বিষয়বস্তুতে চলুন

ইউক্রেনের ইতিহাস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

পূর্ব ইউরোপের পন্টিক স্টেপের অংশ হিসেবে প্রাগৈতিহাসিক ইউক্রেন ইউরেশীয় সাংস্কৃতিক ঘটনাবর্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে তাম্রব্রোঞ্জ যুগ, ইন্দো-ইউরোপীয় অভিপ্রয়াণঘোড়ার গৃহপালিতকরণের মতো ঘটনার উল্লেখ করা যায়।[][][]

প্রাচীনকালে স্কিথিয়ার অংশ হিসেবে অভিপ্রয়ানের যুগে ইউক্রেনে গ্র‍্যুথুংগি, গেটাই, গথহুনদের বসতি ছিল। অন্যদিকে দক্ষিণ ইউক্রেনে প্রথমে প্রথমে গ্রিকরা ও পরবর্তীতে রোমানরা উপনিবেশ স্থাপন করে। আদি মধ্যযুগে ইউক্রেনে আদি স্লাভ বসতি বিস্তার লাভ করে। মধ্যযুগীয় রাজ্য কিয়েভীয় রুশ'-এর গোড়াপত্তনের মাধ্যমে মধ্যযুগে এই পশ্চাৎভূমি লিখিত ইতিহাসের যুগে প্রবেশ করে। কিয়েভীয় রুশ' শক্তিশালী রাজ্য হিসেবে উদিত হওয়ার পর মধ্যযুগের উৎকৃষ্ট সময়ে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় এবং শেষতক ত্রয়োদশ শতাব্দীতে মোঙ্গলদের হাতে পরাজিত হয়

চতুর্দশ ও পঞ্চদশ শতাব্দীতে বর্তমান ইউক্রেনের সীমানা চারটি বহিঃদেশীয় শক্তির অধীনে চলে আসে; যথাক্রমে: সোনালি উর্দু, ক্রিমীয় খানাত, লিথুয়ানিয়ার গ্র‍্যান্ড ডাচিপোল্যান্ড রাজার রাজ্যক্রেভালুবলিনের যুগলবন্দির পর লিথুয়ানিয়া ও পোল্যান্ড রাজার রাজ্য একত্রিত হয়ে পোলিশ-লিথুয়ানীয় কমনওয়েলথ গঠন করে। অন্যদিকে উসমানীয় সাম্রাজ্য এর নিয়ন্ত্রণাধীন ক্রিমীয় খানাত ও সরাসরি অধিকৃত অঞ্চলসমূহের মাধ্যমে কৃষ্ণ সাগর ও তৎসংলগ্ন অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করে।

১৬৪৮ সালে পোলিশ-লিথুয়ানীয় কমনওয়েলথের বিরুদ্ধে কসাকদের বিদ্রোহ ঘোষণা করার পর হেতমান বোগদান খমেলনিৎস্কি ১৬৫৪ সালের জানুয়ারি মাসে পেরিয়াস্লাভ চুক্তিতে সম্মত হন। এই চুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত কসাক গেতমানাত ও রাশিয়ার মধ্যকার সম্পর্কের ধরন-প্রকৃতি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে।[] চুক্তির ফলশ্রুতিতে ১৬৫৪–৬৭ সাল অবধি রুশ–পোলিশ যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটে এবং একটি ব্যর্থ গাদিয়াখ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার ফলে পোলিশ–লিথুয়ানীয়–রুথেনীয় কমনওয়েলথ গঠিত হতে পারত। কিন্তু বিবাদ মীমাংসা না হওয়ায় ১৬৮৬ সালে চিরস্থায়ী শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার ফলে ইউক্রেনের পূর্ব অংশ (নিপার নদীর পূর্ব তীর) রুশ শাসনের অধীনে চলে আসে,[] ইউক্রেনের পূর্ব তীরের ক্ষতিপূরণ হিসেবে পোল্যান্ডকে ১,৪৬,০০০ রুবল পরিশোধ করা হয়[] এবং উভয় পক্ষই পৃথকভাবে উসমানীয় সাম্রাজ্যের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর না করতে সম্মত হয়।[] চুক্তিটি পোল্যান্ডে ব্যাপক বিরোধিতার সম্মুখীন হয় এবং ১৭১০ সাল পর্যন্ত পোলিশ–লিথুয়ানীয় কমনওয়েলথের সেইম চুক্তিটি মঞ্জুর করতে অস্বীকৃতি জানান।[][] তবে এই স্বীকৃতির আইনি বৈধতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।[] জাজেক স্টাটজেউস্কির মতে ১৭৬৪ সালের সমাবর্তনের আগে চুক্তিটি সেইমের কোনো অধ্যাদেশের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়নি।[]

উত্তরের মহাযুদ্ধের সময়ে ১৭০৮ সালে গেতমান ইভান মাজেপা সুইডেনের রাজা দ্বাদশ চার্লসের সাথে মিত্রতা করেন। তবে ১৭০৯ সালের মহাশৈত্যের প্রভাবে সুয়েডীয় সেনাবাহিনী ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। ১৭০৯ সালের পোলতাভার যুদ্ধের ফলশ্রুতিতে গেতমানাতের ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং ১৭৬০-এর দশকের মধ্যে কসাক গেতমানাতের অবসান ঘটে ও ১৭৭০-এর দশকের মধ্যে জাপোরিজীয় সৈন্যদল ধ্বংস হয়ে যায়। পোল্যান্ডের বিভাজন (১৭৭২–১৭৯৫) ও রুশ সাম্রাজ্য কর্তৃক ক্রিমীয় খানাত দখলের মাধ্যমে বর্তমান ইউক্রেনের প্রায় সমস্ত অঞ্চল একশ বছরের অধিক সময়ের জন্য রুশ ও অস্ট্রীয় সাম্রাজ্যের অধীনে ন্যস্ত হয়। পরবর্তীতে ঊনবিংশ শতাব্দীতে ইউক্রেনীয় জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটে।

১৯১৭ সালে রুশ বিপ্লব এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীতে হাবসবুর্গ রাজতন্ত্রের বিলুপ্তির প্রেক্ষিতে সাবেক গ্যালিসিয়া ও লডোমেরিয়া রাজ্যে সমসাময়িক যুদ্ধের প্রভাবে ইউক্রেন বিশৃঙ্খল যুদ্ধাবস্থার সম্মুখীন হয়। ইউক্রেনীয়–সোভিয়েত যুদ্ধ (১৯১৭–১৯২১) শুরু হয় এবং বলশেভিক লাল ফৌজ ১৯১৯ সালের শেষ নাগাদ ইউক্রেনে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়।[১০] ইউক্রেনীয় বলশেভিক বিপ্লবীরা কিয়েভে ইউক্রেনের জাতীয় সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে ইউক্রেনীয় সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করে, যা পরবর্তীতে ১৯২২ সালের ৩০ ডিসেম্বরে সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্যতম প্রতিষ্ঠাকালীন প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়। প্রাথমিকভাবে সোভিয়েত নীতিতে প্রশাসন ও শিক্ষাব্যবস্থায় দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে ইউক্রেনীয় ভাষাইউক্রেনীয় সংস্কৃতিকে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও, ১৯৩০-এর দশক নাগাদ সোভিয়েত সরকার ব্যাপক রুশীকরণ নীতি গ্রহণ করতে শুরু করে। ১৯৩২ ও ১৯৩৩ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে লাখ লাখ মানুষ (বিশেষ করে কৃষক) অনাহারে মারা যান, যা ইউক্রেনে গলোডোমোর নামেও পরিচিত। ধারণা করা হয়, সমগ্র দুর্ভিক্ষে অনাহারে প্রায় ষাট থেকে আশি লাখ মানুষ মারা যান, যার মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ লাখ মানুষ ইউক্রেনীয় ছিলেন।[১১]

সোভিয়েত ইউনিয়ন ও নাৎসি জার্মানি কর্তৃক পোল্যান্ড আক্রমণের পর ইউক্রেনীয় এসএসআরের সীমানা পশ্চিমে সম্প্রসারিত হয়অক্ষশক্তি ১৯৪১ থেকে ১৯৪৪ সাল পর্যন্র ইউক্রেন দখল করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে ইউক্রেনীয় বিদ্রোহী সেনাবাহিনীর কিছু অংশ ইউক্রেনের স্বাধীনতার জন্য জার্মানি ও সোভিয়েত ইউনিয়ন উভয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। অন্যদিকে এর অপর অংশ ইউক্রেনে ইহুদি এবং পোলদের বিরুদ্ধে নিপীড়নে নাৎসি বাহিনীকে সহযোগিতা করে। ১৯৫৩ সালে ইউক্রেনের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক প্রধান নিকিতা খ্রুশ্চেভ (জাতিতে রুশ) সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান নির্বাচিত হন। তার অধীনে ইউক্রেন আরও রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা উপভোগ করে, যার ফলশ্রুতিতে ইউক্রেনীয় সংস্কৃতির পুনর্জাগরণ ঘটে। ১৯৫৪ সালে ক্রিমিয়ার শাসনব্যবস্থা রাশিয়ার থেকে ইউক্রেনের অধীনে ন্যস্ত করা হয়। তবে সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্যান্য অংশের মতো ইউক্রেনের কবি, ঐতিহাসিক ও অন্যান্য বিদ্বান ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নিপীড়ন অব্যাহত থাকে।

১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মাধ্যমে ইউক্রেন পুনরায় স্বাধীনতা লাভ করে। এর মাধ্যমে ইউক্রেনের বাজার অর্থনীতিতে রূপান্তরের ধারা শুরু হয়। ফলে প্রথম আট বছর অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাবে ইউক্রেন দুর্ভোগে পড়ে।[১২] তবে ধীরে ধীরে ইউক্রেনের অর্থনীতিতে জিডিপি বৃদ্ধির উচ্চহার পরিলক্ষিত হতে থাকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ২০০৮–২০০৯ সাল নাগাদ ইউক্রেনের অর্থনীতি মহামন্দার সম্মুখীন হয়।[১৩]

২০১৩ সালের ২১ নভেম্বর ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভিক্টোর ইয়ানুকোভিচ রাশিয়ার সাথে শক্তিশালী সম্পর্ক বজায় রাখার উদ্দেশ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়ন–ইউক্রেন সংঘ চুক্তির প্রস্তুতিপর্ব বাতিল করেন। এর ফলশ্রুতিতে ইউরোময়দান ও পরবর্তীতে মর্যাদার বিপ্লব সংঘটিত হয়। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেনের সংসদ ইয়ানুকোভিচকে অভিশংসিত করে। ২০ ফেব্রুয়ারি রুশ সেনাবাহিনীর ক্রিমিয়ায় প্রবেশের মাধ্যমে রুশ–ইউক্রেনীয় যুদ্ধ শুরু হয়। ইউক্রেনের রুশভাষী পূর্বদক্ষিণ অঞ্চলে শীঘ্রই রুশপন্থী অস্থিরতা শুরু হয়। বিশেষ করে এই অঞ্চলে ইয়ানুকোভিচের ব্যাপক সমর্থন ছিল। ইউক্রেনের রুশ সংখ্যাগুরু স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল ক্রিমিয়ায় আন্তর্জাতিকভাবে অস্বীকৃত একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হয় এবং এর মাধ্যমে ২০১৪ সালের ১৮ মার্চ ক্রিমিয়া কার্যত রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত হয়। রুশ সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে ইউক্রেনের দোনেৎস্কলুহানস্ক অব্লাস্টে দনবাস যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে আক্রমণ চালায়।

প্রাগিতিহাস

[সম্পাদনা]

পুরা প্রস্তর যুগ

[সম্পাদনা]
আদি-স্লাভপ্রাচীন স্লাভদের সাথে সম্পর্কিত প্রত্নতাত্ত্বিক সংস্কৃতিসমূহ: চেরনোলস সংস্কৃতি (৫০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের পূর্ব), জারুবিনৎস্কি সংস্কৃতি (৩০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ থেকে ১০০ খ্রিষ্টাব্দ), পশেভর্স্ক সংস্কৃতি (৩০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ থেকে ৪০০ খ্রিষ্টাব্দ), প্রাগ-কর্চাক দিগন্ত (ষষ্ঠ থেকে সপ্তদশ শতাব্দী, স্লাভীয় বিস্তার)

দূরবর্তী পুরা প্রস্তর যুগের প্রাগৈতিহাসিক সময়ে ইউক্রেনে হোমো গণের মানুষের বসতি স্থাপনের প্রমাণ পাওয়া যায়। পশ্চিম ইউক্রেনের করোলেভোতে প্রাপ্ত ১.৪ মিলিয়ন বছর পুরনো পাথরের হাতিয়ারের সন্ধান ইউরোপে আদিমানবের উপস্থিতির সবচেয়ে প্রাচীন সুরক্ষিত প্রমাণগুলোর অন্যতম। এই হাতিয়ারগুলো নিম্ন প্রস্তর যুগে ইউরোপ মহাদেশে বিস্তারণশীল হোমো গণের আদিমানবের (সম্ভবত হোমো ইরেক্টাস) আচরণ ও অভিযোজন কৌশলের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেয়।[১৪] মলোদোভা প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানসমূহের (৪৫,০০০–৪৩,০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ) সাথে নিয়ানডার্থালের সম্পর্ক রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এই স্থানগুলোর মধ্যে ম্যামথের হাড়ের একটি বসতি অন্তর্ভুক্ত।[১৫][১৬] ক্রিমীয় পর্বতমালার বুরান-কায়া গুহায় ৩২,০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের গ্রাভেত্তীয় মানববসতিতে আধুনিক মানুষের বসবাসের সবচেয়ে প্রাচীন নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে।[১৭][১৮]

নব্য প্রস্তর ও ব্রোঞ্জ যুগ

[সম্পাদনা]
তাম্র যুগের ইয়ামনা বা “গুহাবসতি” সংস্কৃতির বিস্তৃতি, খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় সহস্রাব্দ

নব্য প্রস্তর যুগে খ্রিষ্টপূর্ব ৪,৫০০–৩,০০০ অব্দে কুকুটেনি–ট্রাইপিলিয়া সংস্কৃতি বিকশিত হয়।[১৯] তাম্র যুগে পশ্চিমে বসতি স্থাপনকারী কুকুটেনি–ট্রাইপিলিয়া সংস্কৃতি ও পূর্বে বসতি স্থাপনকারী স্রেডনি স্টগ সংস্কৃতি ব্রোঞ্জ যুগে পন্টিক–কাস্পিয়ান স্টেপের ইয়ামনা ("কুরগান") এবং খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় সহস্রাব্দে ক্যাটাকম্ব সংস্কৃতি দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়।

লৌহ যুগ ও প্রাচীনকাল

[সম্পাদনা]

স্কিথীয় বসতি, গ্রিক উপনিবেশ ও রোমান আধিপত্য

[সম্পাদনা]
বসপোরান রাজ্যের (রোমের অধীন রাজ্য) পন্টিকাপায়ন থেকে প্রাপ্ত গ্রিক ফেস্কোতে দেবী দেমেতের, খ্রিষ্টীয় প্রথম শতাব্দী, ক্রিমিয়া
বসপোরান রাজা তিবেরিউস জুলিয়াস সাউরোমাতেস দ্বিতীয়ের সোনার মুদ্রা, ১৯৮ বা ১৯৯ খ্রিষ্টাব্দ। এর এক পৃষ্ঠায় তার আবক্ষ ও গ্রিক ভাষায় লেখা “BACΙΛΕΩC CΑΥΡΟΜΑΤΟΥ” এবং অপর পৃষ্ঠায় রোমান সম্রাট সেপ্টেমিয়াস সেভিয়েরাসকারাকালার মুখাবয়ব।

লৌহ যুগে এই অঞ্চলের মানুষেরা ডেসীয়দের পাশাপাশি কিমেরীয় (প্রত্নতাত্ত্বিক নভোচেরকাস্ক সংস্কৃতি), স্কিথীয়সারমাশীয়দের মতো যাযাবর শ্রেণীর সংস্কৃতি ধারণ করে। খ্রিষ্টপূর্ব ৭৫০ থেকে ২৫০ অব্দ পর্যন্ত এখানে স্কিথীয় রাজ্যের অস্তিত্ব বিদ্যমান ছিল।[২০] ৫১৩ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে মহান দারিয়াসের স্কিথীয় অভিযানে আকেমেনীয় পারস্যের সেনাবাহিনী এশিয়া মাইনরে ফিরে আসার পূর্বে বিভিন্ন থ্রেসীয় জাতি এবং কৃষ্ণ সাগরীয় অঞ্চলের প্রায় পুরো ইউরোপীয় অংশকে (বর্তমানের বুলগেরিয়া, রোমানিয়া, ইউক্রেন ও রাশিয়ার অংশ) নিজেদের অধীনে নিয়ে আসে।[২১][২২] আর্কাইক যুগে খ্রিষ্টপূর্ব সপ্তম বা ষষ্ঠ শতাব্দীতে গ্রিকেরা ক্রিমিয়া ও ইউক্রেনের অন্যান্য সমুদ্র-তীরবর্তী অঞ্চলে উপনিবেশ স্থাপন করে।[২৩] খ্রিষ্টীয় চতুর্থ শতাব্দীতে গথহুনদের আক্রমণ ও দখলের পূর্ব পর্যন্ত এই অঞ্চলে সাংস্কৃতিকভাবে গ্রিক প্রভাবিত বসপোরান রাজ্য ব্যাপক সমৃদ্ধি লাভ করে।[২৪] রোমান সম্রাট নিরো কর্তৃক বসপোরাসের রাজা প্রথম তিবেরিয়াস জুলিয়াস কোটিসকে সিংহাসনচ্যুত করার মাধ্যমে খ্রিষ্টীয় ৬২ থেকে ৬৮ অব্দ পর্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য রাজ্যটি সরাসরি রোমান সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়।[২৫] প্রথম শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে রোমান সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে বসপোরান রাজ্যকে রোমের অধীন রাজ্যে পরিণত করা হয়।[২৬][২৭]

গথ ও হুনদের আগমন

[সম্পাদনা]

তৃতীয় শতাব্দীতে, আনুমানিক ২৫০ থেকে ৩৭৫ খ্রিষ্টাব্দে আধুনিক ইউক্রেন অঞ্চলে গথদের আগমন ঘটে। এই অঞ্চলকে তারা ওইয়াম নাম দেয়, যা প্রত্নতাত্ত্বিক চেরনিয়াখভ সংস্কৃতির অঞ্চলের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল।[২৮] অস্ট্রোগথেরা এখানে স্থায়ী বসতি স্থাপন করার পর ৩৭০ খ্রিষ্টাব্দের দশকে হুনদের আক্রমণের শিকার হয়। অস্ট্রোগথিক রাজ্যের উত্তরে কিয়েভ সংস্কৃতি খ্রিষ্টীয় দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শতাব্দীতে ব্যাপকভাবে সমৃদ্ধি লাভ করেছিল। এমন সময়ে তারাও হুনদের আক্রমণের মুখে পড়ে। ৪৫৪ খ্রিষ্টাব্দে নেদাওয়ের যুদ্ধে হুনদের পরাজিত করতে সহায়তা করার পর, রোমানরা প্যানোনিয়ায় অস্ট্রোগথদের বসতি স্থাপনের অনুমতি দেয়। কৃষ্ণ সাগরের উত্তর-পূর্ব তীরে খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে প্রাচীন গ্রিকদের স্থাপিত অন্যান্য উপনিবেশের পাশাপাশি তুরাস, ওলবিয়াহেরমোনাসার মতো উপনিবেশগুলো খ্রিষ্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দী নাগাদ রোমানবাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের অধীনে শহর হিসেবে টিকে থাকে। খ্রিষ্টীয় পঞ্চম শতাব্দীতে পূর্ব রোমান সাম্রাজ্য এই অঞ্চলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব পুনর্বাচন করলে শতাব্দীর শেষ নাগাদ গথিক প্রভাব ধীরে ধীরে ম্লান হতে থাকে।[২৯] হুন রাজা গোরদাস ষষ্ঠ শতাব্দীর প্রথম ভাগে বসপোরান রাজ্য শাসন করেন এবং শুরুতে পূর্ব রোমান সম্রাট প্রথম জাস্টিনিয়ানের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সক্ষম হন। কিন্তু ৫২৭ খ্রিষ্টাব্দে গোরদাস বিদ্রোহ করলে প্রথম জাস্টিনিয়ান বসপোরান রাজ্য আক্রমণ করে দখল করেন এবং গোরদাসকে হত্যা করেন।[৩০] কিন্তু কিমেরীয় বসপোরাস রাজ্যের উপর পূর্ব রোমান সম্রাটদের সম্পূর্ণ অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত সময় লেগে যায়।[৩১]

