এ. টি. এম. আজহারুল ইসলাম
নায়েবে আমীর এ টি এম আজহারুল ইসলাম | |
|---|---|
| নায়েবে আমীর, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী | |
| কাজের মেয়াদ ফেব্রুয়ারি ২০১১ – ১২ আগস্ট ২০১২ | |
| রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য | |
দায়িত্বাধীন | |
| অধিকৃত কার্যালয় ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | |
| পূর্বসূরী | আহসানুল হক চৌধুরী |
| ব্যক্তিগত বিবরণ | |
| জন্ম | ১৯৫২ (বয়স ৭৩–৭৪) রংপুর জেলা, পূর্ববঙ্গ, পাকিস্তান অধিরাজ্য |
| জাতীয়তা | বাংলাদেশি |
| রাজনৈতিক দল | বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী |
| প্রাক্তন শিক্ষার্থী | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় |
| পেশা | রাজনীতিবিদ |
এ টি এম আজহারুল ইসলাম একজন বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ। তিনি বর্তমানে রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে-আমির নির্বাচিত হন। ২০১২ সালে ২২ আগস্ট তাকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।[১][২] পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২৭ মে উচ্চ আদালতের আপিলের ভিত্তিতে তিনি খালাস পান।[৩][৪] তিনি রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার বাতাসন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পূর্ব পাকিস্তান ইসলামী ছাত্র সংঘের সদস্য ছিলেন ও নবগঠিত বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখার প্রথম সভাপতি ছিলেন।
রাজনৈতিক জীবন
[সম্পাদনা]এ টি এম আজহারুল ইসলাম বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রথম সভাপতি ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৯৬, ২০০১, ও ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-২ (তারাগঞ্জ ও বদরগঞ্জ) আসন থেকে অংশ নেন।[৫]
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ ও বিচার
[সম্পাদনা]২০১২ সালের ২২ আগস্ট মগবাজার থেকে আজহারুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।[৬] আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) তার বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ গঠন করে, যার মধ্যে গণহত্যা, হত্যা ও অপহরণের অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত ছিল।[৭] সে সময় তিনি জামায়াতে ইসলামীর সহকারী মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।[৮]
তার বিরুদ্ধে মামলায় প্রসিকিউটর ছিলেন নূরজাহান বেগম মুক্তা।[৬] তার পক্ষে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন প্রবীণ আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক, মোহাম্মদ শিশির মনির এবং ইমরান সিদ্দিক।
বিচারে সাক্ষ্যপ্রমাণ হিসেবে একাধিক সাক্ষী উপস্থাপন করা হয়, যার মধ্যে একজন নারী সাক্ষী দাবি করেন যে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি রংপুর টাউন হলে নির্যাতনের শিকার হন।[৯][১০] ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আজহারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে।[১১][১২]
রায়ে উল্লেখ করা হয় যে, তিনি ঝাড়ুয়ারবিল গণহত্যাসহ কয়েকটি ঘটনায় সম্পৃক্ত ছিলেন বলে আদালত মনে করেছে, যেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ নিহত হয়েছিলেন।[১৩][১৪] তবে, অন্য কয়েকটি অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তিনি সে অংশে নির্দোষ বিবেচিত হন।[১১]
তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালের প্রধান ছিলেন বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম। অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক।[১১] রায় ঘোষণার পর ইসলাম বলেন, "আল্লাহ তোমাদের বিচার করবেন, ইনশাআল্লাহ"।[১১]
এই রায়ের পর জামায়াতে ইসলামী দুই দিনের ধর্মঘটের (হরতাল) ঘোষণা দেয়।[১১][১৫]
ইসলামের আইনজীবীরা বলেন যে, মামলাটি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত ছিল। তবে, ২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্ট তার আপিল খারিজ করে।[১৬] আপিল বিভাগের বেঞ্চের নেতৃত্বে ছিলেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।[১৭]
আপিলের সময় ইসলামের প্রধান আইনজীবী ছিলেন খন্দকার মাহবুব হোসেন, যিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতিবিদ ছিলেন।[১৭]
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং অন্যান্য মানবাধিকার সংগঠন মামলার বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং বিচারে অনিয়মের অভিযোগ তোলে।[১৮]
শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান ইসলামের মুক্তি দাবি করেন এবং দলটির নিবন্ধন পুনর্বহালের আহ্বান জানান।[১৯][২০]
