর্মের বিরোধিতা করেছে, তোমাদের জনগণের ঐক্য ছিন্ন করেছে এবং আমাদের জীবনযাত্রাকে উপহাস করেছে, যাতে আমরা তাকে মেরে ফেলতে পারি। এটাই হবে মানুষের জন্য মনুষ্যত্ব। কিন্তু আবু তালিব এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন।[৪]

মুহাম্মদ ৫৩ নং সূরা পাঠ করেন এবং মুসলমান ও বহুধর্মাবলম্বীরা সাম্প্রদায়িক ভাবে সেজদা করেন। ওয়ালিদ এতোই বৃদ্ধ ছিলেন যে তিনি সিজদা করতেও অক্ষম ছিলেন। তার বদলে তিনি এক মুঠো ময়লা নিয়ে তার উপর ঝুঁকে পড়লেন।[৫]

৬১৯ সালে ওয়ালিদ উসমান ইবনে মাযউনকে সুরক্ষা প্রদান করেন। যখন উসমান আল-ওয়ালিদের তত্ত্বাবধানে দিনরাত বসবাস রত অবস্থায় রসূলের সঙ্গীদের দুর্দশা দেখেন, তখন তিনি বললেন, "এটি আমার সহ্য ক্ষমতার বাইরে যে, আমার বন্ধুরা ঈশ্বরের দোহাই দিয়ে কষ্ট পায়।" তখন তিনি ওয়ালিদের কাছে গিয়ে তাঁর নিরাপত্তা ত্যাগ করলেন। ওয়ালিদ তাকে জনসম্মুখে তার সুরক্ষা ত্যাগ করতে বলেন, যেমনটা তিনি জনসম্মুখে দিয়েছিলেন। তাই উসমান জনসম্মুখে বললেন, "আমি তাকে তার সুরক্ষার প্রতি বিশ্বস্ত এবং সম্মানিত মনে করেছি, কিন্তু আমি আল্লাহ ছাড়া আর কারো কাছে নিরাপত্তা চাইতে চাই না; তাই আমি ওকে তার প্রতিজ্ঞা ফিরিয়ে দিচ্ছি।[৬]

ওয়ালিদ সম্পর্কে কুরআনের আয়াত[সম্পাদনা]

মৃত্যু[সম্পাদনা]

ওয়ালিদ জুলাই ৬২২ থেকে জুলাই ৬২৩ (প্রথম হিজরি) এর মধ্যে মারা যায়।[৭]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. at-Tabari (১৯৯৮)। The History of al-Tabari Vol. 39: Biographies of the Prophet's Companions and Their Successors। Translated and annotated by Ella Landau-Tasseron। Albany: State University of New York Press। পৃষ্ঠা 201–202। 
  2. The Sealed Nectar [১] on sunnipath.com
  3. Guillaume, p119
  4. Guillaume, p. 119.
  5. Guillaume, p. 166.
  6. Guillaume, p169
  7. Muhammad ibn Jarir al-Tabari. Tarikh al-Rusul wa'l-Muluk. Translated by McDonald, M. V. (1987). Volume 7: The Foundation of the Community, p. 6. Albany: State University of New York Press.