আদি স্লাভ

[সম্পাদনা]

কিয়েভ সংস্কৃতির ফলশ্রুতিতে এবং হুনীয় ও গথীয় শাসনের অবসানের ফলে ক্ষমতার শূন্যতায় আদি স্লাভেরা পঞ্চম শতাব্দী থেকে বর্তমান ইউক্রেন অঞ্চল থেকে শুরু থেকে ষষ্ঠ শতাব্দী নাগাদ বলকান অঞ্চল পর্যন্ত নিজেদের বিস্তৃত করে। আদি স্লাভদের উৎসভূমি সম্পর্কে জানা না গেলেও, ধারণা করা হয়, পোলেশিয়ার নিকটবর্তী অঞ্চলে তাদের উদ্ভব হয়েছিল।[৩২]

পঞ্চম ও ষষ্ঠ শতাব্দীতে ইউক্রেন অঞ্চলে আন্তাই ইউনিয়ন (একটি ক্ষুদ্র জাতিতাত্ত্বিক সংযুক্তরাজ্য) নামে একটি অঞ্চল ছিল বলে সাধারণত ধরা হয়ে থাকে। আন্তাই জাতিগোষ্ঠীকে ইউক্রেনীয়দের আদিপুরুষ বলে ধরা হয়। আন্তাই জাতিগোষ্ঠীগুলো হলো যথাক্রমে: শ্বেত ক্রোয়াট, সেভেরীয়, পোলান, দ্রেভলীয়, দুলেবি, উলিচিতিভেরৎসি। ইউক্রেন থেকে বলকান অঞ্চলে অভিপ্রয়াত জাতিগোষ্ঠীসমূহ বিভিন্ন দক্ষিণ স্লাভীয় রাষ্ট্রের পত্তন ঘটায়। উত্তরে ইলমেন হ্রদের দিকে অভিপ্রয়াত জাতিরা ইলমেন স্লাভ, ক্রিভিচরাদিমিচের মতো শাখার পত্তন ঘটায়, যাদের সচরাচর রুশ জাতির আদিপুরুষ হিসেবে গণ্য করা হয়। ৬০২ খ্রিষ্টাব্দে প্যানোনীয় আভারদের একটি অভিযানে আন্তাই ইউনিয়নের পতন ঘটার পর দ্বিতীয় সহস্রাব্দের শুরু পর্যন্ত এই জাতিগোষ্ঠী পৃথক পৃথক জাতি হিসেবে টিকে থাকে।[৩৩]

মধ্যযুগ

[সম্পাদনা]

আদি মধ্যযুগ

[সম্পাদনা]

সপ্তম শতাব্দীতে আধুনিক ইউক্রেন অঞ্চল বুলগারদের কেন্দ্রভূমি ছিল। প্রাচীন মহান বুলগেরিয়া নামে পরিচিত রাজ্যটির রাজধানী ছিল ফানাগোরিয়া। সপ্তম শতাব্দীর শেষ নাগাদ বুলগাররা বিভিন্ন দিকে অভিবাসিত হয়। বুলগারদের ফেলে যাওয়া ভূমিতে মধ্য এশিয়া থেকে আগত আংশিক-যাযাবর প্রবৃত্তির খাজার জাতির লোকেরা বসতি স্থাপন করে।[২৮]

খাজাররা ককেশাসকাস্পিয়ান সাগরের নিকটবর্তী অঞ্চলে খাজার রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে। পশ্চিম কাজাখস্তান, ক্রিমিয়ার অংশবিশেষ, পূর্ব ইউক্রেন, দক্ষিণ রাশিয়াআজারবাইজান খাজার রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। খাজাররা পন্টিক–কাস্পিয়ান স্টেপ অঞ্চলে এত বেশি প্রভাব বিস্তার করতো যে, দূরবর্তী বাণিজ্যের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য প্যাক্স খাজারিকা নামের উদ্ভব হয়েছিল। বিশেষ করে রাজানীয় ইহুদিরা সুদূর চীন থেকে তাবরিজভলগা বুলগেরিয়ার আশেপাশের বাণিজ্যপথে এই সুরক্ষায় ব্যবসা পরিচালনা করতো। ভাইকিং যুগে এই বাণিজ্যপথ ভাইকিংদের মতো অন্যান্য ব্যবসায়ীদের আকৃষ্ট করে, যারা পরবর্তীতে কিয়েভীয় রুশ'-এর পত্তন ঘটায়।

কিয়েভীয় রুশ'

[সম্পাদনা]
ওভারসিজ গেস্ট, নিকোলাস রোরিখ, ১৯০১

কিয়েভীয় রুশ'-এর গোড়াপত্তন কীভাবে হয়েছিল, তা স্পষ্টভাবে জানা যায় না। তবে ভারাঞ্জীয় সম্ভ্রান্ত পরিবারের জ্ঞানী ওলেগ নামের একজন ব্যক্তি ৮৮০ খ্রিষ্টাব্দ নাগাদ কিয়েভ শহরের স্থলে একটি প্রিন্সিপালিটি স্থাপন করেন বলে ধারণা করা হয়।[] ততদিনে কিয়েভ প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলেও, এর ইতিহাসও সুস্পষ্ট নয়। পেত্রো তলোচকো (২০০৭) প্রমুখ প্রত্নতাত্ত্বিক ও ইতিহাসবিদগণের মতে, পঞ্চম শতাব্দীতে এই স্থানে স্লাভীয় বসতির অস্তিত্ব ছিল, যা বর্তমান কিয়েভ নগরী হিসেবে গড়ে উঠেছে।[৩৫] ওলেগের আক্রমণের পূর্বে কিয়েভ সম্ভবত খাজারদের নিকট খাজনা প্রদান করতো।[৩৬][৩৭] তলোচকো ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের ধারণা, কিয়েভ কোনো নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠীর রাজনৈতিক কেন্দ্র না হলেও, সম্ভবত বিশাল অঞ্চলে একাধিক জাতির সম্মেলনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল। প্রাইমারি ক্রনিকল, দে আদ্মিনিস্ত্রান্দো ইম্পেরিও প্রমুখ গ্রন্থের বিশ্লেষণ ও অন্যান্য উৎস থেকে ধারণা করা হয়, সম্ভবত কিয়েভ স্লাভীয় এবং ভারাঞ্জীয় ও ফিনো-উগ্রিচ প্রভৃতি অ-স্লাভীয় জাতিসমূহের সম্মিলনে বহুজাতিক নাগরিক বসতি হিসেবে গড়ে উঠেছিল।[৩৮] ইউক্রেনের স্থানীয় স্লাভীয় জনগোষ্ঠী, যাদের নাম উল্লেখ পাওয়া যায়, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: পোলান (বা পোলিয়ানীয়), দ্রেভলীয়, সেভেরীয়, উলিচি, তিভেরৎসি (বা তিভেরীয়), শ্বেত ক্রোয়াটদুলিবি। তবে এতদসংক্রান্ত উৎসসমূহ অস্পষ্ট, পরস্পরবিরোধী ও কিছু কিছু ক্ষেত্রে ত্রুটিযুক্ত হওয়ায় জনগোষ্ঠীগুলোর সঠিক পরিচয় ও তাদের মধ্যকার আন্তঃসম্পর্ক নির্ভুলভাবে প্রতিষ্ঠা ও যাচাই করা যায় না।[৩৯]

সবচেয়ে ভালো সময়ে কিয়েভীয় রুশ'

দশম ও একাদশ শতাব্দীতে কিয়েভ ইউরোপের অন্যতম সমৃদ্ধ ব্যবসায়িক কেন্দ্রে পরিণত হয়। একই সাথে কিয়েভকে কেন্দ্র করে কিয়েভীয় রুশ' সাম্রাজ্যও বিস্তৃত হতে থাকে।[৪০] প্রাথমিকভাবে পেরুনের মতো স্লাভীয় পাগানধর্মের দেবতাদের অনুসারী হলেও, বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের সাথে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সুসম্পর্ক স্থাপনের উদ্দেশ্যে দ্বিতীয় ভলোদিমির ইস্টার্ন অর্থোডক্সি খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন।[৪০] জ্ঞানী ইয়ারোস্লাভের রাজত্বকালে (শা. ১০১৯–১০৫৪) কিয়েভীয় রুশ' তার সমৃদ্ধির শিখরে পৌঁছায়। এই সময়ে কিয়েভীয় রুশ' খ্রিষ্টীয় জগতে সবচেয়ে সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী সাম্রাজ্য হিসেবে আবির্ভূত হয়।[৪০] তা সত্ত্বেও কিয়েভীয় রুশ' কখনোই সম্পূর্ণভাবে এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র ছিল না। রুরিক রাজবংশের সদস্যদের দ্বারা শাসিত বিভিন্ন প্রিন্সিপালিটির সমন্বয়ে এই সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছিল।[৪১] মধ্যযুগের শেষভাগে এই অঞ্চল, বিশেষ করে মঙ্গোল আক্রমণের পর রুশ'-এর পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রিন্সিপালিটিসমূহ ইউরোপজুড়ে রুথেনিয়া নামে (রুশ'-দের লাতিন নাম) পরিচিত হয়ে যায়।

খ্রিষ্টীয়করণ

[সম্পাদনা]
কনস্টান্টিনোপলে রাজকুমারী ওলগার বাপ্তিস্মকরণ। রাজিভিভভ্‌ ক্রনিকল থেকে প্রাপ্ত চিত্রকর্ম।

প্রথম সার্বজনীন পরিষদ প্রতিষ্ঠার পূর্বেই নিকিয়ার প্রথম পরিষদের মাধ্যমে বর্তমান ইউক্রেন অঞ্চলে খ্রিষ্টধর্ম প্রবেশ লাভ করে (৩২৫ খ্রিষ্টাব্দ; বিশেষ করে কৃষ্ণ সাগর উপকূলে; ক্রিমীয় গথদের খ্রিষ্টীয়করণ এর সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ)। অন্যদিকে বৃহৎ মোরাভীয় সাম্রাজ্যের সময়ে পশ্চিম ইউক্রেনে খ্রিষ্টধর্ম পরিচিতি লাভ করলেও ৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দে রুশ'-দের মাধ্যমে খ্রিষ্টধর্ম প্রথম সরকারি স্বীকৃতি লাভ করে। কিয়েভীয় রুশ'-দের মধ্যে খ্রিষ্টধর্মের সবচেয়ে প্রধান প্রচারক ছিলেন গ্র‍্যান্ড-ডিউক ভ্লাদিমির দ্য গ্রেট। তার দাদি রাজকুমারী ওলগা একজন খ্রিষ্টান ছিলেন। পরবর্তীতে কিয়েভের শাসক প্রথম ইয়ারোস্লাভ রুস্কায়া প্রাভদা (রুশ'-দের সত্য) প্রচার করেন, যা লিথুয়ানিয়ার অধীনস্থ রুশ'-এও জারি থাকে।

১৩২২ খ্রিষ্টাব্দে পোপ দ্বাবিংশ জন মঙ্গোল ভূমিতে একমাত্র ক্যাথলিক অবস্থান খানবালিক ধর্মপ্রদেশ ভেঙে কাফায় (বর্তমান থিয়োডোসিয়া) একটি ধর্মপ্রদেশ প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর থেকে প্রায় কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত এই ধর্মপ্রদেশ বলকান থেকে সরাই পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকার প্রধান ক্যাথলিক প্রদেশ হিসেবে কাজ করে।[৪২]

কিয়েভীয় রুশ'-এর ভাঙন ও মঙ্গোল আক্রমণ

[সম্পাদনা]

ভ্লাদিমির মনোমাখের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও রুশ'-দের বিভিন্ন প্রিন্সিপালিটির মধ্যকার দ্বন্দ্বের প্রভাবে দ্বাদশ শতাব্দী থেকে কিয়েভীয় রুশ'-এর ভাঙন শুরু হয়। রুশ'-দের কেন্দ্রভূমি কিয়েভ অঞ্চলে উদীয়মান রুশ' প্রিন্সিপালিটি গেলিচ ও ভোলিনিয়া নিজেদের রাজত্ব সম্প্রসারিত করে। ঐতিহাসিক নথিপত্রে সুজদাল প্রিন্সিপালিটিতে মস্কো নাম আবির্ভূত হওয়া শুরু হয়। এর থেকে পরবর্তীতে রাশিয়ার জন্ম হয়। উত্তর-পশ্চিমে পলোৎস্ক প্রিন্সিপালিটি বেলারুশে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা করে। দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ শতাব্দীতে প্রথমে রাজকুমার ও পরবর্তীতে কুমানমঙ্গোলদের মধ্যকার ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ১১৬৯ খ্রিষ্টাব্দে ভ্লাদিমির প্রিন্সিপালিটি কিয়েভের নিয়ন্ত্রণ নেয়। ধীরে ধীরে, বর্তমান ইউক্রেন অঞ্চলের সকল প্রিন্সিপালিটি মঙ্গোলদের অধীনতা স্বীকার করে নেয় (১২৩৯–১২৪০)। ১২৪০ খ্রিষ্টাব্দে মঙ্গোলরা কিয়েভ দখল করে লুটতরাজ চালায়।

গ্যালিসিয়া-ভোলিনিয়া

[সম্পাদনা]
ত্রয়োদশ–চতুর্দশ শতাব্দীতে গ্যালিসীয়–ভোলিনীয় রাজ্য

বর্তমান ইউক্রেন অঞ্চলে কিয়েভীয় রুশ'-দের পতনের পর তাদের উত্তরাধিকার হিসেবে গ্যালিসিয়া-ভোলিনিয়া প্রিন্সিপালিটির উত্থান ঘটে। ইতোপূর্বে মহান ভ্লাদিমির আঞ্চলিক রাজধানী হিসেবে গালিশভলোদিমির নামে দুইটি শহর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই অঞ্চলে দুলিবি, তিভেরৎস্কিশ্বেত ক্রোয়াটদের বসতি ছিল। শুরুতে ভোলিনিয়া ও গ্যালিসিয়া জ্ঞানী ইয়ারোস্লাভের বংশোধরদের শাসনাধীন পৃথক প্রিন্সিপালিটি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। গ্যালিসিয়ায় রস্তিস্লাভ রাজবংশ এবং ভোলিনিয়ায় প্রথমে রস্তিস্লাভিচ রাজবংশ ও পরবর্তীতে ইজিয়াস্লাভিচ রাজবংশের অধীনে শাসিত হতো।[৪৩] ইয়ারোস্লাভ অসমোমিস্লের শাসনকালে (১১৫৩–১১৮৭) গ্যালিসিয়া কৃষ্ণ সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।[৪৩] উভয় প্রিন্সিপালিটির শাসকগণই একজনের উপরে অন্যজন প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছিলেন। শেষ পর্যন্ত মহান রোমান তার শাসনকালে (১১৯৭–১২০৫) দুইটি প্রিন্সিপালিটি একত্র করার পাশাপাশি স্বল্প সময়ের জন্য কিয়েভ পর্যন্ত তার শাসন বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

তার মৃত্যুর পর রাজ্যে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত তার পুত্র ডেনিয়েল ১২৩৮ খ্রিষ্টাব্দে সিংহাসন পুনরুদ্ধার করলে বিশৃঙ্খলার সমাপ্তি ঘটে। ডেনিয়েল কিয়েভসহ তার পিতার হারানো রাজ্য পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হন। ডেনিয়েল এই অঞ্চলে রুশ'-দের থেকে খাজনা আদায়ের দায়িত্বে নিয়োজিতে মঙ্গোল খানের নিকট (যিনি নিজেকে বাস্কাক ঘোষণা করেছিলেন) খাজনা প্রদান করতেন। ১২৫৩ খ্রিষ্টাব্দে পোপের প্রতিনিধি তাকে “রুশ'-এর রাজা” (লাতিন: rex Russiae) উপাধিতে ভূষিত করেন। এর পূর্বে রুশ'-দের শাসকদের সাধারণত “গ্র‍্যান্ড ডিউক” বা “প্রিন্স” হিসেবে ভূষিত হতেন।

মধ্যযুগের শেষভাগ

[সম্পাদনা]

ত্রয়োদশ শতাব্দী থেকে বর্তমান ইউক্রেনের উপকূলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন অংশ জেনোভা প্রজাতন্ত্র কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত ছিল। এর অধীনে কৃষ্ণ সাগর উপকূলে বিভিন্ন উপনিবেশ স্থাপিত হয়, যার অধিকাংশ বর্তমান ওদেসা অব্লাস্টে অবস্থিত। সৈন্যসমৃদ্ধ, দুর্গবেষ্টিত এই উপনিবেশগুলো কৃষ্ণ সাগরে জেনোভার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। পঞ্চদশ শতাব্দী পর্যন্ত এই অঞ্চলে জেনোভা তার প্রভাব বজায় রাখতে সক্ষম হয়।[৪৪][৪৫][৪৬]

চতুর্দশ শতাব্দী জুড়ে পোল্যান্ডলিথুয়ানিয়া আক্রমণকারী মঙ্গোলদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং ইউক্রেনের প্রায় পুরো অংশ পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার অধীনে চলে আসে। বিশেষভাবে লোহিত রুথেনিয়া এবং ভোলিনিয়াপডোলিয়ার অংশবিশেষ পোল্যান্ডের অন্তর্ভুক্ত হয়। পোল্যান্ডের রাজা নিজেকে “রুথেনিয়ার অধিপতি ও উত্তরাধিকারী” (লাতিন: Russiae dominus et Heres) হিসেবে ঘোষণা করেন।[৪৭] নীল পানির যুদ্ধের পর (১৩৬২/৬৩) লিথুয়ানিয়া পলোৎস্ক, ভোলিনিয়া, চেরনিগিভ ও কিয়েভের নিয়ন্ত্রণ নেয়। লিথুয়ানিয়ার রাজারা “রুশ'-দের শাসক” উপাধি গ্রহণ করেন।

কিয়েভীয় রুশ'গ্যালিসিয়া-ভোলিনিয়ার পতনের পর লিথুয়ানিয়ার অধীনে এই অঞ্চলের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় জীবন চলমান থাকে।[৪৮] ওলেলকোভিচ প্রমুখ রুথেনীয় অভিজাত শ্রেণির সদস্যরা লিথুয়ানিয়ার গ্র‍্যান্ড ডাচির অধীনে জ্যেষ্ঠ সেনাপতি, প্রশাসক এবং গ্র‍্যান্ড ডিউকের প্রিভি কাউন্সিল সদস্য হিসেবে যোগদান করেন।[৪৮] লিথুয়ানিয়ার শাসকশ্রেণির ভাষা লিথুয়ানীয় হলেও গ্র‍্যান্ড ডাচির প্রধান লিখিত ভাষা ছিল লাতিন, প্রাচীন গির্জীয় স্লাভোনিক, এমনকি রুথেনীয় ভাষাওআধুনিক যুগের প্রারম্ভে এসে পূর্ব স্লাভোনিক চ্যান্সারি পোলিশ ভাষা দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়।[৪৯]

ধীরে ধীরে পোল্যান্ড এই অঞ্চলের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ দখল করে নেয়। পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যকার ঐক্যচুক্তি সম্পাদনের সুবাদে পোলিশ, জার্মান, লিথুয়ানীয়ইহুদিরা এই অঞ্চলে অভিবাসিত হয়ে বসতি স্থাপন করে। ফলশ্রুতিতে শাসনব্যবস্থায় ইউক্রেনীয়রা লিথুয়ানীয়দের সাথে যেই ক্ষমতা ভোগ করতো, সেখান থেকে তারা ক্রমেই সরে যেতে থাকে। একইসাথে ক্রমশ প্রতীয়মান পোলিশ অভিবাসন, পোলীয়করণ, ইউক্রেন ও ইউক্রেনীয়দের প্রতি নিপীড়নের ফলে ইউক্রেনীয়রা ইউক্রেন অঞ্চলের আরও ভেতরে স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হয়।

