এল পি জি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
LP gas cylinder in Bangladesh .JPG
LP gas Products in Bangladesh.JPG
Two ৪৫ কেজি (৯৯ পা) LPG cylinders in New Zealand used for domestic supply.
LPG minibuses in Hong Kong
এল পি জি চালিত গাড়ীর ইঞ্জিন
জাপান- এল পি জি চালিত ফর্কলিফট

লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এল পি জি অথবা এল পি গ্যাস) অর্থাৎ চাপে শীতলীকৃত জ্বালানী গ্যাস, এ সমস্ত নামে প্রোপেন বা বিউটেন কে বা এদের মিশ্রণকে ও নির্দেশ করা হয়। এটি মূলত দাহ্য হাইড্রোকার্বন গ্যাসের মিশ্রণ এবং জ্বালানী হিসেবে রন্ধন কার্যে, গাড়িতে ও ভবনের তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে (HVAC) ব্যবহ্রত হয়।

এটির ব্যবহার প্রপ্যাল্যান্ট গ্যাস [১] হিসেবে এবং শীতক যন্ত্রের রেফ্রিজারেন্ট হিসেবে[২] ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে বিভিন্ন কারযে সিএফসি গ্যাসের বিকল্প হিসেবে এল পি জি ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে বায়ুমন্ডলের ওজোন স্তরের ক্ষয় রোধ করা যায়। এছাড়া যখন গাড়িতে এল পি জি ব্যবহার করা হয় তখন "অটো গ্যাস" নামে অভিহিত হয়।

১৯১০ সালে আবিষ্কৃত হওয়ার পর ১৯১২ সালে বাণিজ্যিক রূপে উৎপাদন শুরু হয়। এটি জ্বলে শেষ হলে কোন অবশেষ থাকেনা এবং সালফার নির্গত হয়না , এজন্য মোট জ্বালানী শক্তির তিন শতাংশই বর্তমানে এল পি জি । এটি গ্যাসীয় হওয়ায় কোন পানি দূষণ বা ভূমির দূষণ ঘটেনা। এর ক্যালোরিফিক মান ৪৬.১ MJ/kg যেখানে ফার্নেস তৈলের জন্য এ মান ৪২.৫ MJ/kg পেট্রোল/গ্যাসোলিন এর জন্য ৪৩.৫ MJ/kg ।[৩] কিন্তু এর শক্তি ঘনত্ব প্রতি একক আয়তনে ২৬ MJ/L অন্যদের তুলনায় বেশ কম; কারণ এর আপেক্ষিক ঘনত্ব ফার্নেস তৈল (প্রায় ০.৫–০.৫৮ kg/L) ও পেট্রোল/গ্যাসোলিন (০.৭১–০.৭৭ kg/L) হতে কম।

এ গ্যাসের স্ফুটনাংক, কক্ষ তাপমাত্রার নিচে থাকে বিধায় দ্রুতই চাপ মুক্ত হয়ে বাতাসে মিশে যায়। তাপে বেড়ে গিয়ে যাতে বিস্ফোরণ না হয় সে লক্ষ্যে স্টীল নির্মিত আধারে সর্বোচ্চ চাপ সহনের মাত্রা পূর্ণ করার বদলে ৮০-৮৫% পূর্ণ করা যায়। চাপের ফলে তরল গ্যাস ও আবার বায়বীয় রুপে পরিবর্তন মোটামুটি ২৫০ঃ১ অনুপাত বজায় থাকে। "বাস্পীয় চাপ" নামক একটি মাত্রার চাপে এ গ্যাস তরল হয়ে থাকে, যার জন্য ২০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ বিউটেন এর ক্ষেত্রে ২২০ কিলো প্যাসকাল চাপ প্রয়োজন হয় এবং ৫০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ প্রোপেন এর ক্ষেত্রে ২২০০ কিলো প্যাসকাল চাপ প্রয়োজন হয়। এল পি জি, প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো নয়, বরং বাতাসের চেয়ে ভর বেশী হওয়ায় এটি নিচু স্থান ও বেজমেন্টে জমে থাকতে পারে। বিপদ সমুহ হল - বাতাসের সাথে ছড়িয়ে পড়ার পর আগুনের সংস্পর্শে জ্বলে উঠে, অন্যথায় অক্সিজেনের স্থান দখল করে অক্সিজেনের অভাবে শ্বাস রোধ করতে পারে।

ব্যবহার[সম্পাদনা]

রন্ধন কার্যে[সম্পাদনা]

তাপ উৎপাদন[সম্পাদনা]

গাড়ির জ্বালানী[সম্পাদনা]

শীতক[সম্পাদনা]

