আরাশ
আরাশ | |
|---|---|
| জন্ম | |
| মৃত্যু | |
| মৃত্যুর কারণ | তীর ছোড়ার পর প্রাণহীন হয়ে যাওয়া |
| জাতীয়তা | ইরানি |
| যুগ | মনুচেহর পিশদাদি |
তীরন্দাজ আরাশ (ফার্সি: آرش کمانگیر, আরাশ-ই-কামাঙ্গির) হলেন ইরানি পুরাণ এবং ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের একজন বীরত্বপূর্ণ তীরন্দাজী চরিত্র।[৮] ইরানি লোককাহিনী অনুযায়ী, ইরান ও তুরানের সীমানা আরশের নিক্ষেপ করা একটি তীরের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়েছিল, যে তীরটি ছোঁড়ার সময় তিনি নিজের জীবন তাতে সঁপে দিয়েছিলেন। একটি পাহাড়ের চূড়ার মূল নিক্ষেপস্থল থেকে শত শত মাইল দূরে, অক্সাস নদীর ওপারে একটি আখরোট গাছের বাকলে গিয়ে পড়ার আগে তীরটি টানা কয়েকদিন ধরে বাতাসে উড়ছিল।
নামের উৎস
[সম্পাদনা]যদিও বেশ কয়েকটি সূত্র (যেমন: আল-বেরুনি) 'আরাশ'-কে 'আরশাক' (অর্থাৎ আরসাসিস) নামের উৎস হিসেবে বিবেচনা করেন বলে ধারণা করা হয়, তবে পার্থিয় রাজবংশের নামটি মূলত 'অর্দশির' অর্থাৎ 'আর্তাক্সারক্সেস'-এর একটি পার্থিয় বা পূর্বাঞ্চলীয় ইরানি সমতুল্য শব্দ থেকে এসেছে। আরও নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে দ্বিতীয় আর্তাক্সারক্সেস থেকে এটি এসেছে, আরসাসীয়রা নিজেদেরকে যার বংশধর বলে দাবি করত। (ইরানি রাজবংশগুলোর পৌরাণিকভাবে মিশ্রিত বংশতালিকার কাঠামোর মধ্যে, আরসাসীয়রা অন্য আরেক আরাশের মাধ্যমে নিজেদের কায়কোবাদের বংশধর বলেও দাবি করত।)
মৌখিক ঐতিহ্য থেকে আসা নামগুলোর ক্ষেত্রে যেমনটা সাধারণত দেখা যায়, 'আরাশ' নামেরও অসংখ্য রূপভেদ রয়েছে। আবেস্তায় নামটি 'এরেখশা' (Ǝrəxša) হিসেবে পাওয়া যায়, যার অর্থ "দ্রুতগামী তীরের অধিকারী, ইরানিদের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগামী তীরের অধিকারী" (যশত ৮.৬)। এই আবেস্তীয় রূপটি জরাথুস্ট্রীয় মধ্য ফার্সিতে 'এরাশ' (বুন্দাহিশন, শাহরেস্তানহা-ই ইরান, জান্দ-ই বাহুমান যশত, মাহ-ই ফ্রাওয়ার্দিন) হিসেবে প্রচলিত থাকে, যা থেকে ইংরেজি 'ইরুচ' (Eruch)নামটির উদ্ভব হয়েছে। নতুন ফার্সি রূপগুলোর মধ্যে তাবারি এবং ইবনে আল-আসিরের রচনায় 'এরাশ' ও 'ইরাশ'; আল-তাবারির রচনায় 'আরাশশেবাতির'; আল-তালেবির রচনায় 'আরাশ'; মাকদেসি, বালা'মি, মুজমাল, মারাশি, আল-বেরুনি এবং গোরগানির ভিস ও রামিন-এ 'আরাশ' অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আবেস্তীয় "দ্রুতগামী তীর" উপস্থাপনকারী একটি গতানুগতিক বিশেষণ যুক্ত নামগুলোর মধ্যে রয়েছে তাবারির 'আরাশশেবাতির' এবং মুজমালের 'আরাশ-ই শিবাতির'। উপাধি হিসেবে এর একটি রূপ হলো 'আরাশ/আরাশ কামান-গির', যার অর্থ "আরাশ, ধনুক-বিশেষজ্ঞ।" এছাড়া সেখানকার স্থানীয়দের মধ্যেও এটি একটি সাধারণ নাম।