নিপীড়নের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকলে ১৪৯০ খ্রিষ্টাব্দে পোলিশদের বিরুদ্ধে পেত্রো মুখার নেতৃত্বে ইউক্রেনীয়রা একাধিকবার সফল বিদ্রোহ পরিচালনা করে। এই বিদ্রোহে মলদাভীয়দের (রোমানীয়) পাশাপাশি কসাক, হুৎসুল প্রমুখ ইউক্রেনীয় জনগোষ্ঠীরাও যোগদান করে। মলদাভিয়ার যুবরাজ মহান স্টেফানের সমর্থনে পরিচালিত মুখার বিপ্লব পোলিশ নিপীড়নের বিরুদ্ধে ইউক্রেনীয়দের প্রথম বিদ্রোহগুলোর অন্যতম। এই বিদ্রোহ পোকুট্টিয়ার বিভিন্ন শহর দখল করে পশ্চিমে লিভিভ পর্যন্ত পৌঁছালেও শহরটি দখলে ব্যর্থ হয়।[৫০]

পঞ্চদশ শতাব্দীতে সোনালি উর্দুর পতনের ক্রিমীয় খানাতের গোড়াপত্তন ঘটে। বর্তমান কৃষ্ণ সাগরের তীরবর্তী অঞ্চলসমূহ ও দক্ষিণ ইউক্রেনের স্টেপ তৃণভূমি অঞ্চল ক্রিমীয় খানাতের অধীনে চলে আসে। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ নাগাদ ক্রিমীয় খানাত উসমানীয় সাম্রাজ্যমধ্যপ্রাচ্যে সুবিশাল দাস ব্যবসা পরিচালনা করত।[৫১] ক্রিমীয় খানাত ১৫০০–১৭০০ খ্রিষ্টাব্দে ইউক্রেন ও রাশিয়া থেকে প্রায় দুই লাখ দাস মধ্যপ্রাচ্যে পাঠায়।[৫২] ১৭৭৪ খ্রিষ্টাব্দের পূর্ব পর্যন্ত ক্রিমীয় খানাত উসমানীয় সাম্রাজ্যের অধীন রাজ্য হিসেবে টিকে ছিল। ১৭৮৩ খ্রিষ্টাব্দে রুশ সাম্রাজ্যের হাতে এই খানাতের বিলুপ্তি ঘটে।

আধুনিক যুগের প্রারম্ভ

[সম্পাদনা]

পোলিশ-লিথুয়ানীয় কমনওয়েলথ

[সম্পাদনা]
পোলিশ–লিথুয়ানীয় কমনওয়েলথ
  পোল্যান্ড রাজ্য

১৫৬৯ খ্রিষ্টাব্দে লুবলিনের যুগলবন্দিপোলিশ-লিথুয়ানীয় কমনওয়েলথ গঠনের পর ইউক্রেন পোল্যান্ডের রাজার অধীনে পোলিশ প্রশাসনের অন্তর্ভুক্ত হয়। কমনওয়েলথ গঠনের পরপরই পুনরায় এই অঞ্চলে ঔপনিবেশিক প্রচেষ্টা পরিলক্ষিত হয়। ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন নতুন শহর ও গ্রাম গড়ে ওঠে এবং অঞ্চলসমূহের মধ্যে (যেমন: হালিচ ভূমিভোলিনিয়া) যোগাযোগব্যবস্থার অনেক উন্নতি হয়।[৫৩]

নতুন ধারার বিদ্যালয়গুলোতে রেনেসাঁর ধারণা প্রচার করা হতে থাকে। পোলিশ কৃষকেরা বিশাল সংখ্যায় এই অঞ্চলে আসে এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মিশ্রিত হতে থাকে। এই সময়ের মধ্যে অধিকাংশ ইউক্রেনীয় অভিজাতশ্রেণি পোলিশ ভাষায় থিতু হন এবং ক্যাথলিক ধর্মে দীক্ষিত হন। কিন্তু সাধারণ রুথেনীয় ভাষী কৃষকশ্রেণি পূর্বদেশীয় অর্থোডক্স ধর্মে আস্থা বজায় রাখায় সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়। স্টানিস্লাভ ওরজেচোভস্কির মতো পোলীয়করণের ফলে পোলিশ সংস্কৃতিতে থিতু হওয়া অভিজাতশ্রেণি ব্যাপকভাবে পোলিশ সংস্কৃতিতে প্রভাব বিস্তার করেন।

ভূমিদাস প্রথায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে পালিয়ে আসা রুথেনীয়রা কসাক নামে পরিচিত হয় এবং শক্তিশালী যোদ্ধা হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। কসাকদের মধ্যে অনেকে নিবন্ধিত সৈন্য হিসেবে তাতারদের থেকে কমনওয়েলথের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে এবং বহিঃদেশে যুদ্ধ পরিচালনায় প্রেরিত হয়। (তন্মধ্যে পেত্রো কোনাশেভিচ-সাহাইডাখনি ১৬২১ খ্রিষ্টাব্দে খোতিনের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।) পোলিশ-লিথুয়ানীয় কমনওয়েলথ ও জারপন্থী রাশিয়ার মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধসমূহেও কসাক বাহিনী সক্রিয় ছিল। কসাকদের সামরিক অবদান সত্ত্বেও অভিজাতশ্রেণি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত কমনওয়েলথ কসাক অধ্যুষিত অঞ্চলে স্বায়ত্তশাসন প্রদানে উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি, বরং কসাকদের ভূমিদাস প্রথায় অন্তর্ভুক্ত করতে প্রচেষ্টা চালায়। এর ফলে কমনওয়েলথের বিরুদ্ধে কসাকরা বারবার বিদ্রোহ পরিচালনা করতে থাকে।

ষোড়শ শতাব্দীতে ভয়ভডশিপের আকার ও জনসংখ্যা[৫৪]
ভয়ভডশিপবর্গ কিলোমিটারজনসংখ্যা (আনু.)
গ্যালিসিয়া৪৫,০০০৪,৪৬,০০০
ভোলিনিয়া৪২,০০০২,৯৪,০০০
পোডিলিয়া১৯,০০০৯৮,০০০
ব্রাটস্লাভ৩৫,০০০৩,১১,০০০
কিয়েভ১,১৭,০০০২,৩৪,০০০
বেলজ (দুইটি অঞ্চল)খোলম১৯,০০০১,৩৩,০০০
পিডলিয়াসিয়া১০,০০০২,৩৩,০০০

কসাক যুগ

[সম্পাদনা]
মানচিত্রকার ব্যুপ্লাঁ (১৬০০–১৬৭৩) কর্তৃক অঙ্কিত ইউক্রেনের ফরাসি মানচিত্র (“কার্তে দ'উক্রানি”) (উপরের দিকে দক্ষিণ)
জাপোরিজীয় কসাক

১৬৪৮ খ্রিষ্টাব্দে ইউক্রেনীয় কসাকদের বিদ্রোহ বা খমেলনিৎস্কি অভ্যুত্থান ইউক্রেনে এমন এক সময়ের সূচনা করে, যা ইউক্রেনের ইতিহাস ধ্বংসের যুগ (পোল্যান্ডের ইতিহাসে ডেলুগে) নামে পরিচিত। এই বিদ্রোহ কমনওয়েলথ গঠনের মূল উদ্দেশ্যকে দুর্বল করে। আধুনিক ইউক্রেনের পূর্বসূরি বলে পরিচিত[৫৫] উদীয়মান নতুন রাষ্ট্র কসাক গেতমানাত[৫৫] তিনদিক দিয়ে সামরিক ও কূটনৈতিক শত্রুবেষ্টিত অবস্থায় প্রতিষ্ঠিত হয়। দক্ষিণে উসমানীয় তুর্কিদের নিয়ন্ত্রিত তাতার, উত্তরে পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার কমনওয়েলথ এবং পূর্বে জারপন্থী রাশিয়ার অবস্থান ছিল।

জাপোরিজীয় সৈন্যদল পোলিশ-লিথুয়ানীয় কমনওয়েলথ থেকে বের হওয়ার উদ্দেশ্যে ১৬৫৪ খ্রিষ্টাব্দে রাশিয়ার সাথে সুরক্ষা চুক্তি করার প্রচেষ্টা চালায়।[৫৫] এই চুক্তিটি পেরেইয়াস্লাভ চুক্তি নামে পরিচিত।[৫৫] এরপর কমনওয়েলথ কর্তৃপক্ষ ইউক্রেনীয় কসাকদের সঙ্গে সমঝোতার উদ্দেশ্যে ১৬৫৮ খ্রিষ্টাব্দে গাদিয়াখের চুক্তিতে সম্মত হয়। কিন্তু রাশিয়া ও পোল্যান্ডের মধ্যকার তেরো বছরের অবিরাম যুদ্ধের পর ১৬৬৭ খ্রিষ্টাব্দে আন্ড্রুসভোর যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরিত হওয়ায় সেই চুক্তি বাতিল হয়ে যায় এবং ইউক্রেনীয় অঞ্চলসমূহ কমনওয়েলথ ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে। শুরুতে রাশিয়ার অধীনে কসাক গেতমানাত প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন লাভ করে।[৫৫] কিছু সময়ের জন্য জাপোরিজিয়ায় একটি আধা-স্বাধীন প্রজাতন্ত্র এবং রাশিয়ার সীমান্তবর্তী স্লোবোদা ইউক্রেনে একটি উপনিবেশও রক্ষা করে।

১৬৮৬ খ্রিষ্টাব্দে কনস্টান্টিনোপলের সার্বজনীন ধর্মপতি চতুর্থ ডায়োনিসিয়াসের প্রেরিত সিনোডাল পত্রের মাধ্যমে কিয়েভ মেট্রোপলিস মস্কো ধর্মপতির এলাকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

রুশ সাম্রাজ্য ও অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি

[সম্পাদনা]

পরবর্তী দশকগুলোতে মধ্য ইউক্রেনে জারপন্থী শাসনব্যবস্থা ঘনীভূত হতে থাকে এবং “সুরক্ষা”-এর উদ্দেশ্যকে পাশ কাটাতে শুরু করে। কসাকরা বিক্ষিপ্তভাবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে থাকে। কিন্তু সম্পূর্ণ কসাক সৈন্যদলের বিনাশ হয়ে যাওয়ায় অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ নাগাদ তা ধীরে ধীরে কমে আসতে থাকে। ১৭৭২, ১৭৯৩ ও ১৭৯৫ খ্রিষ্টাব্দে পোল্যান্ডের বিভাজনের পর ইউক্রেনের সর্বপশ্চিমের অংশ অস্ট্রীয়দের অধীনে চলে আসে এবং বাকি অংশ রুশ সাম্রাজ্যের অধীনস্থ হয়। রুশ–তুর্কি যুদ্ধের প্রভাবে মধ্য-দক্ষিণ ইউক্রেন থেকে উসমানীয় সাম্রাজ্য সরে আসতে বাধ্য হলেও, আন্তঃকার্পেথীয় অঞ্চলে হাঙ্গেরির শাসন অব্যাহত থাকে। ইউক্রেনীয় লেখক ও বুদ্ধিজীবীরা ইউক্রেনীয় জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে উঠেন এবং ইউরোপের অন্যান্য সাম্রাজ্যের অধীনে থাকা মানুষদের অনুরূপভাবে উৎসাহিত করতে থাকেন। তারা ইউক্রেনের ভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যসমূহকে পুনরুজ্জীবিত করতে শুরু করেন এবং ইউক্রেনীয়দের জন্য একটি জাতি-রাষ্ট্র গঠনের আন্দোলন শুরু করেন, যা ইউক্রেনপন্থা নামে পরিচিত।

সাম্রাজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রাশিয়া ইউক্রেনীয় ভাষা ও সংস্কৃতির পুনরুজ্জীবন প্রচেষ্টায় কড়াকড়ি আরোপ করে। এমনকি ভাষার ব্যবহার ও অধ্যয়নও নিষিদ্ধ করে। ১৮৬৩ খ্রিষ্টাব্দে ভালুয়েভ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ধর্মীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত পাঠ্যে ইউক্রেনীয় ভাষা নিষিদ্ধ করা হয়। ১৮৭৬ খ্রিষ্টাব্দে এমস উকাজ ইউক্রেনীয় ভাষায় প্রকাশনা সরাসরি বেআইনি ঘোষণা করেন। পাশাপাশি বিদেশে ইউক্রেনীয় ভাষায় প্রকাশিত সাহিত্যকর্মের আমদানি, মঞ্চনাটক ও জনসাধারণের উদ্দেশ্যে উন্মুক্ত পাঠাচারে ইউক্রেনীয় ভাষার ব্যবহার এবং ইউক্রেনীয় ভাষায় শিক্ষাদানকেও বেআইনি ঘোষণা করা হয়।[৫৬] রুশীয়করণের উদ্দেশ্যে রুশপন্থীসর্বস্লাভীয় নীতির কারণে ইউক্রেনীয় বুদ্ধিজীবীরা পশ্চিম ইউক্রেনে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। তবে বহু ইউক্রেনীয় রুশ সাম্রাজ্যের অধীনে তাদের ভাগ্যকে মেনে নেন এবং সেখানে সফলভাবে বসবাস করতে থাকেন।

অন্যদিকে অস্ট্রীয় সাম্রাজ্যের অধীনে ইউক্রেনীয়দের ভাগ্য অনেকটাই ভিন্ন ছিল। অস্ট্রীয় প্রশাসন মধ্য ও দক্ষিণ ইউরোপে রাশিয়া ও অস্ট্রিয়ার মধ্যকার ক্ষমতার দ্বন্দ্বে ইউক্রেনীয়দের ব্যবহার করতে থাকে। রাশিয়ার আচরণের বিপরীতে গ্যালিসিয়ার প্রশাসনে নিযুক্ত ব্যক্তিবর্গ গণহারে অস্ট্রীয় অথবা পোলিশ বংশোদ্ভূত ছিলেন। রুথেনীয়রা অধিকাংশ কৃষিকাজেই নিয়োজিত ছিল। ঊনবিংশ শতাব্দীতে স্লাভীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে রুশপন্থা ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল। কিন্তু পূর্ব ইউক্রেনে রাশিয়ার নিপীড়ন থেকে ইউক্রেনীয় বুদ্ধিজীবীদের পালিয়ে আসা এবং অস্ট্রীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে রুশপন্থা ক্রমশ ইউক্রেনপন্থিতায় রূপ নেয়। এই আন্দোলন ধীরে ধীরে সীমানা ছাড়িয়ে রাশিয়া অধিকৃত ইউক্রেনীয় অঞ্চলেও প্রভাব বিস্তার করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় অস্ট্রীয় সেনাবাহিনী এই রুশপন্থীদের অবরুদ্ধ করে এবং টালেরহফ শরণার্থী শিবিরে আটকে রাখে। এই শিবিরে অনেক ইউক্রেনীয় মৃত্যুবরণ করেন।

আধুনিক ইতিহাস

[সম্পাদনা]
তারাস শেভচেঙ্কো, আত্মচিত্রণ, ১৮৪০

সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতাব্দীতে ইউক্রেন

[সম্পাদনা]

১৭৬৮/১৭৬৯ খ্রিষ্টাব্দে কৃষক বিদ্রোহ ও এর প্রভাবে পোলিশ–লিথুয়ানীয় কমনওয়েলথের ভাঙনের ফলশ্রুতিতে অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে রাষ্ট্র হিসেবে ইউক্রেন ও জাতীয়তা হিসেবে ইউক্রেনীয় জাতির ধারণা এবং ইউক্রেনীয় জাতির পুনর্জাগরণের সূচনা ঘটে। এই সময়ে গ্যালিসিয়া অস্ট্রীয় সাম্রাজ্য ও ইউক্রেনের অন্যান্য অংশ রুশ সাম্রাজ্যভুক্ত হয়।

১৭৯৩ খ্রিষ্টাব্দের পূর্ব পর্যন্ত ইউক্রেনের পশ্চিম তীর পোলিশ–লিথুয়ানীয় কমনওয়েলথের অধীনে ছিল। অন্যদিকে ১৬৬৭ খ্রিষ্টাব্দে আন্ড্রুসভো চুক্তির মাধ্যমে ইউক্রেনের পূর্ব তীর জারপন্থী রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৬৭২ খ্রিষ্টাব্দে তুর্কি উসমানীয় সাম্রাজ্য পডোলিয় দখল করে। অন্যদিকে কিয়েভব্রাক্লভ গেতমান পেত্রো ডরোশেঙ্কোর অধীনে আসে। ১৬৮১ খ্রিষ্টাব্দে এই দুইটি অঞ্চলও তুর্কির অধিকারে আসার পর ১৬৯৯ খ্রিষ্টাব্দে কার্লোভিৎজ চুক্তির মাধ্যমে এই অঞ্চল দুইটি পুনরায় কমনওয়েলথভুক্ত হয়।

ইউক্রেনের অধিকাংশ অঞ্চল মহান ক্যাথরিনের শাসনাধীন রুশ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৭৭৮ খ্রিষ্টাব্দে ক্রিমিয়া থেকে খ্রিষ্টানদের বিতারণের পর ১৭৮৩ খ্রিষ্টাব্দে রুশ সাম্রাজ্য ক্রিমীয় খানাত দখল করেপোল্যান্ডের বিভাজনের পর ১৭৯৩ খ্রিষ্টাব্দে ইউক্রেনের পশ্চিম তীরও রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত হয়।[৫৭]

ইউক্রেনীয় জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ ইউক্রেনীয় লেখক ও বুদ্ধিজীবীরা ইউরোপের অন্যান্য অঞ্চলেও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির অধীনে থাকা জাতিসমূহকে উদ্বুদ্ধ করতে থাকে। সাম্রাজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রাশিয়া ইউক্রেনীয় ভাষা ও সংস্কৃতির পুনর্জাগরণের প্রচেষ্টায় বিধিনিষেধ আরোপ করে। ইউক্রেনীয় ভাষার ব্যবহার ও চর্চা নিষিদ্ধ করা হয়। রুশীয়করণের লক্ষে রুশপন্থীসর্বস্লাভীয় নীতির কারণে ইউক্রেনীয় বুদ্ধিজীবীরা পশ্চিম ইউক্রেনে পালিয়ে যায়। অন্যদিকে ইউক্রেনে টিকে থাকা ইউক্রেনীয়রা সর্বস্লাভীয় বা রুশ পরিচয় ধারণ করে।

ঊনবিংশ শতাব্দী

[সম্পাদনা]

প্রথম আলেকজান্ডারের শাসনাধীন (১৮০১–১৮২৫) ইউক্রেনে শুধু রাজকীয় সেনাবাহিনী ও আমলাতন্ত্রে রাশিয়ার উপস্থিতি ছিল। কিন্তু প্রথম নিকোলাসের অধীনে (১৮২৫–১৮৫৫) ইউক্রেনে রাশিয়ায় কেন্দ্রীয় শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। নভেম্বর বিপ্লব সফলভাবে দমনের পর জারপন্থী শাসনব্যবস্থা পশ্চিম তীরেও রুশীয়করণ নীতির প্রয়োগ শুরু করে।[৫৮]

পূর্ব গ্যালিসিয়ায় হ্যাবসবার্গ সাম্রাজ্যের অধীনে বসবাসরত ২৪ লক্ষ ইউক্রেনীয় মূলত কৃষিকাজ (৯৫%) ও যাজকীয় কাজে নিয়োজিত ছিল। গ্যালিসিয়ার অভিজাতশ্রেণি উল্লেখজনকভাবে পোলিশ অথবা পোলিশ সংস্কৃতিকে ধারণকারী ইউক্রেনীয় ছিল। রুশ-অধিকৃত ইউক্রেনের তুলনায় এই অঞ্চল উন্নয়নে অনেক পিছিয়ে ছিল এবং এই অঞ্চল তৎকালীন ইউরোপের সবচেয়ে দরিদ্র অঞ্চলগুলোর অন্যতম ছিল।[৫৮]

