এলম ইন্দিরা দেবী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
এলম ইন্দিরা দেবী
The President, Shri Pranab Mukherjee presenting the Padma Shri Award to Smt. Elam Indira Devi, at a Civil Investiture Ceremony, at Rashtrapati Bhavan, in New Delhi on March 31, 2014.jpg
৩১ শে মার্চ, ২০১৪ তে নয়াদিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে রাষ্ট্রপতি, প্রণব মুখোপাধ্যায় এলম ইন্দিরা দেবীকে পদ্মশ্রী পুরস্কার তুলে দিচ্ছেন
জন্ম (1954-09-01) ১ সেপ্টেম্বর ১৯৫৪ (বয়স ৬৬)
পেশাশাস্ত্রীয় নৃত্যকার
দাম্পত্য সঙ্গীহাওবাম মনিমঙ্গল সিং
সন্তান২ মেয়ে ও ৩ ছেলে
পুরস্কারপদ্মশ্রী

এলম ইন্দিরা দেবী হলেন একজন ভারতীয় ধ্রুপদী নৃত্যশিল্পী এবং নৃত্য শিক্ষক। তিনি মণিপুরী ধ্রুপদী নৃত্য, বিশেষত "লাই হারাওবা" এবং "রাস" ঘরনার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। শিল্প ও সংস্কৃতিতে তার অবদানের জন্য ২০১৪ সালে ভারত সরকার তাকে চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার পদ্মশ্রী দিয়ে সম্মানিত করে।[১][২][৩]

জীবনচরিত[সম্পাদনা]

লাই হারাবরা

১৯৫৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর উত্তর-পূর্ব ভারতের মণিপুর রাজ্যের ইম্ফল শহরের খোয়াই নাগমপাল সিঙ্গজুবং লইরাক নামক স্থানে ইন্দিরা দেবীর জন্ম। তার পিতার নাম বিধুমণি সিং এবং মাতার নাম এলম রোসমণি দেবী। তিনি গুরু লোরম্বম আমুয়াইমা সিংয়ের অধীনে আট বছর বয়সে মণিপুরী নৃত্য শিখতে শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি আর কে আকসানা, মাইসনাম আমুবি সিং, থিংবাইজাম বাবু সিং এবং থিয়াম তরুনকুমার সিংয়ের মতো শিক্ষকদের অধীনে প্রশিক্ষন লাভ করেন। জে এন মণিপুর নৃত্য একাডেমিতে যোগদানের আগে ইম্ফলে ডিপ্লোমা কোর্সের জন্য তিনি আর কে প্রিয়গোপাল সানা, ইয়ুমশানবি মাইবি, থমবলঙ্গৌ, এনজি কুমার মাইবি এবং হাওবাম নাগনবির অধীনে শেখার সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৬৭ সালে তিনি নিত্য চর্যের ডিপ্লোমা কোর্স পাস করেন। একই সাথে তার পাঠ্যক্রমিক পড়াশোনা বজায় রেখে গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ এবং ১৯৭৯ সালে মণিপুরী সংস্কৃতি ও সাহিত্যে এমএ অর্জন করেন। তিনি নাচের পাশাপাশি তাঁর পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং ভারত সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ইয়ং আর্টিস্ট স্কলারশিপের সহায়তায় ১৯৭৯ সালে রাসে এবং ১৯৮৪ সালে লাই হারোবাতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এলম ইন্দিরা দেবী মাতামগি মণিপুর নামক একটি ফিচার চলচ্চিত্রে পারফর্ম করেছেন, যা ১৯৭২ সালে মাইটেইয়ের সেরা চলচ্চিত্রের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পায়। তিনি বহু আঞ্চলিক, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পারফর্ম করেছেন। এছাড়া অনেক ব্যালে এবং নৃত্য নাটকেও অংশ নিয়েছেন। [২][৪][৪] তার উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক পারফরম্যান্সগুলির কয়েকটি হল:

  • দূরদর্শনের জন্য একক নৃত্য ১৯৯০
  • একক নৃত্য - কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫০তম জন্ম বার্ষিকী স্মরণে - ২০১১
  • একক নৃত্য - ধ্রুপদী নৃত্যের নবম ভাগ্যচন্দ্র জাতীয় নৃত্য উৎসব - ২০১১
  • একক নৃত্য - ইন্দো-সোভিয়েত সাংস্কৃতিক বন্ধুত্ব, মস্কো - ১৯৭৮
  • একক নৃত্য - লোক উৎসব নয়া দিল্লী - ১৯৮৮
  • ঐতিহ্যবাহী 'লাই হারাওবা' - ভারত উৎসব, প্যারিস - ১৯৮৫
  • লাই হারাওবা ধ্রুপদী নৃত্য - রি-ইউনিয়ন দ্বীপ, ফ্রান্স-ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস ২০১০