দলের নেতাকর্মীরা এ টি এম আজহারুল ইসলামের মুক্তির দাবিতে গাজীপুর জেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে।[২১]
২০২৫ সালের ২৭ মে তিনি আপিল বিভাগ হতে সব অভিযোগ থেকে খালাস পান।[২২][২৩] এরপরের দিন তিনি জেল থেকে মুক্তি পান।[২৪][২৫]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলাম গ্রেপ্তার"। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জুন ২০১৩।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
- ↑ "এ টি এম আজহারের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমার নির্দেশ"। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জুন ২০১৩।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
- ↑ "মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস পেলেন জামায়াত নেতা আজহারুল"। দৈনিক প্রথম আলো। ২৭ মে ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মে ২০২৫।
- ↑ "জামাত নেতা আজহার খালাস"। banglanews24.com। ২৭ মে ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মে ২০২৫।
- ↑ "তদন্ত কর্মকর্তাকে এটিএম আজহারের তথ্য জানালো ইসি"। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জুন ২০১৩।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
- 1 2 "Jamaat leader Azharul held"। দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ২৩ আগস্ট ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- ↑ "Bangladesh upholds death sentence of Islamist chief Azharul Islam"। Al Jazeera (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩ অক্টোবর ২০২৪।
- ↑ Dandekar, Deepra। Boundaries and Motherhood: Ritual and Reproduction in Rural Maharashtra (ইংরেজি ভাষায়)। Zubaan। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৩-৮৫৯৩২-১০-৬।
- ↑ "Pregnant woman got no mercy"। দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- ↑ "He got pregnant woman raped"। দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ৪ মার্চ ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- 1 2 3 4 5 "Punished to the Maximum"। দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- ↑ "Killing Teachers"। দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- ↑ Grant, Peter (২ জুলাই ২০১৫)। State of the World’s Minorities and Indigenous Peoples 2015: Focus on cities (ইংরেজি ভাষায়)। Minority Rights Group। পৃ. ১৭০। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৯০৭৯১৯-৬৩-৩।
- ↑ "Jharuarbeel-Padmapukur genocide testifies crimes against humanity -"। The Daily Observer। সংগ্রহের তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- ↑ "Jamaat calls hartal for Wednesday, Thursday"। দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ৩০ ডিসেম্বর ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- ↑ "Crimes Against Humanity: SC upholds Azhar's death penalty"। দ্য ডেইলি স্টার। সংগ্রহের তারিখ ৩ অক্টোবর ২০২৪।
- 1 2 "Crimes Against Humanity: SC upholds Azhar's death penalty"। দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ১ নভেম্বর ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- ↑ "Bangladesh: Political leader at imminent risk of execution: ATM Azharul Islam"। Amnesty International (ইংরেজি ভাষায়)। ১৭ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ৩ অক্টোবর ২০২৪।
- ↑ "'Release Azharul, restore party registration'"। দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- ↑ "Release Azharul Islam or prepare to imprison 3 crore people: Jamaat chief to govt"। The Business Standard (ইংরেজি ভাষায়)। ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- ↑ "Jamaat stages protest in Gazipur, demands Azharul's release"। দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- ↑ "জামায়াত নেতা আজহার খালাস"। দৈনিক আজকের পত্রিকা। ৪ মে ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মে ২০২৫।
- ↑ "মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল, জামায়াত নেতা আজহার 'বেকসুর' খালাস"। বিডি নিউজ। ২৭ মে ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মে ২০২৫।
- ↑ "জামায়াত নেতা আজহারুল কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন"। প্রথম আলো। ২৮ মে ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মে ২০২৫।
- ↑ "মুক্তি পেলেন এ টি এম আজহারুল"। banglanews24.com। ২৮ মে ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মে ২০২৫।