ঊনবিংশ শতাব্দীতে জাতীয় চেতনার বিকাশ ঘটে এবং অভিজাতশ্রেণির মধ্যে বুদ্ধিজীবীদের হার কমতে থাকে ও সাধারণশ্রেণি ও কৃষকদের মধ্যে বুদ্ধির বিকাশ বাড়তে থাকে। তাদের সামনে জাতীয় অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য জাতিগঠনের আকাঙ্ক্ষা প্রতীয়মান হয়। কিন্তু জারপন্থী শাসনব্যবস্থা শীঘ্রই বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারে। ১৮৪৮ খ্রিষ্টাব্দের বিপ্লবের পর ইউক্রেনীয়রা স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে সর্বোচ্চ রুথেনীয় পরিষদ প্রতিষ্ঠা করে। এছাড়াও জোরিয়া গালিৎস্কা নামে ইউক্রেনীয় ভাষায় প্রথম সংবাদপত্রও প্রকাশ করতে শুরু করে। ইউক্রেনীয়দের ৪২% ভূমিদাস কৃষক হওয়ায় ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দের বন্ধনমুক্তি সংস্কার তাদের উপরে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ নাগাদ উচ্চ করহার, জনসংখ্যার বিস্ফোরণ এবং ভূমিহীনতার কারণে কৃষকশ্রেণি দারিদ্র‍্যনিপীড়িত হতে থাকে। তা সত্ত্বেও স্টেপ তৃণভূমি অঞ্চলে বিশ্বের ২০% গম এবং সাম্রাজ্যের ৮০% চিনি উৎপাদিত হতো। ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম রেললাইন নির্মাণের মাধ্যমে এই অঞ্চলের শিল্পায়নের সূচনা ঘটে। এই সময় নাগাদ ইউক্রেনের অর্থনীতি সমগ্র সাম্রাজ্য ব্যবস্থায় ভালোভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাওয়ায় এই অঞ্চলে ব্যাপক নগরায়ন পরিলক্ষিত হতে থাকে।[৫৮]

বিংশ শতাব্দী

[সম্পাদনা]
১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দের ইউক্রেনীয় গণপ্রজাতন্ত্রের প্রপাগান্ডা পোস্টার: আমাদের শত্রুরা সূর্যের আলোয় শিশিরের মতো মিলিয়ে যাবে; আমরাও আমাদের দেশ শাসন করব
১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দের পোস্টকার্ডে ইউক্রেন

রুশ বিপ্লব ও স্বাধীনতা যুদ্ধ

[সম্পাদনা]
ইউক্রেনীয় সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের সীমানাবদল ১৯২২–১৯৫৪: ওকরুগ তাগানরোগশাখতি অপসারণ (১৯২৪); পোলিশ ভোলিনিয়া অন্তর্ভুক্তকরণ (১৯৩৯); ট্রান্সনিস্ট্রিয়া অপসারণ (১৯৪০); জাকারপাটিয়া অন্তর্ভুক্তকরণ (১৯৪৫); রোমানীয় দ্বীপসমূহ অন্তর্ভুক্তকরণ (১৯৪৮); ক্রিমিয়া অন্তর্ভুক্তকরণ (১৯৫৪)।
গলোডোমরের সময়কালসহ ১৯২৯–১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে ইউক্রেনের জনসংখ্যা হ্রাস

ইতিহাসবিদ পল কুবিচেকের মতে:

১৯১৭ থেকে ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে স্বাধীন ইউক্রেনীয় জাতি হিসেবে অস্তিত্ব তৈরি করতে ইচ্ছুক কিছু সংগঠনের আবির্ভাব ঘটে। তবে এই সময়টি বিপ্লব, আন্তর্জাতিক ও গৃহযুদ্ধ এবং শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকারের অভাবে অত্যন্ত নৈরাজ্যপূর্ণ ছিল। বর্তমান ইউক্রেন অঞ্চলে একাধিক শক্তি ক্ষমতার জন্য সংঘর্ষে লিপ্ত ছিল এবং প্রতিটি শক্তিই আলাদা আলাদা স্বাধীন ইউক্রেনীয় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখতো। শেষ পর্যন্ত স্বাধীন ইউক্রেন রাষ্ট্র অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী ছিল। ইউক্রেনের অধিকাংশ ভূমি সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং পশ্চিম ইউক্রেনের অবশিষ্ট ভূমিও পোল্যান্ড চেকোস্লোভাকিয়া ও রোমানিয়ার মধ্যে বিভক্ত হয়ে যায়।[৫৯]

কানাডীয় পণ্ডিত ওরেস্ট সুবটেলনির মতে:

১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে ইউক্রেন সম্পূর্ণভাবে নৈরাজ্যে নিমজ্জিত ছিল। সত্যিকার অর্থে, সেই সময়কার ইউক্রেনের মতো সম্পূর্ণ নৈরাজ্য, কটু অন্তঃদ্বন্দ্ব ও ক্ষমতার সম্পূর্ণ ভাঙন আধুনিক ইউরোপের ইতিহাসে কোনো দ্বিতীয় দেশ প্রত্যক্ষ করেনি। ইউক্রেনীয়, বলশেভিক, আঁতাঁত (ফরাসি), পোল ও নৈরাজ্যবাদী, এই সম্পূর্ণ ছয়টি ভিন্ন শক্তি এই অঞ্চলে তৎপর ছিল। কিয়েভে এক বছরের মধ্যে ছয়বার ক্ষমতার হাতবদল হয়। বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রের প্রভাবে শহর ও অঞ্চলসমূহের মধ্যে আন্তঃযোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। বহির্বিশ্বের সাথে যোগাযোগও প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার উপক্রম হয়। শহরের বাসিন্দারা খাদ্যের সন্ধানে গ্রামের দিকে ছড়িয়ে পড়ায় শহরগুলো কার্যত জনশূন্য হয়ে যায়।[৬০]

১৯১৭ থেকে ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত চলমান ইউক্রেনের স্বাধীনতা যুদ্ধের ফলে মাখনভশচিনা, ইউক্রেনীয় গণপ্রজাতন্ত্র, ইউক্রেনীয় সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, পশ্চিম ইউক্রেনীয় গণপ্রজাতন্ত্র প্রভৃতি স্বল্পস্থায়ী রাষ্ট্রের জন্ম হয়। এর অধিকাংশ রাষ্ট্রই সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত হয় এবং কেবল পশ্চিম ইউক্রেন পোল্যান্ডের সাথে যুক্ত হয়।[৬১][৬২]

১৯৩০–১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দ নাগাদ গলোডোমর নামে পরিচিত সোভিয়েত দুর্ভিক্ষে ইউক্রেন, কুবান ও ডন কসাক অঞ্চলে প্রায় লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যু হয়, যার অধিকাংশই ছিল ইউক্রেনীয়।[৬৩][৬৪]

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ

[সম্পাদনা]

১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে হিটলার ও স্তালিনের পোল্যান্ড আক্রমণের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়। সোভিয়েত ইউনিয়ন পোল্যান্ডের পূর্বাঞ্চল দখল করে নেয়। ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দে নাৎসি জার্মানি ও তার মিত্ররা সোভিয়েত ইউনিয়নে আক্রমণ করে। আনুমানিক ৪৫ থেকে ৬০ লক্ষ ইউক্রেনীয় সোভিয়েত বাহিনীর পক্ষে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।[৬৫] কতিপয় ইউক্রেনীয় শুরুতে নাৎসি ভেয়ারমাখট সৈন্যদের সোভিয়েত শাসন থেকে স্বাধীনতা প্রদানকারী হিসেবে বিবেচনা করেছিল। আবার এর বিপরীতে অনেক ইউক্রেনীয় সোভিয়েত পার্টিসান গঠন করে। আবার ইউক্রেনের জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী ইউক্রেনীয় বিদ্রোহী সেনাবাহিনী গঠন করে, যা একইসাথে সোভিয়েত বাহিনী ও জার্মান নাৎসি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। অন্যান্যরা জার্মানদের সহযোগিতা করে। পোল্যান্ড সরকারের প্রত্যক্ষ সমর্থনের অভাবে ইউক্রেনীয়দের আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন প্রদানের প্রত্যাশায় দ্বিতীয় পোলিশ প্রজাতন্ত্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনকারী ইউক্রেনীয় জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট প্রমুখ দল কোণঠাসা হয়ে পড়ে। এই দলগুলোর সমর্থকদের মধ্যে ইউক্রেনীয়দের পোলিশ সংস্কৃতিতে জোরপূর্বক আত্মীকরণের রীতি ছিল।[৬৬] ইউক্রেন দখলের সময় নাৎসি বাহিনীর হাতে প্রায় পনেরো লক্ষাধিক ইহুদি গণহত্যার শিকার হয়।[৬৭] ভোলিনিয়ায় ইউক্রেনীয় যোদ্ধারা গণহত্যা পরিচালনা করে এবং প্রায় ১ লক্ষাধিক জাতিগত পোলিশ বেসামরিক মানুষকে হত্যা করে।[৬৮] ইউপিএ সমর্থক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কিছু দল ১৯৫০-এর দশক পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পোল্যান্ডের সীমানায় তৎপর ছিল।[৬৯] ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দে মলোতোভ–রিবেনট্রপ চুক্তির প্রেক্ষিতে সোভিয়েত নিয়ন্ত্রণাধীন গ্যালিসিয়া, ভোলিনিয়া, দক্ষিণ বেসারাবিয়া, উত্তর বুকোভিনাকার্পেথীয় রুথেনিয়া ইউক্রেনীয় এসএসআরের অন্তর্ভুক্ত হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে ইউক্রেনীয় এসএসআরের সংবিধানে কিছু সংশোধনী গৃহীত হয়। এর ফলে সোভিয়েত ইউনিয়নের অধীনে থেকেও কিছুমাত্রায় আন্তর্জাতিক আইন প্রণয়নী ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র সত্তা হিসেবে গণ্য হওয়ার অধিকার লাভ করে। বিশেষভাবে, এই সংশোধনীসমূহের কারণেই ইউক্রেনীয় এসএসআর সোভিয়েত ইউনিয়ন ও বাইলোরাশিয়ান এসএসআরের সাথে জাতিসংঘের অন্যতম প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। পশ্চিমা জোটের বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের অসাম্যতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তি অনুযায়ী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে কিছুমাত্রায় সমতা প্রতিষ্ঠা করতে অনুরূপ ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছিল। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সদস্য হওয়ার সুবাদে ইউক্রেনীয় এসএসআর ১৯৪৮–৪৯ ও ১৯৮৪–৮৫ খ্রিষ্টাব্দে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিল। ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে ক্রিমিয়া অব্লাস্ট রুশ সোভিয়েত যুক্তরাষ্ট্রীয় সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র থেকে ইউক্রেনীয় এসএসআরের অধীনে ন্যস্ত করা হয়।[৭০]

স্বাধীনতা

[সম্পাদনা]
সোভিয়েত ইউনিয়ন বিলুপ্তির লক্ষে বেলাভেজা চুক্তি স্বাক্ষররত ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি লিওনিদ ক্রাভচুক ও রুশ ফেডারেশনের রাষ্ট্রপতি বরিস ইয়েলৎসিন, ৮ ডিসেম্বর ১৯৯১
১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ ফেব্রুয়ারি গৃহীত ইউক্রেনের কোট অব আর্মসমহান ভ্লাদিমিরের কিয়েভীয় মুদ্রার “ত্রিযুব” বা ত্রিশূলের আদলে ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে মিখাইলো গ্রুশেভস্কি ইউক্রেনীয় গণপ্রজাতন্ত্রের জন্য এই প্রতীক অঙ্কন করেছিলেন।
১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ জানুয়ারি গৃহীত নীল–হলুদ রঙের ইউক্রেনের জাতীয় পতাকা। ১৯১৭/১৮ খ্রিষ্টাব্দে ইউক্রেনের স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন পতাকার আদলে এটি নির্মিত হয়।

১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পরে ইউক্রেন স্বাধীনতা লাভ করে এবং ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বরে ইউক্রেনীয় স্বাধীনতার গণভোটে তা চূড়ান্ত করা হয়। এর পূর্বে ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দের ২১ জানুয়ারি প্রায় ৩ লক্ষাধিক ইউক্রেনীয়[৭১] কিয়েভ থেকে লিভিভ পর্যন্ত মানববন্ধনের আয়োজন করে। ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ আগস্ট ইউক্রেন স্বাধীনতা ঘোষণা করে। এই দিন ইউক্রেনের সুপ্রিম সোভিয়েত (সংসদ) সোভিয়েত ইউনিয়নের আইন মানবে না এবং কেবল ইউক্রেনীয় এসএসআরের আইন অনুসরণ করবে বলে ঘোষণা দেয়। এর মাধ্যমে ইউক্রেন কার্যত স্বাধীনতা ঘোষণা করে। পরবর্তীতে ১ ডিসেম্বর সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোটের মাধ্যমে ইউক্রেন চূড়ান্তভাবে স্বাধীনতা লাভ করে। ইউক্রেনের প্রতিটি রাজ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতাসহ প্রায় ৯০% ইউক্রেনীয় স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দেয়। এমনকি ক্রিমিয়ায় স্বাধীনতার পক্ষে ৫৬% ভোট পড়ে। এরপর ২৬ ডিসেম্বর সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাকালীন প্রজাতন্ত্র ইউক্রেন, বেলারুশ ও রাশিয়ার রাষ্ট্রপতিগণ বেলোভেজা অরণ্যে মিলিত হন এবং চুক্তির মাধ্যমে সোভিয়েত সংবিধান অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে সোভিয়েত ইউনিয়ন বিলুপ্ত করতে সম্মত হন। এর মাধ্যমে ইউক্রেন চূড়ান্তভাবে স্বাধীনতা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে।

১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দের ১ ডিসেম্বর গণভোটের পাশাপাশি ইউক্রেনীয়রা প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মাধ্যমে লিওনিদ ক্রাভচুককে নির্বাচিত করে।[৭২] রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার মেয়াদকালে ইউক্রেনীয় অর্থনীতি প্রতি বছর গড়ে ১০% হারে সঙ্কুচিত হয়। (১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দেই সর্বোচ্চ ২০% সঙ্কুচিত হয়।)[৭২] ইউক্রেনের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি লিওনিদ কুচমার শাসনকাল (১৯৯৪–২০০৫) ক্যাসেট কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন দুর্নীতি, কেলেঙ্কারি ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্বের মতো ঘটনা দিয়ে পূর্ণ ছিল।[৭২][৭৩] তবে কুচমার শাসনকালে তিনি ইউক্রেনের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করেন। তার শাসনকালের শেষ বছরে ইউক্রেনের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১০% পর্যন্ত উঠে আসে।[৭২]

কমলা বিপ্লব ও ইউরোময়দান

[সম্পাদনা]

২০০৪ খ্রিষ্টাব্দে কুচমা পুনর্নির্বাচনের জন্য লড়বেন না বলে ঘোষণা দেন। ফলে ২০০৪-এর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দুইজন প্রধান প্রার্থীর উত্থান ঘটে। কুচমা ও রাশিয়া উভয়ের সমর্থনে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ রাশিয়ার সাথে শক্তিশালী সম্পর্কের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।[৭৪] অন্যদিকে প্রধান বিরোধী ভিক্টর ইউশচেঙ্কো ইউক্রেনের নীতির পশ্চিমমুখী পরিবর্তনের ঘোষণা দেন এবং একসময় ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। কিন্তু নির্বাচনে ইয়ানুকোভিচ সামান্য ব্যবধানে বিজয়ী হলে ইয়ুশচেঙ্কো ভোট কারচুপি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ করেন এবং বিশেষভাবে পূর্ব ইউক্রেনে এই কারণে ভোট হারানোর অভিযোগ আনেন। কিয়েভ ও অন্যান্য শহরে বিরোধীরা রাস্তায় নেমে ব্যাপক আন্দোলন (কমলা বিপ্লব) শুরু করলে ইউক্রেন রাজনৈতিক সংকটে পতিত হয়। ইউক্রেনের সর্বোচ্চ আদালত নির্বাচন বাতিল ঘোষণা করার পর পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ভিক্টর ইউশচেঙ্কো বিজয়ী হন। পাঁচ দিন পর ইয়ানুকোভিচ পদত্যাগ করেন এবং ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দের ৫ জানুয়ারি তার মন্ত্রিসভা বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

ইউশচেঙ্কো তার শাসনামলে রাশিয়ার সাথে কম, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে সম্পোর্কোন্নয়নে গুরুত্বারোপ করেন। ফলে ইউক্রেন ও রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ফাটল ধরতে থাকে।[৭৫] ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দে ব্যাপকভাবে গণমাধ্যমে প্রচারিত প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের বিরোধের জেরে রাশিয়ার গ্যাসের জন্য পরিবহনপথ হিসেবে ইউক্রেনের উপর নির্ভরশীল ইউরোপীয় দেশগুলোতে গ্যাসের সঙ্কট তৈরি হয়।[৭৬] শেষ পর্যন্ত ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাসে দেশগুলো একটি সমঝোতায় আসতে সক্ষম হয়।[৭৬]

কমলা বিপ্লবের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইউশচেঙ্কো ও ইউলিয়া টিমোশেঙ্কো[৭৭] ২০১০ খ্রিষ্টাব্দের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রবল প্রতিপক্ষে পরিণত হন।[৭২] টিমোশেঙ্কো একাধারে ইউশচেঙ্কো ও ভিক্টর ইয়ানুকোভিচের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে দাঁড়ান। ফলে নির্বাচন ত্রিমুখী যুদ্ধে রূপ নেয়। জনপ্রিয়তার তলানিতে থাকা ইউশচেঙ্কো[৭৫] জোর করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং কমলা বিপ্লবপন্থী ভোটারদের অনেকাংশ ভোটদানে বিরত থাকে।[৭৮] নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে টিমোশেঙ্কোর ৪৫% ভোটের বিপরীতে ৪৮% ভোট পেয়ে ইয়ানুকোভিচ বিজয়ী হন।[৭৯]

তার শাসনকালে (২০১০–২০১৪) ইয়ানুকোভিচ ও তার দল পার্টি অব রিজিওনসের বিরুদ্ধে ইউক্রেনে “নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র” প্রতিষ্ঠা ও প্রধান বিরোধীদল ব্লক ইউলিয়া টিমোশেঙ্কোকে ধ্বংস করার প্রচেষ্টার অভিযোগ উঠে। কিন্তু রাষ্ট্রপতি ও তার দল উভয়ই তা অস্বীকার করেন।[৮০] ইয়ানুশেঙ্কোর ক্ষমতা কেন্দ্রীভূতকরণের প্রচেষ্টার সবচেয়ে উল্লেখ্য ঘটনাবলির মধ্যে অন্যতম হলো ২০১১ খ্রিষ্টাব্দে ইউলিয়া টিমোশেঙ্কোর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার রায়। পশ্চিমা বিশ্বের বিভিন্ন সরকার এই মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে এর সমালোচনা করে।[৮১]

২০১৪ খ্রিষ্টাব্দে কিয়েভে ইউরোময়দান আন্দোলন

২০১৩ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর মাসে রাষ্ট্রপতি ইয়ানুকোভিচ ইউরোপীয় ইউনিয়ন–ইউক্রেন সংঘ চুক্তি স্বাক্ষরে অস্বীকৃতি জানান এবং রাশিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির ইচ্ছা পোষণ করেন।[৮২][৮৩] এর ফলে কিয়েভের সড়কে ব্যাপক আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে এবং শেষপর্যন্ত তা মর্যাদার বিপ্লবের রূপ লাভ করে। আন্দোলনকারীরা কিয়েভের ময়দান নেজালেঝনোস্তিতে (স্বাধীনতা চত্বর) তাঁবু স্থাপন করে অবস্থান করতে থাকেন[৮৪] এবং ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর ও ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাসে আন্দোলনকারীরা শুরুতে কিয়েভ ও পরবর্তীতে পশ্চিম ইউক্রেনের বিভিন্ন সরকারি ভবন দখল করে নেয়।[৮৫] পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে ফেব্রুয়ারি মাসে ৮০ জনের মৃত্যু ঘটে।[৮৬][৮৭]

সংঘাতের পর ২২ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের সংসদ ভোটাভুটির মাধ্যমে ইয়াকুনোভিচকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ (বাস্তবিকভাবে তার প্রকৃত অবস্থান সম্পর্কে কারও কোনো ধারণা ছিল না এবং এই কারণে তাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়) ও ইউলিয়া টিমোশেঙ্কোকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়। একই দিনে ইয়ানুকোভিচের সমর্থক ভলোদিমির রিবাক ইউক্রেনের সংসদের স্পিকার পদ থেকে পদত্যাগ করে এবং এই পদে টিমোশেঙ্কোর অনুগত ওলেক্সান্দর টুর্চিনভকে নিয়োগ দেওয়া হয়। টুর্চিনভ পরবর্তীতে ইউক্রেনের অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন।[৮৮] ইয়ানুকোভিচ কিয়েভ থেকে পালিয়ে যান এবং পরবর্তীতে রুশ শহর রোস্তভ-ন্য-দানু থেকে সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।[৮৯]