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ জহিরউদ্দিন বিন নাসিরউদ্দিন মারকাশি, তারিখ-ই তাবারিস্তান ও রুইয়ান ও মাজানদারান, পৃ. ১০৯-১১০
- ↑ জহিরউদ্দিন বিন নাসিরউদ্দিন মারকাশি, তারিখ-ই তাবারিস্তান ও রুইয়ান ও মাজানদারান, পৃ. ১০৯-১১০
- ↑ আবু রায়হান আল-বিরুনি, "আসার আল-বাকিয়া আন আল-কুরুন আল-খালিয়া", অনুবাদক: আকবর দানাসিরিশত, আমিরকবির প্রকাশনা, পঞ্চম সংস্করণ, পৃষ্ঠা. ২০৪-২০৫: "...অহুরমজদা বাতাসকে রুইয়ান পর্বত থেকে তার তীর তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন... সেই তীরটি... ফরগানায় পৌঁছেছিল..."
- ↑ জিয়াউদ্দিন গারদিজি, "জয়ন আল-আখবার", পৃষ্ঠা ৫১৮ (অক্সফোর্ড/কেমব্রিজ গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপি): "অতঃপর আরাশ রুইয়ান পর্বত থেকে তীর নিক্ষেপ করেন এবং সেই তীর ফরগানা ও তোখারিস্তানের মধ্যবর্তী একটি পর্বতে গিয়ে পড়ে।"
- ↑ ইব্রাহিম পুরদাউদ, "যশত (আবেস্তার ব্যাখ্যা)", তেহরান: তাহুরি প্রকাশনা, ১৯৭৭ (১৩৫৬ ফার্সি সাল), খণ্ড ১, পৃ. ৩৫৫-৩৫৬; যশত ৮-এর ষষ্ঠ ও সপ্তম অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যাসহ, যেখানে "আইরিও খশাউথা"-কে তাবারিস্তানের কাছাকাছি বলে ধারণা করা হয়েছে এবং এটি রুইয়ানের সমতুল্য।
- ↑ মেহরদাদ বাহার, "পাজুহেশি দার আসাতীর-ই ইরান" (ইরানের পৌরাণিক কাহিনী নিয়ে গবেষণা), তেহরান: চেশমেহ প্রকাশন, ১৯৯৮ (১৩۷۷ ফার্সি সাল), পৃ. ১০৭-১০৯; আবেস্তার অষ্টম যশত নিয়ে তুলনামূলক অংশে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে কিছু গবেষক "আইরিও খশাউথা"-কে তাবারিস্তান/রুইয়ানের পর্বতের সাথে এক করে দেখেছেন।
- ↑ মোজতবা মিনভি, সাদেক হেদায়েত, পৌরাণিক নোটসমূহে (সাংস্কৃতিক-সাহিত্যিক পত্রিকায় প্রকাশিত), ১৯৪৬-১৯৫৬ (১৩২৫-১৩۳۵ ফার্সি সাল), আবেস্তান তুলনামূলক বিভাগ; উভয়েই সম্ভাব্যভাবে "আইরিও খশাউথা"-কে তাবারিস্তান বা রুইয়ানের পর্বতমালার সাথে মিলিয়েছেন।
- ↑ "ইরান: পারস্য সাম্রাজ্যের গর্বিত উত্তরাধিকার"। দ্য ডেইলি স্টার (বাংলাদেশ)। ১৬ জানুয়ারি ২০২৬। সংগ্রহের তারিখ ৯ এপ্রিল ২০২৬।