সহজ প্রাপ্যতা[সম্পাদনা]

২০১০-২০১২ সালের সমীক্ষা মতে বিশ্বের প্রাকৃতিক গ্যাসের (যা হতে এল পি জি পাওয়া যায়) প্রমাণিত মজুদ প্রায় ৩০০ ট্রিলিয়ন ঘন মিটার বা ১০৬০০ ট্রিলিয়ন ঘন ফুট বলে জানা যায়। এছাড়া অন্য একটি উৎস হল অপরিশোধিত খনিজ তৈল যাতে এর অপার সম্ভাবনার দিকটি বোঝা যায়। এল পি জি উৎপাদনের গড় প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ২.২% , ফলে এর সংকটের কোন আশংকা নেই বললেই চলে।

সিলিন্ডার ব্যাবহারের ইতিহাস[সম্পাদনা]

সিলিন্ডার উৎপাদনের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় ১৮৭০-১৮৮০ সালে কার্বন ডাই অক্সাইড পরিবহন করার জন্য সর্ব প্রথম বাণিজ্যিক ভাবে চালু করা হয়।

প্রাকৃতিক গ্যাসের সাথে তুলনামূলক সম্পর্ক[সম্পাদনা]

এল পি জি মূলত বিউটেন ও প্রোপেন এর সমন্বয়ে গঠিত হয়, অপরদিকে প্রাকৃতিক গ্যাসে থাকে লঘু ভরের মিথেন ও ইথেন.

এল পি জি-নির্ভর ব্যবস্থা উদ্ভাবিত হচ্ছে যেখানে এস এন জি (সিনথেটিক ন্যাচারাল গ্যাস) বা প্রাকৃতিক গ্যাস এর একইসাথে স্থানীয় ভাবে মজুদ ও বিতরণ নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে শহরের ৫০০০ এর অধিক বাড়ীতে সেবা দেয়া যায়। এতে বিভিন্ন দূরবর্তী স্থানে পরিবহনের খরচ কমানো সম্ভব। এ প্রযুক্তি বর্তমানে জাপানের শহর ও গ্রামগুলোতে বহুল ব্যবহ্রত হচ্ছে।

পরিবেশের উপর প্রভাব[সম্পাদনা]

বর্তমানে বাণিজ্যিক ভাবে ব্যবহ্রত এল পি জি কে জীবাশ্ম জ্বালানী হতে উৎপাদন করা হচ্ছে। সেহেতু এটি দহনের ফলে কার্বন ডাই অক্সাইড ( CO
2
) নির্গত হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে এটি কয়লার তুলনায় ৫০% কম কার্বন ডাই অক্সাইড ( CO
2
) নির্গত করে এবং প্রতি কিলোওয়াট-ঘন্টা শক্তি উৎপাদনের জন্য খনিজ তেল ও কয়লা এর যথাক্রমে ৮১% ও ৭০% ভাগের সমান কার্বন ডাই অক্সাইড ( CO
2
)নির্গত করে।

এল পি জি অন্য জীবাশ্ম জ্বালানী হতে কম দূষণ ঘটায় কারণ এটি দহনের ফলে কোন অবশেষ থাকেনা।

সম্ভাব্য অগ্নিকান্ড জনিত বিপদ ও সমাধান[সম্পাদনা]

এল পি জি কে প্রেশারাইজড ট্যাংকে রাখতে হবে, সকল পরিশোধনাগারে ও গ্যাস প্লান্টে এগূলো দেখতে পাওয়া যায়। এগূলোর আকৃতি গোলাকার ও আনুভুমিক ভাবে রাখা হয়। সাধারনত এদের নির্মাণ ও নকশা নির্দিষ্ট করার জন্য কতিপয় সংস্থা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে, এ ধরনের ধারা গুলো প্রণয়ন করে থাকে American Society of Mechanical Engineers (ASME).

প্রেশারাইজড ট্যাংক গুলোতে চাপ নির্গমণের জন্য প্রেশার রিলিফ ভালভ নামক বিশেষ পথ রাখা হয় যাতে অগ্নিকান্ড জনিত বিপদ হতে রক্ষা পাওয়া যায়।

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Alvi, Moin ud-Din। "Aerosol Propellant | Aerosol Propellant Gas | Aerosol Supplies Dubai – Brothers Gas"www.brothersgas.com। সংগৃহীত ২০১৬-০৬-১৪ 
  2. "Performance and Safety of LPG Refrigerants" 
  3. Horst Bauer, সম্পাদক (১৯৯৬)। Automotive Handbook (4th সংস্করণ)। Stuttgart: Robert Bosch GmbH। পৃ: 238–239। আইএসবিএন 0-8376-0333-1 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]