পশ্চিমা সংযুক্তি

[সম্পাদনা]

২০১৬ খ্রিষ্টাব্দের ১ জানুয়ারি ইউক্রেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে গভীর ও বিস্তৃত মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলে প্রবেশ করে। ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দের ১১ জুন শেঙ্গেন অঞ্চলে ইউক্রেনীয় নাগরিকদের ১৮০ দিনের ভ্রমণের মধ্যে ৯০ দিনের জন্য ভিসামুক্ত ভ্রমণ-সুবিধা প্রদান করা হয় এবং ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দের ১ সেপ্টেম্বর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে সংঘ চুক্তি আনুষ্ঠানিক রূপ লাভ করে।[৯০] ইউক্রেনের পররাষ্ট্রনীতিতে পশ্চিমা অগ্রগতির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রাশিয়া-বিরোধী নিষেধাজ্ঞার বিপরীতে সহায়তা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশসমূহের সাথে ভিসামুক্ত ব্যবস্থা গড়ে ওঠা এবং দেশের ভেতরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জটিলতা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় স্বীকৃতি ইত্যাদি। তবে পুরনো আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষসমূহ এই সমস্ত সংস্কারের বিরোধী অবস্থান নেয়। এই সমস্ত আঞ্চলিক সরকারি সংস্থা থেকে ময়দান আন্দোলনবিরোধীদের সরানো হলেও (শুদ্ধিকরণ) তা যথেষ্টমাত্রায় ছিল। ইউক্রেনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হলেও, তা শুধু নিম্নপর্যায়ের চাকরিজীবীদের বিরুদ্ধে সাজা ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে ঘোষণার মধ্যেই সীমিত থাকে। সদ্য-প্রতিষ্ঠিত ইউক্রেনের জাতীয় দুর্নীতিবিরোধী ব্যুরো (নাবু) ও জাতীয় দুর্নীতি প্রতিরোধ অ্যাজেন্সি (এনএসিপি) বিভিন্ন কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ে। বিচারবিভাগীয় সংস্কারের মধ্যেও পুরনো ও আপসকৃত বিচারকরা নিয়োগ পায়। ময়দানে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার তদন্ত পিছিয়ে যায়। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার বিশাল বৈশ্বিক প্রচারণা যুদ্ধের (তথ্য যুদ্ধ) প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেন সরকার তথ্যনীতি মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করলেও, প্রথম পাঁচ বছরে তা কোনো উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখাতে পারেনি। তবে এই সময়ের মধ্যে মন্ত্রণালয় ক্যাস্পারস্কি ল্যাব, ড.ওয়েব, ১সি, মেইল.আরইউ, ইয়ানডেক্স এবং ভিকনটাকটেঅডনোক্লাসনিকির মতো রুশ সামাজিক যোগাযোগ ও প্রপাগান্ডা মাধ্যমগুলোকে নিষিদ্ধ করে। ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দে রাষ্ট্রপতি শিক্ষা সংক্রান্ত একটি আইনে স্বাক্ষর করেন, যা জাতীয় সংখ্যাল্পঘু ও আন্তর্জাতিকভাবে হাঙ্গেরি সরকারের বিরোধিতার সম্মুখীন হয়। একই সময়ে অর্থনীতির অবস্থা ক্রমশ শোচনীয় হতে থাকে। সরকারব্যবস্থায় বিস্তৃত দুর্নীতিকে এর মূল কারণ হিসেবে দায়ী করা হয়। ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ নাগাদ ইউক্রেন ইউরোপের সবচেয়ে দরিদ্র দেশের তকমা লাভ করে, যেখানে মাথাপিছু জিডিপি ৩,০০০ মার্কিন ডলারের নিচে নেমে যায়।[৯১]

২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ মে পরোশেঙ্কো জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা পরিষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের কমনওয়েলথের সংবিধিবদ্ধ সদস্যপদ থেকে ইউক্রেনের অব্যাহতির আদেশ জারি করেন।[৯২][৯৩] ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাস নাগাদ ইউক্রেন স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের কমনওয়েলথে নিজেদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণভাবে কমিয়ে আনে এবং কার্যত অব্যাহতি নিশ্চিত করে। ইউক্রেনের ভেরখভনা রাদা কমনওয়েলথে ইউক্রেনের অংশগ্রহণকে কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয় না, অর্থাৎ ইউক্রেন আইনত কখনোই কমনওয়েলথের আনুষ্ঠানিক সদস্য ছিল না।[৯৪]

২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের ৬ জানুয়ারি ফানেরে ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি পেত্রো পরাশেঙ্কোর উপস্থিতিতে ইউক্রেনের অর্থোডক্স গির্জার প্রতিনিধিবৃন্দ অটোসেফালির নির্দেশসংবলিত টমোস গ্রহণ করে। সার্বজনীন ধর্মপতির সাথে যৌথ উপাসনায় ইউক্রেনের অর্থোডক্স গির্জার প্রধান মেট্রোপলিটান এপিফ্যানিয়াসের নিকট এই টমোস উপস্থাপন করা হয়।[৯৫] পরের দিন প্রদর্শনীর জন্য টমোসটিকে কিয়েভের সন্ত সোফিয়ার ক্যাথেড্রালে আনা হয়। এরপর ৯ জানুয়ারি কনস্টান্টিনোপলের অর্থোডক্স গির্জার সিনোডের অধীনে সকল সদস্য সিনোডের নিয়মিত সভায় টমোসে স্বাক্ষর করেন।

২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের ২১ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ইউক্রেনের ইউরোপীয় ইউনিয়নন্যাটোতে অন্তর্ভুক্তির জন্য কৌশলগত ও মৌলিক পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি সংবিধানের মৌলিক নীতির ভূমিকাংশ, তিনটি নতুন অনুচ্ছেদ ও অস্থায়ী বিধানের মাধ্যমে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করে।[৯৬]

২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের ২১ এপ্রিল ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ভলোদিমির জেলেনক্সি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ২১ জুলাই আগাম সংসদীয় নির্বাচনে রাষ্ট্রপতি-সমর্থিত নবগঠিত রাজনৈতিক দল জনগণের সেবক পার্টি স্বাধীন ইউক্রেনের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে (২৪৮) এককভাবে বিজয়ী হয়। পার্টির সভাপতি দিমিত্রি রাজুমকোভ সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন। ২৯ আগস্ট সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল জোট গঠন ছাড়াই সরকার গঠন করে এবং ওলেকসাই হানচারুক প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন।[৯৭] নির্বাচনকালীন জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৪.৫% হলেও, সরকারের অধীন জিডিপি ১.৫% সংকুচিত হলে ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের ৪ মার্চ ভেরকভনা রাদা হানচারুক সরকারকে বহিষ্কার করে এবং ডেনিস শ্যামিহাল[৯৮] নতুন প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন।[৯৯]

২০২০ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ জুলাই লুবলিনে পোলিশ–লিথুয়ানীয় কমনওয়েলথভুক্ত তিনটি দেশ লিথুয়ানিয়া, পোল্যান্ড ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিবৃন্দ লুবলিন ত্রিভুজ উদ্যোগের সূচনা করেন, যার মাধ্যমে ঐতিহাসিক কমনওয়েলথভুক্ত তিনটি দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং ক্রমান্বয়ে ইউক্রেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোতে অন্তর্ভুক্তি সহজতর হবে।[১০০]

২০২১ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ মে জর্জিয়া, মলদোভাইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীগণ যৌথ স্বারকলিপিতে স্বাক্ষরের মাধ্যমে অ্যাসোসিয়েশন ট্রাইয়ো গঠন করেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সংঘ চুক্তিতে আবদ্ধ তিনটি দেশের সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতা, সমন্বয় ও আলোচনার মাধ্যমে ইউরোপীয় অন্তর্ভুক্তিতে সাধারণ স্বার্থসমূহ রক্ষা করা, পূর্বদেশীয় অংশীদারিত্ব কাঠামোতে সহযোগিতা বৃদ্ধি ও দেশসমূহের ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানে সম্ভাবনা বৃদ্ধিতে সহযোগিতার লক্ষ্যে এই ত্রিদেশীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।[১০১]

২০২১ খ্রিষ্টাব্দের জুন মাসে অনুষ্ঠিত ব্রাসেলস সম্মেলনে ন্যাটো সদস্যভুক্ত দেশসমূহের নেতৃবৃন্দ ২০০৮ বুখারেস্ট সম্মেলনের মেম্বারশিপ অ্যাকশন প্ল্যানের (এমএপি) অধীনে ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদানের সম্ভাবনা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বহির্দেশীয় হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বাধীনভাবে ইউক্রেনের নিজেদের ভবিষ্যৎ ও বৈদেশিক নীতি প্রণয়নের অধিকার রয়েছে বলে মত ব্যক্ত করেন।[১০২]

ইউক্রেন প্রাথমিকভাবে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করার পরিকল্পনা করা হলেও, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসেই আবেদন সম্পন্ন করে।[১০৩]

রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ

[সম্পাদনা]

২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাসে রাশিয়া ক্রিমিয়া দখল করে। রাশিয়ার সাথে ক্রিমিয়ার সংযুক্তিকরণ প্রশ্নে গণভোটের আনুষ্ঠানিক ফলাফলে অধিকাংশ মানুষ রাশিয়ায় যোগদানের পক্ষে ভোট দিলেও, গণভোট রাশিয়ার সেনাবাহিনীর অধীনে অনুষ্ঠিত হওয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন গণভোটকে অবৈধ ঘোষণ করে।[১০৪]

ক্রিমিয়া সংকটের মধ্যেই পূর্ব ইউক্রেনদক্ষিণ ইউক্রেনে রাশিয়াপন্থী অস্থিরতা দেখা দেয়।[১০৫] ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের এপ্রিল মাসে ইউক্রেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনসমূহ গণপ্রজাতন্ত্রী দোনেৎস্কগণপ্রজাতন্ত্রী লুহানস্ক নামে দুইটি স্বঘোষিত স্বাধীন রাষ্ট্রের ঘোষণা দেয়। বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের ১১ মে গণভোটের আয়োজন করে এবং তাদের দাবি অনুযায়ী ৯০% ভোটার স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দেয়।[১০৬][১০৫] ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের শেষ নাগাদ ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীইউক্রেন-পন্থী স্বেচ্ছাসেবক ব্যাটালিয়ন কর্তৃক দোনেৎস্ক ও লুহানস্কের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে সংঘর্ষ পূর্ণোদ্যমে দোনবাসের যুদ্ধে রূপ নেয়।[১০৫][১০৭] ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর নাগাদ সংঘর্ষে ৬,৪০০ জনের অধিক নিহত হন এবং জাতিসংঘের ধারণা অনুযায়ী প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ ইউক্রেনের অন্যান্য অঞ্চলে অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় লক্ষাধিক মানুষ রাশিয়া (প্রধানত) ও অন্যান্য প্রতিবেশী দেশে শরণার্থী হিসেবে পালিয়ে যায়।[১০৮][১০৯][১১০][১১১] একই সময়ে ইউক্রেনে রাজনৈতিক (শুদ্ধিকরণ আইনসমাজতন্ত্রবিরোধী আইন প্রভৃতি প্রণীত হয়) ও অর্থনৈতিক সংস্কার শুরু হয়।[১১২] ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ মে ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রথম ধাপে পেত্রো পোরাশেঙ্কা রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।[১১৩] ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের দ্বিতীয়ার্ধে স্বাধীন পর্যবেক্ষকগণ প্রত্যক্ষ করেন, ইউক্রেনের সংস্কার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, দুর্নীতি সেই তুলনায় কমেনি এবং ইউক্রেনের অর্থনীতি তখনও গভীর সংকটে নিমজ্জিত হয়ে আছে।[১১২][১১৪][১১৫][১১৬] জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী,[১১৭] ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাস নাগাদ দনবাসের যুদ্ধে প্রায় ৯,১০০ জনের অধিক মানুষ (অধিকাংশ বেসামরিক ব্যক্তি) মারা যান।[১১৮]

ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর সদস্যদের সাথে রাষ্ট্রপতি জেলেনস্কি, ১৮ জুন ২০২২

২০২১ খ্রিষ্টাব্দের ২ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতির আদেশে রাশিয়াপন্থী টেলিভিশন চ্যানেল ১১২ ইউক্রেন, নিউজওয়ান ও জিআইকের সম্প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়।[১১৯][১২০] জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা পরিষদের সিদ্ধান্ত ও ২০২১ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে পুতিনের রাশিয়াপন্থী রাজনীতিবিদ ও পুতিনের ধর্মপিতা ভিক্টর মেদভেদচুক ও তার স্ত্রী ওকসানা মারচেঙ্কোসহ ৮ জন ব্যক্তি ও ১৯টি সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা হয়।[১২১][১২২]

২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ নভেম্বর কের্চ প্রণালির ঘটনায় কৃষ্ণ সাগর থেকে কের্চ প্রণালি হয়ে আজভ সাগরে মারিউপোল বন্দরে যাওয়ার পথে রাশিয়ার ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিসের (এফএসবি) কোস্ট গার্ড ইউক্রেনীয় নৌবাহিনীর তিনটি জাহাজে গোলাবর্ষণ করে ও জব্দ করে।[১২৩][১২৪]

২০২১ খ্রিষ্টাব্দব্যাপী রাশিয়ার সেনাবাহিনী [রাশিয়া–ইউক্রেন সীমান্ত]]জুড়ে, অধিকৃত ক্রিমিয়া, দনবাস ও বেলারুশে সৈন্যসমাবেশ ঘটাতে থাকে।[১২৫] ২০২২ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করে।[১২৬] রাশিয়া দ্রুতই পূর্বদক্ষিণ ইউক্রেনের উল্লেখযোগ্য অংশের দখল নিতে সক্ষম হলেও ওডেসা অভিমুখে মিকোলাইভ অতিক্রম করতে ব্যর্থ হয়। উত্তর দিকে কিয়েভ, চেরনিগিভখারকিভ দখলে ব্যর্থ হয়ে রুশ সেনাবাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়।[১২৭] ইউক্রেনের প্রতিআক্রমণের মুখে রুশ সেনাবাহিনী আরও ভূমি দখলে ব্যর্থ হয়ে এবং খারকিভ অব্লাস্ট থেকে পিছু হটার পর[১২৮] ৩০ সেপ্টেম্বর রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে দোনেৎস্কলুহানস্ক প্রজাতন্ত্রের পাশাপাশি খেরসনজাপোরিজিয়া অব্লাস্টের অধিকাংশ অঞ্চলসমূহ রুশ ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত ঘোষণা করে।[১২৯]

২০২২ খ্রিষ্টাব্দের ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের সময় ইউক্রেন ইউরোপের দরিদ্রতম দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল।[১৩০] ইউক্রেনের অর্থনীতির এই প্রতিবন্ধকতার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দুর্নীতির উচ্চমাত্রা[১৩১] এবং মুক্ত অর্থনীতিতে পদায়নপ্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ধীরগতিকে দায়ী করা হয়।[১৩২][১৩৩][১৩৪][১৩৫] রাশিয়ার আক্রমণ ইউক্রেনের অর্থনীতি ও এর ভবিষ্যৎ উন্নয়নের সম্ভাবনা এমনভাবে ভেঙে দিয়েছে, যে যুদ্ধের প্রথম বছরেই দেশটির জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৩৫% হ্রাস পাবে বলে ধারণা করা হয়।[১৩৬]

জাতীয় ইতিহাস অধ্যয়ন

[সম্পাদনা]

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে খুব সাম্প্রতিককালের পূর্বে ইউক্রেন সংক্রান্ত তথ্যের উৎসের জন্য রাশিয়ার বিভিন্ন মাধ্যমিক উৎস থেকে তথ্য আহরণ করতে হতো। সপ্তদশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে মাস্কোভি সাম্রাজ্য ও পরবর্তীতে রুশ সাম্রাজ্য আধুনিক ইউক্রেনের অধিকাংশ অঞ্চল নিজেদের অধিকারে আনার পর রুশ ইতিহাসবেত্তাদের লেখনীতে ইউক্রেনের ইতিহাস রাশিয়ার ইতিহাসের অংশ হিসেবে লিখিত হতে থাকে। ফলে মধ্যযুগীয় কিয়েভীয় রুশ'-এর “কিয়েভীয় রাশিয়া” ও এর আদি পূর্ব স্লাভীয় সংস্কৃতি ও এই অঞ্চলের অধিবাসীদের “কিয়েভীয় রাশিয়ান” বা “আদি রাশিয়ান” হিসেবে অভিহিত করা হতে থাকে। পরবর্তীতে ইউক্রেন বা এর কিছু কিছু অঞ্চল “ক্ষুদ্র রাশিয়া” (লিটল রাশিয়া), “দক্ষিণ রাশিয়া”, “পশ্চিম রাশিয়া” (বেলারুশসহ) বা “নতুন রাশিয়া” (কৃষ্ণ সাগরের উপকূল ও দক্ষিণ-পূর্বের স্টেপ তৃণভূমি অঞ্চল) ইত্যাদি বিভিন্ন নামে পরিচিতি লাভ করতে থাকে। তবে রাশিয়ার অধিকারের বাইরে বর্তমান ইউক্রেনের অন্যান্য অঞ্চল রুথেনিয়া এবং এই অঞ্চলের বাসিন্দারা রুথেনীয় নামে পরিচিত হতে থাকে। ইউক্রেন অঞ্চল ও ইউক্রেনীয়দের সম্পর্কে বিবরণীতে মাঝেমাঝে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটে, যেখানে মাঝেমাঝে ইউক্রেনীয় নামের কোনো জাতির অস্তিত্বই অস্বীকার করা হয়ে থাকে।[২৮](pp১০–১১) পশ্চিমা বিজ্ঞসমাজে ইউক্রেনের ইতিহাস অধ্যয়নে রাশিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ১৯৫০-এর দশকেই পণ্ডিতজনদের অনেকে রুশ দৃষ্টিভঙ্গির পক্ষপাতের বিষয়ে সচেতন হয়ে উঠলেও, স্লাভীয় ইতিহাস ও বিদ্যা অধ্যয়নকারী বিশেষজ্ঞজন মস্কো-কেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করেছিলেন।[১৩৭]

ইউক্রেনের ইতিহাসপাঠের প্রবণতা জার্মান রোমান্টিকতার আবেগ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে শুরু হয়েছিল, যা সেই সময়ে পূর্ব ইউরোপব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছিল। এই ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানীয় প্রভাব রেখেছিলেন কিয়েভ-কেন্দ্রিক কাজ করা ভলোদিমির আন্তোনোভিচ (১৮৩৪–১৯০৮) ও তার শিষ্য মিখাইলো গ্রুশেভস্কি[১৩৮] গ্রশেভস্কির নিবন্ধ “রাশিয়ার ইতিহাসের প্রথাগত পদ্ধতি (স্কিম) এবং পূর্ব স্লাভীয়দের ইতিহাসের যুক্তিসঙ্গত সংগঠনের সমস্যা” (১৯০৪)-এর মাধ্যমে ইউক্রেনের ইতিহাসসংক্রান্ত রুশ দৃষ্টিভঙ্গি প্রথম সমস্যার সম্মুখীন হয়। [১৩৯] প্রথমবারের মতো আর্কাইভাল উৎস, আধুনিক গবেষণা পদ্ধতি ও আধুনিক ঐতিহাসিক তত্ত্ব দিয়ে পূর্ণমাত্রার পাণ্ডিত্যপূর্ণ গবেষণা পরিচালনা করা সম্ভব হয়। তবে জারপন্থী, অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় (তুলনামূলক কম মাত্রায় হলেও), পোলিশ ও পরবর্তীতে সোভিয়েত শাসনের অধীনে কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্যের বিরোধী সকল মতামত প্রচারণা অত্যন্ত কঠিন হিসেবে প্রতীয়মান হয়। এই কারণে ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দের পর থেকে ইউক্রেন থেকে মধ্য ইউরোপ ও কানাডায় পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ঐতিহাসিকদের উত্থান ঘটে।

