আমজাদ হোসেন (রাজনীতিবিদ)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
আমজাদ হোসেন
Amjad hossain MNA.jpg
পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সদস্য
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম(১৯২৪-০৭-২১)২১ জুলাই ১৯২৪
কুষ্টিয়া, (এখন বাংলাদেশ)
মৃত্যু৬ এপ্রিল ১৯৭১(1971-04-06) (বয়স ৪৬)
পাবনা, বাংলাদেশ
রাজনৈতিক দলআওয়ামী লীগ (১৯৪৯–১৯৭৫)
অন্যান্য
রাজনৈতিক দল
নিখিল ভারত মুসলিম লীগ (১৯৪৯-এর আগে)
প্রাক্তন শিক্ষার্থীমৌলানা আজাদ কলেজ

আমজাদ হোসেন (১৯২৪-১৯৭১) ছিলেন একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ এবং মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তার নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তাকে পাবনার অন্যতম প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও বেসামরিক বাহিনীকে একত্রিত করেছিলেন।

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

আমজাদ হোসেন ১৯২৪ সালে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার চর সাদিরাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন, পরে তার বাবা শেখ রফিক উদ্দিন ও মা পরিজন নেছা পাবনা নগরের নুরপুরে স্থায়ীভাবে বসবাস করা শুরু করেন।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

আমজাদ হোসেন মাদ্রাসা থেকে শিক্ষা শুরু করেন। পরে তিনি পাবনা জিলা স্কুলে ভর্তি হন। তিনি রংপুর করমাইকেল কলেজ থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে তিনি কলকাতার মাওলানা আজাদ কলেজে যান এবং স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

রাজনৈতিক জীবন[সম্পাদনা]

আমজাদ হোসেন ছাত্রাবস্থায় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সংস্পর্শে আসেন। শহীদ সোহরাওয়ার্দী তাকে রাজনীতিতে যোগ দিতে অনুপ্রাণিত করেন, এভাবেই তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু হয়। তিনি ১৯৫২ সালে বাংলা ভাষা আন্দোলনের সংগঠক ছিলেন এবং ভাষা আন্দোলনে অবদান রাখেন।

Amjad and Bangabandhu.
বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আমজাদ হোসেন।

হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার হলে তিনি তরুণ আমজাদ হোসেনকে তার রাজনৈতিক সচিব হিসাবে নিয়োগ দেন। তার আশ্চর্যজনক প্ররোচিত করার ক্ষমতা এবং কর্মদক্ষতার কারণে, আমজাদ হোসেন তার দলের এবং সাধারণ মানুষের কাছে প্রচুর বিশ্বাস ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তিনি ১৯৬২ এবং ১৯৭০ সালে মোট দুইবার পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।[১][১][২] ১৯৭০ সালের নির্বাচনে,[৩] তিনি মওলানা আবদুস সোবহানের বিরুদ্ধে নির্বাচন জিতেছিলেন।

আমজাদ হোসেন পাবনা জেলায় আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। শেখ মুজিবুর রহমানের নিকটতম বিশ্বাসী হিসেবে, আমজাদ হোসেন ১৯৬০-এর দশকের শেষের দিকে এবং ১৯৭০-এর দশকের প্রথম দিকে বৃহত্তর পাবনা জেলার আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি পাবনায় ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারাভিযানের সমন্বয় সাধন করেন, যে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ঐতিহাসিক সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।

বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ[সম্পাদনা]

আমজাদ হোসেন ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক ছিলেন।[৪] ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে পাকিস্তান সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানে অপারেশন সার্চলাইট শুরু করার পর তিনি অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে জনগণকে সংগঠিক করার কাজ শুরু করেন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের নির্দেশ অনুযায়ী আমজাদ হোসেন হানাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার কৌশল প্রণয়ন করেছিলেন। তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে সামরিক সাহায্য চেয়ে বিশেষ দূত পাঠান, যেহেতু শান্তিপূর্ণ উপায়ে মুক্তিযুদ্ধ সমাধানের কোন উপায় ছিল না।

মৃত্যু[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালের ৬ এপ্রিল আমজাদ হোসেন মৃত্যুবরণ করেন।[৫]

স্বাধীনতা পরবর্তী স্মৃতিস্তম্ভ[সম্পাদনা]

পাবনার আমজাদ হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় তার নামে নামকরণ করা হয়।[৬]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "List of Members of The 3rd National Assembly of Pakistan" (PDF) (ইংরেজি ভাষায়)। পাকিস্তান সরকার। 
  2. "List of MNA & MP in 1970 Election" (ইংরেজি ভাষায়)। pabnawar71। ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ এপ্রিল ২০১৯ 
  3. "List of Elected Members of 1970 National Assembly of Pakistan Election" (PDF) (ইংরেজি ভাষায়)। Gilanifoundation। 
  4. মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধার তালিকা-পাবনা জেলাজাতীয় তথ্য বাতায়ন 
  5. "মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক পাবনার আ'লীগ নেতা আমজাদ হোসেনের ৪৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ"। সংগ্রহের তারিখ ২৩ এপ্রিল ২০১৯ 
  6. "Amjad Hossain High School, Pabna" (ইংরেজি ভাষায়)। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড। ৩ জুন ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা।