উমামা বিনতে হামজা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

উমামা বিনতে হামজা ছিলেন ইসলামের নবী মুহাম্মদের সাহাবি এবং প্রথম চাচাত বোন।

জীবনী[সম্পাদনা]

তিনি ছিলেন মুহাম্মদের চাচা হামজা ইবনে আবদুল-মুত্তালিব এবং খাতাম গোত্রের সালমা বিনতে উমাইসের কন্যা।[১][২] তার পিতা-মাতা উভয়ই ৬১৫ সালের শেষদিকে অথবা ৬১৬ সালের প্রথম দিকে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।[৩][৪][৫]

তার পরিবার ৬২২ সালে মদিনাতে হিজরত করেন।[৪][৬] ওহুদ যুদ্ধে হামজা শহীদ হওয়া অবধি তারা সেখানে প্রায় তিন বছর ছিলেন।[৭][৮] সালমা পরে উমামাকে মক্কায় ফিরিয়ে আনেন, সেখানে তারা পরের চার বছর বসবাস করেন। [৯]

৬২২ সালে মুহাম্মাদ ওমরা করার জন্য মক্কায় আসেন। যখন তিনি চলে যাচ্ছিলেন, উমামা তার উটের কাছে এসে ডাকতে লাগলেন। আলী তাকে ফাতেমার উটের উপর চাপিয়ে দিয়ে মুহাম্মদকে বলেন, তার আত্মীয়দেরকে মুশরিকদের মধ্যে ছেড়ে যেনো না দেয়া হয়। তখন মুহাম্মদ উমামাকে মদীনায় নিয়ে যেতে রাজি হন। [১০][১১]

উমামার স্বজনরা তার সঠিক অভিভাবক কে তা নিয়ে ঝগড়া করেছিলেন।[১২] জায়েদ ইবনে হারিথা হামজার "ইসলামের ভাই" হওয়ার ভিত্তিতে সে তাকে গ্রহণ করার পক্ষে কথা বলেন। জাফর ইবনে আবী তালিব উমামার মায়ের বোনকে সে বিয়ে করেছিলেন বলে তিনিও একই দাবি করেন। আলী বলেন যে, উমামাকে মদীনায় ফিরিয়ে আনার বিষয়টিই তার কাছে মুখ্য বিষয় ছিলো। মুহম্মদ জাফরের পক্ষে মত দেন এই কারণে যে "একটি মেয়ে তার খালার স্বামীকে বিয়ে করতে পারে না।" [১১][১৩]

পরে আলী প্রস্তাব করেছিলেন যে মুহাম্মদের উমামাকে বিয়ে করা উচিত, কারণ "তিনি কুরাইশের সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ে।" মুহাম্মদ বলেন এটি অসম্ভব; যেহেতু হামজা তার পালক-ভাই ছিলেন, উমামাকে তিনি ভাগ্নী হিসাবে গণ্য করেন।[৯][১৪][১৫] পরিবর্তে, মুহাম্মদ তাকে তার সৎছেলে সালামা ইবনে আবি সালামার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করালেন। [১৬]

মুহাম্মদ উমামাকে সবসময় একটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতেন, বিভিন্নভাবে অনুবাদ হয়েছে যে, "আমি কি সালামাকে এখনো পুরস্কৃত করেছি?" বা "আপনি কি সালামাকে এখনো পুরস্কৃত করিনি?"[১৬][১৭] তবে বলা হয়ে থাকে যে "তিনি" যতদিন বেঁচে ছিলেন ততক্ষণ বিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণ হয় নি। এটি "তিনি" বলতে মুহাম্মদকে উল্লেখ করেছেন নাকি সালামাকে উল্লেখ করা হয়েছে তা পরিষ্কার নয়।[১৮] অন্য একটি মত অনুসারে, উমামা সালামার ভাই উমরকেও বিয়ে করেছিলেন,[১৯] কারণ হিসেবে বলা হয় যে (যদিও নাম ভুল যদি না হয়) সালামা তাকে তালাক দিয়েছিলো।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Muhammad ibn Saad. Kitab al-Tabaqat al-Kabir, vol. 3. Translated by Bewley, A. (2013). The Companions of Badr, পৃষ্ঠা 3. London: Ta-Ha Publishers.
  2. Muhammad ibn Saad. Kitab al-Tabaqat al-Kabir, vol. 8. Translated by Bewley, A. (1995). The Women of Madina, পৃষ্ঠা 35, 199. London: Ta-Ha Publishers.
  3. Muhammad ibn Ishaq. Sirat Rasul Allah. Translated by Guillaume, A. (1955). The Life of Muhammad, পৃষ্ঠা 131-132. Oxford: Oxford University Press.
  4. ইবনে সাদ/বেওলি খণ্ড 3 পৃষ্ঠা 3.
  5. ইবনে সাদ/বেওলি খণ্ড 8 পৃষ্ঠা 196, 199.
  6. Ibn Ishaq/Guillaume পৃষ্ঠা 218.
  7. Ibn Ishaq/Guillaume পৃষ্ঠা 375-377, 389, 401.
  8. ইবনে সাদ/বেওলি খণ্ড ৩ পৃষ্ঠা ৪
  9. ইবনে সাদ/বেওলি খণ্ড ৮ পৃষ্ঠা ১১৫
  10. Muhammad ibn Umar al-Waqidi. Kitab al-Maghazi. Translated by Faizer, R., Ismail, A., & Tayob, A. K. (2011). The Life of Muhammad, পৃষ্ঠা 363-364. London & New York: Routledge.
  11. বুখারী 3:49:863; 5:59:553.
  12. Muhammad ibn Saad. Kitab al-Tabaqat al-Kabir. Translated by Haq, S. M. (1972). Ibn Sa’d’s Kitab al-Tabaqat al-Kabir Volume II Parts I & II, পৃষ্ঠা 152. Delhi: Kitab Bhavan.
  13. Waqidi/Faizer পৃষ্ঠা 363-364.
  14. বুখারী 3:48:813; 5:59:553.
  15. Muslim 8:3407, 3409, 3411.
  16. Waqidi/Faizer পৃষ্ঠা 364.
  17. ইবনে সাদ/বেওলি খণ্ড 8 পৃষ্ঠা 115-116.
  18. Ahmed "ibn Hajar" al-Asqalani. Al-Isaba fi tamyiz al-Sahaba, vol. 3 #3385.
  19. Ahmed ibn Yahya al-Baladhuri. Ansab al-Ashraf #1283.