ইউক্রেনের অভ্যন্তরে আশ্চর্যজনকভাবে পৃথক চারটি ভিন্নপন্থার ইতিহাস অধ্যয়নের ধারা পরিলক্ষিত হয়: রুশপন্থী, সোভিয়েতপন্থী, পূর্ব স্লাভীয় ও ইউক্রেনপন্থী। সোভিয়েত ইউনিয়নে মিখাইল পক্রোভস্কির নেতৃত্বে ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দের পর মৌলিক বিরতি দেখা যায়। ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দ নাগাদ ইউক্রেনের ইতিহাসকে শোভিনিস্টিক (উগ্র জাতীয়তাবাদী) বলা যায় না, বরং এই সময়ে ইউক্রেনের ইতিহাস মার্ক্সপন্থী ইতিহাসের আলোকে পুনর্লিখিত হয়। জাতির “অতীত”-কে রুশদের জন্য সামাজিক মুক্তি এবং অন্যান্য জাতির জন্য সামাজিক ও জাতীয় মুক্তির আলোকে লিখিত হতে থাকে, যা ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে এসে সমাপ্ত হয়। স্তালিনের অধীনে আনুষ্ঠানিক ইতিহাসকে বিশেষ রুশ চরিত্র দান করা হয় এবং রুশকেন্দ্রিকতা বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হয়। রুশ সাম্রাজ্যের ইতিহাস এমনভাবে পুনর্লিখিত হয়, যেন প্রতিটি অ-রুশ জাতি রুশ জাতির প্রতি ভালোবাসা থেকে তাদের অনুকরণ ও রুশ সাম্রাজ্যের বশ্যতা মেনে নেওয়ার মধ্য দিয়ে (জারপন্থী) সাম্রাজ্যের অংশ হতে প্রচেষ্ট ছিল এবং এর পরিবর্তে তাদের প্রতি রুশ সাম্রাজ্যের আচরণ পরার্থপরতা ও প্রতিবেশী জাতিসমূহের প্রতি উদ্বেগ দ্বারা পরিচালিত হতো।[১৪০] স্বাধীন ইউক্রেনে রুশপন্থী ও সোভিয়েতপন্থী মতবাদ কোণঠাসা হয়ে পড়ে এবং একবিংশ শতাব্দীর শুরুতেই ইউক্রেনপন্থী মতবাদ প্রভাবশালী হিসেবে উঠে আসতে থাকে। ইউক্রেনপন্থী মতবাদ রাশিয়ার সাথে পারস্পরিক বৈপরীত্যধর্মী একধরনের পরিচয় সৃষ্টি করে। এই মতবাদ ইউক্রেনের শিক্ষাব্যবস্থা, নিরাপত্তা বাহিনী, জাতীয় প্রতীক ও চিহ্নসমূহে প্রভাব বিস্তার করে। পশ্চিমা ইতিহাসবিদগণ একে জাতীয়তাবাদী হিসেবে গণ্য করতে অস্বীকৃতি জানান। ইউক্রেনপন্থী ও রুশপন্থী মতবাদের মধ্যে সার্বজনীন আপসপন্থা হিসেবে পূর্ব স্লাভীয় মতবাদ প্রচলিত রয়েছে, যেখানে পরিচয়গত ও প্রতীকী ভিত্তি তুলনামূলক দুর্বল। এই মতবাদ ইউক্রেনের মধ্যপন্থী প্রাক্তন অভিজাতশ্রেণিতে জনপ্রিয় ছিল।[১৪১]

সাম্প্রতিক সময়ে বহু ইতিহাসবিদ জাতীয় ইতিহাসের বিকল্প অনুসন্ধানের প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। ইউক্রেনের ইতিহাস রচনায় জাতীয় দৃষ্টান্তের বাইরে গিয়ে চিন্তা করার একটি প্রচেষ্টা পরিলক্ষিত হচ্ছে। বহুজাতিক ইতিহাস ইউক্রেনের বিভিন্ন জাতিতাত্ত্বিক মানুষের উপস্থিতির স্বীকৃতি দেয়। জাতীয় সীমাতিক্রমী ইতিহাস বিভিন্ন সাম্রাজ্যের সীমান্তভূমিতে ইউক্রেনের অবস্থানের স্বীকৃতি দেয়। আঞ্চলিক অধ্যয়নে ইউক্রেনকে পূর্ব-মধ্য ইউরোপ এবং ক্ষেত্রবিশেষে (স্বল্পক্ষেত্রে) ইউরেশিয়ার অন্তর্ভুক্ত হিসেবে অধ্যয়ন করা হয়। সের্গিয়ে প্লখি দাবি করেন, দেশের জাতীয় ইতিহাসের বাইরে গিয়ে পর্যবেক্ষণের ফলে ইউক্রেন, এর জাতিগোষ্ঠীসমূহ এবং প্রতিবেশী অঞ্চলসমূহ সম্পর্কে গভীর ধারণা পাওয়া সম্ভব হয়েছে।[১৪২] ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ইউক্রেনের ইতিহাসে “আঞ্চলিক গোষ্ঠী” ও “ভাষা-জাতিতাত্ত্বিক” ইতিহাসকে অন্তর্ভুক্ত করতে নতুন উদ্যমে প্রচেষ্টা পরিলক্ষিত হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে ইউক্রেনের শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত ইতিহাসে ক্রিমীয় তাতারক্রিমীয় উপদ্বীপের দূরবর্তী অতীত ইতিহাসকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সাংবিধানিকভাবে আদেশকৃত “ইউক্রেনীয় জাতি”-এর স্থলে “ইউক্রেনের জাতিসমূহ” প্রতিস্থাপনের অংশ হিসেবে এই ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। ধীরে ধীরে, পোল ও ইহুদিদের ইতিহাসও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে, রাশিয়া কর্তৃক ইউক্রেনের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বে আঘাত আসার পরে “সহাবস্থানকারী” হিসেবে রুশ জাতির ভূমিকা ব্যাপকভাবে হ্রাস করা হয়েছে। পাশাপাশি গলোডোমরে ইউক্রেনীয়দের ভূমিকার মতো অতীতের অনেক অমীমাংসিত জটিল বিষয়ও রয়েছে।[১৪৩]

১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দের পর, ঐতিহাসিক স্মৃতি সোভিয়েত-পরবর্তী ইউক্রেনীয় রাষ্ট্রে রাজনৈতিক সংহতি ও বৈধতা প্রদানে শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে প্রতীয়মান হয়। পাশাপাশি ইউক্রেনের সামাজিক বিভাজনরেখায় বাছাইকৃত ঐতিহাসিক বিভাজনমূলক স্মৃতির ব্যবহার দেখা যায়। লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া, এস্তোনিয়া প্রভৃতি বাল্টিক রাষ্ট্রসহ অন্যান্য সোভিয়েত-পরবর্তী রাষ্ট্রসমূহের মতো ইউক্রেনে পুনরুদ্ধারবাদী দৃষ্টান্ত দেখা যায় না। তবে স্বাধীনতার বহুমুখী ইতিহাস, ইউক্রেনের অর্থোডক্স গির্জা, সোভিয়েত আমলের দমননীতি, গণদুর্ভিক্ষ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ প্রভৃতি ইউক্রেনীয় জাতিগঠনের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা সাংবিধান কাঠামো গঠন করে। পরিচয়ের রাজনীতি (যার মধ্যে ইতিহাসের বই লিখন ও স্মারক অনুশীলনের অনুমোদনও অন্তর্ভুক্ত) ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলের আদর্শিক চিন্তা ও উদ্বেগসমূহের ক্ষেত্রে এখনও খণ্ডিত ও কৃত্রিম পর্যবসিত হয়েছে।[১৪৪]

কানাডায় ইউক্রেনের ইতিহাস অধ্যয়ন

[সম্পাদনা]