ইন্দিরা দেবী হাওবাম মণিগোপাল সিংয়ের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন এবং এই দম্পতির তিন ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।

মাইতেই ট্র্যাডিশনাল ডান্স টিচিং স্কুল এবং পারফর্মিং সেন্টার[সম্পাদনা]

১৯৯৩ সালে ইন্দিরা দেবী ইম্ফলে মাইটেই ট্র্যাডিশনাল ডান্স টিচিং স্কুল অ্যান্ড পারফর্মিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেন এবং তখন থেকেই ইনস্টিটিউটের পরিচালক ছিলেন।[৩] শাস্ত্রীয় ও ঐতিহ্যবাহী নৃত্য এবং ব্যালে শেখার জন্য এই প্রতিষ্ঠানটি প্রসিদ্ধ এবং ভারত সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক স্বীকৃত।[৫]

উল্লেখযোগ্য ভূমিকা[সম্পাদনা]

এলম ইন্দিরা দেবী বিভিন্ন সময় উল্লেখযোগ্য পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন।[৪][৬] তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা সমুহঃ

  • সদস্য - পূর্বাঞ্চল সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, কলকাতা - ২০০৯-১২
  • জুরি সদস্য - সংস্কৃতি সম্পদ ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ভারত সরকারের একটি শিক্ষা এবং সংস্কৃতির স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা
  • সদস্য - অডিশন প্যানেল - দূরদর্শন গুয়াহাটি - ১৯৯৮-২০০০
  • সদস্য - সরকারী প্রতিনিধি - ইউএসএসআর লোক উৎসব, কলকাতা - ১৯৮৭

২০০৯ সাল থেকে তিনি ইউনেস্কো ক্লাব অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ায় আজীবন সদস্য এবং ১৯৮৯ সাল থেকে অল ইন্ডিয়া রেডিও, ইম্ফলে মণিপুরী নৃত্যে বিশেষজ্ঞ ভাষ্যকার হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ২০০১ থেকে ২০১২ পর্যন্ত মণিপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক স্টাফ কলেজে বিশ্ববিদ্যালয় অনুদান কমিশনের অতিথি প্রভাষক হিসাবেও কাজ করেছেন।এবং বর্তমানে জওহরলাল নেহেরু মণিপুর নৃত্য একাডেমি মণিপুর, ইম্ফাল, ১৯৯৬ সাল থেকে সিনিয়র শিক্ষক হিসাবে কাজ করছেন।[৭]

পুরস্কার এবং স্বীকৃতি[সম্পাদনা]

  • পদ্মশ্রী - ভারত সরকার - ২০১৪[১]
  • শ্রেষ্ঠত্ব পুরস্কার - বিশ্ব নাট্য দিবস - ১৯৭০
  • সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার - সর্বভারতীয় নাটক উৎসব - ১৯৭১
  • নৃত্য রাণী উপাধি - সাংস্কৃতিক নাটকীয় সমিতি, মাইরাং - ১৯৮৪
  • জুনিয়র ফেলোশিপ - সংস্কৃতি মন্ত্রক - ভারত সরকার - ১৯৯০-৯২

মণিপুরী নাচের প্রদর্শনী[সম্পাদনা]

তথ্য সূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Print Release"web.archive.org। ২০১৪-০৩-০২। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০২-২৬ 
  2. "Elam Indira Devi Padmashree Awardee in the field of Dance A Profile"www.e-pao.net। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০২-২৬ 
  3. "Meitei Traditional Dance School And Teaching Center - NGO in Imphal, Manipur"web.archive.org। ২০১৬-০৩-০৪। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০২-২৬ 
  4. The Oxford Encyclopaedia of the Music of India (ইংরেজি ভাষায়)। Oxford University Press। ২০১১। আইএসবিএন 978-0-19-565098-3ডিওআই:10.1093/acref/9780195650983.001.0001/acref-9780195650983-e-0268 
  5. "Meitei Traditional Dance School And Teaching Center - NGO in Imphal, Manipur"web.archive.org। ২০১৬-০৩-০৪। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০২-২৮ 
  6. "Bhagyachandra National Festival of Classical Dance 2011 Part 2"e-pao.net। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০২-২৬ 
  7. Press, Imphal Free। "Two days workshop on culture for peace held – KanglaOnline" (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০২-২৬