এলিস কমিশন রিপোর্ট

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

এলিস কমিশন রিপোর্ট হলো তৎকালীণ পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ঘটনা তদন্তের গঠিত বিচার বিভাগীয় কমিটি কর্তৃক পেশকৃত প্রতিবেদন।[১] এটি বাংলা ভাষা আন্দোলন সম্পর্কিত একমাত্র সরকারি ভাষ্য।[২] এতে কেবলমাত্র ২১ ফেব্রুয়ারি তারিখের ঘটনার ১৮ মিনিট সময়কালের উপর তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়া হয়।[১][২]

প্রস্তাবণা ও কমিশন গঠন[সম্পাদনা]

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তারিখের পর ২২ ফেব্রুয়ারি তারিখেও পুনরায় গুলি চালানো হলে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে এই গুলিবর্ষণের ঘটনার নিরপেক্ষ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের অংশগ্রহণমূলক তদন্ত কমিশন গঠন করে দোষীদের উপযুক্ত বিচার দাবি করা হয়।[১][৩] ফলশ্রুতিতে ১৯৫২ সালের ১৩ মার্চ সরকার একটি ঘোষণা প্রদাণ করে কমিশন গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং তাতে বলেন,[৩]

‘১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় যে গোলাগুলি হয়, মাননীয় প্রধান বিচারপতি কর্তৃক নির্ধারিত ঢাকা হাইকোর্টের একজন বিচারপতি কর্তৃক তার একটা তদন্ত হওয়া উচিত। এটি নিশ্চিত হওয়ার জন্য যে -

  1. পুলিশের গুলি করা অত্যাবশ্যকীয় ছিল কিনা।
  2. পরিস্থিতির বিবেচনায় পুলিশের শক্তি প্রয়োগ করা যথার্থ ছিল কিনা।’

ঘটনার পরস্পরায় প্রধান বিচারপতি তৎকালীন ঢাকা হাইকোর্টে কর্মরত বিচারপতি টমাস হোবার্ট এলিসকে নিয়ে ১৫ মার্চ তারখে এক সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্বে নিয়োজিত করেন এবং ১৭ মার্চ তারিখে সরকার পৃথক এক আদেশের মাধ্যমে বিচারপতি এলিসকে তদন্ত কাজ পরিচালনার নির্দেশ প্রদান করেন।[১][৩]

তদন্ত কার্য ও প্রতিবেদন পেশ[সম্পাদনা]

১৯৫২ সালের ২৭ মে বিচারপতি এলিস রিপোর্টটি পূর্ববাংলা সরকারের চীফ সেক্রেটারি আজিজ আহমদের নিকট পেশ করেন, যা চীফ সেক্রেটারি ৩ জুন তারিখে পূর্ববাংলা সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রেরণ করেন।[১][৩] এলিস কমিশন তার রিপোর্টে বলেন যে, ‘‘২১ ফেব্রুয়ারি পুলিশের পক্ষে ছাত্রদের ওপর গুলি করা অনিবার্য হয়ে পড়েছিল এবং পরিস্থিতির বিবেচনায় শক্তি প্রয়োগ করা যথার্থ ছিল।’’[১][২][৩]

প্রতিক্রিয়া[সম্পাদনা]

এই তদন্ত কমিশনের রিপোর্টটি সে সময়ের রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনসমূহ প্রত্যাখ্যান করে এবং এর সীমাবদ্ধতাসমূহ উল্লেখ করে সমসাময়িক পত্র-পত্রিকায় এ রিপোর্টের বিরূপ সমালোচনা করা হয়।[১]

সম্পর্কিত গবেষণা ও সাহিত্য কর্ম[সম্পাদনা]

এলিস কমিশন রিপোর্ট নিয়ে পরবর্তীকালে স্বল্প পরিসরে কিছু গবেষণা কার্য পরিচালিত হয়। ভাষা আন্দোলনের একমাত্র সরকারি এই ভাষ্যটি বাংলায় অনুবাদ করেছে পড়াশোনা ভিত্তিক সংগঠন রিডিং ক্লাব।[২] ২০১৮ সালে তরুণ লেখক ও গবেষক রাশেদ রাহম ‘‘একুশে ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ : ছাত্র হত্যাকাণ্ড, এলিস কমিশন রিপোর্ট’’ শিরোনামে একটি গবেষণা গ্রন্থও প্রকাশ করেছে।[৪]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. দেলওয়ার হাসান (জানুয়ারি ২০০৩)। "এলিস কমিশন রিপোর্ট"। সিরাজুল ইসলাম[[বাংলাপিডিয়া]]ঢাকা: এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশআইএসবিএন 984-32-0576-6। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০১৮  ইউআরএল–উইকিসংযোগ দ্বন্দ্ব (সাহায্য)
  2. "ভাষা আন্দোলনের কুখ্যাত এলিস কমিশন রিপোর্ট বাংলার অনূদিত"চ্যানেল আই অনলাইন। ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০১৮ 
  3. "একুশের মিছিলে পুলিশের গুলি : কুখ্যাত এলিস কমিশন রিপোর্ট (মন্তব্য প্রতিবেদন)"সাপ্তাহিক অনলাইন। ১৮ অক্টোবর ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২১ অক্টোবর ২০১৮ 
  4. "'তরুণ প্রজন্মকে ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে হবে'"বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইন। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২১ অক্টোবর ২০১৮ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]