বিংশ শতাব্দীর সোভিয়েত ইউক্রেনের ইতিহাসবিদগণের আলোচনা একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রের মডেল এবং বিষয়ে আলোকপাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছিল। এইক্ষেত্রে মস্কোর সুস্পষ্ট আনুষ্ঠানিক মার্ক্সবাদী বক্তব্য ছিল। কিন্তু কানাডায় ইউক্রেনীয় অভিবাসীদের মধ্যকার পণ্ডিতজনের একটি অংশ গবেষণার ক্ষেত্রে মস্কোর মার্ক্সবাদিতাকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে স্বাধীনভাবে পশ্চিমা সমাজে একটি ভিন্নধর্মী ইতিহাস অধ্যয়নের ধারা তৈরি করে।[১৪৫] কানাডার বিজ্ঞসমাজে ইউক্রেনীয় অধ্যয়নের বিস্তারের ক্ষেত্রে জর্জ ডব্লিউ সিম্পসনওরেস্ট সুবটেলনি শীর্ষস্থানীয় ভূমিকা রাখেন।[১৪৬] ইউক্রেনে স্বাধীনতাহীনতার ফলে প্রথাগত ইতিহাস অধ্যয়নের ক্ষেত্রে কূটনীতি ও রাজনীতির প্রভাব প্রতিবন্ধকতাপূর্ণ ছিল। ১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দের পর কানাডায় সামাজিক ইতিহাস বিষয়ে সমৃদ্ধি গবেষকদের জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি ও পন্থার দ্বার উন্মোচন করে। তন্মধ্যে সুবটেলনি আধুনিকীকরণ মডেলের প্রয়োগ করেন। পরবর্তীতে ঐতিহাসিক গবেষণার ধারা দ্রুত ইউক্রেনীয় সমাজের প্রমাণনির্ভর ধারায় অভিযোজিত হয়, বিশেষ করে ইউক্রেনীয় জাতীয়তাবাদের ধারাকে গ্রহণ করে। নতুন সাংস্কৃতিক ইতিহাস, উপনিবেশপরবর্তীকালের গবেষণা, সামাজিক ইতিহাসের বদলে “ভাষাতাত্ত্বিক আবর্তনের” বর্ধনশীল প্রভাবের ফলে গবেষণায় বিভিন্ন আঙ্গিকে বিভিন্ন পদ্ধতির দ্বার উন্মোচিত হয়। ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দ নাগাদ কানাডার ইতিহাসবিদগণ স্বাধীনভাবে ব্যাপক পরিসরের বিভিন্ন পন্থায় একটি জাতীয় পরিচয়ের ধারণা প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর কানাডার ইউক্রেনীয় বিজ্ঞসমাজ ইউক্রেনের ইতিহাসবিদদের সোভিয়েত-মার্ক্সবাদী আখ্যান থেকে বের হয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করতে শুরু করেন, যেখানে ইউক্রেনীয় জাতীয়তাবাদকে দমনমূলক নীতিতে দেখা হতো এবং প্রকৃত ইউক্রেনীয়রা রাশিয়ার সাথে মিলিত হতে ক্রমপ্রচেষ্ট ছিল বলে প্রচার করা হতো। মস্কো থেকে স্বাধীনতার অর্থ ছিল এমন একটি প্রাচীনপন্থীদের থেকে স্বাধীনতা, যা এর আগে ইউক্রেন কখনো অনুভব করেনি। ইউক্রেনের পণ্ডিতজন কানাডায় অবস্থিত ইতিহাসবিদগণের প্রতিষ্ঠত “জাতীয় দৃষ্টান্তমূলক” ইতিহাসকে গ্রহণ করতে থাকেন। ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ইউক্রেনীয় জাতিগঠন একটি বৈশ্বিক ও সহযোগিতামূলক কর্মকাণ্ডে রূপ লাভ করে, যেখানে ইউক্রেন থেকে পণ্ডিতজনেরা কানাডায় গবেষণা ও কর্মজীবন সম্পন্ন করেন এবং তাদের বিভিন্ন বিষয়ে আয়োজিত সম্মেলন সমগ্র বিশ্ব থেকে বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টি আকর্ষণে সমর্থ হয়।[১৪৭]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]
  1. “রুশ'-এর উৎস সম্পর্কে ব্যাপক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও, গেলগি/ওলেগের মাধ্যমে (রাজত্বকাল ৮৭৮–৯১২) আমরা কিয়েভীয় রাষ্ট্রের গোড়াপত্তনের পেছনে একজন মুখ খুঁজে পাই। (...) ওলেগের কিয়েভ অধিগ্রহণ এবং ৮৮২ খ্রিষ্টাব্দে আস্কল্ড ও দিরের হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ভারাঞ্জীয় রুশ'-এর অধীনে পূর্ব স্লাভীয় ও ফিনিক জাতিগোষ্ঠীর শাসনের হাত দৃঢ় হতে থাকে।”[৩৪]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. ম্যাটোসিয়ান শেপিং ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রি পৃ. ৪৩
  2. "What We Theorize – When and Where Did Domestication Occur"আন্তর্জাতিক ঘোড়া জাদুঘর (ইংরেজি ভাষায়)। ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ ডিসেম্বর ২০১০
  3. "Horsey-aeology, Binary Black Holes, Tracking Red Tides, Fish Re-evolution, Walk Like a Man, Fact or Fiction"কোয়ার্কস অ্যান্ড কোয়ার্কস পডকাস্ট উইথ বব ম্যাকডোনাল্ড (ইংরেজি ভাষায়)। সিবিসি রেডিও। ৭ মার্চ ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১০{{সংবাদ উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: ইউআরএল-অবস্থা (লিঙ্ক)
  4. ক্রোল, পিয়োতর (২০০৮)। Od ugody hadziackiej do Cudnowa. Kozaczyzna między Rzecząpospolitą a Moskwą w latach 1658-1660ডিওআই:10.31338/uw.9788323518808আইএসবিএন ৯৭৮-৮৩-২৩৫-১৮৮০-৮
  5. রিয়াসানোভস্কি, নিকোলাস ভি. (১৯৬৩)। A History of Russia (ইংরেজি ভাষায়)। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃ. ১৯৯।
  6. 1 2 3 জার্জি জান লেরস্কি; পিয়োতর রোবেল; রিচার্ড জে. কোজিচকি (১৯৯৬)। Historical dictionary of Poland, 966-1945। গ্রিনউড পাবলিশিং গ্রুপ। পৃ. ১৮৩। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৩১৩-২৬০০৭-০
  7. নোরম্যান ডেভিস (১৯৮২)। God's Playground, a History of Poland: The origins to 1795 (ইংরেজি ভাষায়)। কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃ. ৪০৬। আইএসবিএন ৯৭৮-০-২৩১-০৫৩৫১-৮
  8. Eugeniusz Romer, O wschodniej granicy Polski z przed 1772 r., w: Księga Pamiątkowa ku czci Oswalda Balzera, t. II, Lwów 1925, s. [355].
  9. Jacek Staszewski, August II Mocny, Wrocław 1998, p. 100.
  10. Riasanovsky (1963), p. 537.
  11. "Ukraine – The famine of 1932–33"এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জুন ২০০৮
  12. "Macroeconomic Indicators" (ইংরেজি ভাষায়)। ইউক্রেনের জাতীয় ব্যাংক। ২১ অক্টোবর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  13. ইনোজমি (জুন ২০০৯)। "Ukraine – macroeconomic economic situation" (ইংরেজি ভাষায়)। ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  14. গার্বা, আর; উসিক, ভি; ইলা-মেলা, এল; কামেনিক, জে; স্ট্যুবনার, কে; ল্যাকনার, জে; রুগেল, জি; ভেসেলোভস্কি, এফ; গেরাসিমেনকো, এন; হেরিস, এআইআর; কুচেরা, জে; ক্নুডসেন, এমএফ; জানসেন, জেডি (২৮ মার্চ ২০২৪)। "East-to-west human dispersal into Europe 1.4 million years ago"। নেচার (ইংরেজি ভাষায়)। ৬২৭ (৮০০৫): ৮০৫–৮১০। বিবকোড:2024Natur.627..805Gডিওআই:10.1038/s41586-024-07151-3পিএমআইডি 38448591
  15. গ্রে, রিচার্ড (১৮ ডিসেম্বর ২০১১)। "Neanderthals built homes with mammoth bones"টেলিগ্রাফ (ইংরেজি ভাষায়)। ২১ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  16. Molodova I and V (Ukraine) (ইংরেজি ভাষায়), ৪ ডিসেম্বর ২০১১
  17. প্র‍্যাট, স্যান্ড্রাইন; পেয়ান, স্টেফানে সি; ক্রেপিন, লরেন্ট; ড্রুকার, ডরোথেই জি; পুয়াউড, সাইমন জে; ভাল্লাডাস, হেলিন; লাজনিচকোভা-গালেটোভা, মার্টিনা; ভ্যান ডার প্লিচট, ইয়োহানেস; এবং অন্যান্য (১৭ জুন ২০১১)। "The Oldest Anatomically Modern Humans from Far Southeast Europe: Direct Dating, Culture and Behavior"প্লস ওয়ান (ইংরেজি ভাষায়)। (৬) e20834। প্লসওয়ান। বিবকোড:2011PLoSO...620834Pডিওআই:10.1371/journal.pone.0020834পিএমসি 3117838পিএমআইডি 21698105
  18. কার্পেন্টার, জেনিফার (২০ জুন ২০১১)। "Early human fossils unearthed in Ukraine" (ইংরেজি ভাষায়)। বিবিসি। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুন ২০১১
  19. "Trypillian Civilization 5,508 – 2,750 BC"দ্য ট্রাইপিলিয়া-ইউএসএ প্রজেক্ট (ইংরেজি ভাষায়)। ১২ ডিসেম্বর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ডিসেম্বর ২০০৭
  20. "Scythian"এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর ২০০৭
  21. রইসম্যান, জোসেফ; ওর্থিংটন, ইয়ান (২০১১)। A companion to Ancient Macedonia (ইংরেজি ভাষায়)। জন উইলি অ্যান্ড সন্স। পৃ. ১৩৫–১৩৮, ৩৪৩–৩৪৫। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪৪৪৩-৫১৬৩-৭
  22. হর্নব্লোয়ার, সাইমন; স্পফোর্থ, অ্যান্টনি। The Oxford Classical Dictionary (ইংরেজি ভাষায়)। পৃ. ১৫১৫। আইএসবিএন ০-১৯-৮৬০৬৪১-৯The Thracians were subdued by the Persians by 516
  23. নিকোলাস জিওফ্রে লেম্পিয়েরে হামোন (১৯৬৯)। A history of Greece to 322 B.C. (ইংরেজি ভাষায়)। ক্ল্যারেন্ডন প্রেস। পৃ. ১০৯। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৮১৪২৬০-৭। সংগ্রহের তারিখ ৮ আগস্ট ২০১৩
  24. মিটচিনার, মাইকেল (১৯৭৮)। The Ancient & Classical World, 600 B.C.-A.D. 650 (ইংরেজি ভাষায়)। হকিনস পাবলিকেশনস। পৃ. ৬৯। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৯০৪১৭৩-১৬-১
  25. বুনসন, ম্যাথিউ (১৯৯৫)। A dictionary of the Roman Empire (ইংরেজি ভাষায়)। নিউইয়র্ক: অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃ. ১১৬। আইএসবিএন ০-১৯-৫১০২৩৩-৯
  26. "Ancient period - History - About Chersonesos, Sevastopol"www.chersonesos.org (ইংরেজি ভাষায়)। ১২ আগস্ট ২০০৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  27. মিগলিওরাতি, গুইদো (২০০৩)। Cassio Dione e l'impero romano da Nerva ad Anotonino Pio: alla luce dei nuovi documenti (ইতালীয় ভাষায়)। ভিতা এ পেনসিয়েরো। পৃ. ৬। আইএসবিএন ৮৮-৩৪৩-১০৬৫-৯
  28. 1 2 3 মাগকসি, পল (১৯৯৬)। A History of Ukraine (ইংরেজি ভাষায়)। টরন্টো: ইউনিভার্সিটি অব টরন্টো প্রেস। পৃ. ২৭। আইএসবিএন ০-৮০২০-০৮৩০-৫
  29. ফ্রোলোভা, এন (১৯৯৯)। "The Question of Continuity in the Late Classical Bosporus On the Basis of Numismatic Data"অ্যানসিয়েন্ট সিভিলাইজেশনস ফ্রম স্কিথিয়া টু সাইবেরিয়া (ইংরেজি ভাষায়)। (৩): ১৭৯–২০৫। ডিওআই:10.1163/157005799X00188আইএসএসএন 0929-077X
  30. ললার, জেনিফার (২০১৫)। Encyclopedia of the Byzantine Empire (ইংরেজি ভাষায়)। ম্যাকফারল্যান্ড। পৃ. ১৩৭। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪৭৬৬-০৯২৯-৪
  31. গ্যুতিয়ে, পল (১৯৬৫)। "Le dossier d'un haut fonctionnaire byzantin d'Alexis Ier Comnène, Manuel Stra-boromanos"। Revue des études byzantines (ফরাসি ভাষায়)। খণ্ড ২৩। প্যারিস: পেতর। পৃ. ১৭৮, ১৯০।
  32. বারফোর্ড, পিএম (২০০১)। The early Slavs: culture and society in early medieval Eastern Europe (ইংরেজি ভাষায়)। ইথাকা, নিউইয়র্ক: কর্নেল ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃ. ৩২। আইএসবিএন ০-৮০১৪-৩৯৭৭-৯ওসিএলসি 47054689
  33. М. Грушевський – "Історія України". Том І, розділ IV, Велике слов'янське розселення: Історія Антів, їх походи, війна з Словянами, боротьба з Аварами, останні звістки, про Антів
  34. Magocsi 2010, পৃ. 65–66।
  35. তলোচকো, পিপি; ভেরমেনিচ, ওয়াইভি (২০০৭)। "Kyiv"। Encyclopedia of Ukrainian History (Енциклопедія історії України) (ইংরেজি ভাষায়)। খণ্ড ৪। কিয়েভ: নাউকোভা দুমকা। পৃ. ২০১–২১৮।}
  36. Plokhy 2006, পৃ. 30।
  37. Magocsi 2010, পৃ. 59।
  38. Plokhy 2006, পৃ. 31–32, 47।
  39. Plokhy 2006, পৃ. 30–32, 47, 57।
  40. 1 2 3 "Kiëv; Rusland §2. Het Rijk van Kiëv"। এনকার্টা এনসাইক্লোপেডি উইংকলার প্রিন্স (ওলন্দাজ ভাষায়)। মাইক্রোসফট/হেট স্পেকট্রাম। ২০০২।
  41. Plokhy 2006, পৃ. 13।
  42. খভালকভ, এভগেনি (২০১৭)। The colonies of Genoa in the Black Sea region: evolution and transformation (ইংরেজি ভাষায়)। নিউইয়র্ক। পৃ. ৬৯। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৩৫১-৬২৩০৬-৩ওসিএলসি 994262849{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অবস্থানে প্রকাশক অনুপস্থিত (লিঙ্ক)
  43. 1 2 Magocsi 2010, পৃ. 123।
  44. "Генуэзские колонии в Одесской области - Бизнес-портал Измаила" (ইউক্রেনীয় ভাষায়)। ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮। ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  45. "О СОПЕРНИЧЕСТВЕ ВЕНЕЦИИ С ГЕНУЕЮ В XIV-м ВЕКЕ"ভস্টলিট (ইউক্রেনীয় ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  46. "Эпиграфические памятники Каффы | Старый музей" (রুশ ভাষায়)। ২৬ মার্চ ২০১৯। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  47. ভলোশ্চুক, মিরোস্লাভ। "The Principles of Ancient Rzeczpospolita Formation: The Medieval Ruthenian Dimension"। শোওভা, আন্দ্রেজ; জামোরস্কি, ক্রিশটফ (সম্পাদকগণ)। The Polish-Lithuanian Commonwealth: History, Memory, Legacy (ইংরেজি ভাষায়)।
  48. 1 2 "History"এনসাইক্লোপিডিয়া অব ইউক্রেন (ইংরেজি ভাষায়)।
  49. মিলার, রবার্ট (২১ জুলাই ২০১০)। Authority and Identity: A Sociolinguistic History of Europe before the Modern Age (ইংরেজি ভাষায়)। স্প্রিঞ্জার। পৃ. ১৮৪। আইএসবিএন ৯৭৮-০-২৩০-২৮২০৩-২
  50. "Mukha rebellion"এনসাক্লোপিডিয়া অব ইউক্রেন (ইংরেজি ভাষায়)।
  51. ব্রায়ান গ্লিন উইলিয়ামস (২০১৩)। "The Sultan's Raiders: The Military Role of the Crimean Tatars in the Ottoman Empire" (পিডিএফ)দ্য জেমসটন ফাউন্ডেশন (ইংরেজি ভাষায়)। পৃ. ২৭। ২১ অক্টোবর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত।
  52. দারিয়ুস কভোজিয়েজিক, এই অনুসারে: মিখাইল কিজিলভ (২০০৭)। "Slaves, Money Lenders, and Prisoner Guards:The Jews and the Trade in Slaves and Captivesin the Crimean Khanate"দ্য জার্নাল অব জিউইশ স্টাডিজ (ইংরেজি ভাষায়)। ৫৮ (২): ১৮৯–২১০। ডিওআই:10.18647/2730/JJS-2007
  53. ইয়াকোভেঙ্কো, এনUkrainian nobility from the end of 14th century to the mid of 17th century (ইংরেজি ভাষায়) (২ সংস্করণ)। ক্রিটিকাআইএসবিএন ৯৬৬-৮৯৭৮-১৪-৫
  54. এ জাব্লোনোভস্কি, জ্রোডলা জিয়েজোভা (ওয়ারশ, ১৮৮৯) ১৯: ৭৩
  55. 1 2 3 4 5 ইয়েকেলচুক, সেরগিয়্যে (২০০৭)। Ukraine: Birth of a Modern Nation (ইংরেজি ভাষায়)। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেসআইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৫৩০৫৪৬-৩
  56. "Документи про заборону української мови" (ইউক্রেনীয় ভাষায়)। ১৯ আগস্ট ২০১৬। ১৯ আগস্ট ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৪ অক্টোবর ২০২২
  57. সুবটেলনি, ওরেস্ট (২০০০)। Ukraine: A History (ইংরেজি ভাষায়)। ইউনিভার্সিটি অব টরন্টো প্রেস। পৃ. ১১৭–১৪৫–১৪৬–১৪৮। আইএসবিএন ০-৮০২০-৮৩৯০-০
  58. 1 2 3 "History of Ukraine"এনসাইক্লোপিডিয়া অব ইউক্রেন (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২
  59. কুবিচেক, পল (২০০৮)। The History of Ukraine (ইংরেজি ভাষায়)। পৃ. ৭৯।
  60. সুবটেলনি, ওরেস্ট (২০০০)। Ukraine: A History (ইংরেজি ভাষায়)। ইউনিভার্সিটি অব টরন্টো প্রেস। পৃ. ৩৫৯আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮০২০-৮৩৯০-৬
  61. জুকভস্কি, আর্কাডিয়ি (১৯৯৩)। "Ukrainian-Soviet War, 1917–21"অনলাইন এনসাইক্লোপিডিয়া অব ইউক্রেন (ইংরেজি ভাষায়)। ৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
  62. মারকুস, ভাসিল; স্টাখিভ, মাটভিয়ি (১৯৯৩)। "Western Ukrainian National Republic"অনলাইন এনসাইক্লোপিডিয়া অব ইউক্রেন (ইংরেজি ভাষায়)। ৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
  63. "The famine of 1932–33"এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা (ইংরেজি ভাষায়)। ৫ মে ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। The Great Famine (Holodomor) of 1932–33 – a man-made demographic catastrophe unprecedented in peacetime. Of the estimated six to eight million people who died in the Soviet Union, about four to five million were Ukrainians... Its deliberate nature is underscored by the fact that no physical basis for famine existed in Ukraine... Soviet authorities set requisition quotas for Ukraine at an impossibly high level. Brigades of special agents were dispatched to Ukraine to assist in procurement, and homes were routinely searched and foodstuffs confiscated... The rural population was left with insufficient food to feed itself.
    ১৯৩২–৩৩ সালের মহাদুর্ভিক্ষ (গলোডোমর) একটি অভূতপূর্ব শান্তিকালীন মানবসৃষ্ট জনতাত্ত্বিক বিপর্যয়। দুর্ভিক্ষে সোভিয়েত ইউনিয়নে মৃত্যুবরণ করা ষাট থেকে আশি লক্ষ মানুষের মধ্যে চল্লিশ–পঞ্চাশ লক্ষই ছিল ইউক্রেনীয়।... তৎকালে ইউক্রেনে দুর্ভিক্ষের কোনো বাস্তবিক কারণ না থাকা এর ঐচ্ছিকভাবে সৃষ্ট প্রকৃতিতে গুরুত্বারোপ করে।... সোভিয়েত কর্তৃপক্ষ ইউক্রেনের চাহিদা কোটা অসম্ভবরকমে উচ্চমাত্রায় নির্ধারণ করে। খাদ্য সংগ্রহে সহায়তা করার জন্য ইউক্রেনে বিশেষ বাহিনীর সেনাদল মোতায়েন করা হয়। তারা নিয়মিত ইউক্রেনীয়দের বাড়িঘরে তল্লাশি করে এবং খাদ্যসামগ্রী বাজেয়াপ্ত করে।... গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর নিজেদের খাদ্যচাহিদা পূরণের জন্য খুবই স্বল্পমাত্রায় খাদ্যসামগ্রী অবশিষ্ট থাকে।
  64. অ্যাপলবাউম, অ্যান (২০১৭)। Famine: Stalin's War on Ukraine। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  65. রোজেনফেল্ট, আলভিন এইচ, সম্পাদক (২০১৩)। Resurgent Antisemitism (ইংরেজি ভাষায়)। ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি প্রেস। আইএসবিএন ৯৭৮-০-২৫৩-০০৮৯০-৯
  66. পিয়েত্রাক, মিশাল (২০১৮)। "Wprowadzenie"। বোরেকি, পাভেল (সম্পাদক)। O ustroju, prawie i polityce II Rzeczypospolitej. Pisma wybrane (পোলিশ ভাষায়)। ভোল্টার্স ক্লুভার। পৃ. ৯।
  67. "Opinion | The messy, bloody history that led Ukraine into the impeachment inquiry"এনবিসি নিউজ (ইংরেজি ভাষায়)। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯।
  68. "Mariusz Zajączkowski: 1943 Volhynia massacre" (ইংরেজি ভাষায়)। ১৩ এপ্রিল ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ এপ্রিল ২০১৪
  69. "Ukrainian Insurgent Army: Myths and facts - Oct. 12, 2012"কিয়েভ পোস্ট (ইংরেজি ভাষায়)। ১২ অক্টোবর ২০১২।
  70. "Crimea profile – Overview" (ইংরেজি ভাষায়)। বিবিসি নিউজ।
  71. সুবটেলনি, ওরেস্ট (২০০০)। Ukraine: A History (ইংরেজি ভাষায়)। ইউনিভার্সিটি অব টরন্টো প্রেস। পৃ. ৫৭৬আইএসবিএন ০-৮০২০-৮৩৯০-০
  72. 1 2 3 4 5 "Ukraine country profile – Overview" (ইংরেজি ভাষায়)। বিবিসি নিউজ। ২৫ মার্চ ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  73. কারাটনিকি, আড্রিয়ান (মার্চ–এপ্রিল ২০০৫)। "Ukraine's Orange Revolution"ফরেইন অ্যাফেয়ার্স৮৪ (২): ৩৫–৫২। ৬ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  74. "Yanukovych is president"ইউএওয়ারএক্সপ্লেইনড (ইংরেজি ভাষায়)। ২৯ মার্চ ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ২৯ মার্চ ২০২২
  75. 1 2 "Profile: Viktor Yushchenko" (ইংরেজি ভাষায়)। বিবিসি নিউজ। ২৩ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  76. 1 2 "Ukraine country profile – Overview 2012" (ইংরেজি ভাষায়)। বিবিসি নিউজ। ৯ জুন ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  77. "The Orange Revolution"ইউএওয়ারএক্সপ্লেইনড (ইংরেজি ভাষায়)। ২৯ মার্চ ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ২৯ মার্চ ২০২২
  78. "Ukraine's New President: Is the Orange Revolution Over?" (ইংরেজি ভাষায়)। টাইম। ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১০। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  79. "The Orange Revolution"ইউএওয়ারএক্সপ্লেইনড (ইংরেজি ভাষায়)। ২৯ মার্চ ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ২৯ মার্চ ২০২২
  80. "Ukraine right-wing politics: is the genie out of the bottle?"ওপেনডেমোক্রেসি.কম (ইংরেজি ভাষায়)। ৩ জানুয়ারি ২০১১। ১৪ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
    "Ukraine viewpoint: Novelist Andrey Kurkov" (ইংরেজি ভাষায়)। বিবিসি নিউজ। ১৩ জানুয়ারি ২০১১। ১১ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
    "Ukraine ex-PM Tymoshenko charged with misusing funds" (ইংরেজি ভাষায়)। বিবিসি নিউজ। ২০ ডিসেম্বর ২০১০। ১ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
    "The Party of Regions monopolises power in Ukraine" (ইংরেজি ভাষায়)। সেন্টার ফর ইস্টার্ন স্টাডিজ। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১০। ৩ সেপ্টেম্বর ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
    "Ukraine launches battle against corruption"বিবিসি নিউজ (ইংরেজি ভাষায়)। ১৮ জানুয়ারি ২০১১। ২১ মার্চ ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
    "Ukrainians' long wait for prosperity"বিবিসি নিউজ (ইংরেজি ভাষায়)। ১৮ অক্টোবর ২০১০। ২১ মার্চ ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
    "Ukraine:Journalists Face Uncertain Future"পুলিৎজার সেন্টার অন ক্রাইসিস রিপোর্টিং (ইংরেজি ভাষায়)। ২১ অক্টোবর ২০১০। ৫ অক্টোবর ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
    "Our Ukraine comes to defense of Tymoshenko, Lutsenko, Didenko, Makarenko in statement" (ইংরেজি ভাষায়)। ইন্টারফ্যাক্স-ইউক্রেন। ২৫ মে ২০১১। ৩ জুন ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  81. "U.S. Government Statement of Concern about Arrest of Former Prime Minister Yulia Tymoshenko"মার্কিন দূতাবাস, কিয়েভ (ইংরেজি ভাষায়)। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১১। ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬
    "Q&A: Ukraine's Yulia Tymoshenko on trial"বিবিসি নিউজ (ইংরেজি ভাষায়)। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১১। ২১ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  82. "Why is Ukraine in turmoil?"বিবিসি নিউজ (ইংরেজি ভাষায়)। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৪। ১৮ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  83. "Ukraine 'still wants to sign EU deal' | News | al Jazeera" (ইংরেজি ভাষায়)।
  84. "Ukraine crisis: Police storm main Kyiv 'Maidan' protest camp" (ইংরেজি ভাষায়)। বিবিসি নিউজ। ১ ডিসেম্বর ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৪
  85. "Ukraine protests timeline"বিবিসি নিউজ (ইংরেজি ভাষায়)। ৩ জুন ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৪
  86. ডেনিয়েল, স্যান্ডফোর্ড (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৪)। "Ukraine crisis: Renewed Kyiv assault on protesters"বিবিসি নিউজ (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৪
  87. "Ukraine crisis: Yanukovych announces 'peace deal'"বিবিসি নিউজ (ইংরেজি ভাষায়)। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৪
  88. "Profile: Olexander Turchynov"বিবিসি নিউজ (ইংরেজি ভাষায়)। ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৪
  89. টেইলর, চার্লস (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৪)। "Profile: Ukraine's ousted President Viktor Yanukovych"বিবিসি নিউজ (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৪ মে ২০১৪
  90. "European Commission - EU-Ukraine Association Agreement fully enters into force"ইউরোপা.ইইউ (সংবাদ বিজ্ঞপ্তি) (ইংরেজি ভাষায়)।
  91. স্টারবিন, পল (১৮ ডিসেম্বর ২০২৩)। "Ukraine's real power broker"বিজনেস ইনসাইডার (ইংরেজি ভাষায়)।
  92. "Україна остаточно вийшла з СНД"এসপ্রেসো টিভি (ইউক্রেনীয় ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৯ মে ২০১৮
  93. "Президент підписав Указ про остаточне припинення участі України у статутних органах СНД — Офіційне інтернет-представництво Президента України"Офіційне інтернет-представництво Президента України (ইউক্রেনীয় ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৯ মে ২০১৮
  94. Лащенко, Олександр (২৬ নভেম্বর ২০২০)। "Україні не потрібно виходити із СНД – вона ніколи не була і не є зараз членом цієї структури"Радіо Свобода (ইউক্রেনীয় ভাষায়)।
  95. "Οικουμενικό Πατριαρχείο" (গ্রিক ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুন ২০২১
  96. "The law amending the Constitution on the course of accession to the EU and NATO has entered into force | European integration portal"ইউরোপীয় ইউনিয়ন–ইউক্রেন অন্তর্ভুক্তি (ইউক্রেনীয় ভাষায়)। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মার্চ ২০২১
  97. কিটসফট। "Кабінет Міністрів України — Новим Прем'єр-міністром України став Олексій Гончарук"www.kmu.gov.ua (ইউক্রেনীয় ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৬ জুলাই ২০২০
  98. "Гончарука звільнили з посади прем'єра й відставили весь уряд"বিবিসি নিউজ ইউক্রাইনা (ইউক্রেনীয় ভাষায়)। ৪ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ৬ জুলাই ২০২০
  99. "Денис Шмигаль – новий прем'єр України"Українська правда (ইউক্রেনীয় ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৬ জুলাই ২০২০
  100. "Lithuania, Poland and Ukraine Inaugurate 'Lublin Triangle'"জেমসটাউন (ইংরেজি ভাষায়)।
  101. "Україна, Грузія та Молдова створили новий формат співпраці для спільного руху в ЄС"ইউরোইন্টিগ্রেশন.কম.ইউএ (ইউক্রেনীয় ভাষায়)।
  102. "Brussels Summit Communiqué issued by the Heads of State and Government participating in the meeting of the North Atlantic Council in Brussels 14 June 2021"ন্যাটো (ইংরেজি ভাষায়)।
  103. "У 2024 році Україна подасть заявку на вступ до ЄС"ইউকেআরইনফর্ম (ইউক্রেনীয় ভাষায়)। ২৯ জানুয়ারি ২০১৯।
  104. "Crimea referendum: Voters 'back Russia union'"বিবিসি নিউজ (ইংরেজি ভাষায়)। ১০ মার্চ ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ৪ মে ২০১৪
  105. 1 2 3 "Ukraine crisis timeline"বিবিসি নিউজ (ইংরেজি ভাষায়)। ৩ জুন ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  106. "Putin Tells Separatists In Ukraine To Postpone May 11 Referendum"এনপিআর (ইংরেজি ভাষায়)। ১৯ মার্চ ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ মে ২০১৪
    "Ukraine rebels hold referendums in Donetsk and Luhansk"বিবিসি নিউজ (ইংরেজি ভাষায়)। ১১ মে ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ১১ মে ২০১৪
    "Russian Roulette (Dispatch Thirty-Eight)"ভাইস নিউজ (ইংরেজি ভাষায়)। ১৩ মে ২০১৪। ৪ জুলাই ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ জুলাই ২০১৪
  107. "Ukraine underplays role of far right in conflict"বিবিসি নিউজ (ইংরেজি ভাষায়)। ২ জুন ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ ডিসেম্বর ২০১৪
  108. "Fergal Keane reports from Mariupol on Ukraine's 'frozen conflict'"বিবিসি নিউজ (ইংরেজি ভাষায়)। ২৩ জুলাই ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ ডিসেম্বর ২০১৪
  109. "Half a million displaced in eastern Ukraine as winter looms, warns UN refugee agency"জাতিসংঘ (ইংরেজি ভাষায়)। ১১ নভেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ ডিসেম্বর ২০১৪
  110. "Ukraine conflict: Refugee numbers soar as war rages"বিবিসি নিউজ (ইংরেজি ভাষায়)। ৮ জুলাই ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০১৪
  111. "UN Says At Least 6,400 Killed In Ukraine's Conflict Since April 2014"আরএফই/আরএল (ইংরেজি ভাষায়)। ২৩ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ জুন ২০১৫
  112. 1 2 "Ukraine Reform Monitor: August 2015" (ইংরেজি ভাষায়)। কার্নেগি এন্ডোমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস। আগস্ট ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০১৫
  113. "Petro Poroshenko becomes President of Ukraine"ইউএওয়ারএক্সপ্লেইনড (ইংরেজি ভাষায়)। ২৯ মার্চ ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ২৯ মার্চ ২০২২
  114. বেরশিডস্কি, লিওনিড (৬ নভেম্বর ২০১৫)। "Ukraine Is in Danger of Becoming a Failed State"ব্লুমবার্গ নিউজ (ইংরেজি ভাষায়)। ১০ নভেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ নভেম্বর ২০১৫
  115. কুজিও, তারাস (২৫ আগস্ট ২০১৫)। "Money Still Rules Ukraine"ফরেইন পলিসি (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০১৫
  116. মিনাকভ, মিখাইল; স্তাভনিচুক, মারিনা (১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬)। "Ukraine's constitution: reform or crisis?" (ইংরেজি ভাষায়)। ওপেনডেমোক্রেসি। ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬
  117. "At Least 9,115 Killed in Ukraine Conflict, U.N. Says" (ইংরেজি ভাষায়)। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। ২৪ জুলাই ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ ডিসেম্বর ২০১৫
    "Kyiv, Separatists Accuse Each Other Of Violating Holiday Cease-Fire"রেডিও ফ্রি ইউরোপ (ইংরেজি ভাষায়)। ২৬ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ ডিসেম্বর ২০১৫
  118. "Separate districts of Donbas and Luhansk regions (ORDLO)"ইউএওয়ারএক্সপ্লেইনড (ইংরেজি ভাষায়)। ২৯ মার্চ ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ২৯ মার্চ ২০২২
  119. "УКАЗ ПРЕЗИДЕНТА УКРАЇНИ №43/2021"Офіційне інтернет-представництво Президента України (ইউক্রেনীয় ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১
  120. "Зеленський‌ ‌"вимкнув"‌ ‌112,‌ ‌ZIK‌ ‌і‌ ‌NewsOne‌ ‌з‌ ефіру. Що відомо‌"বিবিসি নিউজ ইউক্রাইনা (ইউক্রেনীয় ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১
  121. "УКАЗ ПРЕЗИДЕНТА УКРАЇНИ №64/2021"Офіційне інтернет-представництво Президента України (ইউক্রেনীয় ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১
  122. "Зеленський ввів у дію санкції проти Медведчука"Українська правда (ইউক্রেনীয় ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১
  123. "Tension escalates after Russia seizes Ukraine naval ships"বিবিসি নিউজ (ইংরেজি ভাষায়)। ২৬ নভেম্বর ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুন ২০২১
  124. অ্যান্ড্রু অসবর্ন, পাভেল (২৬ নভেম্বর ২০১৮)। "Russia fires on and seizes Ukrainian ships near annexed Crimea"রয়টার্স (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুন ২০২১ পলিটিইউকে এর মাধ্যমে।
  125. "Buildup of Russian forces along Ukraine's border that has some talking of war"এনপিআর (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৪ অক্টোবর ২০২২
  126. ইলিয়াত, হোলি (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২)। "Russian forces invade Ukraine"সিএনবিসি (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৪ অক্টোবর ২০২২
  127. বিগ, ম্যাথিউ মপোক। "Russia invaded Ukraine more than 200 days ago. Here is one key development from every month of the war."দ্য নিউইয়র্ক টাইমস (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৪ অক্টোবর ২০২২
  128. ওর্টিজ, জন বেকন; ওর্টিজ, জর্জ এল। "Russians admit defeat in Kharkiv; Zelenskyy visits Izium after troops flee shattered city: Ukraine updates"ইউএসএ টুডে (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৪ অক্টোবর ২০২২
  129. মেইনস, চার্লস। "Putin illegally annexes territories in Ukraine, in spite of global opposition"এনপিআর (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৪ অক্টোবর ২০২২
  130. "GDP per capita (Current US$) | Data" (ইংরেজি ভাষায়)।
  131. বুলো, অলিভার (৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫)। "Welcome to Ukraine, the most corrupt nation in Europe"দ্য গার্ডিয়ান (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩ মার্চ ২০২১Since 1991, officials, members of parliament and businessmen have created complex and highly lucrative schemes to plunder the state budget. The theft has crippled Ukraine. The economy was as large as Poland's at independence, now it is a third of the size. Ordinary Ukrainians have seen their living standards stagnate, while a handful of oligarchs have become billionaires."
    "১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে [ইউক্রেনের] রাষ্ট্রীয় বাজেট লুণ্ঠনের উদ্দেশ্যে সরকারি কর্মকর্তা, সংসদ সদস্য ও ব্যবসায়ীরা জটিল ও লাভজনক পদ্ধতির উদ্ভাবন করেছে। এই চৌর্যবৃত্তি ইউক্রেনকে পঙ্গু করে দিয়েছে। স্বাধীনতাকালে ইউক্রেনের অর্থনীতি পোল্যান্ডের সমান ছিল। বর্তমানে তা এর তিনভাগের একভাগে এসে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ ইউক্রেনীয়দের জীবনযাত্রার মান স্থবির হয়ে আছে। কিন্তু কিছুসংখ্যক মুষ্ঠিমেয় গোষ্ঠী (অলিগার্ক) কোটিপতি হয়েছে।
  132. "Ukraine: Can meaningful reform come out of conflict?"ব্রুগেল | ব্রাসেলস-ভিত্তিক অর্থনৈতিক থিংকট্যাংক (ইংরেজি ভাষায়)। ২৫ জুলাই ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মার্চ ২০২৩
  133. পিকুলিচকা-উইলশেভস্কা, আগ্নিয়েশকা (১৯ জুলাই ২০১৭)। "Why the reforms in Ukraine are so slow?"নিউ ইস্টার্ন ইউরোপ - মধ্য ও পূর্ব ইউরোপীয় ঘটনাবলিকে উদ্দেশ্য করে একটি দ্বিমাসিক ম্যাগাজিন (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মার্চ ২০২৩
  134. "The slow-reform trap"ব্রুগেল | ব্রাসেলস ভিত্তিক অর্থনৈতিক থিংকট্যাংক (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মার্চ ২০২৩
  135. "Ukraine Country Assistance Evaluation" (পিডিএফ)ওইসিডি (ইংরেজি ভাষায়)। ৮ নভেম্বর ২০০০।
  136. গ্রেমার, অ্যামি ম্যাকিনন (৫ অক্টোবর ২০২২)। "The Battle to Save Ukraine's Economy From the War"ফরেইন পলিসি (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মার্চ ২০২৩
  137. প্রিন্স, টড (১ জানুয়ারি ২০২৩)। "Moscow's Invasion Of Ukraine Triggers 'Soul-Searching' At Western Universities As Scholars Rethink Russian Studies"রেডিও ফ্রি ইউরোপ/রেডিও লিবার্টি (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩
  138. প্লখি, সের্গিয়ে (২০০৫)। Unmaking Imperial Russia: Mykhailo Hrushevsky and the Writing of Ukrainian History (ইংরেজি ভাষায়)।
  139. মাগকসি ২০১০
  140. ভেলিচেঙ্কো, স্টিফেন (১৯৯৩)। Shaping Identity in Eastern Europe and Russia: Soviet-Russian and Polish Accounts of Ukrainian History, 1914?1991 (ইংরেজি ভাষায়)। নিউইয়র্ক। পৃ. ২৩। আইএসবিএন ৯৭৮-১-১৩৭-০৫৮২৫-৬ওসিএলসি 1004379833{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অবস্থানে প্রকাশক অনুপস্থিত (লিঙ্ক)
  141. কুজিও, তারাস (২০০৬)। "National Identity and History Writing in Ukraine"। ন্যাশনালাইটস পেপার্স৩৪ (৪): ৪০৭–৪২৭। অনলাইনে এবস্কোতে উপলভ্য।
  142. প্লখি, সের্গিয়ে (২০০৭)। "Beyond Nationality"। আব ইম্পেরিও (ইংরেজি ভাষায়)। : ২৫–৪৬।
  143. স্ট্রাইজেক, টমাশ; শাওয়ামাতিন, জোয়ানা (২০২২)। The politics of memory in Poland and Ukraine: from reconciliation to de-conciliation (ইংরেজি ভাষায়)। লন্ডন। পৃ. ৯৮। আইএসবিএন ৯৭৮-১-০০৩-০১৭৩৪-৯ওসিএলসি 1257314140{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অবস্থানে প্রকাশক অনুপস্থিত (লিঙ্ক)
  144. পোর্তনভ, আন্দ্রিয়ে (২০০৭)। "Exercises with history Ukrainian style (notes on public aspects of history's functioning in post-Soviet Ukraine)"। আব ইম্পেরিও (ইউক্রেনীয় ভাষায়)। : ৯৩–১৩৮।
  145. সেনকাস, রোমান (২০১৮)। "Ukrainian Studies in Canada Since the 1950s: An Introduction"। ইস্ট/ওয়েস্ট: জার্নাল অব ইউক্রেনিয়ান স্টাডিজ (ইংরেজি ভাষায়)। (১): ৩–৭।
  146. ক্রাভচেঙ্কো, বোগদান (১৯৭৮)। "Ukrainian studies in Canada"। ন্যাশনালিটিজ পেপার্স (ইংরেজি ভাষায়)। (১): ২৬–৪৩।
  147. ইয়েকেলচিক, সের্গিয়ে (২০১৮)। "Studying the Blueprint for a Nation: Canadian Historiography of Modern Ukraine"ইস্ট/ওয়েস্ট: জার্নাল অব ইউক্রেনিয়ান স্টাডিজ (ইংরেজি ভাষায়)। (১): ১১৫–১৩৭। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।

গ্রন্থপঞ্জি

[সম্পাদনা]

জরিপ ও উৎসসমূহ

[সম্পাদনা]

বিষয়ভিত্তিক গ্রন্থপঞ্জি

[সম্পাদনা]
  • কনোনেনকো, কনস্টান্টিন (১৯৫৮)। Ukraine and Russia: A History of the Economic Relations between Ukraine and Russia, 1654–1917 (ইংরেজি ভাষায়)। মার্কে ইউনিভার্সিটি প্রেস।
  • লাকিয়ে, জর্জ এস (১৯৯৬)। Towards an Intellectual History of Ukraine: An Anthology of Ukrainian Thought from 1710 to 1995 (ইংরেজি ভাষায়)।
  • শকান্দ্রিজ, মিরোস্লাভ (২০১৪)। Ukrainian Nationalism: Politics, Ideology, and Literature, 1929–1956 (ইংরেজি ভাষায়)। ইয়েল ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃ. ৩৩১। বইটিতে দিমিত্রো দন্তসভ, ওলেনা তেলিগা, লিওনিদ মোসেঞ্জ, ওলেগ ওলজিখ, ইউরিয়ে লিপা, উলাস সামচুক, ইউরিয়ে ক্লেন ও ডোকিয়া হুমেনা প্রমুখ ইউক্রেনীয় জাতীয়তাবাদীদের দর্শন ও সাংগঠনিক উত্তরাধিকার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

১৯৩০-এর দশক, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ

[সম্পাদনা]
  • অ্যাপলবাউম, অ্যান (২০১৭)। Red Famine: Stalin's War on Ukraine (ইংরেজি ভাষায়)। পৃ. ৪৯৬। (অনলাইন পর্যালোচনা)
  • বোশিক, ইউরি (১৯৮৬)। Ukraine During World War II: History and Its Aftermath (ইংরেজি ভাষায়)। কানাডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ইউক্রেনিয়ান স্টাডিজ। আইএসবিএন ০-৯২০৮৬২-৩৭-৩
  • বেরখফ, কারেল সিHarvest of Despair: Life and Death in Ukraine Under Nazi Rule (ইংরেজি ভাষায়)। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃ. ৪৪৮।
  • ব্র‍্যান্ডন, রে; লোয়ার, ওয়েন্ডি, সম্পাদকগণ (২০০৮)। The Shoah in Ukraine: History, Testimony, Memorialization (ইংরেজি ভাষায়)। পৃ. ৩৭৮। (অনলাইন রিভিউ)
  • কনকুয়েস্ট, রবার্ট (১৯৮৬)। The Harvest Of Sorrow: Soviet Collectivisation and the Terror-Famine (ইংরেজি ভাষায়)।
  • গ্রোস, জ্যান টি (১৯৮৮)। Revolution from Abroad: The Soviet Conquest of Poland's Western Ukraine and Western Belorussia (ইংরেজি ভাষায়)।
  • গ্রিগরি (১৯৬০)। Stalinist Rule in the Ukraine (ইংরেজি ভাষায়)। নিউইয়র্ক: ফ্রেডেরিক এ প্রেগার, ইনক.। পৃ. ১৫৬।
  • কুদেলিয়া, সের্গিয়ে (২০১২)। "Choosing Violence in Irregular Wars: The Case of Anti-Soviet Insurgency in Western Ukraine"। ইস্ট ইউরোপিয়ান পলিটিক্স অ্যান্ড সোসাইটিজ (ইংরেজি ভাষায়)। ২৭ (১): ১৪৯–১৮১।
  • লোয়ার, ওয়েন্ডি (২০০৫)। Nazi Empire-Building and the Holocaust in Ukraine (ইংরেজি ভাষায়)। ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনা প্রেস। পৃ. ৩০৭।
  • ম্যানিং, ক্ল্যারেন্স (১৯৫৩)। Ukraine under the Soviets (ইংরেজি ভাষায়)। নিউইয়র্ক: বুকম্যান অ্যাসোসিয়েটস। পৃ. ২১৯।
  • নার্ভসেলিয়াস, এলিওনোরা (২০১২)। "The 'Bandera Debate': The Contentious Legacy of World War II and Liberalization of Collective Memory in Western Ukraine"। কানাডিয়ান স্লাভোনিক পেপার্স (ইংরেজি ভাষায়)। ৫৪ (৩): ৪৬৯–৪৯০।
  • রেডলিচ, শিমন (২০০২)। Together and Apart in Brzezany: Poles, Jews, and Ukrainians, 1919–1945 (ইংরেজি ভাষায়)। ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃ. ২০২।
  • জাবারকো, বরিস, সম্পাদক (২০০৫)। Holocaust In The Ukraine (ইংরেজি ভাষায়)। মিচেল ভ্যালেন্টাইন অ্যান্ড কো.। পৃ. ৩৯৪।

সাম্প্রতিক ইতিহাস

[সম্পাদনা]

ঐতিহাসিক জীবনী ও স্মৃতিকথা

[সম্পাদনা]
  • Mark von Hagen (১৯৯৫)। "Does Ukraine Have a History?"। Slavic Review (ইংরেজি ভাষায়)। ৫৪ (3): ৬৫৮–৬৭৩। ডিওআই:10.2307/2501741আইএসএসএন 0037-6779Wikidata Q113708200 {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: |লেখক= এবং |author1= একাধিকবার নির্দিষ্ট করা হয়েছে (সাহায্য)
  • খিমকা, জন-পল (১৯৯৪)। "The National and the Social in the Ukrainian Revolution of 1917-1920- The Historiographical Agenda"। আর্চিভ ফ্যুর সোৎজিয়ালগেশিশটে (ইংরেজি ভাষায়)। ৩৪: ৯৫–১১০।
  • Mykhailo Hrushevskyi (১৯০৪)। "The traditional scheme of 'Russian' history and the problem of a rational organization of the history of the East Slavs"। Articles on Slavistics (ইউক্রেনীয় ভাষায়)। ১, ২ (55, 2): ৩৫–৪২, ৩৫৫–৩৬৪। Wikidata Q28703759 {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: |লেখক= এবং |author1= একাধিকবার নির্দিষ্ট করা হয়েছে (সাহায্য)
  • কাসিয়ানভ, গর্গিয়ে; ঠের, ফিলিপ, সম্পাদকগণ (২০০৯)। Laboratory of Transnational History: Ukraine and Recent Ukrainian Historiography (ইংরেজি ভাষায়)। সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি প্রেস। {{বই উদ্ধৃতি}}: |সম্পাদক-সংযোগ= এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য)
  • ক্রোচেঙ্কো, বোগদান (১৯৭৮)। "Ukrainian studies in Canada"। ন্যাশনালিটিজ পেপার (ইংরেজি ভাষায়)। (১): ২৬–৪৩। {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: |লেখক-সংযোগ= এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Serhii Plokhy, সম্পাদক (২০১৬), The Future of the Past (ইংরেজি ভাষায়), Harvard Ukrainian Research Institute, ওএল 20220458W, Wikidata Q116456399 {{citation}}: |সম্পাদক-সংযোগ= এবং |editor-link1= একাধিকবার নির্দিষ্ট করা হয়েছে (সাহায্য); |সম্পাদক= এবং |editor1= একাধিকবার নির্দিষ্ট করা হয়েছে (সাহায্য)
  • Serhii Plokhy (২০২১)। Quo Vadis Ukrainian History? (ইংরেজি ভাষায়)। পৃ. ১–১৪। ডিওআই:10.2307/J.CTV2902B86.6আইএসবিএন ৯৭৮-০-৬৭৪-২৬৮৮৫-২Wikidata Q116456336 {{বই উদ্ধৃতি}}: |journal= উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য); |লেখক-সংযোগ= এবং |author-link1= একাধিকবার নির্দিষ্ট করা হয়েছে (সাহায্য); |লেখক= এবং |author1= একাধিকবার নির্দিষ্ট করা হয়েছে (সাহায্য)
  • রেইড, অ্যানা (মে–জুন ২০২২)। "Putin's War on History: The Thousand-Year Struggle Over Ukraine"ফরেইন অ্যাফেয়ার্স (ইংরেজি ভাষায়)। ১০১ (১): ৫৪–৬৩।{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: ইউআরএল-অবস্থা (লিঙ্ক)
  • Susan Smith-Peter (১ এপ্রিল ২০২২)। "What do Scholars of Russia owe Ukraine?"Jordan Center for the Advanced Study of Russia (ইংরেজি ভাষায়)। Jordan Center for the Advanced Study of Russia। Wikidata Q116456099 {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: |লেখক= এবং |author1= একাধিকবার নির্দিষ্ট করা হয়েছে (সাহায্য)
  • Orest Subtelny। "The Current State of Ukrainian Historiography"। Journal of Ukrainian Studies (ইংরেজি ভাষায়)। ১৮ (1–2): ৩৩–৫৪। আইএসএসএন 0228-1635Wikidata Q116456077 {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: |লেখক= এবং |author1= একাধিকবার নির্দিষ্ট করা হয়েছে (সাহায্য)
  • ভেলিচেঙ্কো, স্টিফেন (১৯৯২)। National history as cultural process: a survey of the interpretations of Ukraine's past in Polish, Russian, and Ukrainian historical writing from the earliest times to 1914 (ইংরেজি ভাষায়)। এডমন্টন।{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অবস্থানে প্রকাশক অনুপস্থিত (লিঙ্ক)
  • ভেকিচেঙ্কো, স্টিফেন (১৯৯৩)। Shaping identity in Eastern Europe and Russia: Soviet-Russian and Polish accounts of Ukrainian history, 1914–1991 (ইংরেজি ভাষায়)। লন্ডন।{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অবস্থানে প্রকাশক অনুপস্থিত (লিঙ্ক)
  • ভেরস্তিউক, ভ্লাদিস্লাভ (১৯৯৯)। "Conceptual Issues in Studying the History of the Ukrainian Revolution"। জার্নাল অব ইউক্রেনিয়ান স্টাডিজ (ইংরেজি ভাষায়)। ২৪ (১): ৫–২০।
  • ওয়েইড, রেক্স এ (২০০৮)। "The Revolution At Ninety-(One): Anglo-American Historiography Of The Russian Revolution Of 1917"। জার্নাল অব মডার্ন রাশিয়ান হিস্ট্রি অ্যান্ড হিস্টোরিওগ্রাফি (ইংরেজি ভাষায়)। (১): vii-৪২।
  • ইয়েকেলচিক, সের্গুয়ে (২০১৮)। "Studying the Blueprint for a Nation: Canadian Historiography of Modern Ukraine"। ইস্ট/ওয়েস্ট: জার্নাল অব ইউক্রেনিয়ান স্টাডিজ (ইংরেজি ভাষায়)। (১)।

শিক্ষণ ও অধ্যয়ন নির্দেশিকা

[সম্পাদনা]

ইংরেজি ভাষায় প্রাথমিক উৎস

[সম্পাদনা]
  • লাকিয়ে, জর্জ এস (১৯৯৬)। Towards an Intellectual History of Ukraine: An Anthology of Ukrainian Thought from 1710 to 1995 (ইংরেজি ভাষায়)।

ইউক্রেনীয় ভাষায়

[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]